সময়ের সিন্থেসিস ও অন্যান্য কবিতা

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমানগ্রাফিকস: প্রথম আলো

সময়ের সিন্থেসিস

অপরাজিতার দৌড়ে বেড়ে ওঠা বয়সের বাঁক—

বেদেদের নৌকায় ঘুমানো সাপের মতো।

ত্রিনিতার স্কুলে যাওয়া লাল ফিতার নাচের মতো।

ত্রিস্তানের খুব গোপনে বয়ঃসন্ধির প্রেম ও জেদের মতো।

আমপাড়া মুখস্থের রাস্তায় উঠে—

দূরের অপেক্ষমাণ কোরআন হাসিলের মতো।

সময়ের এই বাঁকের শ্লোকের নামতা, মন্দ নয়

কদাচিৎ আরশির মুখোমুখি

বয়স বাড়ার ট্রেনের হুইসেল, আঁতকে ওঠে-সময়

দিন খোয়ানো গানে।

বিঘ্নবহুল বহতা

জলপাই, চালতা, লাল মরিচের দুপুর ডিঙিয়ে

তোতার ঘুম ভাঙা কমলা আকাশ—

নাইবা হলাম।

মধ্যবিত্ত লম্বা অলিন্দর দৃশ্যর

সহজিয়া আনন্দের মুচমুচে নোনতা বিস্কুট ভেজা

গপ্পের সাঁতারে উষ্ণ চায়ের মেঘ ক্ষতি কী!—

নাগরিক চুমু খাওয়া চকচকে কাকের ঠোঁটে

বাজারের ব্যাগে সন্ধ্যার খবরে না ঘুমানো শহরে

কানাগলির বিড়াল ঘুমের বায়নায়।

হালের ভাড়াটিয়া খুনি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের

চতুষ্কোণ কণ্টকিত ফাঁদের আয়োজনে

ডুবে রইল—আমিত্ব।

শাশ্বত বিষাদ।

পথ খোয়া বাড়ি।

মৃত্যুর মীমাংসায় মুক্তি

এই হুলিয়ায়, বেঁচে থাকা

বেঁচে আছে—

ঘোর ময়না তদন্তের জীবনে।

ছেঁড়া ওয়ালেট ও দূরত্বের ছবি

ছোট, হাজার মাইল দূরত্বে চলে যাচ্ছে—যেমন গিয়েছিল, মেজো।

উড়োজাহাজের দূরত্ব, নদী ও সমুদ্র দূরত্ব।

নানা কায়দায় ভাগ করা জমিন ও আসমানের দূরত্ব।

ভাতৃত্বের এই দূরে যাওয়া, মর্গের মতো ঠান্ডা করেছিল প্রথম যৌবনে

এবার অনেক ভিড়ে—একা

কবিতা বলতে, জীবন লিখেছি—সহজিয়া বুননে

নিজের বলতে, বর্ষার হাওরের ঢেউয়ে অশত্থের মতো দাঁড়িয়ে ভাতৃদ্বয়।

এআই বলে, ভৌগোলিক দূরত্ব বলে কিছুই এক্সিস্ট করে না

জীবন বলে, ঘোর ভালোবাসায় দূরত্ব জায়েজ

সবটা ভেঙে টের পাই—সাদা প্যাঁচার জল জল চোখ,

বরফের অঙ্গঅবশ রাতে হাতিরঝিলে নেমে আসে—

কুয়াশায়, বৃষ্টিতে