অস্তিধ্বনি
মাছির মিছিলে ঢেকে যাওয়া সুবর্ণ সকাল
এভাবেই রাত অবধি।
তামাবরণ মানুষ
দুহাতে মাছি তাড়িয়ে নাকেমুখে গুঁজে দুবেলা অন্ন গ্রহণ।
যাপনের মেদুর আখরজুড়ে নগ্ন হাহাকার
পথে বাড়ন্ত সারমেয় সম্প্রদায়—
ইহাদের কেড়ে খাওয়ার সুখ
ইহারা ভক্তিমূলক গানেও প্রায়শ চক্ষু মুদে: যুগলীলা!
চিঠি লেখা-প্রজন্মের সুস্পষ্ট অবলোপন পর্ব
ধূসর–চোখ কবিতা ও হৃদয়ের ক্ষয়নাদ ক্রমশ উধাও
কুয়াশার কাছে লেখা এন্তার চিঠি ও কবিতার দাবি
স্তূপ ঘেঁটে কে আর তালাশি দেয় বিপুল আগ্রহে!
অস্তিধ্বনি, তোমার সংগীতে বাঁচি
ভাঙা ঘাটে খসে যাওয়া হংসপালক, খুঁজে কী লাভ।
একগুচ্ছ চাবি
এশিয়ার ধানখেত থেকে আখরোট বন অবধি অচেনা মেঘ
নিচে বিপুল কুয়াশা—
গ্রাম ও শহর একযোগে হারিয়েছে অন্তর্গত ঘ্রাণ।
এখানে বোধের অন্ধকারে পড়ে আছে একগুচ্ছ চাবি
কিংবা চাবির অন্ধকারেই জেঁকে বসা প্রান্তরের হিম!
পঙ্গু রোদ: আগত মেঘ ও কুয়াশার বিপরীতে কী তার প্রস্তুতি?
মানুষের বুকভাঙা গোঙানি নিয়েই হাঁটছে সময়—
পুরানা দেবতা তাদের সমুখে আজও হায় উবুক্রন্দন জীবন!
শিলাবৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে থলে–উপুড় কড়ি
সামন্ত দম্ভোলে কাঁপে নারী ও শিল্পজিজ্ঞাসা!
রূপজন্মের প্রান্তর
রাত্রিঝাড়ে দিগম্বর জোসনাজড়ি। সোনালুকথন রোদ।
ক’টা দিন নোনামাঠে লুপ্ত ফসলের অঙ্ক কষে বেলা বাড়াব না।
গাঁজাগন্ধী টং ও মাংসল মৃত্যুগুলো বাঁয়ে ফেলে
নিরক্ত আলাপ, তর্কতামাশা এড়িয়ে সড়কদ্বীপে মিলিত হব
অতঃপর ঝর্ণাযাত্রা, অনির্দিষ্ট।
শীত গ্রীষ্ম বা নাতিশীতোষ্ণতায় যেকোনো দিকেই
আমরা মাউথঅর্গান গিটার ও চটা নিয়ে বেরিয়ে যেতে পারি—
সমুদ্রতীর? হ্যাঁ, তবে আদৌ ভাঙাশঙ্খের আর্তনাদ শোনা নয়
মরুপথ? ঠিক, তবে মৃগতৃষ্ণিকায় কালক্ষয় নয়
পাহাড়? নিশ্চয়, তবে তার গায়ে কোনো স্বপ্ন লিখে রাখা নয়।
শুধু গান গেয়ে রূপজন্মের প্রান্তর হেঁটে যাব
অচেনা সংকেত কোনো আসে যদি মহাজাগতিক
দেব সহজ সাঁতার।
মনস্তাপ
কে তবে অবগুণ্ঠনে ঢাকা: তুমি নাকি আমি?
নাকি অদ্বৈত উল্লাসে রাঙা উভয়ের সঞ্চার
একজলে দ্রবীভূত, উষ্ণ নিরঞ্জন!
মৌল প্রশ্ন উপেক্ষা করে কতকাল লুকোচুরি?
আমি এগিয়েছি, তুমি পা বাড়াও সুপ্ত-অনিরুদ্ধ
কঙ্কাবতী গো, শুনেছি তোমার সাতমহলায় বাস
রূপবাংলার লোকরানি তুমি মুক্ত ভুবনমোহিনী।
অলীক মাঠের গল্প কুড়োতে মনে আর সায় নেই
হোক তা যতই মনোহারী আর মুহূর্তে ভাইরাল
চারপাশে যদি তুমিই তবে হে আমাকে উড়াও শূন্যে
প্রাণভরে দেখি অতুল তোমার একা হিম, বহু বিস্তার।
উড়নি উড়ালে, গান শোনাচ্ছ, আড়ালেই তুমি কিন্তু
গোলোকে তোমাকে না দেখে দুচোখে, যাবে না মনস্তাপ!
ক্ষত
নাগালচ্যুত আকাশে পূর্ণিমার আয়ু বৃদ্ধিকল্পে
ব্রেন-স্টর্মিং করছে কতিপয় অন্ধকার।
শিশুজীবন কীভাবে বাটিভরা দুধের দিকে এগোবে
তা নিয়ে ভাবছে কিছু নখর বেড়াল।
বোবামাঠে বসে অনেকগুলো ইঁদুর
গৃহস্থের ধানচাল নিরাপদ রাখার স্ক্রিপ্ট লিখছে।
ক্ষত, এতটাই পচেছ, মাছিও ফিরে যায়!