মুদ্রণমন্ত্র
পৃথিবীর মানুষেরা ভালোবাসাবাসি শেষে
ঢুকে পড়ে; মূলত উৎপাদনমুখী বিশ্বের অভিমুখে
যেমন ধরো, পানের বরজ অথবা ভাঁট-ধুন্দুল
হতে পারে তার বা তাহাদের চোখসমুদ্রের মাঝে
খুঁজে ফেরে হারানো বহুপত্রী পুষ্পবিতান।
রংবিহারে
ফুটেছে ফুল এই শরতে
ঘাসজলজে; পাটগন্ধের মিশেলে
বসেছে পাখিসভা মিঠেপড়া রোদে
জলের মোকাম তাড়িয়ে তাড়িয়ে
দৃশ্য কত আকাশের ক্রাডলে
ইতিউতি ভাসে মেঘ
মিথ ছড়ানো রঙে
পুষ্পরেণু ওড়ে
হিজলদিগা ধানে
জলরঙের বিবিধ আশ্রয়ে।
দৃশ্যাদৃশ্য
ফুটেছে ফুল বহুকাল হলো
ধরো অথবা স্পর্শে বায়ু
উড়াইয়া দাও অথবা নজরানা নিয়া
উপস্থিত করো পরাবাস্তব পাখি
অতিক্রান্ত চাপ; আকাশ ভরা প্রস্তাবে
গান হয়ে উড়ে এল আমাদের
একমাত্র বেদনাতুতো ভাই—নিরীহ চাঁদ
তার চারদিকে মৌন পাখিদল
এর মধ্যেই মাঘনিশীথের আরশিতে
ফিক করে হেসে উঠল সাবালিকা—
নিশ্চল তার স্বপ্নগ্রস্ত চোখ বরাবর;
নেশাগ্রস্ত পাল দিগ্বিদিক ছুটে যায়
ততবার শাসিত হই জলতরঙ্গে।
অবিকার
চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে কুড়িলের আয়তন
মেপে বিপরীতে দাঁড়িয়ে গেল
একটি বাহারি ফুল, আবরণে হলুদ
অবসন্ন পথ, উড়ছে লিকারের ধোঁয়া
কী ভেবে এই সন্ধ্যেবেলা
জানানো হলো, তার গাছভর্তি অমুদ্রিত কথাগুলো
ফেলছে দীর্ঘশ্বাসের হাওয়া—
প্রত্যাশার ভেতর পারদ,
পত্রের ভেতর থেকে পুষ্প
উঁকি মারল আবারও।
দৌড় শেষে
মাঠের দৈর্ঘ্য-প্রস্থ জানা হয়ে গেলে
আলোয় ভাসা মুহূর্ত আর ঢিল
ছোড়া অন্ধকার বরাবর...
বারবারই মূর্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে
দেয়ালঘড়ির কাঙ্ক্ষিত কাঁটা;
ফাইলবন্দী যত গোলাপ
বিলোড়িত পথে হাট করে খুলে দেয়
রোদের গতিছন্দ।