আমার বন্ধুরা
আমার শিশুবন্ধুরা
এখন বুড়ো হয়ে গেছে
তাদের মুখ আর চেনা যায় না
কথাগুলোও কেমন দুর্বোধ্য ঠেকে
তারা কেউ ভালো থাকে না
সব সময় মোটামুটি থাকে
আর তাদের হাঁটু বেয়ে
ঝরে পড়ে আফসোস
দুয়েকটা আফসোস কুড়াতে গেলে
দেখি আমারও মুখ
কেমন করুণ হয়ে পড়ে আছে পথে
আমাদের চৈতন্য
ভোরের হাওয়া এসে লাগবে আমাদের গায়ে
আর আমরাও পাড়ি দেব দূরের কোনো নক্ষত্র
যাত্রাবিন্দুতে মিলেছে আমাদের পা, আমাদের চৈতন্য
আমরা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি যাবতীয় নির্দেশনাগুলো
যেগুলো এতকাল ধরে আমাদের কেবল
অধীনস্ত করেই রেখেছে
আর বারবার হেনস্তা করেছে লোকের সামনে
কোনো কোনো কুৎসিত মুখ ভুলতে
উদ্যান বাগানের ভেতর হেঁটে বেড়িয়েছি
আর ভেবেছি, এবার বোধ হয় সত্যি সত্যিই মুক্ত হলাম
ঘৃণা থেকেই জন্ম নিল মুক্তির ধারণা
এভাবে সংঘ গড়ে তুলি
সংঘের ভেতর সবুজ সাপগুলো আমাদের পাহারা দিতে থাকে
আমরা জেনে গিয়েছি
আমাদের কোনো সৃষ্টিই আমাদের রক্ষা করতে পারবে না
আমাদের নকল দাঁতগুলো খুলে পড়বে ভিখিরির থালায়
আমাদের প্রেম
আমাদের প্রেম, তবু এক কুমড়ো ফুল
ফুটে আছে চালে
ভাতের গন্ধে বিভোর, ছুটছি এখনো
সেই ছুটেছি কোন কালে
জালের সঙ্গে আমাদের প্রেম
নদীতে খুঁজেছে প্রাণ
হিমঘর থেকে তুলে এনেছে
মাছেদের সব গান
গ্রীষ্মের রোদে পুড়েছে পিঠ
চড়ায় ঠেকেছে পা-ও
আমাদের প্রেম গাবরসে মেখে
উজানে ঠেলেছে নাও
দেশ
তুমি মেলে ধরেছ তোমার আঁচল
আমি তার নিচে এসে দাঁড়ালাম
আহা কী মিষ্টি গন্ধ! শ্বাস নিলাম
আমার সকল ভার
লুপ্ত হলো
বাতাসের দোলনায় দুলছি
তুমি নাকি রূপান্তরকামী
ধরো, তুমি মানুষ থেকে বদলে
একটা গাছ হয়ে গেলে
শত বছরের পুরোনো একটা গাছ
কিন্তু নতুন নতুন সব পাতা
সেসব পাতার নিচে বসে দেখছি
আমার সব স্বপ্ন সত্য হয়ে গেছে
তুমি একটা দেশ হয়ে যাও না কেন?
গাছ থেকে বদলে
তুমি একটা দেশ হয়ে গেলে
গোটা একটা দেশ
যার প্রতিটি রোমকূপ আমি চিনি
কোথাও হারিয়ে যাবার
আর ভয় থাকবে না আমার
শিকারের আগে
এই মৃদুপায়ে
কত দূরই বা যাওয়া যায়
বাইচের নৌকাগুলো যারা বানায়
তাদের বিমর্ষ পা-ও কি
নেচে ওঠে জল আর হাওয়ার গানে?
তুমি দেখিয়ে দিলে
নদীপাড়ের কুমিরছানাটি
জোয়ারের আগে যে শূন্যে পা ছোড়ে
আর পৃথিবীটা উল্টে দিয়ে বড় হয়ে ওঠে একাকী
শিকারের আগে
আমি তার আনন্দগান রপ্ত করতে পারিনি