ক্রান্তিকাল
অবগাহনের সময় পেরিয়ে যায়
তবু জল স্পর্শ করতেই যত ভয়
কি জানি যদি ডুবে যাই অবশেষে
আমি তো জানি জীবন ফুলেল নয়।
আমি তো দেখেছি শ্বাপদের আনাগোনা
তুচ্ছ লোভের নোংরা হলুদ দাঁত
ঈর্ষার কাঁটা যত্নে বক্ষে চেপে
নিষ্প্রাণ চোখে বাড়ায় ঠান্ডা হাত।
নারীরা ফেরে না, নারীদের দোষ নেই
কাঁটাতারে ঘেরা নিষেধের বেড়াজাল
নগরে বাউল বিলীন হয়েছে কবেই
এখন চলছে পাখিদের হরতাল।
পৃথিবীটা বড় যান্ত্রিক হয়ে গেছে
যন্ত্রণাকাতর মানুষগুলো ছোটে
তবু তার মাঝে কবিতাই শুধু আছে
দাহকালে যে বন্ধুর মতো সহৃদয় হয়ে ওঠে।
ভালোবেসে সাজাব পৃথিবী
তোকে ভালোবাসি বলেই
তোকে নিয়ে দুশ্চিন্তা যত!
কোথায় গিয়ে পড়বি, কোন নর্দমায়
খানাখন্দে—
আর তোকে খুঁজে খুঁজে সমস্ত পৃথিবী ওলট-পালট
অবশ্য মন্দ হবে না তাহলে—
আফ্রিকার সব কৃষ্ণকায় মানুষেরা তখন
দখল করে নেবে বর্ণবাদী চেয়ার-টেবিল
সমস্ত পলাশের রং হয়ে যাবে নীল
আর সবুজ ক্যাকটাস ফুল ফোটাবে অবিশ্রান্ত।
‘ক্ষুধা’ নির্বাসিত হবে, উত্তর গোলার্ধের ঠান্ডা সমুদ্রে
তবু সেখানেও সূর্য ঝলমলে দিন।
আর সব মানুষ উড়তে শিখবে
উড়তে উড়তেই রচিত হবে মনুষ্যত্বের গান।
নেহাত মন্দ হবে না—তুই হারিয়ে গেলে
কারণ, যেখানেই থাকিস না কেন
সব কাজ শেষ করে অর্থাৎ
সাজানো-গোছানো পৃথিবীতে
আবার ফিরিয়ে আনব তোকে
ভালোবাসি বলেই।
আমার হাতেও তরবারি
খুব বেশি নিঃশব্দে তুমি চলে গিয়েছিলে
আবার এতটাই শব্দহীন ছিল তোমার ফিরে আসা যে
আমি তোমাকে দেখতেই পাইনি।
প্রথমত তোমাকে দেখিনি
দ্বিতীয়ত তুমি যখন আমায় ডাকলে...
তোমার কণ্ঠ আমার অচেনা লেগেছে।
আমি দৃষ্টিহীন কিংবা বধির হলেই ভালো হতো
তাহলে তোমাকে তুমি বলে চিনতে না পারার অপরাধবোধটুকু
ঢেকে রাখতে পারতাম আমার সহজাত ঔদার্য দিয়ে।
তুমি বদলে গেছ এটাই একমাত্র সত্যি নাও হতে পারে
তুমি বদলে দিয়েছ আমাকে—এটাই যথাযথ।
এখন আমি অনায়াসেই হাতে তুলে নিতে পারি তরবারি
কারও মাথা না কাটলেও, হৃদয় ছিঁড়ে দিতে পারি,
তোমার চাইতেও বেশি নির্দয়তায়।
এসো তবে যুদ্ধ করি!
স্বপ্ন কিংবা মৃত্যু
এখনো সময় আছে, আমরা
অরণ্যের কাছে ফিরে যেতে পারি
অপার প্রকৃতির সামনে নতজানু হয়ে
অস্ফুটে বলতে পারি, ‘আমাকে নাও’।
আমাদের নিশ্বাসে আজ বিষ ঢুকে গেছে
আমাদের সভ্যতায় পচন ধরেছে,
আমরা রক্তলোলুপ হয়ে উঠেছি ক্রমশ
আমরা প্রতিদিনি সকালে
চায়ের সঙ্গে রক্ত পান করছি
আমরা প্রতিদিন বিকেলে
আড্ডায়—রক্ত খরচের হিসাব করছি,
আমরা প্রতি মুহূর্তে রক্তাক্ত করছি বিশ্বকে।
আমরা নিধন করছি বৃক্ষ
দহন করছি স্বপ্ন
দলিত করছি ফুল, জ্যোৎস্না, সংগীত
দূষিত করছি বাতাস আর বৃষ্টিকে
কর্তন করছি পর্বত এবং
মৃত্যুকে মৃত্যুর চাইতেও ভয়াবহ করে তুলেছি।
তবু, এখনো সময় আছে, আমরা
অপার প্রকৃতির মাঝে ফিরে যেতে পারি;
অরণ্যের কাছে ক্ষমা চেয়ে
বলতে পারি ‘আমাকে স্বপ্ন দাও’।
অপরাজিতা
নতুন আলোয় স্বপ্ন দেখি
আকাশজুড়ে মেঘ বানাব
কালবোশেখির রুদ্র ঝড়ে
নীলকণ্ঠী নাও ভাসাব...
ডুবসাঁতারে পার হয়ে যাই
স্বপ্ন সুখের মিথ্যে সাগর
সাধ্যি তো নেই সত্য জেনে
তোমার বুকে কাটব আঁচড়।
অমন করে কইতে কথা
কেউ বলেনি আমায় তখন
ভালোবেসে বিবাগী মন
তোমার পথে ছুটল যখন।
আজকে যখন এই অবেলায়
তোমায় পেলাম স্বত্ববিহীন
আমি তখন একলা উড়াল
জীবন খুঁজি যন্ত্রণাহীন!