দ্বন্দ্ব নয় কামনার দাগ

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

গানের ছবি

দুটো শূন্য রাস্তা পাশাপাশি শুয়ে আছে
তবু এক নিবিড় দূরত্ব
অমাবস্যা রঙে মৃত্তিকার উর্বী ইন্দুর মতন
ঘরের খিলান ভেঙে স্রোত
ঢুকে পড়া নদী
তারা যেন স্বপ্নহীন শঙ্খ
দিনহীন রাত
বস্তুত সর্পিল কোনো পবিত্রতামগ্ন
দ্বন্দ্ব নয় কামনার দাগ
প্রতীতির মতো ক্রমবিবর্তিত ব্যথার প্রকাশে
উথিত মথের মতো বিবসনে আছে
রক্তের ফেনিল ঢেউ চেনেনি বালিকা
দেখেনি চশমা গলে পড়া টনটনে মৃগনাভি
পোমোদোরো খেলা ঈশ্বরের প্রেম চিহ্ন ভালোবাসা
হেমন্তের আহ্বানে তাই বুক ভরেনি নদীর
পুরোনো নাব্যতা জলে ফলে রঙিন সকালে
এখনো আশ্বিনের হয়নি ভাসান
বালিকার বুক ভরে আছে ভুলের সুধায়…

প্রথম প্রেমের কবিতা

তোমার জন্য দূরের দেশে একলা আমি পাখির বেশে
তোমার জন্য পথের দাবি দারুণ ক্রোধে বুকের বিষে
তোমার জন্য ক্রনিক ব্যথা বিরস বাজে বুকের মাঝে
তোমার জন্য সকাল-দুপুর গল্প সাজাই চোখের ভাঁজে
তোমার জন্য নিদাঘ রাখি জমাই টাকা হাতের কোষে
তোমার জন্য স্বপ্নগুলো যাচ্ছে ফুটে দারুণ জোশে
তোমার জন্য একটা পুকুর কিনব এবার মাঘের শেষে
তোমার জন্য জমির দলিল রাখব তুলে ফুলতোশকে
তোমার জন্য ঘর সাজাব তুলতুলে ঘুম রাখব তুলে
তোমার জন্য গোপন কুসুম ফল ধরাবে বেদন ভুলে।

পাখি বৃত্তান্ত

পাখিটির বাসা ছিল উঠানের জলপাইগাছে
মাধবীলতার মতো বেদনার নীল ছিল ঠোঁটে
গান শুনে রোজ প্রভাতের ঘুম হয়েছে রচনা
অথচ আগেই চোখ ছিল তার রঙিন বসনে;
প্রতিবার ভুল করে শূন্য হাতে শিকারির দল
যেভাবে মানিয়ে নেয় শহরের ফ্যানের বাতাসে
বাকি থাকা খরচের খাতে জীবনের কিছু ভুল
অন্যভাবে না হলেও এভাবেই রোজ মিশে থাকে।
অভিনেতা নই, আলো জ্বেলে ভুল কখনো খুঁজিনি
পৃথিবী দেয়নি অধিকার সবকিছু পাওয়ার
একাকার যার বুকে সুখ খুঁজে নেবে সে একাকী
দেখেছি সেদিন তাকে, ম্লান চোখে হয়েছি ফেরার;
কোনো দোষ নেই তার, দোষ নেই ভাগ্যদেবতার
ততটা ছাড়তে হয়, যতটুকু যার হারাবার।

মেটামরফোসিস

শ্রাবণ প্রহর মাথিময় হয়ে উঠেছে কি দেখো
বাস্তবে শ্রুশ্রুষা দেয় যে প্রহরে তাকে লাগে ভালো
প্রহর কখনো জলে সাজায় না আলোর বরাখ
আনত মিছিল শেষে যদি মন পোড়ে তুমি ভাবো;
সাধের পরাগ তার নিদারুণ সংকটের কালে
চাঁদের তিলক মেখে চোখে তোলে দুধের বলক
মুখের মেকআপ তার ভেসে যায় শহরের জলে
কবিতায় ফোটে সব সকরুণ সুখের সনক;
কবির হৃদয়ে মৃত্যু বারবার দিয়ে যায় নাড়া
আহত সাপের মতো বিষাক্ততা নেই তবু তার
প্রেমিকার তিল দিয়ে সাজায় সে কথার মহড়া
দীনতা নিয়তি তার আর্তিভরা শোকের বাহার।
সঞ্চয় রাখে না কবি জমা করে লাল অভিমান,
প্রিয়তম, প্রেম কোনো দিন তার হয় না আপন।

একটি অরাজনৈতিক কবিতা

লাল-নীল চাপা খোলা বিহঙ্গ বিতস্তা জমেছে বাকির খাতায়
ফুটেছে ফুল পুষ্প বৃক্ষের মতো
নেবে বালিকা, জলডোরা খেলা জলজ রাত্রির সহজ সে ফুল?
কত অস্ত্র টলটলে অস্ফুট অশ্রুত কাঁঠালের কোয়ার মতন
দিবারাত্রিজুড়ে কোয়ান্টাম খেলে কাচপোকা
সশব্দ গরুর গাড়ি হেঁটে যায় মেঘের ওপর
শরীরের মদ ছুঁয়ে নিথর শূন্যতা
নেবে বালিকা, বাহুডোর খোলা সুবর্ণ সন্ধ্যার ফুল?
হাতে মন্ত্রের কেকা মুকুলের ছি! ছি! ধী ধী মাতম
গ্রীবা ছুঁয়ে নেমে আসে সাপ
ফুল নেবে বালিকা, ছোঁয়াবে ঠোঁটের উষ্ণ আগুনে?