তোমার কী খবর মহাকাল

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান

ঢ্যাঙা ঢ্যাঙা পায়ে

পার হয়ে যায় আরও একটা দিন ঢ্যাঙা ঢ্যাঙা পায়ে,
যেন এক নির্জন শতাব্দী। মোবাইলের স্ক্রিনে খেয়াল করে
না তাকালে হয়তো জানাই হতো না দিনটার নাম কী,
তারিখ কত। টাইম ল্যাপস ভিডিয়োতে মেঘেদের
দূরে সরে যাওয়ার মতো চলে যায় একেকটা দিন
আর আমি বহুগামীর মতো তাদের সবারই প্রেমে পড়ে যাই।
একটা দিনকে মিস করতে করতে আরও একটা
নতুন দিনকে মিস করার সময় চলে আসে।
এভাবেই চলছে আমার দিনকাল।
তোমার কী খবর মহাকাল?
তুমিও কি অনেক দিন ধরে আসব আসব করতে করতে
আসার আগেই হারিয়ে যাবা? আর আমি কি অন্যকে
হারানোর ব্যথা ভুলতে ভুলতে তোমাকেও হারানোর ব্যথার
মহাশূন্য নীলে ঢুকে পড়ব একটা সবুজ টিয়া হয়ে?

আলস্য দিনে যা যা হয়

কিছু কিছু দিন আলস্যের সাইনবোর্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
অবসরের পাখি এসে বসে তার মাথায়। তখন একপাল
একাকিত্বের ভেড়া ঢুকে পড়তে চায় আমার
সূর্যকরোজ্জ্বল সরিষাখেতে আর ঘুড়ির লাটাই দিয়ে
নামিয়ে আনে মেঘ রোদ্দুরের ফলা সরিয়ে। আমি ভেড়াগুলোকে
লাঠি নিয়ে তাড়িয়ে দিয়ে আসি বহুদূর তেপান্তরে;
যাতে তারা আমার স্বপ্ন, সাহস আর আনন্দের গাছগুলোকে
খেয়ে ফেলতে না পারে। কিন্তু ওদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে
ফিরে আসতেই দেখি ভেড়াগুলো এবার ফিরে এসেছে
লেফট–রাইট করতে করতে সাজপোশাক পরা আর্মি হয়ে।
আলস্যের দিনের বারোটা বাজিয়ে পৃথিবী নামের
আমার শিশুকন্যা কেঁদে ওঠে তীব্র শব্দ করে।
তাকে কোলে নিয়ে ছাদে হাঁটতে হাঁটতে ভাবি,
পৃথিবী তো কাঁদতেই থাকবে, কখনো আবার হাসবে—
এর মধ্যেই আমাকে টিকে থাকতে হবে, যেভাবে
মাটির গভীরে স্ট্র দিয়ে গাছ শুষে নেয় জীবনের মিষ্টি রস।