অলিভ উপত্যকা
এই অলিভের উপত্যকাজুড়ে ক্রুসেড-ক্যানোপি—
মরমি রোদ্দুর মাখা।
গালিলের মৃত মোহনায়
দ্যাখো সারি সারি জলসত্র, তবে সব কটা ফাঁকা…
শোণিতের ঘ্রাণ এসে বাতাসকে ধাবিত করায়—
এক-পা, দুই-পা করে তৃণভূমি পার হয়ে গেলে
বিদায়ী হ্রেষার পিছু সংকেতময় রাত্রি
এল নেমে, গিরিখাত বেয়ে…
এইবার ক্রুদ্ধ-ধাত্রী,
সদ্য প্রসূত চাঁদটাকে ক্রুশবিদ্ধ করো—
ক্ষয়ে যাক—সমস্ত রাত্রির গায়ে ধসে পড়ুক—
গলিত হোক—আর এই অন্ধকার অননূদিতই থাক।
মরফিনমিশ্রিত দুপুর
এ ভরা নৈদাঘে
দুপুরের পাশে রৌদ্রফুল ফোটে বাষ্পের অহমিকায় উড়ে যায় ঘ্রাণ,
শৈশবের কারমান রেখা ক্রস করে—এই দৃশ্য মুমূর্ষু বিষাদ!
মাটির ফাটল থেকে—উদ্গত মরফিন চামরের দোল খেয়ে স্মৃতিদগ্ধ বাতাসে
মিশ্রিত হলে কিঞ্চিৎ শুশ্রূষা হয়,
কুয়ার গভীর হতে উঠে আসে ধু ধু প্রতিধ্বনি যেন ঝাঁকে-ঝাঁকে জন্মান্ধ বাদুড়
প্রদগ্ধ হৃদয়—সে–ও অন্ধ বাদুড় এক—প্রক্ষেপণ করে শ্রুতির অধিক প্লুতস্বর—
সংবিগ্ন স্যানিটোরিয়াম, নিক্রপলিসের কোনো মর্মর দেয়ালে…
প্রাচীন হে, ফিরে এসো মরফিন–মিশ্রিত দুপুরে, আলিঙ্গন হোক পুনর্বার—
প্রিয় বিষাদবরেষু, ব্যাপনে ফুরিয়ে যাওয়া ঘ্রাণ—এসো, রৌদ্রফুল—নিদাঘ
দুপুর!
নকটার্ন চাঁদ
প্রান্তরে মহীষের মিথুন শিঙের বক্রতায় নেমে এলে নকটার্ন চাঁদ
হিমপরিবৃত ডাকবাক্স খুলে দেয় হেমন্ত—
নিঃসঙ্গতার পরম বিন্দু থেকে ডানা মেলে ঝাঁক ঝাঁক বুনো চিঠি
উড়তে উড়তে চলে যায় দিগন্তরেখায়…
দিগন্তের ওই পাশে মর্মপরিধিসম নৈঃশব্দ্যের সরোবর,
অন্তর্লীন শূন্যতার প্রত্ন-অভিজ্ঞান—বোধিদ্রুমতলা—
যেখানে আকাশ এসে নামে—নক্ষত্রের ধূলিপথে হেঁটে আসা যায়...
পরিক্রমণ শেষে হেমন্তের বিষাদিত প্রান্তর হিমপরিবৃত ডাকবাক্স
ফিরে ফিরে আসে… হে নৈঃশব্দ্য, মরমে সুস্থির হয়ে বসো!
ঘোড়াগুলো বৃষ্টিপ্রবণ
ঘোড়াগুলো বৃষ্টিপ্রবণ আকাশ উঠানেই ভেঙেচুরে টগবগিয়ে ছুটত
মরা নদীর সোঁতায়—তখন হাওয়ায় মুহুর্মুহু হ্রেষা
দশ দিগন্তে সে এক পৌরাণিক দামামা—মৃত ও মিথের অন্তস্তল লক্ষ্য করে
পয়স্বিনী মেঘের তিরনির্দেশ…
বৃষ্টি! পঞ্জিকায় অধিরূঢ় আষাঢ়ের দিন—জলে জ্যাজীয় মূর্ছনা—মাতাল আনাবাস
উল্লাসে উঠে যায় গাছে, জন্মান্তরে হাঁটে জঙ্গম-শামুক
প্রগলভ পিঁপড়া জলপাঠ্য আলাপে-বিলাপে সমুদ্র অভিমুখে নৌ-যাত্রা করে…
ঘুমপ্রবণ বৃষ্টি চোখে ভেঙে-চুরে পরে আমাদের শৈশব— ঘোড়াগুলো আস্তাবলে
ঝিম ধরে থাকে—
প্রকৃত বর্ষায় বিষ্ণু নিদ্রিত থাকেন—বলা আছে মেঘে ও পুরাণে!
মেরুন সন্ধ্যালোক
মেরুন সন্ধ্যার তলদেশে সন্তরণরত ডানার উচ্ছ্বাস ডাঙায় উঠে এলে
দ্রবণীয় অন্ধকার কুপির শিয়রে—ঢুলু ঢুলু দৈত্য-দানো
শিউরে উঠে উঠানের দ্রাঘিমা পেরুলেই ঘুটঘুটে সাতটি তিমির—
প্রবেশিকা পাঠ শেষে গুহায় সেধিয়ে গেছে চাঁদ, নির্বিঘ্নে মেঘের আবডালে
তামার পোকারা দাঁতের তলায় ফেলে চিবিয়ে নিয়েছে কোলাহল
উদ্ভিদের ক্রমাগত শব্দহীন ফিসফিস দূরবর্তী হাওয়ায় হাওয়ায়…
নৈঃশব্দ্যের দংশনে দ্রবীভূত অন্ধকার—আর মায়ালোক একে একে খুলে
দিচ্ছে রূপকথার ঝাঁপি।