বাসো বৈশাখ, আমারেও বাসো

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

বাসো বৈশাখ আমারেও বাসো, বাসো দোতলার মেজ মেয়েটারে
হলুদ পাতারা লঘু পায়ে যার হৃদি ভেদ করে, আস্তানা গাড়ে

বহো বৈশাখ ইলিশ রঙের নদীনির মতো, এই তো আরকি!
চারুকলা থেকে হাইকোর্ট বহো, বকুলতলাটি ক্যামেরার ক্লিক।

আমারে শান্ত করো, নিবেদিতা, চেনাও তেল আর জলের ফারাক,
জ্বরো মাথাটিকে কোল পেতে নাও, বাসো বৈশাখ, বাসো বৈশাখ...

ইনিয়েবিনিয়ে না শোনাও গান, স্মৃতি ঢেকে দাও নতুন স্মৃতিতে,
ঢেকে দাও সব ক্রোধ ও কামান সন্ধিপত্রে সই দিতে দিতে।

দিকে দিকে এত চোরকাঁটা, ভয়, নিন্দাটুকরো, তবুও প্রেরণা
তুমি পরোক্ষে, মাহুত বন্ধু। রোদ পড়ে গেলে আমাকে ছেড়ো না।

যার হাতে–পায়ে দারিদ্র্যরেখা, কাম নয়, গায়ে শ্রমের গন্ধ
মানুষ হয়ে যে মরতে এসেছে, তাকে কিছু দাও বেলুনানন্দ।

সীমারেখা ভেঙে উড়েছে যে পাখি, যদি পারো তার কাছাকাছি আসো,
বাসো লঞ্চের ক্যানটিনে ভাত, হাইওয়ের পাশে চা-দোকান বাসো।

কত কী যে ঘটে ঢালু রাস্তায়, কত অনটন, খুঁজিনি দায়ী কে
শতাব্দীভর অপেক্ষা ছিল, তুমি এনে দেবে একটি সাইকেল—

বাসো যদি আজ, জন্মদাগের হরফে লেখো হে পরম ক্ষতি
কেননা আমার ফোটানোর কথা, খুনের ছুরিতে, অরুন্ধতী।