মৃত্যু তো মায়ের মতোই

অলংকরণ: এস এম রাকিবুর রহমান। গ্রাফিকস: প্রথম আলো

কেন আমি মরতে যাব, কেন সেধে মারা পড়ব সকালে সন্ধ্যায়। আমার ছোট্ট একটা প্রাণ, টুপ করে ঝরে পড়তে পারি। সে–ও এক মায়ের কোলেই ফেরা হবে।

মায়ের জঠরে ছিলাম আমি, মৃত্যুরও জঠর আছে। মৃত্যুও মা আমার। যাকে কোনো দিন দেখিনি। জানি দেখব। প্রতিটা মুহূর্তে সে এগিয়ে আসছে আমার দিকে। দেখা তো হবেই।

তবে তাড়া কিসের? আমার গন্তব্য আমি জানি। আমাকে গর্ভে রেখে, মানুষ নয়, মানুষের মতো কোনো প্রাণীর স্বভাবে অনুপম যন্ত্রণায় আকাশ বিদীর্ণ করে মা আমাকে জন্ম দিয়েছে। এবং মৃত্যু তার অভিযাত্রা শুরু করেছে আমার দিকে।

হাত উঁচু করে দাঁড়িয়েছি একদিন। পৃথিবীতে এত রং এত আলো, আর মায়া আর হিংসা। এদিকের ডালের ভারে ওদিকের ডালের সংগতি। কত দেখা হলো শেখা হলো। বহুবর্ণ অনুভব বর্ণে বর্ণে ভাগ করে সাজিয়ে রেখেছি।

যে আসছে, মৃত্যু, এখনো পৌঁছেনি, জানি না অনেক দূরে নাকি শিয়রে দাঁড়ানো, তার কথা ভেবে আমার মায়ের অন্তহীন গর্ভের ভার জন্মদানের চরম বেদনার মধ্যে আনন্দের অদ্ভুত উদ্যাপনকে সূর্যাস্তের চিরস্থায়ী চাদরে ঢেকে দিতে পারি না।

আমার মায়ের মুখের সেই শোভা আর আজকের অজস্র বলিরেখার দোহাই, আমার মাথার ওপর, অন্তিম কোল তুলে নেবার আগে আমি সমুদ্র পাহাড় বন অগণিত মানুষ প্রাণী সবকিছুর মধ্যে বিচরণ করতে থাকব সতেজ রং মেখে মেখে।