কবিতা

অলংকরণ: সাব্যসাচী মিস্ত্রী
অলংকরণ: সাব্যসাচী মিস্ত্রী

জাহিদ হায়দার
অন্তঃস্বরজাত
কিছু বিস্ময় বহন করেছি একাকী
অপেক্ষমাণ কিছু পর্দার আড়ালে,
কেন খুঁজি নাই, কেন খোঁজো নাই তুমি;
মুখোমুখি হতে আমরা বিষয় সন্ধ্যা।

দিনভাঙা স্রোতে হঠাতের আলো শ্যাওলা,
নতুনের শব মাছের মুখে খাদ্য।
রূপান্তরের অবহেলাধারা স্বাভাবিক,
ভুলে গেছ তুমি, পেয়েছিল ঘাট ভেজা পা।

সাঁতার অনেক, পাড় বেশি নেই শরণে।
হঠাৎ দেখায় ডোবা বাতিঘর ধমনি
সমুদ্র নেই আমার অন্তরীপে,
মানুষের দ্বীপে হৃদয় কি অতিরিক্ত?

কত দূর গেলে সমান্তরাল বৃত্ত
বলে না বিদায় দূরত্বে পারমিতা,
পান্থনিবাস ধুলো হতে পারে তমসায়
তৃষ্ণার কথা কেন্দ্রের ঘরে জনহীন।

শূন্যতা ভাঙে, বিপরীত গড়ে আমাদের;
ভুলে যাওয়া পথ মনে রাখে কিছু সত্য,
অপেক্ষা খোঁজে তৎপরায়ণে দরজা,
পাহারা দেবার কেউ ছিল না সেখানে।

কামরুজ্জামান কামু
আমি তার বুঝি না কিছুই

আমি যেন বুঝি না কিছুই—
শুধু আমব্রেলা মাথায় ছাতার মতো
মেলে ধরে আছি—বৃষ্টি হয় ঢাকায়
আব্বার ফোন আসে—বৃষ্টি নাকি হয়
সেখানেও; সেই রামধনে কালো ও সবুজ রং
প্রকৃতির প্রান্তরের সোনালি ধানের খেত
পার হয়ে ছুটে আসা সে দামাল দুরন্ত বৃষ্টির
সংরাগ জাগে চিরচেনা কণ্ঠে—

পুকুরের পাড়ে বসে শেওলামাখা একটা ব্যাঙ

ডাকে—আকাশের দিকে মুখ তুলে—

আব্বা বলে, তোমার চাকরির কী হলো?

বৃষ্টির শব্দের মধ্যে সেই প্রশ্ন হারিয়ে যায়—

স্কুল-কলেজের থেকে বউ-বাচ্চা ফিরে আসে
কলিং বেলের শব্দে বৃষ্টি থেমে যায়—
আমি তার বুঝি না কিছুই—

মামুন খান
চোরাপ্রবাহ
সন্ধ্যার আগে আগে
ঝাঁকে ঝাঁকে লাখে লাখে
পাখ আর পাখালিরা
আমাদের গ্রামগুলোর মাথাগুলোকে
তীব্র পাখনার নিচে ফেলে রেখে রেখে
কোন দূর জলাভূমি ছেড়ে
কোন সুদূর বনভূমির দিকে যে ছুটে যেত;
আজও আমি ভাবি
তারা কী ঠিক ঠিক পৌঁছাতে পারত স্বরচিত নীড়ে?
যেমন আমরা আজান মাত্রই
খেলা ও ক্রীড়া অসমাপ্ত রেখে হাঁস-মুরগির মতো
পৌঁছে যেতাম মাতৃখোঁয়াড়ে!