দেখো নিশা

বনানীর থেকে তেজগাঁও হয়ে

বৃষ্টি যাচ্ছে রোকেয়ার দিকে—

দেখো দেখো নিশা, কী যে অমানিশা!

হাত ধরে তোলো ভাঙা গাছটিকে।

বিদ্যুতে দেখা ফাঁকা চারপাশ

বজ্রকে ভয় পাচ্ছ না ফলে—

শীতল শিলারা হাতে উঠে আসে

নিজ থেকে তারা যায় গলে গলে!

তীব্র ঝাপটা পলাশীর মোড়ে—

ভাঙা ছাতা নিয়ে ভিজে যাও তাতে,

মেঘে মেঘে চোখ তুলে আচমকা

আনমনে হলে কোন প্রতিঘাতে!

শরীরজুড়িয়া কুহু-কেকাধ্বনি

স্মৃতি চলে যায় নানা বরিশালে—

ঘনানো মেঘের হুংকার এনে

ধরনীতে আজি কী ধারা জাগালে!

টিপটিপ করে বাহিরে ক্রমশ

বুকের ভেতরে নিরবধি চায়,

তোমার সকল নকল করিয়া

পৃথিবীর প্রাণ ক্রমে উথলায়।

ফুলে ওঠে নদী-সাগর ফাঁপিয়া

হুংকারে কাঁপে খর-রাজধানী,

যা কিছু পেয়েছি রাস্তায় মোরা

কোথায় হারাল সেসব তখনই!

তাতে রাত আর বক্র বারিষে

হুডতোলা যত রিকশারা ছোটে,

ভেজা চুল ঝাড়ে গাছগুলো ধীরে

চুমু পেতে ঠোঁট নদী হয়ে ওঠে!