জায়োনিজম, প্যালেস্টাইন ও রবীন্দ্রনাথ

প্রায় এক শতাব্দী আগের এক সাক্ষাৎকারে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, আজ তা ভয়াবহ বাস্তবে পরিণত হয়েছে। মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের এই লেখা আমাদের জায়োনিজমের ঐতিহাসিক শিকড়, ইউরোপীয় ইহুদি নিপীড়ন, ফিলিস্তিনের ভূরাজনীতি এবং রবীন্দ্রনাথের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সংযোগস্থলে নিয়ে যায়। কবির আশঙ্কা ছিল, আরব-ইহুদি সহযোগিতা ছাড়া জায়নবাদ অচল গলিতে ঢুকবে। প্রায় দুই যুগ আগে (১০ মে ২০০২) প্রথম আলোর তৎকালীন ‘সাহিত্য সাময়িকী’তে প্রকাশিত এই প্রবন্ধ আজ যেন নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, সহাবস্থানের সেই সম্ভাবনা কেন বারবার হারিয়ে গেল, আর তার মূল্য দিচ্ছে কারা?

মাসুক হেলাল অঙ্কিত মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের প্রতিকৃতি অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

জায়ন পাহাড় ফিলিস্তিনের পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত। বাইবেলে এটিকে ‘ডেভিডের নগর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে একটি জেবুসাইট দুর্গ নির্মাণ করা হয়। জায়ন বলতে সেই পাহাড়ে অবস্থিত দ্য টেম্পল ভজনালয়ের কথাও বোঝায়। ইহুদিদের কাছে জায়ন তিনটি বিষয়ের প্রতীক—জেরুজালেম, প্রতিশ্রুত ভূমি ও ইসরায়েলিদের মসিহ সম্পর্কীয় আশা।

৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমানরা জেরুজালেম ধ্বংস করে। রোমান সাম্রাজ্যের পতনের পর ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত ইহুদিরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নির্যাতিত হয় এবং সময়ে সময়ে বিতাড়িত হয়।

ইহুদি ঘরের ছেলে কার্ল মার্ক্স তাঁর ‘আজকের ইহুদি ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে মুক্ত হওয়ার সামর্থ্য’ (১৮৮৪)-এ বলেন, ‘শুরু থেকে খ্রিষ্টানরা ইহুদিদের তত্ত্বকথা শুনিয়েছে, তাই ইহুদিরা হয়েছে কাজের খ্রিষ্টান।’ ইহুদি বলতে শেক্‌সপিয়ারের শাইলক চরিত্র অনেকের চোখের সামনে ভেসে ওঠে। চড়া সুদ দেওয়ার কারণে বোধ হয় ইহুদিবিদ্বেষের সূচনা। ‘সেন্ট জোন’-এ জর্জ বার্নার্ড শ বলেন, ‘ইহুদিরা সাধারণত দাম দিয়ে থাকে। তারা তোমাকেও দাম দিতে বাধ্য করবে। কিন্তু তারা জিনিস দেয়। যেসব মানুষ কিছু না দিয়ে কিছু পেতে চায়, তারা আমার অভিজ্ঞতায় নিয়তই খ্রিস্টান।’ পুঁজিবাদ বিকাশের ফলে ইহুদিদের অবস্থান পরিবর্তিত হয়। অবশ্য অর্থের বাজারে ইহুদিদের অ-ইহুদিরা কোনো দিন পছন্দ করেনি।

ঊনবিংশ শতাব্দীতে কাউন্ট গোবিনো ও হিউস্টন মিউয়ার্ট চেমবারলিন আর্যদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করতে গিয়ে যেসব বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করেন, তা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে চালিত হয়। ইউরোপের কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি হলে, অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে, এমনকি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলেও যত দোষ ইহুদি নন্দঘোষদের ওপর চাপানো হতো। ইহুদিবিদ্বেষের নিদর্শন হিসেবে বিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে রাশিয়ায় প্রকাশিত হয় ‘জায়ন বিজ্ঞ ব্যক্তিদের খসড়া দলিল’। বিশ্বব্যাপী ইহুদি আধিপত্য বিস্তারের সেটি নাকি ছিল প্রামাণ্য দলিল। ইহুদিরা বরাবর তার সত্যতা অবশ্য অস্বীকার করে।

১৮৮৯ সালের পর রাশিয়া থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত সব ইউরোপীয় দেশ থেকে ইহুদি বিতারণ পর্ব শুরু হয়। পোল্যান্ড, রাশিয়া এবং মধ্য ও পূর্ব ইউরোপের অনেক দেশে ইহুদিদের বিদেশি চক্রের দালাল হিসেবে চিহ্নিত করা হতো। ইহুদি নিধনের সময় পূর্ব ইউরোপে তেমন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

কাউন্ট গোবিনো ও হিউস্টন চেমবারলিন আর্যদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার করতে গিয়ে যেসব বৈজ্ঞানিক তথ্য পরিবেশন করেন, তা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিশেষভাবে চালিত হয়। ইউরোপের কোনো দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বৃদ্ধি হলে, অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিলে, এমনকি প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটলেও যত দোষ ইহুদিদের ওপর চাপানো হতো।

১৯৩৩ খ্রিষ্টাব্দে জার্মানিতে নাৎসিরা ক্ষমতায় আসার পর ইহুদিনিধন নৃশংস রূপ ধারণ করে। নাৎসিরা বলত, ইহুদিদের দেশ নেই, তাদের দেশপ্রেমও নেই এবং তারা যেকোনো সময় বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। এক হিসাবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানি ও তার মিত্রদের হাতে ৬০ লাখ ইউরোপীয় ইহুদি প্রাণ হারায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইহুদি শরণার্থীদের অনেকে ফিলিস্তিনে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে।

জায়োনিজম পৃথিবীর সব ইহুদিকে জায়ন-ভূমিতে প্রত্যাবর্তন করার জন্য ডাক দেয়। দুনিয়ার অধিকাংশ ইহুদি এই ডাকে সাড়া দেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ইসরায়েলের চেয়ে বেশি ইহুদি বাস করে। ইসরায়েলের প্রত্যাবর্তনের আইন অনুযায়ী যেকোনো ইহুদি ইসরায়েলে ফিরে এসে বাস করলেই সরাসরি নাগরিকত্ব লাভ করে। একদিক থেকে বলতে গেলে জায়োনিজমের জন্ম হয় খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীর গোড়ার দিকে, যখন ইহুদি প্রবাসীরা দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৮৯৭ সালে আধুনিক জায়োনিস্ট আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। ওই বছর টেওডোর হের্ৎসল সুইজারল্যান্ডের বাজেল শহরে বিশ্ব জায়োনিস্ট কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলায় জুডাইজমকে ইহুদিবাদ বা ইহুদিধর্ম এবং জায়োনিজমকে জায়নবাদ তরজমা করা যেতে পারে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা লাভের পর সেই রাষ্ট্রকে ইহুদি ধর্মীয় রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্দোলনকেই আজ জায়োনিজম বলা হয়।

কোনো দেশকে স্বদেশ গণ্য করতে না পেরে ইহুদিদের মনে যে শূন্যতা বা হাহাকার বিরাজ করত, তা সুন্দরভাবে প্রকাশ করেছেন ইহুদি ঔপন্যাসিক এলি উইজেল তাঁর ‘লেজেন্ডস অব আওয়ার টাইম’-এ (১৯৬৮)। তিনি বলেন, ‘একমাত্র যে জায়গায় আমার বাড়ির ভাব হয়, তা ইহুদি কবরখানা। তবে আগে আর কোনো দিন আমি সেখানে পা দিইনি। শিশুদের তো সেখানে ঢুকতে মানা করা হতো।’

১৯২৮ সালে উইজেলের জন্ম হয় রোমানিয়ায়। নাৎসি বন্দিশিবিরে তাঁর পরিবারের সবাই প্রাণ হারান। তিনি বেঁচে যান। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হন। নাৎসি হলোকাস্ট বা হত্যাযজ্ঞ যাতে কেউ ভুলে না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য তিনি কলম ধরেন। ১৯৮৬ সালে তিনি সাহিত্যের জন্য নোবেল পুরস্কার পান।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব ব্যালফুর ব্রিটিশ ইহুদিদের নেতা দ্বিতীয় লর্ড রথসচাইল্ডকে এক চিঠিতে জানান যে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের ফিলিস্তিনে এক স্বদেশভূমি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করবে। ‘ফিলিস্তিনে বর্তমানে অ-ইহুদি সম্প্রদায় আছে, তাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কিছু করা হবে না।’
মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান [৩ ডিসেম্বর ১৯২৮—১১ জানুয়ারি ২০১৪], প্রতিকৃতি: মাসুক হেলাল

বিশ্বের ইহুদিদের আফ্রিকার উগান্ডায় পুনর্বাসিত করার প্রস্তাব জায়নবাদীদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। ১৯১৭ সালের ২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্য ইউরোপের ইহুদিদের সমর্থন আদায় করার জন্য ব্রিটিশ পররাষ্ট্রসচিব ব্যালফুর ব্রিটিশ ইহুদিদের নেতা দ্বিতীয় লর্ড রথসচাইল্ডকে এক চিঠিতে জানান যে ব্রিটিশ সরকার ইহুদিদের ফিলিস্তিনে এক স্বদেশভূমি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারটা সহৃদয়তার সঙ্গে বিবেচনা করবে। একটা দ্ব্যর্থবোধক রাইডার বা পুনশ্চ ছিল, ‘ফিলিস্তিনে বর্তমানে অ-ইহুদি সম্প্রদায় আছে, তাদের নাগরিক ও ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ন করে এমন কোনো কিছু করা হবে না।’

১৯১৮ সালের জুলাই মাসে ভারতের রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে ‘মডার্ন রিভিউ’তে ‘অ্যাট দ্য ক্রসরোডস্’ প্রবন্ধে রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রাসঙ্গিকতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইহুদিদের কোনো রাজনৈতিক অস্তিত্ব ছিল না, কিন্তু তারা ইউরোপের সর্বোৎকৃষ্ট আদর্শে জীবন অতিবাহিত করে সেই দেশের বৌদ্ধিক ও আধ্যাত্মিক জীবনকে জারিত করে।’

১৯৩০ সালের নভেম্বরে ফিলিস্তিন সমস্যা সম্পর্কে কানাডার টরন্টোর জুইশ স্ট্যান্ডার্ড রবীন্দ্রনাথের এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করে।

‘আপনি কি জায়োনিস্টের পক্ষে?’ এ প্রশ্নের উত্তরে রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘আমি জায়োনিস্ট আদর্শকে শ্রদ্ধা করি এবং তার জন্য যারা কাজ করে, তাদের নিঃস্বার্থতার আমি প্রশংসা করি। আপনাদের আদর্শের রূপান্তরের জন্য আপনাদের নিয়মিত ও নিরন্তর প্রগতিকে আমি যত দূর পারি কাছে থেকে বোঝার চেষ্টা করেছি। অসাধারণ আপনাদের আয়ত্তে। আপনাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কিন্তু আপনাদের এখন এক কানাগলির দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখান থেকে নিষ্ক্রমণের কোনো সুরাহা নেই। ইংল্যান্ড ফিলিস্তিনে একটা আরব-ইহুদি অংশীদারত্ব চাইলেও সে তা পারবে না। আরব–ইহুদি সমন্বয় সাধন করতে হবে ফিলিস্তিনকেই।’

যিনি সাক্ষাৎকার নিচ্ছিলেন, তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘কেমন করে সমন্বয় সাধন করা যাবে?’

আপনারা এমন সব লোকের সঙ্গে বাস করতে শিখেছেন, যারা আরবদের থেকে অনেক দূরের, যারা প্রত্যেকটি ব্যাপারেই আপনাদের জন্য বিদেশি। এমনকি আমেরিকায় যান্ত্রিক সংস্কৃতির দেশেও আপনারা ইহুদি ও আমেরিকান উভয়ই হতে পেরেছেন। আপনারা কি একই সময়ে ইহুদি ও ফিলিস্তিনি হতে পারেন না?
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

কবি ক্লান্তস্বরে বললেন, ‘আমি রাষ্ট্রনায়ক নই, আমি ভানও করতে পারব না যে আমি আপনার প্রশ্নের উত্তর জানি। আমি আরবদের জানি এবং আমার বিশ্বাস, আমি ইহুদিদেরও জানি। আর সে জন্য আমি মনে করি, তাদের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা হতে পারে। ইহুদিরা এক প্রাচীন জাতি। তারা নিপীড়ন-নির্যাতন মোকাবিলা করেছে এবং তারা নিজেদের স্বাতন্ত্য বিনষ্ট হতে দেয়নি। তাদের সংস্কৃতি ও ধর্মে রয়েছে তাদের শক্তি। আপনাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকার কালে কালে এমন শক্তি অর্জন করেছে, যা কেউ আত্মস্থ বা আত্মীভূত করতে পারবে না। আরবরাও এক টিকে থাকার জাত। ইহুদিদের মতো একই ছাঁচ থেকে এসেছে তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি। আধ্যাত্মিকভাবে ইহুদিদের কাছ থেকে আরবরা অনেক কিছুই ধার করেছে। মৌলিক চিন্তায়, আপনারা ও তারা এক পরিবারের—হ্যাঁ, এক মহাপরিবারের।’

‘পারিবারিক প্রগাঢ়তা সব সময় মারাত্মক’—স্মিত হেসে দার্শনিক বললেন—‘তবে তাদের মানিয়ে নিয়ে সমন্বয় করা যায়। আপনারা এমন সব লোকের সঙ্গে বাস করতে শিখেছেন, যারা আরবদের থেকে অনেক দূরের, যারা প্রত্যেকটি ব্যাপারেই আপনাদের জন্য বিদেশি। এমনকি আমেরিকায় যান্ত্রিক সংস্কৃতির দেশেও আপনারা ইহুদি ও আমেরিকান উভয়ই হতে পেরেছেন। আপনারা কি একই সময়ে ইহুদি ও ফিলিস্তিনি হতে পারেন না?’

এক প্রায় অতীন্দ্রিয় প্রশান্তি ঠাকুরের মুখের ওপর নেমে এল, যখন তিনি পেছনে হেলান দিয়ে নিজের কথার প্রতিধ্বনি শুনলেন।

সাক্ষাৎকার গ্রহীতা ইতস্তত করে তাঁর শান্তিময় নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করলেন, ‘কিন্তু ডক্টর ট্যাগোর, যে জায়োনিজম ইহুদিদের এই দ্বৈত জীবন থেকে পরিত্রাণ দেওয়ার প্রয়াস পাচ্ছে, তার উদ্দেশ্য তো যারা অন্য জাতের সঙ্গে আত্মস্থ হতে পারে না বা আত্মস্থ হতে চায় না, তাদেরই জন্য। যদি আপনার কথামতো ইহুদিদের ইহুদি জাতীয়তাবাদ ও ফিলিস্তিনিবাদের মধ্যে পার্থক্য করতে হয়, তবে ইহুদিদের জন্য তো ফিলিস্তিন হবে আরেক আমেরিকা, ফ্রান্স বা জার্মানি।’

তাঁর কথাবার্তার মধ্যেও এক ছন্দোময় কণ্ঠ, এক কাব্যিক স্বাদুতা দান করে। রবীন্দ্রনাথ উত্তর দিলেন, ‘আমি জায়োনিজমকে সেভাবেই বুঝি, যেমনটি আমার বন্ধু আইনস্টাইন বুঝতেন। আমি ইহুদি জাতীয়তাবাদকে ইহুদি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও সমৃদ্ধির এক প্রয়াস বলে বিবেচনা করি। আজকের পৃথিবীতে এই কর্মসূচির জন্য একটা জাতীয় বসতভূমির প্রয়োজন। এটা এও বোঝায় যে এর জন্য যথাযথ ভৌত পরিবেশের সঙ্গে অনুকূল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থাও থাকতে হবে। আমি এটা অনুধাবন করি। তবে ফিলিস্তিন এর ব্যবস্থা দিতে পারে শুধু যদি ইহুদিরা তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে আরবদের শামিল করে। এই রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য আপনাদের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মপন্থায় কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে না। আমি এক প্যালেস্টাইন কমনওয়েলথের কথা কল্পনা করতে পারি, যেখানে আরবরা তাদের ধর্মীয় জীবনাদর্শ পালন করবে এবং ইহুদিরা তাদের সমুজ্জ্বল সংস্কৃতির পুনরুত্থান ঘটাবে, তবে উভয়ই এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থায় সম্মিলিত হবে।

এই রাজনৈতিক সহযোগিতার জন্য আপনাদের আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক কর্মপন্থায় কোনো ত্যাগ স্বীকার করতে হবে না। আমি এক প্যালেস্টাইন কমনওয়েলথের কথা কল্পনা করতে পারি, যেখানে আরবরা তাদের ধর্মীয় জীবনাদর্শ পালন করবে এবং ইহুদিরা তাদের সমুজ্জ্বল সংস্কৃতির পুনরুত্থান ঘটাবে, তবে উভয়ই এক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থায় সম্মিলিত হবে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

‘আমি আপনার চোখে সংশয় লক্ষ করছি আর আপনি ভাবছেন, এগুলো এক মুগ্ধস্বভাব কবির অসংলগ্ন কথা। আপনি ভেবে অবাক হচ্ছেন যে কেমন করে এ করা যাবে। আমি ইহুদি জাতির সামর্থ্য এবং বিশেষ সহজাত গুণ সম্পর্কে কোনো সন্দেহ করি না। যদি আপনারা আন্তরিকভাবে আরবদের সমঝাতে পারেন যে তাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে আপনাদের স্বার্থ অভিন্ন, যদি আপনারা দেখাতে পারেন যে আপনারা আপনাদের সাংস্কৃতিক পার্থক্যের বিবেচনা না করে ফিলিস্তিনকে আরব ও ইহুদি উভয়ের জন্যই নির্মাণ করছেন, তা হলে আরবরা অচিরেই আপনাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র হবে।’

সাক্ষাৎকার গ্রহীতা বিনীতভাবে নিবেদন করেন, ‘জায়োনিস্টরা এটাই অতীতে করে এসেছে। আর তবু গত বছর আগস্ট মাসে...(জেরুজালেমে ওয়েলিংওয়ালকে ঘিরে আরব-ইহুদির দাঙ্গা)।’

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কথাটা শেষ করতে দেননি। তাঁর সুন্দর মুখের ওপর একটা ছায়া খেলে গেল। ‘ওই সব কুৎসিত ঘটনার কথা এখন বলবেন না। যা ঘটে গেছে, আমি তা ভেবেই যা বলার তা বলছি। সাম্প্রতিক কাল পর্যন্ত আরব জাতীয়তাবাদ ছিল প্রাথমিকভাবে আধ্যাত্মিক, যদিও ইহুদিদের চেয়ে তা ভিন্ন ছিল। শতাব্দী ধরে আরবরা তাদের দেশকে অবহেলা করে এসেছে। কারণ, আধ্যাত্মিকভাবে তারা রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের ঊর্ধ্বে ছিল। পশ্চিমা সভ্যতা ওই অবস্থাকে আদিম ও অসভ্য ভেবেছে। যাই হোক, রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের পশ্চিমী মেলায় আরবরা নবাগত এবং তাদের মন সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে যেমন তারা বিভ্রান্ত হয়েছে। তাদের ধারণা হয়েছে, তাদের আধ্যাত্মিক বা ধর্মীয় জীবন ইহুদি বাসভূমির দ্বারা বিপন্ন। তারা ফিলিস্তিনে নিবিড় ইহুদি সংহতির ভুল ব্যাখ্যা করেছে। বক্তৃতাবাগীশ নেতৃত্ব তার মদদ জুগিয়েছে। যে জায়োনিজম সুপ্রশিক্ষিত পশ্চিমা কূটনীতিক মনের পক্ষেও হৃদয়ঙ্গম করা কঠিন, তা আরব আদিমতার কাছে সম্পূর্ণ নবাগত ও অপরিচিত। আমি বোঝাবার চেষ্টা করছি, ইহুদি বাসভূমির সঙ্গে আরবদের মনস্তাত্ত্বিক বোঝাপড়া হতে অবশ্যই কিছু সময় গড়িয়ে যাবে।

‘আরবদের সঙ্গে চলার জন্য ইহুদিদের অবশ্যই ধৈর্য ও দাক্ষিণ্যের পরিচয় দিতে হবে। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের মিশ্রণ হিসেবে আপনাদের প্রশ্রয়ী শিক্ষাগুরু হতে হবে। রাজনৈতিক বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও আপনারা আপনাদের আধ্যাত্মিক উত্তরাধিকারকে অক্ষুণ্ন রাখুন। ত্যাগ স্বীকার করে হলেও ফিলিস্তিনে সহ-নাগরিকদের সঙ্গে সমঝোতা আনয়নের পথে আপনাদের অশ্রান্তভাবে চলতে হবে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অ্যালবার্ট আইনস্টাইন
ছবি: সংগৃহীত

‘আইনস্টাইনের ধর্ম—যার সঙ্গে গৌণ কিছু বিষয় ছাড়া মুখ্যত আমি একমত—নীচ উৎকট স্বাদেশিকতাময় গোঁড়া রাজনৈতিক জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে। কোনো শ্বেতপত্র বা অন্য ইউরোপীয় কূটনৈতিক দলিল দ্বারা তাঁর বিশ্বরহস্যভাবনার বিশ্বাস বিচলিত হবে না। এমন বিশ্বাসই আপনাদের সেই প্রশস্ত জাতীয়তাবাদের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে, যা সমগ্র মানবতার জন্য ফিলিস্তিনে এক দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করতে পারবে। অনুচ্ছেদ ও দয়ায় আপনারা জড়িয়ে পড়বেন না। সব জাতির ইহুদিরা জানে রাজনৈতিক সুরক্ষার অর্থ তো শূন্য। নিপীড়ন থেকে ছুরিগুলো আপনাদের বাঁচাতে পারেনি। কোনো দিন তারা তা পারবে না।

‘আপনারা ফিলিস্তিনিদের কাছে মুক্ত মনে আসুন এবং তাদের বলুন, “তোমরা ও আমরা উভয়ই পুরোনো জাত। আমরা উভয়ই বড় শক্ত জাত। তোমরা আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। আর আমরা তোমাদের পরিবর্তন করতে চাইব না। কিন্তু আমরা উভয়ই আমরা হতে পারব, আমাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখতে পারব এবং তারপরও ইহুদি ও আরবদের কমনওয়েলথ প্যালেস্টাইনের রাজনৈতিক লক্ষ্যে আমরা মিলিত হতে পারব।” আমি জানি, প্রথম প্রচেষ্টায় আপনাদের তারা বুঝবে না। মানসম্ভ্রম ও অহংকারের পশ্চিমা ভাব ভুলে যান এবং এমন একটি প্যালেস্টাইন কমনওয়েলথকে লক্ষ্য করে কাজ করে যান, যেখানে আরব ও ইহুদিরা তাদের নিজস্ব পৃথক সাংস্কৃতিক ও আধ্যাত্মিক জীবন যাপন করবে। তখন, আপনি, আপনাকে সফল হতেই হবে।’

পরিশ্রান্ত হয়ে ঠাকুর পেছনে হেলান দিলেন। মৃদুস্বরে যেন তিনি নিজেকেই বলছেন, ‘ব্রিটিশ সরকার ও জায়োনিস্ট নেতাদের মধ্যে কোনো বোঝাপড়ার মধ্যে ফিলিস্তিনি সমস্যার সমাধান হবে না। আরব-ইহুদি সহযোগিতার ওপরই জায়োনিজমের সাফল্য সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে। এটা ফিলিস্তিনে আরব ও ইহুদিদের মধ্যে প্রত্যক্ষ বোঝাপড়ার মধ্যে আয়ত্ত হবে। যদি জায়নবাদী নেতৃত্ব ইহুদি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ আরবদের স্বার্থ থেকে আলাদা করার জন্য জোরাজুরি করে, তবে পবিত্রভূমিতে কুৎসিত বিস্ফোরণ ঘটবে।’

চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘আমরা কবিরা স্বপ্ন দেখি যে ইহুদিরা জাতীয়তাবাদের পশ্চিমা ধারণা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারলে ফিলিস্তিনকে তারা গড়তে পারবে।’

চোখ বন্ধ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর অস্ফুট স্বরে বললেন, ‘আমরা কবিরা স্বপ্ন দেখি যে ইহুদিরা জাতীয়তাবাদের পশ্চিমা ধারণা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে পারলে ফিলিস্তিনকে তারা গড়তে পারবে।’ রবীন্দ্রনাথ একবার ভেবেছিলেন, ফিলিস্তিন থেকে জায়নবাদী ইহুদিদের শান্তিনিকেতনের আশপাশে বসতি করার সুযোগ দেবেন।

রবীন্দ্রনাথ বারবার বলেছেন, তিনি রাজনৈতিক নন। দেশের স্বাধীনতার সপক্ষেও অনেক পরে ১৯৩১ সালের দিকে তিনি দ্বিধাহীন কণ্ঠে বলতে শুরু করেন। রাজনৈতিক ডামাডোল ও সহিংসতা পরিহার করে শিক্ষা ও সংস্কৃতির ওপর কবি বরাবরই প্রাধান্য দিয়ে এসেছেন এবং তাদের কর্মতৎপরতায় রবীন্দ্রনাথ একবার ভেবেছিলেন, ফিলিস্তিন থেকে জায়নবাদী ইহুদিদের শান্তিনিকেতনের আশপাশে বসতি করার সুযোগ দেবেন, যাতে দেশের পল্লিসংস্কারে তাঁরা নতুন কিছু করতে পারবেন। কবির পরিকল্পনা বেশি দূর এগোয়নি। ১৯৩৭ সালে এক ইহুদি শরণার্থী অ্যালেক্স অ্যারনসন শান্তিনিকেতনে আসেন, তবে ফিলিস্তিন থেকে নয়। তিনি চাষবাস শেখাননি। কিছু সময়ের জন্য তিনি ইংরেজি সাহিত্য পড়িয়েছিলেন।

১৯৩২ সালের ডিসেম্বরে নাৎসিদের নির্যাতনের ভয়ে আইনস্টাইন জার্মানি ছেড়ে পালিয়ে যান। কয়েক মাস পর নাৎসি ব্রাউনশার্ট মাস্তানরা কাপুথে অবস্থিত আইনস্টাইনের বাড়ি তছনছ করে। সেই বাড়িতে একসময় আইনস্টাইনের সঙ্গে কবির কথা হয়। ১৯৩৪ সালে প্রকাশ্য এক বক্তৃতায় রবীন্দ্রনাথ ঘটনাটির উল্লেখ করেন। সাংহাইয়ের ‘ইসরায়েল মেসেঞ্জার’-এর সম্পাদক এন ই বি এজরার অনুরোধে কবির বিবৃতিটি ওই পত্রিকায় ১৯৩৪ সালের ৩ আগস্ট প্রকাশিত হয়। রবীন্দ্রনাথ বলেন, ‘জার্মানিতে হিটলারের শাসন সম্পর্কে আমরা বিভিন্ন রকমের বৃত্তান্ত পড়ছি। আর নিশ্চয়ই এটা অস্বীকার করা যাবে না যে যুদ্ধে বিজয়ী জাতিরা তাদের ওপর যে অপমানের বোঝা চাপিয়ে দেয়, তার জন্য জার্মান জাতি হতাশাব্যঞ্জক নির্বুদ্ধিতায় অপকর্মের দিকে তাড়িত হয়েছে। তবু যে নৃশংসতার কথা আমরা পড়ি, তা যদি সত্য হয়, তবে তার সঙ্গে কোনো সভ্য বিবেক আপস করতে পারবে না।

‘আমার বন্ধু আইনস্টাইনকে যেভাবে অপমানিত করা হয়েছে, তা আমাকে যে প্রচণ্ডভাবে ধাক্কা দিয়েছে, তাতে আধুনিক সভ্যতার জন্য আমার বিশ্বাস এক নিপীড়নের সম্মুখীন হয়েছে। আমি শুধু এই আশা করে সান্ত্বনা পাই যে এ মত্ত অবস্থায় একটি অসুখকর কর্ম এবং জার্মানদের মতো সহজাত গুণসম্পন্ন একটি জাতির ঠান্ডা মাথার প্রকৃতস্থ স্বোচ্ছাকর্ম নয়।’

রবীন্দ্রনাথের এ কথায় সম্পাদক ভদ্রলোকটি আশ্বস্ত বোধ করেননি। তিনি মন্তব্য করেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, এমন এটা নয়...আমাদের সভ্যতার কাহিনিকে যা বিকৃত করেছে, তার মধ্যে ইতিহাস হিটলারি শাসনকে সবচেয়ে পৌরুষহীন ও কুখ্যাত হিসেবে চিহ্নিত করবে।’

জাতিসংঘে ১৯৪৭ সালে ফিলিস্তিনকে দুই ভাগ করে একটি আরব ও আরেকটি ইহুদি রাষ্ট্র তৈরির প্রস্তাব করা হয়। প্রস্তাবটি আরব রাষ্ট্রগুলো প্রত্যাখ্যান করে। ১৯৪৮ সালের ১৮ মে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়। দেশটি নতুন রাষ্ট্র হিসেবে তখন কোনো স্থায়িত্ব বা প্রতিষ্ঠা অর্জন করেনি। নির্বাচনে ইহুদিদের সমর্থন আদায়ের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান এক কূটনৈতিক হঠকারিতা করে বসলেন। পরে বহু রাষ্ট্র অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসরণ করে। মুসলমান রাষ্ট্রের মধ্যে এ পর্যন্ত কেবল তুরস্ক ও মিসর ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দান করেছে।

শান্তি ও নিরাপত্তা অনধিগম্য লক্ষ করেই ইহুদিদের মধ্যে মারমুখী মনোভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র শতকরা ১ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক ১৯৬৭ সালের সীমান্তে ফিরে যেতে চায়।

যে নিরাপদ স্বীয় আবাসভূমির জন্য ইহুদিরা আড়াই হাজার বছরের অধিককাল ধরে স্বপ্ন দেখে এসেছে, তা আজ মেশিনগান ও কাঁটাতারের বেড়ার মধ্যে বন্ধ হয়ে আছে। ইহুদিরা যুগে যুগে বিভিন্ন দেশে যে যন্ত্রণা ভোগ করে এসেছে, আজ ফিলিস্তিনিদের স্বীয় বাসভূমিতে যেন তার মাশুল দিতে হচ্ছে। ঐতিহাসিক গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে, ইহুদিরা ফিলিস্তিনের আদিম অধিবাসী নয়। তাদেরও আগে থেকেই সেখানে মানববসতি গড়ে ওঠে। আরব-ইহুদি প্রশ্নটি আজ সুযোগসন্ধানী শক্তিধর ও প্রতিপত্তিশালী রাষ্ট্রগুলোর কূটনীতির পাকেচক্রে নিরন্তর ঘুরপাক খাচ্ছে। যে ঐতিহ্যে ইহুদিরা একসময় অতীত থেকে শক্তি ও প্রেরণা আহরণ করত, জ্ঞানবিজ্ঞানের প্রতি ছিল শ্রদ্ধাশীল, বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অবস্থানে পোষণ করত এক আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নিজেরা নিপীড়িত হয়ে সব নিপীড়িত মানুষের জন্য এক সংবেদনশীল সহমর্মিতা বোধ করত—তারা কি আজ প্রতিহিংসাপরায়ণ ইহুদিবাদে বিলীন হয়ে যাচ্ছে না!

ফিলিস্তিন সমস্যা যখন তেমন বিষবৃক্ষের সৃষ্টি করেনি, তখন রবীন্দ্রনাথ ভাবী সংকটের আশঙ্কা করে একটা সমাধানের কথা বলেছিলেন। যে পন্থায় রবীন্দ্রনাথ আরব-ইহুদি সমস্যার সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তার ধারেকাছ দিয়েও কেউ যায়নি। এখন দুই সম্প্রদায়ের সম্পর্কের এমন অবনতি ঘটেছে যে তাদের বৈরিতাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে একটা বড় ধরনের রাজনৈতিক বিপর্যয় ধূমায়িত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটচালে সারা বিশ্বে যেসব বিষবৃক্ষের জন্ম হয়েছে, তার মধ্যে জায়ন পর্বতের ধর্মাশ্রিত জাতীয়তাবাদী বৃক্ষটি এখন সবচেয়ে বড় অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয় হাজার বছর ধরে ইহুদিদের মধ্যে একটি আবাসভূমির জন্য যে আত্মচেতনা বিরাজ করে আসছে, তা কি আজ নিশ্চিত হতে পারছে?

(প্রথম আলোর বর্তমান বানানরীতি প্রয়োগ করা হয়েছে)