ঢাকায় রানি এলিজাবেথ

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথ ও এডিনবরা ডিউক ঢাকায় আসেন ১৯৬১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি। রাজ-দম্পতির আগমন উপলক্ষে ঢাকা উৎসবমুখর। প্রাদেশিক রাজধানী হলেও ঢাকা তখন একেবারে মফস্‌সল শহরের মতো। গাছগাছালিতে ছাওয়া। এত বড় বড় অট্টালিকা ছিল না। ঢাকার বিখ্যাত স্টুডিও জাইদী ফটোগ্রাফার্সের স্বত্বাধিকারী সগীর আলী জাইদীর কাছে এক মাস আগে রানির আগমনের সংবাদ পান সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার আলোকচিত্রী সাইদা খানম। ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা। কেমন করে ছবি তুলবেন, সেই চিন্তায় ঘুম নেই। প্রেস ফটোগ্রাফার ছাড়া রানির ধারেকাছেও যাওয়া সম্ভব নয়। নিরাপত্তার ব্যাপারস্যাপার। এর আগে বেগমের ফটোসাংবাদিক হিসেবে তিনি যেসব জায়গায় ছবি তুলতে যেতেন, সেখানে কোনো আইডেন্টি কার্ড লাগত না। কিন্তু রানির ছবি তোলার জন্য নিরাপত্তা পাস দরকার। সাইদা খানম বেগম সম্পাদক নূরজাহান বেগম ও সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীনকে বললেন একটা নিরাপত্তা পাসের ব্যবস্থা করে দিতে। দুজনই বললেন, এ বিষয়ে তাঁরা নিরুপায়। তবে তাঁরা তাঁর যোগ্যতা সম্পর্কে একটা সনদ লিখে দিতে পারেন।

সাইদা খানম [২৯ ডিসেম্বর ১৯৩৭-১৮ আগস্ট ২০২০]। আলোকচিত্র: সাহাদাত পারভেজ

সেই সনদ নিয়ে সাইদা খানম গেলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রাদেশিক জনসংযোগ ও প্রচার বিভাগে। কিছুটা আশ্বাস দিয়ে তাঁরা সাইদা খানমকে দিনের পর দিন ঘোরাতে থাকেন। পরে অবশ্য তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, এত দিন ধরে তাঁর সম্পর্কে পুলিশি তদন্ত চলছিল। সবশেষে প্রেস কার্ডটা হাতে পেলেন। সে কী আনন্দ! কিন্তু ভেতরে বাড়তে থাকে অস্থিরতা। এত বড় অ্যাসাইনমেন্ট এর আগে কাভার করেননি তিনি। শক্তি সঞ্চয়ের জন্য সাইদা খানম গেলেন পথিকৃৎ আলোকচিত্রী গোলাম কাসেম ড্যাডির ৭৩ নম্বর ইন্দিরা রোডের বাসায়। ড্যাডি তাঁকে সাহস দিলেন।

ঢাকার বিখ্যাত স্টুডিও জাইদী ফটোগ্রাফার্সের স্বত্বাধিকারী সগীর আলী জাইদীর কাছে এক মাস আগে রানির আগমনের সংবাদ পান সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার আলোকচিত্রী সাইদা খানম। ভেতরে ভেতরে উত্তেজনা। কেমন করে ছবি তুলবেন, সেই চিন্তায় ঘুম নেই।

রানির আগমনের নির্ধারিত সময় বিকেল চারটা। নির্ধারিত সময়ের আগেই তেজগাঁওয়ের পুরোনো বিমানবন্দরে গিয়ে পৌঁছালেন সাইদা খানম। বিমানবন্দরে শতাধিক দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও প্রেস ফটোগ্রাফার! এঁদের মধ্যে তিনিই একমাত্র বাঙালি মেয়ে। সাইদা খানমের গায়ে নীল রঙের সিল্কের শাড়ি, তার ওপর সাদা কার্ডিগান। কাঁধে দুটি ক্যামেরা ও ব্যাগ। পৌনে চারটায় তেজগাঁও বিমানঘাঁটির মেঘাচ্ছন্ন আকাশে খণ্ড খণ্ড চলমান ধূসর বর্ণের মেঘের মতো রানিকে বহনকারী বিমানটি দৃষ্টিগোচর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী জনতা স্বতঃস্ফূর্তভাবে উল্লাস করতে থাকে। ৩টা ৫০ মিনিটে ব্রিটিশ ওভারসিজ এয়ারওয়েজ করপোরেশনের নামাঙ্কিত ও ব্রিটিশ রাজমুকুটের গৌরবোজ্জ্বল পতাকাবাহী বিশেষ বিমান ব্রিটানিয়া বিমানবন্দরের ভূমি স্পর্শ করে। যে আকাশ সারা দিন মেঘে ঢাকা ছিল, বিমান অবতরণের মুহূর্তে সে আকাশ মেঘমুক্ত হয় এবং ক্ষণকালের জন্য পশ্চিমের আকাশে সূর্যের দেখা মেলে।

রানি এলিজাবেথ [তেজগাঁও বিমানবন্দর, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১]। আলোকচিত্র: সাইদা খানম

সাইদা খানমের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন মাঝবয়সী যে সাহেব, তিনি কালো খাতার মতো কিছু একটা দিয়ে তাঁর লেন্স ঢেকে রেখেছেন। সাহেবের এই কারবার দেখে তাঁর খুব হাসি পেয়ে গেল। ডিটেকটিভের দেখা মানুষ সহজে পায় না। অথচ তিনি চোখের সামনেই পেয়ে গেলেন। তাঁকে হাসতে দেখে সাহেব লোকটি একটু হেসে নম্রভাবে বললেন, ‘আলো জ্বললে ছবি তুলবেন।’ আলো জ্বলার পর তিনি সাইদা খানমকে রানির আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিলেন। নাগরিকদের পক্ষ থেকে রানিকে একটি মানপত্র দেওয়া হয়। মানপত্রটি বাংলায় পাঠ করেন খাজা খায়েরউদ্দীন এবং তা ইংরেজিতে তর্জমা করেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। মানপত্রের জবাবে রানি ইংরেজিতে তাঁর অভিভাষণ দান করেন। রানির অভিভাষণের বাংলা তর্জমা পেশ করেন বেগম খুরশেদা আলম। ঢাকার নাগরিকেরা সেদিন রানিকে রৌপ্য নির্মিত মনোহর কারুকার্য শোভিত দেড় শ বছরের পুরোনো একটি আতরদান উপহার দেন।

নাগরিকদের পক্ষ থেকে পাওয়া মানপত্রের জবাবে রানি এলিজাবেথ বলেন, ‘যুক্তরাজ্য থেকে রওনা হওয়ার আগে এবং গত কয়েক দিন সফরের সময়ে পূর্ব পাকিস্তান সম্পর্কে আমি অনেক কিছু শুনেছি। শুনেছি বড় বড় নদী এবং উর্বর ভূমির দেশ এই পূর্ব পাকিস্তান। আর শুনেছি এর অধিবাসীদের আতিথেয়তার খ্যাতির কথা। আজ বিকেলে আমি ও আমার স্বামী ঢাকায় আসার পথে দেখেছি সেই সব নদী এবং সবুজে ঢাকা পল্লি অঞ্চল। আর বিমানবন্দর থেকে আসার সময় পেয়েছি এমন এক হৃদয়স্পর্শী অভ্যর্থনা, রমনা পার্কের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত আপনাদের এ সংবর্ধনার সঙ্গেই কেবল তার তুলনা চলে। আপনাদের মানপত্রের আন্তরিক সুর এমন এক মহান মৈত্রীর পরিচয় বহন করছে যে আমার কাছে তা খুব মূল্যবান।’

 নাগরিকদের পক্ষ থেকে রানিকে একটি মানপত্র দেওয়া হয়। মানপত্রটি বাংলায় পাঠ করেন খাজা খায়েরউদ্দীন এবং তা ইংরেজিতে তর্জমা করেন সালাহ উদ্দিন আহমদ। মানপত্রের জবাবে রানি ইংরেজিতে তাঁর অভিভাষণ দান করেন। রানির অভিভাষণের বাংলা তর্জমা পেশ করেন বেগম খুরশেদা আলম।
রানি এলিজাবেথের সঙ্গে বিশিষ্ট নাগরিকদের পরিচয় পর্ব [তেজগাঁও বিমানবন্দর, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১]। আলোকচিত্র: সাইদা খানম

রানি বলেন, ‘এর আগে পূর্ব পাকিস্তান আসার সুযোগ না হলেও আমার স্বামী দুবছর আগে এখানে এক অত্যন্ত আনন্দময় সফর করে গেছেন। ১৯৫৯ সালে আপনারা তাঁকে যে আন্তরিক অভ্যর্থনা জানিয়েছেন, সে কথা তিনি আমাকে বলেছেন। আপনাদের সম্প্রসারণশীল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞানের ওপর আপনারা যে গুরুত্ব আরোপ করেছেন, সে সম্পর্কেও তিনি আমাকে বলেছেন। আপনারা বলেছেন, ঢাকা একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক শহর। সেটা দিবালোকের মতো স্পষ্ট। আপনারা আপনাদের দেশের মূল সম্পদ পাট এবং অন্যান্য শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়ন–প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন তা জেনে আমি সত্যিই আনন্দিত। আপনাদের উন্নয়ন পরিকল্পনাসমূহ সাফল্য লাভ করুক এবং পূর্ব পাকিস্তানের জনসাধারণ উত্তরোত্তর সমৃদ্ধির পথে অগ্রসর হোন ব্রিটেনের জনসাধারণের কাছ থেকে আমি সেই শুভেচ্ছাই নিয়ে এসেছি। আপনারা আমাকে যে চমৎকার আতরদানটি দিয়েছেন তা শুধু উপহার হিসেবেই আমাকে আনন্দ দেবে না, বরং চিরদিন তা এই আনন্দমুখর দিনটির কথা আমাকে স্মরণ করিয়ে দেবে।’

১ / ৩
১৯৬১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকায় প্রকাশিত সাইদা খানমের তোলা রানি এলিজাবেথের ছবি। সংগ্রহ: সাহাদাত পারভেজ

বিমানের সিঁড়ি বেয়ে রানি এলিজাবেথ ও ডিউক লালগালিচার ওপর পা রাখলেন। রানির পরনে আঁটসাঁট হাতাহীন অঙ্গাবরণী। তার ওপর একটি ঢিলা ধূসর রঙের ওভারকোট। মাথায় গোলাপ ফুলের পাপড়ির ঢেউখেলানো নকশাবিশিষ্ট একটি গোল মস্তকাবরণী। পায়ে কালো রঙের লেস–সংবলিত ধূসর রঙের জুতা। রানির হাতের ব্যাগটিও ছিল ধূসর রঙের। ডিউকের পরনে ছিল নৌ নীল রঙের স্যুট। স্যুটের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে ডোরাকাটা নেকটাই। আর মাথায় খয়েরি রঙের ফেল্ট হ্যাট।

রানি যখন লালগালিচায় পা রাখলেন, তখন দিনের আলো কিছুটা ম্লান হয়ে এসেছে। ঝাঁকে ঝাঁকে ফ্ল্যাশের আলো ঝলকে উঠল। কিন্তু সাইদা খানমের ফ্ল্যাশ জ্বলল না। কয়েকবার চেষ্টা করেও তিনি ব্যর্থ হলেন। হঠাৎ তাঁর মাথায় বুদ্ধি এল। দ্রুত অন্য ক্যামেরায় হাইস্পিড ফিল্ম ভরে তিনি ছবি তুলতে লাগলেন। রানিকে অভ্যর্থনা জানানোর জন্য দাঁড়িয়ে আছেন বিশিষ্টজনেরা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজম খান বিশিষ্টজনের সঙ্গে রানির পরিচয় করিয়ে দেন। সমস্ত ঘটনার ছবি তুললেন সাইদা খানম। শঙ্কা ছিল ছবি হয়তো ভালো হবে না। পরে ফিল্ম ডেভেলপের পর দেখলেন, বিনা ফ্ল্যাশে তোলা তাঁর সব কটি ছবিই শার্প হয়েছে।

‘মেরী এন্ডারসন’ নামে যে স্টিমারে যাচ্ছিলেন রানি, তার পাশের লঞ্চে ছিলেন সাইদা খানমসহ অন্য আলোকচিত্রীরা। নদীর দুই তীরে অগণিত মানুষ হাত নেড়ে, ঢোল বাজিয়ে রানিকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। রানিও মাঝেমধ্যে হাত নাড়ছেন। ভ্রমণ শেষে রানি যান আদমজী জুট মিলে।
নাগরিক সংবর্ধনায় রানি এলিজাবেথ ও ডিউক [রমনা পার্ক, ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১]। আলোকচিত্র: সাইদা খানম

বিমানবন্দর থেকে নীল রঙের খোলা ক্যাডলিক মোটরগাড়িতে করে শোভাযাত্রাসহকারে রানি শহরের দিকে রওনা করেন। বিমানবন্দর থেকে হেয়ার রোড পর্যন্ত দীর্ঘ রাস্তার দুই পাশে দণ্ডায়মান লাল লাখ মানুষ আনন্দধ্বনির মাধ্যমে রাজ-দম্পতিকে অভিবাদন জানান। অপেক্ষমাণ এই বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন নারী ও শিশু। রানিকে দেখার জন্য সেদিন পর্দানশিন নারীরাও রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। ঢাকায় রাস্তায় এমন জনসমাগম এর আগে কখনো দেখা যায়নি। শেষ বিকেলে রানির গাড়িবহর গিয়ে পৌঁছে রমনা গ্রিনে।

রানিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য সজ্জিত রমনা পার্ক। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় রাজ-দম্পতি আসেন সংবর্ধনা সভায়। হালকা হরিদ্রাভ ও সোনালি রঙের জাফরিকাটা তোরণ–সংবলিত একটি মঞ্চে এসে সোনা ও রুপার কারুকার্যখচিত আসনে তাঁরা উপবেশন করেন। মঞ্চটি তৈরি করা হয় লাহরের শালিমার উদ্যানে বাদশা জাহাঙ্গীর নির্মিত মঞ্চের আদলে। রাজকীয় অতিথিদের উপস্থিতির সঙ্গে সঙ্গে আকাশে ছোড়া হয় শত শত রঙিন বেলুন। সামরিক ব্যান্ড পার্টি জাতীয় সংগীতের সুরে পরিবেশন করে বাদ্য। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাজি পোড়ানো হচ্ছে। সন্ধ্যার আকাশে লাল-নীল-সবুজ-হলুদ আলোর ফুলঝুরি ঝলসে উঠে শত খণ্ড হয়ে ঝরে পড়ছে। সেদিকে তাকিয়ে রানি মুগ্ধদৃষ্টিতে হাসছেন। ইলেকট্রিক আলো নেভানো বলে আতশবাজির রঙিন আভা রানির মুখমণ্ডলে এসে পড়ছে। তাতে রানিকে অপূর্ব দেখাচ্ছে। আকাশের দিকে না তাকিয়ে সাইদা খানম রানির দিকে তাকিয়ে আছেন। চেয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ তাঁর মনে হলো, লেন্সের ভেতর দিয়ে রানিকে কেমন দেখা যায়, দেখি। ভিউ ফাইন্ডারে চোখ রাখতেই তিনি অবাক হলেন। লেন্সের সামনে অন্ধকার। কিছুই দেখা যায় না। কিছুক্ষণ পর রহস্যটা পরিষ্কার হলো।

হুড খোলা গাড়িতে রানি এলিজাবেথ [ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬১]। আলোকচিত্র: সাইদা খানম

অনুষ্ঠান শেষে বাইরে বেরিয়ে আসেন সাইদা খানম। রানিকে দেখার জন্য তখন সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো মানুষ ছুটে আসছে। রানি ততক্ষণে উধাও। মানুষের ধাক্কায় নিচে পড়ে গেলেন সাইদা খানম। একজন ফটোসাংবাদিক দ্রুত এসে তাঁকে উঠতে সাহায্য না করলে তিনি সেদিন পদপিষ্ট হয়ে মারা যেতেন।

পরদিন রানি গেলেন চট্টগ্রামে। সেখান থেকে ফিরে বের হলেন নৌভ্রমণে। তখন বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যার সৌন্দর্য ছিল অন্যরকম। বুড়িগঙ্গার নির্মল ঢেউ দুই পারের সবুজ ছুঁয়ে যেত। পালতোলা নাওয়ের ওপর দিয়ে উড়ে যেত বকের সারি। ‘মেরী এন্ডারসন’ নামে যে স্টিমারে যাচ্ছিলেন রানি, তার পাশের লঞ্চে ছিলেন সাইদা খানমসহ অন্য আলোকচিত্রীরা। নদীর দুই তীরে অগণিত মানুষ হাত নেড়ে, ঢোল বাজিয়ে রানিকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। রানিও মাঝেমধ্যে হাত নাড়ছেন। ভ্রমণ শেষে রানি যান আদমজী জুট মিলে। সেখানে একটা বিশেষ জায়গা বেছে নেন; যেখান থেকে রানিকে কাছাকাছি ফ্রেমে ধরা যাবে। রানি তাঁর সামনে দিয়েই হেঁটে গেলেন। এত কাছ থেকে ছবি তুলতে পারবেন, ভাবতেও পারেননি সাইদা খানম।

বিদায়ের আগের দিন রানিকে দেখা গেল অন্য মাধুর্যে। রাতে গভর্নর হাউসে ছিল রানির ডিনার পার্টি। সন্ধ্যার আগে আগে রাস্তার দুই পাশে মালার মতো আলো জ্বলে উঠল। হোম ইকোনমিকস কলেজের আমেরিকান উপদেষ্টা ডরিস হ্যানসনকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সাইদা খানম। রানির হুড খোলা গাড়ি ধীরে ধীরে সামনের দিকে আসছে। রানি মাথায় হীরা বসানো সরু রাজকীয় মুকুট আর গলায় হীরার নেকলেস। রানিকে রানির সাজে দেখলেন সবাই। আর সেই দৃশ্য বন্দী হলো সাইদা খানমের ক্যামেরায়।