বিশ শতকের বাংলা কথাসাহিত্যের দিগন্তবিস্তৃত প্রেক্ষাপটে আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এক ব্যতিক্রমী ও কালজয়ী কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। তাঁর সাহিত্যিক জীবনের ব্যাপ্তি স্বল্প হলেও মাত্র ২টি উপন্যাস ও ২৮টি ছোটগল্পের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যের মানদণ্ডকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন। এই স্বল্পপ্রজতার মহিমা কেবল সংখ্যায় নিহিত নয়, বরং তাঁর সৃষ্টির গভীরতা, জীবনকে দেখার অমোঘ দৃষ্টি এবং সমাজের প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতার মধ্যে নিহিত। ইলিয়াসের লেখায় সমাজ, রাজনীতি ও ইতিহাসের এমন এক রসায়ন ঘটেছে, যা বাংলা সাহিত্যে বিরল এবং আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি নিজে যেমন বলেছেন, ‘মানুষ যখন তার চারপাশটাকে পাল্টাতে চায়, তখনই সে শিল্পের কাছে যায়।’ এই উক্তি তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তিকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে। তিনি কেবল পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাই ব্যক্ত করেননি, বরং পরিবর্তনের সেই বীজকে নিপুণ হাতে বুনেছেন তাঁর সাহিত্যকর্মের মাধ্যমে, যেখানে বাস্তবতার ঘাত-প্রতিঘাত, মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ইতিহাসের পদধ্বনি একাকার হয়ে মিশে গেছে।
ইলিয়াসের শিল্পদর্শন এক সুসংহত বাস্তববাদ ও গভীর দায়বদ্ধতার ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি প্রচলিত রোমান্টিকতার ঘোর থেকে সরে এসে জীবনের রূঢ়, নগ্ন এবং অনেক ক্ষেত্রে কুৎসিত অথচ অনস্বীকার্য বাস্তবতাকে সততার সঙ্গে উপস্থাপন করেছেন। তাঁর লেখায় কোনো সস্তা আবেগ বা কাল্পনিক আবেশের স্থান নেই। বরং মানুষের অস্তিত্বের সংগ্রাম, সামাজিক বৈষম্য ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কুটিল চালগুলোই প্রধান হয়ে উঠেছে। এই বাস্তববাদ তাঁর মার্ক্সীয় জীবনদৃষ্টিরই প্রতিচ্ছবি, যা শ্রেণিবৈষম্য, শোষণ ও প্রান্তিক মানুষের বঞ্চনার বিরুদ্ধে তাঁর কলমের আপসহীন অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে। তিনি কোনো আদর্শ সমাজ বা অলীক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখাননি, বরং বিদ্যমান সমাজের ত্রুটিবিচ্যুতিগুলোকে তীক্ষ্ণ ভাষায় উন্মোচন করেছেন। ইলিয়াস ব্যক্তিমানুষের বিচ্ছিন্ন অস্তিত্বের ওপর ততটা জোর দেননি, যতটা দিয়েছেন সমষ্টির মনস্তত্ত্ব, যৌথ অবচেতন ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মিথস্ক্রিয়ার ওপর। তাঁর চরিত্রগুলো এককভাবে নয়, বরং পারিপার্শ্বিক সমাজ ও ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। এই সংযুক্ততাই তাদের জীবনকে মহাকাব্যিক ব্যাপ্তি দান করেছে।
ইলিয়াসের লেখায় সমাজ, রাজনীতি ও ইতিহাসের এমন এক রসায়ন ঘটেছে, যা বাংলা সাহিত্যে বিরল এবং আজও প্রাসঙ্গিক। তিনি নিজে যেমন বলেছেন, ‘মানুষ যখন তার চারপাশটাকে পাল্টাতে চায়, তখনই সে শিল্পের কাছে যায়।’ এই উক্তি তাঁর সাহিত্য সৃষ্টির মূল চালিকা শক্তিকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
ইলিয়াসের উপন্যাস দুটি—‘চিলেকোঠার সেপাই’ ও ‘খোয়াবনামা’—বাংলা সাহিত্যের দুটি মহাকাব্যিক ক্যানভাস, যা ভিন্ন ভিন্ন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মানব অস্তিত্বের জটিলতা ও সমাজের গতিপ্রকৃতিকে ধারণ করে। ‘চিলেকোঠার সেপাই’ উনসত্তরের গণ–অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত হলেও এর মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে মধ্যবিত্তের দোদুল্যমান মনস্তত্ত্ব, নিম্নবিত্তের স্বতঃস্ফূর্ত ও অপ্রতিরোধ্য বিদ্রোহ। আয়েশ ডাক্তারের মতো মধ্যবিত্ত চরিত্রগুলোর আত্মদ্বন্দ্ব, দ্বিধা ও সময়ের সঙ্গে তাদের আপস করার প্রবণতা করুণভাবে চিত্রিত হয়েছে। অন্য দিকে এই একই সময়ে ঘটে যাওয়া গণবিদ্রোহের ঢেউয়ে ভেসে আসা সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্নবিত্তের অংশ, তাদের অদম্য সাহস ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তৎকালীন সমাজের এক জীবন্ত ছবি এঁকে দেয়। ইলিয়াস দেখিয়েছেন কীভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ইতিহাসের স্রোতকে নতুন দিকে চালিত করতে পারে। উপন্যাসটির একটি শক্তিশালী উদ্ধৃতি—‘মিছিলের কোনো মুখ থাকে না, মিছিলের থাকে শুধু সাহস’ এই সত্যকেই তুলে ধরে। মিছিলের মুখ থাকে ব্যক্তিগত, কিন্তু তার চালিকা শক্তি হলো সমষ্টিগত সাহস, যা সব দ্বিধাদ্বন্দ্বকে ছিন্ন করে এগিয়ে যায়।
অন্য দিকে ‘খোয়াবনামা’ উপন্যাসটি আরও গভীর ঐতিহাসিক ও লোকজ প্রেক্ষাপটে রচিত। ইতিহাস, লোকপুরাণ ও তেভাগা আন্দোলনের মতো এক ঐতিহাসিক সংগ্রামকে তিনি এক অতুলনীয় মিশেলে উপস্থাপন করেছেন। এ উপন্যাসে ব্রাত্যজন, প্রান্তিক মানুষ ও তাদের অবদমিত স্বপ্নগুলোই প্রধান হয়ে উঠেছে। উত্তরবঙ্গের জনপদের সঙ্গে জড়িত লোকবিশ্বাস, মিথ, পুরোনো গান ও প্রবাদ-প্রবচনের নিপুণ ব্যবহারের মাধ্যমে ইলিয়াস এক বিশেষ সময় ও স্থানের এক অমোঘ চিত্র এঁকেছেন। তেভাগা আন্দোলনের মতো একটি রাজনৈতিক সংগ্রামকেও তিনি নিছক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখেননি, বরং দেখেছেন প্রান্তিক মানুষের অস্তিত্বের লড়াই, তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর এক ঐতিহাসিক প্রয়াস হিসেবে। মানুষের অবদমিত আকাঙ্ক্ষা, তাদের স্বপ্ন এবং সেই স্বপ্ন পূরণের বিফল বা সার্থক প্রচেষ্টাগুলোই এখানে উপন্যাসের মূল সুর। ‘মানুষ মরে গেলেও তার খোয়াব মরে না। সেই খোয়াব বংশপরম্পরায় মানুষের রক্তে বইতে থাকে’—এই জাতীয় উদ্ধৃতিগুলো ‘খোয়াবনামা’র মূল মর্মে প্রবেশ করতে সাহায্য করে। এটি কেবল একটি বিশেষ আন্দোলনের উপাখ্যান নয়, বরং মানব ইতিহাসের এক শাশ্বত চিত্র, যেখানে স্বপ্ন ও বাস্তবতার টানাপোড়েন অনন্তকাল ধরে চলে আসছে।
ইলিয়াস দেখিয়েছেন কীভাবে একটি বিশেষ রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা ও ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ইতিহাসের স্রোতকে নতুন দিকে চালিত করতে পারে। উপন্যাসটির একটি শক্তিশালী উদ্ধৃতি—‘মিছিলের কোনো মুখ থাকে না, মিছিলের থাকে শুধু সাহস’ এই সত্যকেই তুলে ধরে।
ইলিয়াসের ছোটগল্পগুলো নাগরিক জীবনের জটিলতা, বিশেষ করে পুরান ঢাকার জনজীবনের এক ব্যবচ্ছেদ। তাঁর ছোটগল্পের জগৎ মূলত পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক, যেখানে তিনি শহরের অলিগলি, ঘিঞ্জি কলোনি এবং সেখানকার ব্রাত্য ও প্রান্তিক মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের এক বিশ্বস্ত ও নির্মোহ চিত্রায়ণ করেছেন। এই গল্পগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন কেবল তাদের ব্যক্তিগত সংকট বা আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জড়িয়ে যায় পারিপার্শ্বিক সমাজ, অর্থনীতি ও রাজনীতির সঙ্গে। তাঁর ভাষার কারুকাজ এক অসাধারণ বৈশিষ্ট্য। তিনি উপকথা বা আঞ্চলিক শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে চরিত্রের জীবন্ত উপস্থিতি এবং তাদের চারপাশের বাস্তবতাকে এমনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন যে পাঠক যেন সেই পরিবেশে মিশে যান। ভাষার এই জাদুকরি ব্যবহার তাঁর চরিত্রগুলোকে আরও বিশ্বাসযোগ্য ও প্রাণবন্ত করে তোলে। তিনি মনে করতেন, ‘মানুষ যে ভাষায় স্বপ্ন দেখে, যে ভাষায় গালি দেয়, সেই ভাষাই সাহিত্যের শ্রেষ্ঠ উপাদান।’ এই বিশ্বাস থেকেই তিনি প্রচলিত ‘শালীন’ ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে জীবনের আসল মেজাজ ধরতে অমার্জিত ও কর্কশ শব্দকেও সাহসের সঙ্গে ব্যবহার করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য ছোটগল্প সংকলনগুলোর মধ্যে ‘অন্য ঘরে অন্য স্বর’, ‘খোঁয়ারি’, ‘দুধভাতে উৎপাত’ তাঁর এই ছোটগল্পের জগৎকে প্রতিনিধিত্ব করে।
ইলিয়াসের লেখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো তাঁর গভীর ইতিহাসচেতনা ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি প্রচলিত অর্থে লিখিত ইতিহাসকে প্রশ্ন করেছেন এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরিখে রচিত ইতিহাসের বাইরে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াই, তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের এক বিকল্প ইতিহাস নির্মাণ করেছেন। তাঁর উপন্যাসে আমরা দেখি, ইতিহাস কেবল বড় বড় ঘটনা বা বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা ছড়িয়ে আছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে, তাদের প্রাত্যহিক সংগ্রাম আর বেঁচে থাকার তাগিদে। তিনি মধ্যবিত্ত শ্রেণির ভণ্ডামি, স্বার্থপরতা ও সুবিধাবাদ নিয়ে তাঁর অবস্থান অত্যন্ত কঠোরভাবে ব্যক্ত করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমাদের মধ্যবিত্তরা আসলে সুবিধাবাদী। তারা বিপ্লব চায় ড্রয়িংরুমে বসে।’ এই উদ্ধৃতি প্রচলিত মধ্যবিত্তীয় মানসিকতার ফাঁপা অহং এবং বাস্তবতাবিবর্জিত আদর্শবাদের প্রতি তাঁর স্পষ্ট সমালোচনা। তিনি অনুভব করতেন, প্রকৃত পরিবর্তন আসে মাটি ও মানুষের সংগ্রাম থেকে, অলস তাত্ত্বিক আলোচনা বা নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা মধ্যবিত্তীয় আকাঙ্ক্ষা থেকে নয়।
ইলিয়াসের লেখার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো তাঁর গভীর ইতিহাসচেতনা ও সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি প্রচলিত অর্থে লিখিত ইতিহাসকে প্রশ্ন করেছেন এবং শাসকগোষ্ঠীর নিরিখে রচিত ইতিহাসের বাইরে সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াই, তাঁদের ত্যাগ ও সংগ্রামের এক বিকল্প ইতিহাস নির্মাণ করেছেন।
ইলিয়াসের শিল্পশৈলী ও আঙ্গিক বিচারে তাঁর ডিটেইলিং বা দৃশ্য বর্ণনার অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মতো সূক্ষ্মতা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। তিনি কেবল ঘটনার বর্ণনা দেননি, বরং ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, চরিত্রের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ অবস্থা, এমনকি একটি নির্দিষ্ট স্থানের পরিবেশকেও অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এঁকেছেন। তাঁর লেখায় জাদুকরি বাস্তবতার (ম্যাজিক রিয়েলিজম) এক সার্থক প্রয়োগ দেখা যায়, যেখানে লৌকিক বিশ্বাস, মিথ বা অতিপ্রাকৃতের অনুষঙ্গগুলো বাস্তবতার সঙ্গে এমন নিবিড়ভাবে মিশে যায় যে কোনটা বাস্তব আর কোনটা অলীক, তা পাঠক অনেক সময় ধরতে পারেন না। এই মিশ্রণ তাঁর সৃষ্টিকে এক ভিন্ন মাত্রার গভীরতা দান করেছে। উপরন্তু, তাঁর কর্কশ ভাষার নান্দনিকতা এক যুগান্তকারী পরিচয়। প্রচলিত ‘ভদ্র’ বা ‘শালীন’ ভাষার আড়ষ্টতা ভেঙে তিনি জীবনের আসল মেজাজ, তার কদর্যতা, তার কঠোরতা এবং তার অমার্জিত সত্যকে ধরতে চেয়েছেন। এই ভাষার স্পষ্টতা তাঁর সাহিত্যকে দিয়েছে এক অভূতপূর্ব শক্তি ও বিশ্বাসযোগ্যতা।
আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কেবল বাংলা কথাসাহিত্যের একজন লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা সাহিত্যজগতে এক অপরিহার্য ধ্রুবতারা। তাঁর সাহিত্যকর্ম পাঠ করা যেন নিজের শিকড়ের সন্ধান করা, নিজের সমাজ ও ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করা। তাঁর ছোটগল্প ও উপন্যাসের মহাকাব্যিক ক্যানভাসে ধরা পড়েছে বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন বাঁক, মানুষের অন্তর্গত আকাঙ্ক্ষা, সামাজিক-রাজনৈতিক টানাপোড়েন এবং সর্বোপরি মানুষের টিকে থাকার অদম্য স্পৃহা। তিনি কেবল গল্পের জাদুকর ছিলেন না, তিনি ছিলেন সময়ের এক নির্মম, সৎ ও অন্তর্দৃষ্টিসম্পন্ন দর্পণ। তাঁর রচনা আমাদের সমাজের গভীরে লুকিয়ে থাকা সত্যগুলোকে উন্মোচন করে, আমাদের আত্ম-অনুসন্ধানে বাধ্য করে। তাঁর শেষ কথা, ‘ইতিহাস হলো সেই চাষার গল্প যে নিজের জমিতে হালের বদলে নিজের বুক পেতে দেয়।’ তাঁর এই উক্তিই ইলিয়াসীয় সাহিত্যের মূল সুর এবং এর অমরত্বের কারণ। তিনি দেখিয়েছেন, প্রকৃত ইতিহাস কোনো ক্ষমতাধর বা শাসকের গল্প নয়, বরং তা হলো সাধারণ মানুষের, শ্রমজীবী মানুষের, তাদের ত্যাগ ও তিতিক্ষার এক শাশ্বত আখ্যান। এই কারণেই আখতারুজ্জামান ইলিয়াস বাংলা সাহিত্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং ভবিষ্যতেও তাঁর প্রাসঙ্গিকতা অমলিন থাকবে।