তকীয়ূল্লাহর ক্যামেরায় ভাষার দাবিতে ছাত্র–জনতার মিছিল

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

কলাভবনের আমতলা থেকে ছাত্ররা মিছিল নিয়ে যাবে সেক্রেটারিয়েটের দিকে। এখন যেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, সেখানেই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন। ধর্মঘট সফল করতে রাতভর হলে হলে চলে প্রস্তুতি। এই আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ। আবাসিক ছাত্র হিসেবে তিনি থাকেন ফজলুল হক হলে। ফজলুল হক হলই তখন ভাষা আন্দোলনের প্রধান কেন্দ্র। রাত জেগে বন্ধুদের নিয়ে লিখলেন প্রতিবাদী পোস্টার। পরদিন ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ভোরবেলা কলাভবনে গিয়ে লাগাতে শুরু করেন সেসব প্রতিবাদী পোস্টার। ওই সময়ই ছাত্ররা আমতলায় জড়ো হতে শুরু করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ছাত্র–জনতার পদচারণে আমতলা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। যখন মিছিল বের হবে, তার আগমুহূর্তে হঠাৎ ক্যামেরাটির কথা মনে হয় তকীয়ূল্লাহর। মনে হয়, এ ঘটনার ছবি তুলে রাখা দরকার। এক দৌড়ে হলে গিয়ে ক্যামেরাটি নিয়ে আসেন আমতলায়। আমতলায় আসতে আসতেই সেক্রেটারিয়েট অভিমুখে মিছিল শুরু হলো। তকীয়ূল্লাহ মিছিলটিকে এমনভাবে তাঁর বক্স ক্যামেরায় ধরলেন, যেন মিছিলকারীদের সঙ্গে পোস্টারও দেখা যায়। পোস্টারে লেখা—‘শিক্ষা ও কৃষ্টির মূলে কুঠারাঘাত’।

মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলছেন তকীয়ূল্লাহ। মিছিলটি কার্জন হলের ভেতর দিয়ে হাইকোর্ট এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। সেক্রেটারিয়েটের প্রবেশমুখ আবদুল গণি রোডে সারিবদ্ধ পুলিশ। তাদের হাতে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। পরিবেশটা বেশ থমথমে। ঝটপট কয়েকটি ছবি তুললেন তকীয়ূল্লাহ। এর মধ্যে সেক্রেটারিয়েটের সামনে ছাত্রদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ শুরু হয়ে গেছে। তাঁদের মিছিলটি তোপখানা রোডের গেট দিয়ে সেক্রেটারিয়েটে ঢোকার চেষ্টা করে। পুলিশ লাঠিচার্জের মাধ্যমে এই মিছিলও ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ছাত্ররাও বিক্ষুব্ধ হয়ে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকে। সবকিছুর নির্দেশ দিচ্ছিলেন আইজি জাকের হোসেন। রাস্তায় পাশেই পড়ে ছিল মরা গরুর একটি মাথা। হাতের কাছে ইট না পেয়ে আইজির দিকে গরুর মাথাই ছুড়ে মারেন তকীয়ূল্লাহ। পুলিশ তাঁকে ধরার জন্য এগিয়ে আসে। তিনি ভাবলেন, এখন যদি ধরা পড়ে যান তাহলে মূল্যবান ছবিগুলো চিরতরে নষ্ট হয়ে যাবে। পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি পালাতে সক্ষম হলেন। বাসায় গিয়ে মাকে বললেন ক্যামেরাটি লুকিয়ে রাখতে।

মিছিলের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে চলছেন তকীয়ূল্লাহ। মিছিলটি কার্জন হলের ভেতর দিয়ে হাইকোর্ট এলাকায় গিয়ে পৌঁছায়। সেক্রেটারিয়েটের প্রবেশমুখ আবদুল গণি রোডে সারিবদ্ধ পুলিশ। তাদের হাতে থ্রি নট থ্রি রাইফেল। পরিবেশটা বেশ থমথমে। ঝটপট কয়েকটি ছবি তুললেন তকীয়ূল্লাহ।
রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে কলাভবন থেকে সেক্রেটারিয়েট অভিমুখে ছাত্র–জনতার মিছিল [১১ মার্চ, ১৯৪৮]। আলোকচিত্র : মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ

ঘণ্টাখানেক পর তকীয়ূল্লাহ আবার ছুটে এলেন রমনা পোস্ট অফিসের কাছে। ওখানে ছাত্রদের সঙ্গে তিনিও পিকেটিং করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে। পুলিশ তাঁকেও আটক করার চেষ্টা করে। তিনি পালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে আসেন। পরে ডিআইজি ওবায়েদুল্লাহ তাঁকে ক্যাম্পাস থেকে আটক করেন। সেদিন শত শত ছাত্রকে আটক করে কয়েকটি ট্রাকে ভরে তাঁদের টঙ্গীর কাছে নিয়ে যায়। সারা দিন আটকে রেখে রাতে তাঁদের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে ছেড়ে দেয়। ছাড়া পেয়ে তকীয়ূল্লাহ যখন হলে ফেরেন, তখন বেশ রাত।

১৯৮০ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি সাপ্তাহিক সচিত্র সন্ধানীতে ‘১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন: একজন কর্মীর চোখে’ শিরোনামে মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহর একটি সচিত্র প্রবন্ধ ছাপা হয়। ২০১৬ সালে আমি প্রবন্ধটি খুঁজে পাই। প্রবন্ধটি পড়ে তকীয়ূল্লাহর ব্যাপারে জানতে আরও বেশি আগ্রহী হয়ে উঠি।

খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, সাংবাদিক শান্তা মারিয়ার বাবা মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ। শান্তা মারিয়া আমার পূর্বপরিচিত। তাঁকে ফোনে বললাম, ‘আপনার বাবার সংগ্রামী জীবনের কিছু কথা আমার ক্যামেরায় ধরে রাখতে চাই।’ তিনি বললেন, ‘বাবা এখন আর কথা বলার অবস্থায় নেই। তাঁর কোনো কথা আপনি বুঝতে পারবেন না। তবু দেখতে চাইলে আসুন।’

পরদিন বিকেলে সংগঠক ও প্রকাশক আবু সাঈদকে সঙ্গে নিয়ে ময়মনসিংহ রোডে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের গলিতে শান্তা মারিয়ার বাসায় গেলাম। মহান ভাষা আন্দোলনের সেই সাহসী বীর শয্যাশায়ী, দৃষ্টিশক্তিহীন। তাঁর উত্থানশক্তিরহিত। কাছে গিয়ে আমি তাঁর প্রথম ক্যামেরার কথা জানতে চাই। তিনি কী বললেন, ঠিক বুঝতে পারলাম না। তাঁকে দেখে এত কষ্ট হচ্ছিল যে দ্বিতীয় প্রশ্ন করতে আর ইচ্ছা করেনি। কিন্তু যে হাত দিয়ে তিনি ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রচনা করেছিলেন, আমি তাঁর সেই হাতটি স্পর্শ করলাম। আমার শরীরের ভেতর দিয়ে বিদ্যুতের মতো কী যেন একটা বয়ে গেল। রোমগুলো দাঁড়িয়ে শরীর কাঁটা দিয়ে উঠল।

ঘণ্টাখানেক পর তকীয়ূল্লাহ আবার ছুটে এলেন রমনা পোস্ট অফিসের কাছে। ওখানে ছাত্রদের সঙ্গে তিনিও পিকেটিং করতে থাকেন। এ সময় পুলিশ বেশ কয়েকজন ছাত্রকে আটক করে। পুলিশ তাঁকেও আটক করার চেষ্টা করে। তিনি পালিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চলে আসেন।

পরে শান্তা মারিয়াই তুলে ধরলেন তাঁর বাবার বীরত্বের কথা। বাবাকে নিয়ে লেখা কয়েকটি প্রবন্ধ আমাকে পড়তে দিলেন। জানালেন, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৯ ছেলেমেয়ের ষষ্ঠ সন্তান মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ। ডাকনাম বেলাত। ১৯২৬ সালের ৪ নভেম্বর দীপাবলির রাতে তাঁর জন্ম। ভাষাসংগ্রামী ও শিল্পী মুর্তজা বশীর [মুহম্মদ বশীরয়ূল্লাহ] তাঁর ছোট ভাই। ১৯৪৩ সালে যখন ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ঢাকায় তখন একটু একটু করে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়াচ্ছে। মাঝেমধ্যেই হিন্দু-মুসলমানের দাঙ্গা বেধে যাচ্ছে। সে সময় বড় ভাই মুহম্মদ সফিয়ূল্লাহর কাছ থেকে তিনি একটি ক্যামেরা পান। সফিয়ূল্লাহ প্রগতিশীল ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বড় ভাইয়ের সূত্রেই কমিউনিস্ট পার্টির কর্মীদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ শুরু হয়। ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাসের পর তাঁর ইচ্ছা হয় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সৈনিক হবেন। সে সময় ব্রিটিশ সরকার কলকাতায় প্রিক্যাডেট মিলিটারি ট্রেনিং স্কুল খোলে। তিনি সেই স্কুলে ভর্তি হলেন। নারকেলডাঙ্গায় তিনি যখন ছয় মাসের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করলেন, তত দিনে যুদ্ধ শেষ। ১৯৪৬ সালে দেশে ফিরে বগুড়া আজিজুল হক কলেজে বিএ ক্লাসে ভর্তি হলেন। তাঁর বাবা তখন সেই কলেজের অধ্যক্ষ। পরের বছর আগস্ট মাসে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হলো। তকীয়ূল্লাহও বিএ পাস করে ঢাকায় এলেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানে মাস্টার্সে ভর্তি হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।

আবুল জামাল মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ [৪ নভেম্বর ১৯২৬-১৬ নভেম্বর ২০১৭]। ১৯৬৩ সালে তোলা ছবি

শান্তা মারিয়ার কথা শুনছি আগ্রহ নিয়ে। পাশে তাঁর বড় ভাই আহমদ ইউসুফ আব্বাস ও আবু সাঈদ। শান্তা মারিয়া বলতে শুরু করলেন, ১৯৪৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের সভা ডাকা হলো। কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী হিসেবে তকীয়ূল্লাহ ও তাঁর বন্ধুরা সেই সভায় উপস্থিত হন। ওই বছরের শেষের দিকে বাংলা ভাষার দাবিকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ‘তমদ্দুন মজলিশ’ নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে। তকীয়ূল্লাহ ছিলেন সেই সংগঠনের সদস্য। ঢাকা মেডিকেল কলেজের পূর্ব পাশে সেই সুরত জামাল মেসের দোতলায় তমদ্দুন মজলিশের অফিস ঘরে ভাষার দাবিতে জনসমক্ষে তুলে ধরতে প্রিন্সিপাল আবুল কাশেম, ড. মোস্তফা নূরুল ইসলামসহ দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ভাঙা টেবিলে বসে প্রচারপত্র ও পোস্টার লিখতেন তকীয়ূল্লাহ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সৈনিক হিসেবে যোগ দিতে না পারার কারণে তাঁর মনে অতৃপ্তি ছিল। তাই ভাবলেন সেনাবাহিনীতে যোগ দেবেন। ১৯৪৮ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমিশন অফিসার নির্বাচিত হয়ে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে ফ্রন্টিয়ার ফোর্স রেজিমেন্টের ট্রেনিং নেন। সোম থেকে শুক্রবার ট্রেনিং হতো। শনিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে হলে ফিরতেন আন্দোলনের খবর নেওয়ার জন্য। ক্যাম্পাসে ফিরলে নিজেকে অপরাধী লাগত। মনে হতো বন্ধু কমরেডরা মাতৃভাষার দাবিতে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে আর তিনি স্বার্থপরের মতো পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ট্রেনিং নিচ্ছেন। একদিন তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু শহীদুল্লা কায়সার বললেন, ‘তকী, নতুন সমাজ গঠনের জন্য আমরা যখন বিপ্লব করব, তুমি কি তখন আমাদের বুকে গুলি চালাবে?’ শহীদুল্লার কথা শুনে সেনাবাহিনীতে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বলতে গেলে সেই মার্চ মাসেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে গেল।

ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর ৯ ছেলেমেয়ের ষষ্ঠ সন্তান মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ। ডাকনাম বেলাত। ১৯২৬ সালের ৪ নভেম্বর দীপাবলির রাতে তাঁর জন্ম। ভাষাসংগ্রামী ও শিল্পী মুর্তজা বশীর [মুহম্মদ বশীরয়ূল্লাহ] তাঁর ছোট ভাই। ১৯৪৩ সালে যখন ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেন তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলছে।
মিছিল ঠেকাতে হাইকোর্ট এলাকায় পুলিশ বাহিনীর প্রস্তুতি। [১১ মার্চ, ১৯৪৮]। আলোকচিত্র: মুহম্মদ তকীয়ূল্লাহ

বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে তিনি কেন ছবি তুলতে পারলেন না? জানতে চাইলাম শান্তা মারিয়ার কাছে। আহমদ ইউসুফ আব্বাস বললেন, ‘১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ভাষা ও শ্রমিক আন্দোলনকে সংগঠিত করতে নারায়ণগঞ্জে গিয়ে গ্রেপ্তার হন বাবা। এ খবর দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ তাঁকে জামিনে ছাড়িয়ে আনে। কয়েক দিনের মধ্যেই জানাজানি হয়ে যায়, তিনি নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির কর্মী। এর সত্যতা পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে বহিষ্কার করে। কয়েক মাসের মধ্যেই তাঁর নামে হুলিয়া জারি হয়। তখন পার্টির পক্ষ থেকে তাঁকে “আন্ডারগ্রাউন্ডে” চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই শুরু হয় তাঁর পলাতক জীবন। ওই সময় তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে সরকার। ১৯৫১ সালে বাবা কমিউনিস্ট পার্টির ঢাকা জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকেশ্বরী কটন মিলে ভাষা আন্দোলনের প্রচার চালাতে গিয়ে তিনি, শহীদুল্লা কায়সার, মোহাম্মদ তোহাসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা গ্রেপ্তার হন। ১৯৫৫ সাল পর্যন্ত বাবা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাজবন্দী ছিলেন। তাই তাঁর পক্ষে বায়ান্নর ছবি তোলা সম্ভব হয়নি। ১৯৬২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি স্বৈরাচারবিরোধী গণ–আন্দোলনের সময় তিনি আবার গ্রেপ্তার হন। ওই সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ২৬ নম্বর সেলে বন্দী ছিলেন।’

ফটোগ্রাফি ছিল তকীয়ূল্লাহর নেশা। ষাটের দশকেও তিনি শ্রমজীবী মানুষের ছবি তুলতেন। তাঁর তোলা গুনটানা নাও, গরুর গাড়ি আর মাছধরা মানুষের ছবি দেশ-বিদেশের প্রদর্শনীতে স্থান পায়। মৃত্যুর ৯ মাস আগে ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পলাতক জীবনের বাঁকে বাঁকে শিরোনামে তাঁর স্মৃতিকথার একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ভাষা আন্দোলনে অবদানে বিশেষ অবদান রাখায় ২০১৮ সালে তাঁকে মরণোত্তর একুশে পদক প্রদান করা হয়। পলাতক জীবন ও কারাগারে বন্দী থাকার সময় তকীয়ূল্লাহর সমস্ত নেগেটিভ সংরক্ষণ করেছেন তাঁর মা মরগুবা খাতুন। এখন সেই নেগেটিভগুলো আছে শান্তা মারিয়ার কাছে।