আমরা ছয় ভাই, এক বোন। বোনের ডাকনাম কনক। কাগজপত্রে লেখা নাম, তাসনিয়া সারওয়াত হুদা। সে শিক্ষকতা করে। তাকে আমরা ডাকি ‘তাসনিয়া মিস’।
তাসনিয়া মিসের অজ্ঞান হওয়ার রোগ আছে। সে অজ্ঞান হয়ে গেছে। তার মুখে পানির ঝাপটা দিয়ে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমরা ভাইবোন সবাই আমাদের কুষ্টিয়ার বাড়িতে এসেছি। আমাদের বাড়ির নাম ‘স্নেহময়ী’। আমাদের বাড়িতে দেড় শ বছরের পুরোনো ভূত আছে। মাঝেমধ্যে তারা দেখা দেয়। সব সময় দেয় না।
সন্ধ্যায় ঘরে শুয়ে বই পড়ছিলাম। বই খোলা রেখে ঘুমিয়ে গেছি। রাতের খাবার খাওয়ার জন্য তাসনিয়া মিস ডাকতে এসেছে। ঘুম থেকে আমাকে ডেকে তুলে বলল, ‘বই খোলা রেখেছ কেন, মেজ ভাই? জানো না, বই খোলা রাখলে ভূতে বই পড়ে ফেলে!’
এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে তাসনিয়া মিস কাঁপতে কাঁপতে অজ্ঞান হয়ে গেছে।
বেঁচে থাকতেই কোনো দিন বই পড়লাম না আর মরে ভূত হয়ে বই পড়ব! পাগলে কামড়েছে নাকি!’ তারপরই তাসনিয়া মিস অজ্ঞান হয়ে গেছে।
তখন শুরু হয়েছে আমাদের দৌড়ঝাঁপ। তাসনিয়া মিসকে বিছানায় শোয়ানো হয়েছে। তার চোখমুখে পানির ঝাপটা দেওয়া হচ্ছে। কান্না কান্না পরিবেশ।
তাসনিয়া মিসের জ্ঞান ফিরেছে। তার কাছে জানতে চাইলাম, ঘটনা কী ঘটেছিল! তাসনিয়া মিস ঘটনা জানিয়েছে। ‘বই খোলা রাখলে ভূতে বই পড়ে ফেলে’ বলতেই পেছন থেকে ভূত তার কাঁধ খামচে ধরেছে। মাথার চুলের ভেতর দিয়ে কানের কাছে এসে ভূত বলেছে, ‘বানিয়ে বানিয়ে আমাদের নামে এসব কেন বলিস! বেঁচে থাকতেই কোনো দিন বই পড়লাম না আর মরে ভূত হয়ে বই পড়ব! পাগলে কামড়েছে নাকি!’
তারপরই তাসনিয়া মিস অজ্ঞান হয়ে গেছে।