কায়সার মহলের সিন্দুক ও ড্রিমস গার্ডেন

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

বিকেলের দিকে আমি এসে পৌঁছাই কাঠমান্ডুর একটি প্রাসাদপ্রতিম অট্টালিকা কায়সার মহলের প্রাঙ্গণে। এখানকার বাগিচাটি ‘গার্ডেন অব ড্রিমস’ নামে পরিচিত। ফোয়ারা–খচিত জলাশয়ের পাশে বসে অতঃপর চেনা সুহৃদ সূর্যনাথ কৈরালার জন্য অপেক্ষা করি। প্রায় ৪৫ মিনিট আগে কৈরালাজির এখানে আসার কথা। কিন্তু তিনি এখনো এসে পৌঁছাননি। মহাশয় আমাকে কায়সার মহলের লাইব্রেরিতে কিছু বাংলা পাণ্ডুলিপি দেখানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর আসতে দেরি হওয়ায় আমার বেজায় বিরক্তি লাগে, তবে তেমন একটা উদ্বিগ্ন হই না।

কায়সার মহল হলো এক জামানায় নেপালের রানা বা বংশানুক্রমে প্রধানমন্ত্রী ফিল্ড মার্শাল শমসের জঙ্গ বাহাদুরের প্রাসাদ। রানারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নামকাওয়াস্তে মহারাজাকে সিংহাসনে বসিয়ে নেপাল শাসন করেন অনেককাল। তাঁদের গৌরবের দিনে শমসের জঙ্গ বাহাদুর ভ্রমণ করেন ইউরোপে। অস্ট্রিয়ার স্থাপত্যকলা তাঁর মনে ছাপ ফেলেছিল, পরবর্তীকালে সে ধারায় নির্মাণ করিয়েছিলেন এ প্রাসাদটি। জনসমাজে কায়সার বাহাদুর বলে পরিচিত এ রানার চকমিলান বিশাল অট্টালিকাটি কাঠমান্ডুর রাজপ্রাসাদ নারায়ণ-হিতির পশ্চিম দিকের দেউড়ির কাছেই।

বিরল প্রজাতির বৃক্ষলতার জন্য গার্ডেন অব ড্রিমসের সুনাম আছে। সূর্যনাথ কৈরালাজি গতকাল বিকেলবেলা আমাকে বাগানে অপেক্ষা করতে বলেছিলেন। তিনি কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বিভাগে কাজ করেন। আমি যখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটসের লিটারেসি লিংকেজ প্রোগ্রামে কাজ করতাম, কৈরালাজি তখন স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। ওই উছিলায় আমি মহাশয়কে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছি। মানুষটি সদালাপী ও বন্ধুবৎসল, তবে সময় রক্ষা করার সামর্থ্য তাঁর নেই। গতকাল তাঁর প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা করে পাক্কা দুই ঘণ্টা বাগানে বসে ছিলাম। তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কী একটা কাজে আটকা পড়েছিলেন। তারপর ট্র্যাফিক উজিয়ে এদিক পানে আসার উদ্যোগ নিতে নিতে সন্ধ্যা হয়ে যায়।

এদিকে আমি ড্রিমস গার্ডেনে একা বসে দীর্ঘ সব নাম না–জানা, সম্ভবত ইউরোপ থেকে আমদানি করা গাছগুলোর দিকে তাকিয়ে থাকি। দেখতে দেখতে গাছগুলো ভরে যায় সারসের মতো বৃহৎ সব পাখিতে। পাখিগুলো স্পষ্টত এ বাগিচার ল্যান্ডস্কেপের সঙ্গে পরিচিত। আমি যেখানে বসে ছিলাম, তার সামনে ঘাসে কেয়ারি করা ফুলদলের বিন্যাসে তৈরি হয়েছে অর্ধবৃত্তাকৃতির নকশা। পাখিগুলো এ চৌখুপ্পি পরিসরে পাখসাটে মেতে উঠে খুঁটে খায় ঘাসের বীজ ও কীটপতঙ্গ। অবশেষে কায়সার মহলের লাইব্রেরির দপ্তরি ভোলানাথ শ্রেষ্ঠা এসে আমাকে জানান যে কৈরলাজি টেলিফোন করেছেন, ট্রাফিকের গোলযোগে তাঁর আজ সময়মতো এসে পৌঁছার সম্ভাবনা কম।

নেপালের রানার প্রসাদ কায়সার মহল
ছবি: লেখকের সৌজন্যে
কৈরালাজি হন্তদন্ত হয়ে মেহগিনির ভারী সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলে আমিও অতঃপর পেছন পেছন মহাশয়কে অনুসরণ করি। দোতলার সমগ্র করিডরে ডিসপ্লে করা হয়েছে অনেকগুলো তৈলচিত্র। এখানে গান্ধীজির পাশাপাশি মাও সে–তুংয়ের পোর্ট্রেটও আছে। আমরা পণ্ডিত হরপ্রাসাদ শাস্ত্রীর তৈলচিত্রের সামনে এসে দাঁড়াই। এ বাঙালি গবেষক নেপালের রাজকীয় লাইব্রেরিতে গবেষণা করার সময় খুঁজে পেয়েছিলেন চর্যাগীতিকার পাণ্ডুলিপি।

আজকেও কৈরালাজির আসতে দেরি হচ্ছে। কী আর করা যাবে? এ সুযোগে আমি এডওয়ার্ডিয়ান কেতায় কেয়ারি করা বাগিচাটিতে ঘুরেফিরে সময় কাটাই। এ বাগিচায় আছে একাধিক পদ্মফোটা কৃত্রিম জলাশয়। তাদের পাশে নরম পত্রময় বৃক্ষ দিয়ে তৈরি তৈজসের আকৃতি। পাখিদের বসবাসের জন্য বার্ড-হাউসগুলোর কাছে প্রতিটি ঋতুর সৌন্দর্যে নিবেদিত হয়েছে ছয়টি মণ্ডপ। আমাদের সঙ্গে নেপালি ঋতুগুলো যথা বসন্ত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও হেমন্তের নামের বেশ সাযুজ্য আছে, তবে বর্ষা ও শীত ঋতু নেপালে যথাক্রমে ‘বরখা’ ও ‘শিশির’ বলে পরিচিত।

আমি ড্রিমস গার্ডেনে ঘুরে বেড়ানো শেষ করে কায়সার মহলের গাড়িবারান্দায় আসি। দেখি, কৈরালাজি ট্যাক্সি থেকে নামছেন। না, তিনি দেরি করে এসেছেন বলে কোনো অজুহাত দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেন না। তবে সাক্ষাৎ হওয়ামাত্র নমষ্কারাদি সেরে রানার এ প্রাসাদ যে নিওক্লাসিক্যাল কেতায় তৈরি তা নিয়ে সিরিয়াসলি কথাবার্তা শুরু করেন। এ স্থাপত্যে নেপালি সংস্কৃতির কোনো ছাপ না থাকলেও ১৯২০ সালের দিকে তা নির্মাণ করেন কিশোর নরসিংহ বলে এক স্বদেশি স্থপতি। এ আর্কিটেক্ট সিংহদুয়ার বলে নেপালি রানা বা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি দপ্তরও তৈরি করেন ১৯০৫ সালের দিকে।

এসব তথ্যে আমার এ মুহূর্তে তেমন একটা আগ্রহ নেই, তাই আমি কৈরালাজিকে পুরাকালের বাংলা গ্রন্থের পাণ্ডুলিপির প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দিই। ‘ইয়েস ইয়েস, তা–ও তো বটে, পাণ্ডুলিপি আপনাকে দেখানোর জন্যই তো এখানে আসা,’ বলে তিনি লাইব্রেরির দপ্তরি ভোলানাথ শ্রেষ্ঠাকে এ কামরা থেকে ও কামরায় হন্তদন্ত হয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। এ সুযোগে আমি সারা প্রাসাদের নিচতলাজুড়ে একাধিক হলকক্ষে ছড়ানো হাজার হাজার বইয়ের সংগ্রহ দেখি। ট্যাক্সিডার্মি করে সংরক্ষিত একটি বাঘের মূর্তিও আমার আগ্রহে ইন্ধন জোগায়। শোনা যায়, রানার মহিষী কৃষ্ণা চন্দ্রা দেবী স্বয়ং সংগ্রহ করেছিলেন হাজার পঞ্চাশেকের মতো গ্রন্থ। এখানকার অনেকগুলো বইপত্র উনিশ শতকের শেষ দিকে মুদ্রিত হয়েছে বিলাতে। প্যারিস, মিলান ও ভিয়েনা থেকে ছাপা পুস্তাকাদিও আছে এ সংগ্রহে। তা ছাড়া মূর্তি, চিত্র, দলিল ও ফটোগ্রাফসের কালেকশনও পর্যটকদের আগ্রহ জাগায়।

কৈরালাজি হন্তদন্ত হয়ে মেহগিনির ভারী সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠলে আমিও অতঃপর পেছন পেছন মহাশয়কে অনুসরণ করি। দোতলার সমগ্র করিডরে ডিসপ্লে করা হয়েছে অনেকগুলো তৈলচিত্র। এখানে গান্ধীজির পাশাপাশি মাও সে–তুংয়ের পোর্ট্রেটও আছে। আমরা পণ্ডিত হরপ্রাসাদ শাস্ত্রীর তৈলচিত্রের সামনে এসে দাঁড়াই। এ বাঙালি গবেষক নেপালের রাজকীয় লাইব্রেরিতে গবেষণা করার সময় খুঁজে পেয়েছিলেন চর্যাগীতিকার পাণ্ডুলিপি।

ড্রিমস গার্ডেনের শাপলাফোটা চৌবাচ্চা
ছবি: লেখকের সৌজন্যে
দেখতে দেখতে আরেকটি সিন্দুকের আড়াল থেকে পাঁচটি টিকটিকি টিকটিক করে আমাদের দিকে তেড়ে আসে, উত্ত্যক্ত হয়ে আমরা প্রায়-অন্ধকার কক্ষ থেকে করিডরে বেরিয়ে আসি। শ্রেষ্ঠাজি দিন তিনেক পরে আমাকে ফের ক্যামেরা-মাইক্রো ফিল্ম প্রভৃতি নিয়ে আসতে বলেন। এ ফাঁকে তিনি যোগাযোগ করবেন বিত্তবান থাপালিয়ার সঙ্গে। থাপালিয়াজি ১৩ বছর আগে লাইব্রেরির দপ্তরি ছিলেন। তাঁর নিশ্চয়ই জানা থাকবে এ সিন্দুকগুলোর চাবি কোন কুঠুরিতে রাখা আছে।

কৈরালাজির হাঁকডাকে অন্ধকার এক কামরা থেকে বেরিয়ে আসেন ভোলানাথ শ্রেষ্ঠা। মোম-পাকানো গোঁফে তা দিয়ে শিশুর মতো সরল দৃষ্টিতে হাসেন তিনি। কৈরালাজি বাড়িয়ে কিছু বলেননি। কায়সার মহলের লাইব্রেরিতে সত্যি সত্যিই আছে বাংলা ভাষায় বেশ কিছু প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। তিনি আমাদের প্রায়-অন্ধকার একটি কামরায় নিয়ে এসে বেশ কতগুলো কাঠের সিন্দুক দেখান। তারপর দুজনে মিলে কিছুক্ষণ সলাপরামর্শ করেন: কীভাবে অন্তত একটি সিন্দুক খোলা যায়।

আমি দাঁড়িয়ে থেকে থেকে বিরক্ত হয়ে মনে মনে কিছু তথ্য নিয়ে নাড়াচাড়া করি। এ লাইব্রেরির কালেকশন সমৃদ্ধ হলেও এর বয়স এমন কিছু গাছপাথর নয় যে এখানেই আদিকাল থেকে সংরক্ষিত ছিল বাংলা পাণ্ডুলিপি। নেপালের রাজকীয় লাইব্রেরি, যেখানে শাস্ত্রী মশাই চর্যাপদ বিষয়ে গবেষণার কাজ করেছিলেন, তা–ও বছর তিরিশেক আগে পুড়ে ভষ্ম হয়ে গেছে। তো ঘটনা কী? এ পাণ্ডুলিপিগুলোর সূত্র সম্পর্কে আমি শ্রেষ্ঠাজিকে মন্তব্য করতে অনুরোধ করি। এ কামরায় আছে অনেকগুলো ছোট-বড় দেরাজ। তা খুলে প্রতিটিতে চাবির সন্ধান করতে করতে শ্রেষ্ঠাজি বলেন, কিছু কিছু পাণ্ডুলিপির আদি নিদর্শন অবশ্যই এ লাইব্রেরিতে আছে। তার ওপর জঙ্গ বাহাদুরজি রাজকীয় গ্রন্থশালার কিছু পাণ্ডুলিপি লিপিকার দিয়ে নকলও করিয়েছিলেন। এ সিন্দুকটি খুলতে পারলে টেক্সট পড়ে অনায়াসে জানা যাবে পাণ্ডুলিপিগুলোর সূত্র, পরিচিতি ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

না, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায় না সিন্দুকের চাবি। বিস্তর টানাহেঁচড়া করে শ্রেষ্ঠাজি একটি দেরাজ টেনে খোলেন, তা থেকে শুঁড় তুলে মার্চ করে ফ্লোরে ল্যান্ড করে কয়েকটি কৌতূহলী আরশোলা। শ্রেষ্ঠাজি তা থেকে যা বের করেন, তা দেখতে অনেকটা আদ্দিকালের খুঙ্গিপুঁথির মতো। তালপত্রের এ পুস্তকটি বোধ করি রচনার দিক থেকে গীতগোবিন্দ–এর সমগোত্রীয়। কয়েকটি ত্যাঁদোড় আরশোলা তরতর করে শ্রেষ্ঠা মহাশায়ের আস্তিন বেয়ে ওপরে উঠতে শুরু করলে তিনি খুঙ্গিপুঁথিসহ দুহাতে জবর ঝাড়াঝাড়ি শুরু করেন। বাতাসে ধুলো ওড়ে, আর দেখতে দেখতে আমাদের চোখের সামনে তালপাতার পুঁথির খানিকটা ভেঙেচুরে গুঁড়া গুঁড়া হয়ে ঝরে পড়ে। ‘হায় রাম রাঘবও সতীনাথ… হায় হায়… রাজা রাম!’ বলে ঐতিহাসিক গ্রন্থের দুর্দশায় আফসোস করে ওঠেন শ্রেষ্ঠাজি। মনে হয় এ পুঁথি স্পর্শ করলে আরও ক্ষয়ক্ষতি হবে। তাই আমরা নির্বাক হয়ে থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকি।

দেখতে দেখতে আরেকটি সিন্দুকের আড়াল থেকে পাঁচটি টিকটিকি টিকটিক করে আমাদের দিকে তেড়ে আসে, উত্ত্যক্ত হয়ে আমরা প্রায়-অন্ধকার কক্ষ থেকে করিডরে বেরিয়ে আসি। শ্রেষ্ঠাজি দিন তিনেক পরে আমাকে ফের ক্যামেরা-মাইক্রো ফিল্ম প্রভৃতি নিয়ে আসতে বলেন। এ ফাঁকে তিনি যোগাযোগ করবেন বিত্তবান থাপালিয়ার সঙ্গে। থাপালিয়াজি ১৩ বছর আগে লাইব্রেরির দপ্তরি ছিলেন। তাঁর নিশ্চয়ই জানা থাকবে এ সিন্দুকগুলোর চাবি কোন কুঠুরিতে রাখা আছে।

লাইব্রেরিতে ট্যাক্সিডার্মি করা বাঘের মূর্তি
ছবি: লেখকের সৌজন্যে
কৈরলাজি জানান, রানার মহিষী কৃষ্ণা চন্দ্রা দেবীর সময় পরিযায়ী এ পাখিগুলো প্রথম প্রাসাদের আঙিনায় আসে। তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। পাখিদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোও এ বাগানে আসতে শুরু করেছে প্রতিবছর নেপালে বসন্ত ঋতুর প্রারম্ভে। তাঁর কথাবার্তা শুনতে শুনতে ভাবি, খামোকা পাণ্ডুলিপির তালাশ না করে বাদবাকি যে সময়টা হাতে আছে, তা পাখি পর্যবেক্ষণ করে কাটালে চমৎকার হয়।

আমি পণ্ডিত নই, তবে বাংলায় রচিত পাণ্ডুলিপিতে আমার পর্যটকসুলভ আগ্রহ আছে। কিন্তু এদিকে আমার নেপাল ছেড়ে যাওয়ার সময়ও হয়ে আসছে। ফেরার আগে সবকিছু গোছাতেও হবে। তাই আবার লাইব্রেরিতে আসতে রাজি হই না। তাতে শ্রেষ্ঠাজি শিশুর হাত থেকে মিঠাই কেড়ে নেওয়ার মতো খাজুল মুখ করে আমার কাঁধে হাত রেখে বলেন, ‘বাবুজি, চলে আসো আরেক দফা, বাংলা পাণ্ডুলিপির সিন্দুকের চাবি যদি খুঁজে না পাই তাহলেও তোমাকে আমি রাজা ত্রিভুবনের সিলমোহর, শিবমন্দির পুনর্নির্মাণের সময়কার রাজকীয় ঘোষণার খসড়া—এসব খুঁজে বের করে দেখাব।’ কিন্তু এত কিছু দেখে আমার হবেই–বা কী?

প্রস্তাবে রাজি হয়ে যাওয়ার জন্য আমার হাতে চাপ দিয়ে কৈরালাজি বলেন, ‘এ রাজকীয় ঘোষণাটি বেজায় গুরুত্বপূর্ণ হে, মহারাজা ত্রিভুবন নিজ হাতে তা মুসাবিদা করেন। নেপালে                         আমজনতার কেউ এখনো এ লিপিটি চাক্ষুষ করার মওকা পায়নি। মহাদেব শিবের কাছে রাজার আরজ, স্বয়ং রানাজি পিতলের কলসিতে ভরে তা মন্দিরের ফাউন্ডেশনের পঞ্চাশ গজ নিচে স্থাপন করে তার ওপর বসিয়ে দেন বিরাট একটি বোল্ডার। বাবুজি, ইউ মাস্ট সি দিস।’

শ্রেষ্ঠাজি অতঃপর ড্রিমস গার্ডেনে আমাদের চা-পাকোড়া পরিবেশনের জন্য বেয়ারাকে নির্দেশ দেন। আমরা পদ্মফোটা জলাশয়ের পাশে এসে বেঞ্চে বসি। ল্যাম্পপোস্টগুলো জ্বলে উঠেছে। তার আলোয় চৌবাচ্চা ও ঘাসে ডানার ছায়া ফেলে সারসের মতো বিশাল পাখিগুলো একে একে এসে বসে পত্রপল্লবে ঝুপসি সব তরুর ডালে। কৈরলাজি জানান, রানার মহিষী কৃষ্ণা চন্দ্রা দেবীর সময় পরিযায়ী এ পাখিগুলো প্রথম প্রাসাদের আঙিনায় আসে। তিনি তাদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তারপর অনেক বছর কেটে গেছে। পাখিদের পরবর্তী প্রজন্মগুলোও এ বাগানে আসতে শুরু করেছে প্রতিবছর নেপালে বসন্ত ঋতুর প্রারম্ভে।

তাঁর কথাবার্তা শুনতে শুনতে ভাবি, খামোকা পাণ্ডুলিপির তালাশ না করে বাদবাকি যে সময়টা হাতে আছে, তা পাখি পর্যবেক্ষণ করে কাটালে চমৎকার হয়।