ট্রেনের বসার সিটের তলায় রাখা স্যুটকেসেই জীবনানন্দের অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি ছিল। অনেক খাতা ছিল। যখন হাওড়া স্টেশনে নামেন, তখন দেখেন, ওই স্যুটকেসটি নেই। স্যুটকেস চোর ভেবেছিল, গয়না বা টাকাপয়সা আছে। কিন্তু সে সবকিছু না পেয়ে রদ্দি কাগজ হিসেবে বেচে দিয়েছিল। তবে হারানো পাণ্ডুলিপির কিছু অংশ উদ্ধার করা গিয়েছিল। পুরোটা পাওয়া যায়নি!’

যা উদ্ধার করা গেছে, তা করেছে কলকাতা পুলিশ। কলেজ স্ট্রিটের বইপাড়ায় হানা দিয়ে কিছু খাতা তারা পেয়েছে। আর এক মুদিদোকানির কাছে পেয়েছে কিছু খাতা। সেই দোকানি ওসব খাতার পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে ঠোঙা বানিয়ে তাতে শর্ষে বিক্রি করছিলেন! সাড়ে ১২ টাকা দিয়ে বাতিল খাতা হিসেবে ওগুলো কিনেছিলেন তিনি। এভাবেই চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে জীবনানন্দ দাশের অনেক লেখা।

স্যুটকেস হারানোর পর লেখাপত্র সংরক্ষণের জন্য একটি ট্রাংক ব্যবহার করতেন জীবনানন্দ। ওই ট্রাংক থেকেও হারিয়েছে অনেক লেখা।

পশ্চিমবঙ্গের কবি কামরুজ্জামানের একটি লেখা থেকে জানা যায়, জীবনানন্দ যখন কলকাতা থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের খড়গপুর কলেজে ইংরেজি পড়াতেন, তখন ক্লাস টাইমের পর কেউ দেখা করতে এলেও দরজা খুলতেন না। এ ছাড়া আরও বহুজনের লেখায় পাওয়া যাচ্ছে এমন তথ্য, কবি তাঁর ট্রাংকে কাগজপত্র ঘাঁটছেন এবং কেউ এলেই আড়াল করে ফেলছেন সেই ট্রাংক। আদতে জীবনানন্দের স্যুটকেস আর ট্রাংক–রহস্য এখনো শেষ হয়নি।

গ্রন্থনা: উচ্ছ্বাস তৌসিফ

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত ‘কেউ দেখা করতে এলেও দরজা খুলতেন না জীবনানন্দ’ ও গৌতম মিত্রর লেখা ‘নেপথ্য কাহিনি’

মুক্ত গদ্য থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন