রাত ৩.৩৬
মধ্যরাতের নিস্তব্ধতা, ঝলকে ওঠে পতনের সুর। মিশমিশে অন্ধকারে বেসুরা কম্পনে সাদিয়ার ফিনফিন পর্দা জড়ানো ঘুমটা ভেঙে যায়।
প্রথমে হালকা দুলুনি, অতঃপর দুলুনিটা ঝাঁকি হয়ে ফিরে আসে আর ঘুমের শেষ রেশ কেটে যায়। ভয়ে খড়খড়ে আতঙ্কিত কণ্ঠে সাদিয়া চিৎকার করে ওঠে, এই ভূমিকম্প হচ্ছে, ভূমিকম্প!
আশপাশে হালকা গুঞ্জন শোনা যায়। কিছু মুহূর্তের জন্য নির্বোধ হয়ে যায় আতঙ্কে। রোজকার কতশত উপদেশ ভুলে লাফিয়ে ওঠার চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। স্তম্ভিত হয়ে যায় সাদিয়া। আঁকড়ে ধরার আকাঙ্ক্ষায় পাশের বালিশটায় হাত রাখে। পরক্ষণে মনে পড়ে জামিলের আজ নাইট শিফট। মাসের এই কয়টা দিন একা থাকতে হয়। নির্ভরতার মানুষটাকে কাছে না পেয়ে ভয়ে গলাটা আরও শুকিয়ে আসে। বালিশের পাশ থেকে ফোনটা হাতে নিয়ে খোঁজে মিসডকল লিস্টে প্রিয় নামগুলো। হতাশ হয় ফোনটা হাতে নিয়ে। সন্ধ্যা সাতটার পর থেকে আর কোনো কল আসেনি এই ফোনে।
ভয়ংকর এই মুহূর্তে ওরা আমাকে ভুলে গেল। ওদের কারও মনে পড়ল না আমাকে!
বিড়বিড়িয়ে অভিমানী সুরে সাদিয়া বলে কথাগুলো। ক্লেশে এক অনুভূতিতে মনটা ভার হয়ে যায়। বিরক্তিটা কপালের ভাঁজে জায়গা করে নেয়।
এতটা কাঁপুনির পরেও কি টের পায়নি লোকটা। একটা ফোন করার সময় হলো না।
অনেকগুলো ভাবনা এফোঁড়–ওফোঁড় করে ওকে। সব সময় বেক্কল বলে ভর্ৎসনা করা স্বামীকে হঠাৎ গন্ডার বলে মনে মনে গাল দেয় সাদিয়া। চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে। যদি আরও বেশি মাত্রায় কেঁপে উঠে চারপাশটা, তখন এই ভারী শরীরটা নিয়ে কোথায় যাবে! এমন শত ভাবনার মাঝে কম্পনটা দুলে দুলে ছন্দ হারিয়ে থেমে যায় গুণিতক হয়ে।
সাদিয়া মনে মনে সৃষ্টকর্তাকে স্মরণ করে। তৎক্ষণাৎ ঝনঝনিয়ে ওঠা শব্দে সাদিয়া ঘাড়টা একটু এগিয়ে সামনে তাকায়। শব্দের আনাগোনা এই ঘরটায় সারাক্ষণ। কিছু থাকে দরজার মরচে ধরা হুকের বিদঘুটে ক্যাচক্যাচে শব্দে, অল্প-স্বল্প বইয়ের পাতায় ছারপোকার কুটুস-কাটুস আলাপে, কিছু রান্নাঘরের বাসনপত্রের কোলাহলে মিশে থাকে। অবশ্য এই ঘরের অধিকাংশ শব্দের কারিগর মিনি—কোথায় গেল মিনি...
সব সময় বেক্কল বলে ভর্ৎসনা করা স্বামীকে হঠাৎ গন্ডার বলে মনে মনে গাল দেয় সাদিয়া। চোখ দুটো ছলছল করে ওঠে। যদি আরও বেশি মাত্রায় কেঁপে উঠে চারপাশটা, তখন এই ভারী শরীরটা নিয়ে কোথায় যাবে!
মিনিকে খোঁজার তাগিদে সাদিয়া শোয়া থেকে ওঠার চেষ্টা করে। একটু বাঁ পাশে কাত হয়ে ডান পাশটা তুলে ধরতে চায়, পারে না। আবার ডান পাশটায় কাত হয়ে বাঁ পাশটা তুলতে চায়, তা–ও পারে না। ব্যর্থ হয়ে সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে কিছু সময়। ঢাউসে পেটের কারণে আগের মতো ধড়ফড়িয়ে লাফিয়ে উঠতে পারে না। প্রায় রাত এখন নির্ঘুম কাটে। এই সময় এমনটাই নাকি স্বাভাবিক, মা-খালারা তৃপ্তি নিয়ে বলে। সাদিয়া স্বস্তি-অস্বস্তির মিশ্র-আনন্দে অপেক্ষা করে।
রাত ৩.৪৫
মোবাইলটা হাত থেকে সরিয়ে সাদিয়া পাশের ঘরে ঘুমকাতুরে ছোট বোন নাদিয়াকে ডাকে। প্রথমে ধীর স্বরে ডেকে ক্লান্ত হয়ে একটু চেঁচায়। শুকনো গলায় একটু চেঁচাতেই ওর হালকা খুকখুক কাশি আসে। কাশির তোড়ে তলপেটে চাপ অনুভূত হয়। এই হয়েছে আরেক জ্বালা। তলপেটটা সর্বক্ষণ তরলে টলটল।
এরপরে অনেকটা সময় অপেক্ষা করে আবারও ডাকে নাদিয়াকে। পায়ের আওয়াজের প্রতি-উত্তর না পেয়ে বোঝে এই হালকা স্বরের ডাক কর্ণকুহর অবধি পৌঁছায়নি। অনেকটা বিরক্ত হয়ে ফোন করে পাশের ঘরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছোট বোনটাকে। মনে মনে রাগ হলেও মায়া লাগে। এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে ছুটির আমেজ নিয়ে এসেছিল বড় বোনের বাসায়। এসেই ফেঁসে গেছে। কোথাও ঘুরতে যেতে পারে না বোনের কারণে। জামিলের সঙ্গে নাদিয়ার তেমন সদ্ভাব নেই। জামিল একটু গোমড়া স্বভাবের। সারাক্ষণ হাসপাতাল আর ইমার্জেন্সির রোগী বোঝে। এই মুহূর্তে ওর সব রাগ গিয়ে পড়ে বরের ওপর।
রাত ৪.০৫
অবশেষে ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায় সাদিয়ার। দুই ঊরু ও তার আশপাশের কিছু অংশ ভিজে যায় উৎকট গন্ধে। ভয় লাগে। আবারও ডাকে—নাদিয়া, নাদিয়া রে...
নাদিয়া উত্তর না দিলেও মিনি মিয়াঁও মিয়াঁও আদুরে স্বরে আওয়াজ তুলে সাদিয়াকে নির্ভরতা দেয়। ঝুলে পড়া ঠলঠলে পেট নিয়ে দুলে দুলে এসে সাদিয়ার বালিশের পাশে মাথা গুঁজে শুয়ে পড়ে আহ্লাদী ভঙ্গিতে। মিনির স্ফীত স্তন, ঝোলা পেটের তলে পড়ে থাকে সাদিয়ার মোবাইলটা। উম-উম স্বরে কী কী যেন বলে সাদিয়াকে, স্বরটা শোকের, একদিন আগে এক মাস বয়সী বাচ্চাগুলোকে হারিয়েছে মিনি। এখন সারাক্ষণ স্ফীত স্তন নিয়ে সারা ঘরময় খোঁজে বাচ্চাগুলোকে, হাঁটার সময় জমে থাকা স্তন থেকে গড়িয়ে পড়ে শ্বেত-কষ্ট। মিনি একটু পরপর চাকবাঁধা শক্ত স্তনগুলো জিহ্বা দিয়ে একটু চেটে নেয় আর মিয়াঁও-উম স্বরে বাচ্চাগুলোকে ডাকে। এখন ওর নিদান কষ্ট।
বাচ্চাগুলো অফিসে আসা–যাওয়ার সময় হুটহাট সাদিয়ার সামনে চলে আসে। আবার ভয় পেয়ে সরে পড়ে। হঠাৎ একদিন ছটফটে একটি বাচ্চা ওর চোখের সামনে গাড়ির তলে পিষ্ট হয়ে মারা যায়।
মিনি সাদিয়ার আদুরে বিড়াল। নতুন এই বাড়িতে আসার দুই মাস পর থেকে মিনির সঙ্গে সখ্য। তখন মিনি ছিল ডাস্টবিনের ময়লা ঘাঁটা বিড়াল। এঁটো কাঁটা খেয়ে কামড়াকামড়ি করে পুরোপুরি জংলি। মাঝেমধ্যে সাদিয়াদের বাড়ির নির্মাণ সরঞ্জামের ফাঁকফোকরে এসে থাকে। ওর বাড়ির কেয়ারটেকার হাফিজ ভাঙা বাসনে দুই-চার নলা ভাত রেখে দেয় মায়া করে। একটা সময় খাবারের লোভে এই বাড়ির স্থায়ী সদস্য হয়ে যায় মিনি। সারা দিন আশপাশে ঘোরাঘুরি করলেও রাতে এই বাড়ির সিঁড়ি লাগোয়া ঘরটায় এসে ফেরে। মালিকানাহীন মিনি তিনটা বাচ্চা জন্ম দেয়। বাচ্চাগুলো অফিসে আসা–যাওয়ার সময় হুটহাট সাদিয়ার সামনে চলে আসে। আবার ভয় পেয়ে সরে পড়ে। হঠাৎ একদিন ছটফটে একটি বাচ্চা ওর চোখের সামনে গাড়ির তলে পিষ্ট হয়ে মারা যায়। সেদিন সেই অবুঝ ছানাটার মৃত্যু মিনির প্রতি ওর মনটাকে দুর্বল করে দেয়। নিজেকে নিজে ধিক্কার দেয়, হয়তো তীব্র পাপবোধের কারণে সন্তান হারানো মিনিকে খাবার দেওয়া শুরু করে তখন সাদিয়া। কিছুদিন পরে দেখতে দেখতে ছানাগুলো বড় হয়ে এদিকে–ওদিকে চলে যায়। তখন সারা দিন ঘুরে ঠিক সন্ধ্যার সময় ফিরে আসত মিনি সাদিয়ার দুয়ারে। সাদিয়ার অপেক্ষায় সিঁড়িঘরে চুপচাপ বসে থাকত। ফিরলেই ছুটে এসে মিয়াঁও মিয়াঁও করে ডাকত। আহ্লাদী স্বরে পায়ের কাছে ঘুরে ঘুরে আদর খুঁজত আদুরে ছানার মতো। ধীরে ধীরে ওরাও মিনির মায়ায় পড়ে যায়। সুন্দর একটি নামও পায়—মিনি। সাদিয়া পায় নিঃসঙ্গতার সঙ্গী।
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোমে আক্রান্ত খিটখিটে মেজাজের মেয়েটা দিন দিন সব জায়গায় নানান সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল ব্যবহারের জন্য। সেটা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে মিনির কারণে। অফিস থেকে ঘরে ফেরার আগ্রহ বেড়ে যায়, যা জামিলকে ভাবায়। জামিল চেম্বার থেকে ফেরার পথে দু-একটা ট্রিট নিয়ে আসে মিনির জন্য। আশ্চর্যজনকভাবে সাদিয়া ও জামিলের ছেঁড়া ছেঁড়া সম্পর্কটা মিনির অদৃশ্য মায়ায় আটকে যায়। সংসারের এটা–সেটা আলাপের মাঝে প্রায়টুকু মিনির প্রসঙ্গ জুড়ে থাকে। মিনির মায়াবী চাহনি, আহ্লাদী ডাক নিয়ে মেতে থাকত ওরা দুজন।
এক বিকেলে হঠাৎ সাদিয়ার মনে হয় মিনি ওর সব কথা বোঝে, সব কষ্ট অনুভব করতে পারে। ওর যখনই মন খারাপ হয়, মিনি এসে মিয়াঁও মিয়াঁও স্বরের আদুরে ডাক দেয়। অমনি ওর সব বিষণ্নতা মেরেকেটে হাওয়ায় মিলিয়ে দেয়। কাজের মাঝে হঠাৎ কোলের ভেতরে এসে বসে, মাথাটা ঘষে। আর সাদিয়া ওর আশপাশের সব ক্ষরণ, কটুবাক্য, অবজ্ঞাগুলো মুহূর্তে ভুলে যায়। মিনিকে নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যায়, মিনির প্রতিটা মুহূর্ত যেন সাদিয়ার পাঠ্য হয়ে যায়।
কিছুদিন পরে সাদিয়া অনুভব করে ওদের এত দিনের কাঙ্ক্ষিত জন ধীরে ধীরে ওর গর্ভফুলে শক্ত গিট বেঁধেছে।
আশ্চর্যজনকভাবে সাদিয়া ও জামিলের ছেঁড়া ছেঁড়া সম্পর্কটা মিনির অদৃশ্য মায়ায় আটকে যায়। সংসারের এটা–সেটা আলাপের মাঝে প্রায়টুকু মিনির প্রসঙ্গ জুড়ে থাকে। মিনির মায়াবী চাহনি, আহ্লাদী ডাক নিয়ে মেতে থাকত ওরা দুজন।
রাত ৪.১০
অনেকটা চেষ্টার পরে উঠে দাঁড়ায় সাদিয়া। জানালার গ্রিলটা ধরতে চায়। কিন্তু আন্ধা এক ঘোরের কারণে উঠে দাঁড়ালেও গ্রিলটা ধরতে পারে না। ভারসাম্য হারিয়ে পড়ে যায় শক্ত ফ্লোরে, তবে পড়ে যাওয়ার আগে চিৎকার করে ডাকে, নাদিয়ায়ায়ায়ায়ায়া...
মিনি লাফিয়ে ওঠে। মিয়াঁও মিয়াঁও করে ছুটে আসে সাদিয়ার কাছে। আর মিনির পেটের নিচ পড়ে থাকা মোবাইলটায় হঠাৎ আলো চকচক করে একটি কল আসে।
রাত ৪.১২
লাফিয়ে ওঠে নাদিয়া। গভীর ঘুমটা কেটে যায় চেনা কণ্ঠের চিৎকারে। হঠাৎ ঘুমের ঘোর কেটে যাওয়ায় বুকটা ধড়ফড় করতে থাকে। মুখের ওপর ছড়িয়ে থাকা চুলগুলো কানের পেছনে গুঁজে, মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখে অসংখ্য মিসডকলে ফোনটা ভার হয়ে আছে। কললিস্টে অসংখ্যবার বড় আপুর কল। ভয়ে ঠোঁট কেঁপে ওঠে। বোঝে ভয়ংকর কিছু ঘটেছে পাশের ঘরে। শেষের কলটি বোনের স্বামী জামিলের। কললিস্টে লোকটার নাম দেখে মেজাজটা জলে তেল পড়ার মতো ছ্যাত করে ওঠে। চাপাস্বরে কয়টা গালি দেয়। বড় আপুর এই সংকটময় সময়ে কিছু বলতেও পারে না বোনকে। নাদিয়ার এখানে থাকতে ভালো লাগে না। সারাক্ষণ জামিল ভাই ওর বুকের দিকে তাকিয়ে থাকে। বেশি আন্তরিকতা দেখাতে গায়ে হুটহাট হাত দেয়। রাগে নাদিয়ার কান্না পায়। বাড়ি ফেরার প্রহর গোনে সারাক্ষণ।
রাত ৪.১৫
স্যাঁতসেঁতে মেঝেতে উপুড় হয়ে পড়ে আছে সাদিয়া, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে আছে আশপাশে। দিগ্বিদিকশূন্য হয়ে নাদিয়া ফোন করে হাসপাতালে। অ্যাম্বুলেন্সে যেতে যেতে সাদিয়া টের পায় ওর গলা শুকিয়ে কাঠ, কোমরের দিকটা জলে টাবুটুবু...
হাতের ইশারায় পানি খোঁজে সাদিয়া বোনের কাছে। ব্যথায় কাতর চোখে ভাসে সন্তানহারা মিনির স্ফীত স্তনের লালচে চিৎকার।
সময় গড়িয়ে যায়, এখন আর কেউ সময়ের হিসাব করে না। অনেক দিন হাসপাতালে কাটিয়ে সাদিয়া, জামিলসহ নাদিয়া ও অন্য আত্মীয়স্বজন সবাই বাড়ি ফেরে। হাসপাতালে সংকটময় মুহূর্তে জামিলের কঠিন সিদ্ধান্তে সাদিয়া শূন্য কোলে বাড়ি ফেরে। তারপর থেকে সাদিয়া নিরবচ্ছিন্ন নীরবতার প্রাচীর গড়ে তোলে ওর চারপাশে।
এখানে এখন সন্ধ্যার গায়ে বিন্দু বিন্দু অন্ধকার জমে রাত নেমে এসেছে। কালো পিচঢালা রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো বেহায়ার মতো শুয়ে পড়েছে। বাড়ির গেট লাগোয়া হাস্নাহেনা ফুলগাছ থেকে শিরশিরে একটা সৌরভ দেয়াল বেয়ে চারতলা বারান্দায় এসে ঘোরাঘুরি করে। সেই কড়া ঘ্রাণটা সাদিয়ার অসহ্য লাগে। সাদিয়ার দৃষ্টি আকাশের মিটিমিটি তারার পানে। রাত্রির ছায়ায় চাঁদকে এখন আর ওর ভালো লাগে না। শুধু ভালো লাগে মিনির সঙ্গে শব্দহীন কথোপকথন।
বারান্দায় পাশাপাশি দুটো চেয়ার বসে আছে সাদিয়া ও মিনি। অনেকক্ষণ নীরবে কাটিয়ে মিনি প্রথম মিয়াঁও মিয়াঁও স্বরে ডাকে সাদিয়াকে। সাদিয়া তাকায়, অমনি চেয়ার থেকে লাফিয়ে নামে মিনি। ফ্লোরে কিছুক্ষণ জিরিয়ে নেয়। তারপরে ছেড়ে দেওয়া ঢলঢল পেট, স্ফীত স্তন নিয়ে এক-দু পা করে এগিয়ে যায় ভেজানো দরজার দিকে। ওর রেখে যাওয়া বিন্দু বিন্দু সাদা কষ্টগুলো ফ্লোরে মায়ার নকশা আঁকে। হঠাৎ সাদিয়া অনুভব করে, ওর ব্রা, কামিজ ভিজে যাচ্ছে স্তনের কান্নায়।