একটা–দুইটা করে অন্তত দশটা তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে! অথচ আমাদের শহরটা মানুষের। আমাদের শহরের টেরিকাটা বাবলাও মানুষ। মানুষ টেরিকাটা বাবলার গল্পটা এক লক্ষ একবার বলতে শুরু করেও শেষ করতে পারিনি। টেরিকাটা বাবলার গল্প শুরু করলে শেষই করা যায় না। কী করে শেষ হবে! টেরিকাটা বাবলাই তো প্রতিদিন নতুন নতুন গল্পের সন্ধান দেয়। গল্পই বলতে হবে। সংবাদের মোড়কে এলেও যেকোনো সংবাদকে একেবারে গল্পের শরীর দেওয়া ওর স্বভাব। যাহোক, টেরিকাটা বাবলার গল্প বলার আগে আমাদের শহরের গল্পটা বলা প্রয়োজন।
জন্মের পর থেকেই আমাদের শহরের মানুষের জীবনে গতি ছিল, উন্নতির বেগ ছিল আর মানুষগুলো ছিল আবেগসর্বস্ব। সবুজ–শ্যামল শহরজুড়ে এমন একটা মফস্সলি ভাব ছিল যে এর মায়াবী রূপ থেকে চোখ ফেরানো যেত না। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের সবচেয়ে বড় রূপকার ছিল দুই নদী, রূপেশ্বরী আর মায়াশ্বরী। দুই নদী ঈশ্বরীর মতো বুক পেতে আমাদের আগলে রাখত। নদী দুটো এখন নেই, মানুষ আধুনিকতার জাদুমন্তর শেখার পর এরা মানচিত্র থেকে একেবারে উধাও হয়ে গেছে। নদীর বদলে এখন আমাদের শহরে আছে সারি সারি কলকারখানা, আবাসিক হোটেল, সুউচ্চ ভবন, হরেক রাইডে ঠাসা বিনোদন চত্বর আর তেলাপোকা।
একটা–দুইটা করে অন্তত ত্রিশটা তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
জন্মের পর থেকেই আমাদের শহরের মানুষের জীবনে গতি ছিল, উন্নতির বেগ ছিল আর মানুষগুলো ছিল আবেগসর্বস্ব। সবুজ–শ্যামল শহরজুড়ে এমন একটা মফস্সলি ভাব ছিল যে এর মায়াবী রূপ থেকে চোখ ফেরানো যেত না। শহরের সৌন্দর্যবর্ধনের সবচেয়ে বড় রূপকার ছিল দুই নদী, রূপেশ্বরী আর মায়াশ্বরী।
অথচ আমাদের শহর এখন আধুনিক, বিশ্বসেরা। শহরটা যত আধুনিক আর অভিজাত হয়ে উঠছে, শহরের মানুষগুলো তত আবেগহীন হয়ে পড়ছে। এই সংবাদও টেরিকাটা বাবলার বহন করে আনা। তবে ওকে আবার কেউ সাংবাদিক ভেবে বসবেন না। বছর দুই আগে একটা নির্মাণাধীন ভবনের সাততলার ছাদ থেকে লাফ দিয়ে সাংবাদিক মণিরঞ্জন স্বেচ্ছামৃত্যুর পথ বেছে নিলেও এখনো আমাদের শহরের সংবাদ সংগ্রহের জন্য বিস্তর সাংবাদিক আছে। টেরিকাটা বাবলা এদের থেকে আলাদা। ওর কোনো অফিসঘর নেই, ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কোনো আইডি কার্ডও নেই। ওর সংগৃহীত সংবাদ আর এসব প্রচারের ধরন-ধারণও একেবারে আলাদা, বলা যায় শহরবাসীর পিলে চমকে দেওয়ার মতো।
এই যেমন আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ রগড়াতে রগড়াতে বাড়ির সবাই সংবাদ পেলাম, আমাদের শহরের মাটিটুকু চুরি হয়ে গেছে। অমন অলুক্ষণে একটা কথা শোনামাত্র পায়ের নিচ থেকে কেমন সড়সড় করে মাটি সরে যায় না বলেন? আমাদের বাবা তো টেরিকাটা বাবলার মুখে সংবাদটা শুনে লুঙ্গি পরা অবস্থাতেই ঘরের বাইরে ছুটে গেছে। আমরাও একে একে বাবার পিছু পিছু ছুটেছি। বড় রাস্তায় পা দিতে না দিতেই হুঁশ ফিরেছে সবার। দেখি কিসের কী, আমাদের ভিটেবাড়ির সীমানা, চৌহদ্দি—সবই সুরক্ষিত আছে। তাই তো বলি, পুরো একটা শহরের মাটি কী করে চুরি হয়ে যায়! এ তো আর গয়নার বাকশো বা বারান্দায় দাঁড় করিয়ে রাখা দ্বিচক্রযান না যে দিনদুপুরে বা কানাসন্ধ্যায় চুরি হয়ে যাবে! ‘তাহলে কী চুরি হলো? কে চুরি করল?’ পরপর প্রশ্ন করে মা অগ্নিদৃষ্টি নিক্ষেপ করতেই টেরিকাটা বাবলা শহরের মাটি চুরির গল্প শোনাতে অন্য কারও বাড়ি লক্ষ্য করে ছোটে।
একটা–দুইটা করে অন্তত পঞ্চাশটা তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
ঘণ্টাখানেক পরে টেরিকাটা বাবলার গল্পের বাকিটা জানা যায়। আমাদের পাড়ার নিকিতা আছে না? সেই নিকিতা, গত বছর যে বোর্ড পরীক্ষায় ভালো ফল করে সবাইকে চমকে দিল। ওদের বাড়িসংলগ্ন ফাঁকা জায়গায় এলাকার প্রভাবশালী এক নেতার চ্যালা লাবু দলেবলে এসে ‘সানসাইন ক্লাব’ সাইনবোর্ড লাগিয়ে গেছে। তা কী আর এমন আছে ওই জায়গায়! দুটো টিংটিঙে মেহগনি, গোটা চার অফলা আমগাছ আর পশ্চিমের দিকে উঁচু করে রাখা শ পাঁচেক ইট—এ–ই তো। অবশ্য ইটের পাশে বালুর একটা ঢিবিও ছিল, বৃষ্টিবাদলায় ক্ষয়ে সেদিকটায় ধুলোট মাটি হয়ে গেছে। চেক ডিজঅনারের মামলায় চার মাস জেল খেটে আসার পর ইট, বালু ও সিমেন্ট খরচ করে নিকিতার বাবা আর প্রাচীর তুলতে পারেনি। সন্ধ্যার পরপর উন্মুক্ত ওই জায়গায় লাবু ইয়ার দোস্তদের সঙ্গে নিয়ে জুয়া খেলতে বসে যায়। মধ্যরাত অবধি ওরা হইহুল্লোড়, খিল্লিখিস্তি করে। আগে দু–একজন ট্রিপল নাইনে ফোন করে এদের তাড়া খাওয়াত। আজকাল কেউ আর ফোনটোন করে না।
সকালে ঘুম থেকে উঠে চোখ রগড়াতে রগড়াতে বাড়ির সবাই সংবাদ পেলাম, আমাদের শহরের মাটিটুকু চুরি হয়ে গেছে। অমন অলুক্ষণে একটা কথা শোনামাত্র পায়ের নিচ থেকে কেমন সড়সড় করে মাটি সরে যায় না বলেন? আমাদের বাবা তো টেরিকাটা বাবলার মুখে সংবাদটা শুনে লুঙ্গি পরেই ঘরের বাইরে ছুটে গেছে।
শুনেছি, সকালের ঘটনার পর নিকিতার বাবা খানিকক্ষণ কান্নাকাটি করে থানার দিকে ছুটে গেছে। এরপর কী ঘটেছে তা জানতে আমরা কেউ আর ওদের বাড়িতে যাইনি। ওসব নিয়ে পড়ে থাকলে আমাদের চলে না। নিজেদের পায়ের নিচের মাটি টিকে যাওয়ার আনন্দ উপভোগ করতে করতে আমরা ডিমভাজা আর ঘন ডাল দিয়ে গরম গরম ভাত খেয়ে যে যার কাজে চলে যাই। কাজের ফাঁকে ফাঁকে মোবাইল স্ক্রল করে দেখি, এ বাড়ি ও বাড়ির সমঝদার মানুষেরা বিষয়টা নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছে।
আমাদের টেরিকাটা বাবলার কিন্তু ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নেই। তবু ও শহরের সব গল্প সবার আগে জেনে যায়, আমাদেরও জানায়। বিকেলের দিকে ওর বরাতেই জানা যায়, আজ রাতে আকাশে সূর্য উঠবে। আমরা চোরা চাহনিতে ওকে দেখি। টেরিকাটা বাবলার চোখজোড়া অদ্ভুত রকমের গোল, মণি দুটো অস্বাভাবিক ছোট আর বাঁ দিকের মণিটা সামান্য ট্যারা। কালো বলের মতো মণি দুটো সর্বক্ষণ চৌদিকে ছুটে বেড়ায়। ওর পা–জোড়াও ছোটে। আমরা বলি, টেরিকাটা বাবলার পাজেরো। যাহোক, অনেক দিন পর ওকে বাগে পাই। ওর ঝাঁকড়া চুলের গোছা টান দিয়ে বলি, ‘বলিস কী রে! রাতে আকাশে সূর্য উঠবে! তা তুই কি এখন জ্যোতির্বিদ হয়ে গেলি?’
যদিও বাবলার ওপরে আর ভরসা করতে পারি না, তবু রাতের আকাশে সূর্য ওঠা দেখতে আমরা তড়িঘড়ি খাওয়া শেষ করি। এরপর যে যার বাড়ির ছাদ বা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ লক্ষ্য করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে থাকি। অপেক্ষায় থাকতে থাকতে যে মুহূর্তে আমরা ঘুমাতে যাব বলে ভাবি, সেই মুহূর্তে পুব আকাশে কমলা–হলুদ রঙের একটা চাকতি ভেসে ওঠে। ধীরে ধীরে চাকতিটা সূর্যের তেজ নিয়ে আমাদের শহরকে আলোয় ভরিয়ে তোলে। আমরা থমকে যাই, তবে কি টেরিকাটা বাবলার কথাই সত্যি হলো!
একটা–দুইটা করে অন্তত এক শ তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
সত্য–মিথ্যার কাছাকাছি কিছু একটা হয় বৈকি। ওই রাতে কে বা কারা এসে মালোপাড়ায় আগুন দেয়। প্রশাসনের রাশভারী কর্মকর্তারা এসে পোড়া ঘরবাড়ি দেখেশুনে কীসব নোট করে নেয়। গাড়ি ভর্তি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আসে। কিন্তু তারা সন্দেহভাজন কাউকে গ্রেপ্তার করেছে মর্মে টেরিকাটা বাবলা কোনো সংবাদই দিতে পারে না। মাথার দুই পাশের খোলা চুল ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে শুধু জানায়, দোষটা মালোপাড়ার মণীশ কাকার ছেলে ঋষিরই। ঋষি নাকি ফেসবুকে একটা পোস্ট দিয়ে হামলাকারীদের উসকে দিয়েছে।
একটা–দুইটা করে অন্তত দুই শ তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
পরের দিন শহরের বুকে নতুন সংবাদ জন্ম নেয়। সেই সংবাদও টেরিকাটা বাবলার কল্যাণে দুয়ারে দুয়ারে পৌঁছে যায়। এবারের সংবাদ পিলে চমকানোর মতো, সন্ধ্যা নামলেই নাকি ঘরে ঘরে যমদূত আসবে! শহরে কি মহামারি শুরু হবে? তা না হলে ঘরে ঘরে কেন যমদূত আসবে? যমদূত এলে কোনো প্রস্তুতি নিয়েও রক্ষা পাব না জেনে দুরুদুরু বুকে আমরা যখন সন্ধ্যা নামার অপেক্ষা করি, তখনই মসজিদের মাইকে ঘোষণা শোনা যায়, ‘সম্মানিত এলাকাবাসী, আমাদের শহরে ডাকাত নেমেছে। যার যার ঘরে সাবধানে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ আমরা ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। এমন টান টান মুহূর্তে টুনটুন টুনটুন শব্দে ডোরবেল বেজে ওঠে। আমরা পরস্পরের হাত চেপে ধরি। হঠাৎ চমকে দেখি, মা টেবিলের ওপর থেকে হাতড়ে হাতড়ে কিছু একটা নেওয়ার চেষ্টা করছে। কিছু একটা পেয়েও যায় মা। টেবিলে থাকা কাঁচিটা হাতে তুলে মা দরজার দিকে এগিয়ে যেতেই বাইরে থেকে চেনা স্বর শোনা যায়, ‘দরজা খোলো।’ দরজা খুলতেই উত্তেজনায় ফেটে পড়তে পড়তে টেরিকাটা বাবলা বলে, ‘ওরা চলে গেছে।’ এরপর আমাদের নির্বাক দাঁড় করিয়ে রেখে সংবাদদাতা যেমন অতর্কিতে আসে, তেমন অতর্কিতেই চলে যায়।
মসজিদের মাইকে ঘোষণা শোনা যায়, ‘সম্মানিত এলাকাবাসী, আমাদের শহরে ডাকাত নেমেছে। যার যার ঘরে সাবধানে থাকার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।’ আমরা ঘরের দরজা–জানালা বন্ধ করে আলো নিভিয়ে চুপচাপ বসে থাকি। এমন টান টান মুহূর্তে টুনটুন টুনটুন শব্দে ডোরবেল বেজে ওঠে।
সাত দিন পার হতে না হতেই নতুন গল্প নিয়ে হাজির হয় টেরিকাটা বাবলা। এই গল্প পুনরায় আমাদের পীড়িত করে। মা আদরের মেনিমুখোকে কোলে তুলে বাড়ির বাইরে ছোটে। ভয়ে, দুশ্চিন্তায় আন্দোলিত শরীর নিয়ে বাবা এবার পেছনেই পড়ে থাকে। শহরের সবার মতো বাবাও জানে এই কাজ কে বা কারা করেছে। প্রকাশ্যে ঘটনাটা না ঘটলেও মেহেরকে কারা বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল, সে তো সবাই দেখেছে। এমনই কপাল মেহেরের, মুমূর্ষু অবস্থায় টানা দেড় ঘণ্টা চকনওদা স্টেশনের কাছে রেললাইনের ওপরে পড়ে থাকলেও একটা ট্রেনও ওর ওপর দিয়ে যায়নি। বিবিধ দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলনকারীদের একজন লাইনের ওপরে শুয়ে পড়ায় ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়েছে। রেললাইনের ওপরে পড়ে থাকা মেহেরের তবু রক্ষা পেতে ১২ ঘণ্টা ১৫ মিনিট ২০ সেকেন্ড সময় লাগে। মেহের মারা গেছে—খবরটা প্রচার করতে বেরিয়ে টেরিকাটা বাবলা সবার পিলে চমকে দিয়ে জানায়, অপাপবিদ্ধ মেহের একেবারে বিনা হিসাবে স্বর্গে চলে গেছে।
একটা–দুইটা করে অন্তত তিন শ তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
কিন্তু কে জানে নরক আর স্বর্গের ঠিকানা? ঠিকানা জানা থাকলেই কি খেয়ালখুশিমতো ওসব স্থানে পৌঁছানো যায়? আর কে পাপী, কে পাপী না, তা কে জানে? মেহেরের কি চলাফেরা ভালো ছিল? রাত করে টিউশনি সেরে ওই মেয়ে বাড়িতে ফিরত। জিনসের সঙ্গে ফতুয়া পরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াত। ওড়নার বালাই থাকত না। ওড়না পরে চলাফেরা করতে বলায় একদিন লাবুকে জুতা দেখিয়েছিল মেহের। কিন্তু টেরিকাটা বাবলাকে এসব কে বোঝাবে।
একটা–দুইটা করে অন্তত সাত শ তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
আজ আর বাইরে যেতে হয় না আমাদের, ঘরে বসেই দ্রিমদ্রিম, দুপধুপ, দাপধাপ শব্দ পাই। পিস্তল, হাতবোমা ব্যবহারের ফাঁকে ফাঁকে কেউ কেউ মুখবোমাও ছুড়ে মারে, ‘কই গেলি...আজ তোদের কলিজা টাইনা ছিঁড়া ফেলমু, পাড়ার দখল নিবি? একেবারে মাটিতে গাঁইথা রাখমু...পুত।’ পরিস্থিতি ঠান্ডা হতে হতে ভোর হয়ে যায়। নির্ঘুম আমরা দিনের সূচনায় নতুন কোনো সংবাদের ভয়ে জড়সড় হয়ে অপেক্ষা করতে থাকি। অপেক্ষার অবসাদ একসময় আমাদের চোখে ঘুম নামিয়ে দেয়।
একটা–দুইটা করে হাজার হাজার তেলাপোকা আমাদের ঘাড়ে-পিঠে লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে!
সকালের সূর্য মাথার ওপরে পৌঁছালে টেরিকাটা বাবলা দরজায় নতুন খবর নিয়ে এসে দাঁড়ায়। কাঁধনামা চুলের গোছা থেকে লাল রঙের হেয়ারব্যান্ডটা টান দিয়ে খুলে ফেলে ও রাস্তায় ছুড়ে ফেলতে ফেলতে জানায়, এই শহরের মানুষেরা তেলাপোকা হয়ে গেছে। এই প্রথমবারের মতো টেরিকাটা বাবলার গল্প শুনে আমরা বিচলিত হই না। পিঠের সঙ্গে সেঁটে থাকা তেঁতুলবিচিরঙা ডানাজোড়া ফড়ফড় করতে করতে বলি, ‘তোর ডানা কই রে, বাবলা?’