অনির্দেশ্য

মাসুক হেলালের অলংকরণ অবলম্বনে গ্রাফিকস: প্রথম আলো

প্রেমে পড়ার পর মানুষ যে খুব স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ে, রাকা এটা জানতে পারে তপনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগেই; কিন্তু এড়িয়ে গিয়েছিল। বা, যায়নি। ধরে নেওয়া যায়, এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তার উদাসীনতা ছিল। কিন্তু এটাও তো অসত্য নয়—সুখকর কিছু শুনলে মাথা দুলিয়ে সে বলেছে, ‘বেশ তো’, আর কষ্টের স্মৃতিতে ‘ইশ্!’, ‘আহ্, আর বোলো না’ বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলেছে এবং তপনের তামাটে হাত ধরে জানালার দিকে তাকিয়ে থেকেছে; যদিও সেদিকে সাদা সীমানাদেয়াল আর গলির ওপারে কাঁটাতার-বসানো আরও উঁচু ধূসর প্রাচীর পেছনে রেখে একটা পেঁপেগাছ কেবল চোখে পড়ে। প্রথম যেদিন আসে, কোমরসমান ছিল সেটা, আজ তাতে ফুল এসেছে। জানালার কাছে গিয়ে রাকা গাছটার ছবি তোলে। তখন বিছানায় বসে থাকা তপনের মাথার ওপরে ঘটাং শব্দের পর একপশলা গরম হাওয়া; শোঁ শোঁ আওয়াজের মধ্যে সেই বাতাস স্বাভাবিক হওয়ার আগে রাকা বলে, ‘তুমি আজও তার নাম বলো নাই। কিন্তু একবার সে বলতেছ, আবার উনি বলতেছ।’ মাথা নিচু করে সে উত্তর দিতে পারে, ‘নাম বললে কি চিনতে পারবে? উনি বয়সে আমার বড় ছিলেন।’

‘হুম। কত বড়?’

‘বেশি না। আম্মুর চেয়ে কমই হবে।’

তপন এবার মাথা তোলে। কিন্তু কোন দিকে তাকায়, বোঝা যায় না। বলে, ‘মনে হয় ঝড় হবে।’ আর রাকার মনে হয়, ঘোলা পানিতে বুদ্‌বুদ ছড়িয়ে জলহস্তী মাথা তুলেছে। মোবাইলে পেঁপেগাছের ছবি দেখতে দেখতে সে বলে, ‘ওয়াও! প্রোফাইল পিকচারে দারুণ হবে।’

তপনের আঙুলও তখন স্ক্রিনে, সেখান থেকে শোনা যায়: ‘কী রে, এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেন, কী হইছে?’

‘আর বলিস না, বউদি, কাল দেখলাম শজনের ফুল, আজকে দেখি ডাঁটা। পেট বানাইয়া চইলা গেল গতরখাকির ব্যাটা।’

ঘাড় ঘুরিয়ে রাকা তপনের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘তুমিও এই সব দ্যাখো?’

‘হা হা হা! আর কে দেখে?’

ছোঁ মেরে সে তপনের হাত থেকে মোবাইলটা নেয়। তখনো রিলটা চলে। সে দেখে, ননদরূপী মেয়েটির লাল শাড়ি সরিয়ে ফরসা পেটে হাত বোলাতে বোলাতে এক নারী ‘ওমা! ওমা!’ বলছে।

রাকার প্রায়-ফরসা মুখত্বক রক্তাভ হয়ে ওঠে: ‘এটাই তোমার স্ট্যাটাস?’

নীরবতা।

‘দ্যাখো, সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে আইডেন্টিফাই করতে পারে। কার কী ডিমান্ড, ইনফর্ম করে।’

রাকার স্বর নিচু আর গম্ভীর, ‘আমি যেমন তোমাকে চিনেছি। তোমার অতীত দিয়েই।’ দেয়ালের ওপর, পেঁপেগাছের পাশে তখন একটা কাক এসে ফের উড়ে গেল, ‘আচ্ছা, আমি কি সত্যিই তোমাকে চিনি?’ রাকার স্বর উদাসীন শোনায়। তপন তার দীর্ঘশ্বাসও শুনতে পেয়েছিল।

রাকা দেখে, বিছানায় একটা ডায়েরি পড়ে আছে। গত বছরের। প্রায় সব পাতায় কী সব লেখা, দু-চারটা ম্যাপ আর নকশাও এঁকে রেখেছে। এই যুগে কেউ ডায়েরি লেখে, রাকা আজ দেখল। পাশের ঘরে তপনের মা ফোনে কথা বলছে। একটা বিড়াল লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে ঠিক মাঝখানটায় বসার মুহূর্তে কী যে হয় রাকার, আগে যা করেনি, সে তা–ই করে। দরজার দিকে তাকিয়ে কাঁপা হাতে ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়।

আজ শুক্রবার, বেলা করে ঘুম ভাঙার পর কী কারণে যে তপনের জন্য মায়া অনুভব করতে লাগল রাকা, বলা মুশকিল। দুই দিন আগে তার সঙ্গে কিঞ্চিৎ ঝগড়া হয়েছিল। এমনটা তো হতেই পারে। কিন্তু সে যথেষ্ট অপমান করেছিল সেদিন তপনকে। একটু গিল্টি ফিলিং হচ্ছে কি? অ্যাপোলোজাইস করার জন্য সে বিছানা থেকে নেমে ওয়ার্ডরোবের ওপরে রাখা মোবাইলটা নেয়, তখন গলি থেকে ‘আছেনি ভাই, পুরান জিনিস, নষ্ট ল্যাপটপ, অচল মোবাইল, বন্ধ মনিটর’... শোনা যায়। কল দিয়ে বুঝতে পারে, তপনের নম্বর বন্ধ। রাকার মনে হলো, ঘুমাচ্ছে। ঘুমাক। কিন্তু দুপুরের পর এই অনুমান রূপ নিল উদ্বেগে; ঠিক করল, তপনদের বাসায় যাবে। অ্যাপোলোজাইস সশরীরই ভালো। লালমাটিয়া থেকে কল্যাণপুর তো দূরে নয়।

তপনের মা বলেছিল, ‘এমনই করতেছে। বাসা থেকে আচমকা বাইরায়া যায়, সপ্তাহখানেক পর আসে। এই নিয়া তিনবার হইল।’ কপালের ঘাম মুছে আরও বলেছিল, ‘বলি, মোবাইলটা চালু রাখিস, রাখে না। কোথায় যে যায়! টেনশন লাগে। চাকরিবাকরি করলে ঠিক হয়ে যাইত, সেই চেষ্টাও করতেছে না।’ একটু থেমে স্বর গোপন করার ভঙ্গিতে এবার বলে, ‘আচ্ছা, অন্য কিছু করে না তো? আজকাইল খালি সমাজ বদলানোর কথা বলে।’

রাকা বলেছিল, ‘কিছু বলে নাই যাওয়ার সময়?’

‘চিন্তা করতে মানা করছিল।’

‘আন্টি, কিছু মনে করবেন না। ওর রুমে যেতে পারি?’

‘তপন তো নাই।’

‘জানি।’

‘আচ্ছা, যাও।’

রাকা দেখে, বিছানায় একটা ডায়েরি পড়ে আছে। গত বছরের। প্রায় সব পাতায় কী সব লেখা, দু-চারটা ম্যাপ আর নকশাও এঁকে রেখেছে। এই যুগে কেউ ডায়েরি লেখে, রাকা আজ দেখল। পাশের ঘরে তপনের মা ফোনে কথা বলছে। একটা বিড়াল লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে ঠিক মাঝখানটায় বসার মুহূর্তে কী যে হয় রাকার, আগে যা করেনি, সে তা–ই করে। দরজার দিকে তাকিয়ে কাঁপা হাতে ডায়েরিটা ব্যাগে ঢুকিয়ে নেয়।

গাড়িটা যখন শ্যামলী পার হচ্ছিল, তখনই তপনের কথা আবার রাকার মনে পড়ল। এই মুহূর্তে তপন মানে তপনের ডায়েরি। ফলে সে ব্যাগ থেকে বের করে এবং মাঝখান থেকে পড়তে থাকে:

‘বাসটা আমাকে একটা গলির মুখে নামিয়ে দিয়েছিল। সামান্য হাঁটার পর দেখলাম, ডানে ছোট একটা মাঠ আর কিছু গাছ, বাঁয়ে দুটি বিল্ডিংয়ের ফাঁকে বিশ-ত্রিশজন যুবকের জমায়েত; পাড়াভিত্তিক সভার মতো লাগল, কারণ তাদের একাংশ চেয়ারে বসে ছিল। পরে দেখি, একজন সবার সামনে দাঁড়িয়ে কিসের যেন দাম ঘোষণা করছে, নিলামে যেমন ডাক দেওয়া হয়। এখানে থাকলে সময় নষ্ট, এই ভাবনার মধ্যে মনে হলো, বাসটা আমাকে ভুল জায়গায় নামিয়ে দিয়েছে। অথচ ভাড়ার পুরোটাই নিয়েছিল। কিন্তু এটা কোন জায়গা?’

যাত্রীরা চেঁচাতে লাগল, “বাঁয়ে যাও, বাঁয়ে নাও, বাঁয়ে নিয়া সোজা!” আমিও কি তাতে অংশ নিয়েছিলাম? মনে পড়ে না; কিন্তু বাসটা রাস্তার বাঁয়ে গিয়ে অদ্ভুত ও বিপজ্জনক মোচড় নিয়ে সোজা রওনা দেওয়ার মুহূর্তে পাশের সারিবদ্ধ গাছে ঘষা খেয়ে কোনাকুনিভাবে আটকে গেল; পড়িমরি বের হয়ে দেখি, অক্ষত অবস্থায় সায়মা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। আমরা বাসটা নিরীক্ষণ করছিলাম। গাড়ি চলতে শুরু করে।’

চোখ তুলে রাকা খেয়াল করল, গণভবনের সামনে সব থেমে আছে। আবার সে পড়তে থাকে: ‘মূল রাস্তার দিকে ফেরার সময় কাঁচাপাকা চুলদাড়ির এক লোকের [সেও সেদিকে হাঁটছিল] কাছে জানতে চাইলাম। সে বলল, “এইটা মিরপুর সাড়ে এগারোর আগের গলি।” উচ্চারণে তাকে বিহারি মনে হলো। সায়মা [সাত বছরের বেশি হলো, পৃথিবীতে নাই; রাস্তায় তার সঙ্গে দেখা; পূর্বনির্ধারিত ছিল না-কি!] বলল, “একসময় এরাই এখানে থাকত।” আমরা গলির মুখে দাঁড়িয়ে একটার পর একটা গাড়ি থামানোর জন্য হাত তুলতে লাগলাম। অবশেষে লক্কড়ঝক্কড় একটা বাস কিছুদূর গিয়ে বাঁয়ে বাঁকা হয়ে থামল। [রাস্তা সেদিকেই গেছে। কিন্তু কোনো খটকা লাগছে না কেন? মূল রাস্তা মিরপুর সাড়ে এগারো থেকে কীভাবে সরাসরি চিড়িয়াখানার দিকে যায়!] দৌড়ে চা-দোকান, পিঠা বিক্রেতা, ফুচকাঅলা ইত্যাদি পার হয়ে বাসটায় উঠলাম। গন্তব্য আর সিট আছে কি না জানতে চাইলে হেলপার কী যেন বলল। দেখি, অফ হোয়াইট কালারের ট্রিপল সিটে মোচঅলা একটা লোক, সাদা লুঙ্গি আর চেক শার্ট পরা, বসে আছে। সেখানে বসলাম। সায়মা কি পাশে বসে ছিল? বাসটার অবস্থা খারাপ, কিন্তু সিট আরামদায়ক ছিল। চলতে লাগল। তখনো এই প্রশ্ন জাগেনি, মিরপুর সাড়ে এগারো থেকে সূর্যাস্তের দিকে কোনো রাস্তা বা পাবলিক বাস চিড়িয়াখানায় যাওয়ার জন্য থাকতে পারে কি না। তা ছাড়া দুই পাশে জনবসতি বলে কিছু নেই। হঠাৎ বাসটা রাস্তার মাঝখানে কী যেন, সম্ভবত একটা ভেড়া বসে ছিল দেখে তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে থেমে গেল। যাত্রীরা চেঁচাতে লাগল, “বাঁয়ে যাও, বাঁয়ে নাও, বাঁয়ে নিয়া সোজা!” আমিও কি তাতে অংশ নিয়েছিলাম? মনে পড়ে না; কিন্তু বাসটা রাস্তার বাঁয়ে গিয়ে অদ্ভুত ও বিপজ্জনক মোচড় নিয়ে সোজা রওনা দেওয়ার মুহূর্তে পাশের সারিবদ্ধ গাছে ঘষা খেয়ে কোনাকুনিভাবে আটকে গেল; পড়িমরি বের হয়ে দেখি, অক্ষত অবস্থায় সায়মা দাঁড়িয়ে আছে রাস্তার পাশে। আমরা বাসটা নিরীক্ষণ করছিলাম। গাড়ি চলতে শুরু করে।’

রাকা পড়ে, ‘আমি বললাম, আমরা ছাড়া কেউ নামে নাই। এখন বাসটা খেতে নামিয়ে দিলেই হয়। শুকনা আছে। কিছু বেগুন অবশ্য নষ্ট হবে। সায়মা বলল, “ওইখান থেকে কি উঠতে পারবে? এই বাস আর যাবে না।” আমরা আবার হাত তুলে চিড়িয়াখানাগামী বাহন থামানোর চেষ্টা করতে লাগলাম। একটা সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে সায়মা বলল, “টাঙ্গাইলে যাবেন?” তখনো আমার মনে হয়নি, মিরপুর চিড়িয়াখানার উদ্দেশে রওনা দিতে গিয়ে এত দূরের গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা কেন তার হলো, তা–ও এই ক্ষুদ্র বাহনে! ওই অটোরিকশা রাজি না হওয়ায় খুশি হলাম।’

রাকা মনে মনে বলে ওঠে, ‘বেশ তো!’ কিন্তু পাঠ থামে না: ‘বললাম, আন্টি, চিড়িয়াখানার সামনে তোমার সঙ্গে এক কাপ চা খাব না, এটা কি হয়? সায়মা বলল, “আরেক দিন। কিন্তু খবরদার, আমাকে আন্টি বলবে না।”’

লিফটে ঢুকে রাকা ভাবে, তপন কেবল স্মৃতিতে বসবাস করে না; স্বপ্নেও থাকে। কেউ কেউ হয়তো এমন, কিন্তু তার মধ্যে ডকুমেন্টেশনের একটা প্র্যাকটিসও আছে। এটা কি অসুস্থতা? বাসায় ঢুকে সে নিজের রুমে গিয়ে ব্যাগটা মেঝেয় ফেলে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে এবং নিজেও স্মৃতির ভেতর চলে যায়।

এইখানে রাকা দম নেয়। এখন কি সে আসাদ গেটের নির্ধারিত জ্যামে?

‘আমরা বাহন থামানোর জন্য হাত তোলার ফাঁকে ফাঁকে হাঁটলাম কিছুক্ষণ। বললাম, এই রাস্তা আগে ছিল না। ছিল, কিন্তু কিছু চলত না। ইট বিছানো ছিল তো। সায়মা বলল, “এটার নাম স্বাধীনতা সড়ক।” বললাম, ফুটপাত নাই। মনে হয় আরও চওড়া হবে। বালুবাহী ছোট একটা গাড়ি থামিয়ে ড্রাইভারের উদ্দেশে সায়মা বলল, “যাবেন, টাঙ্গাইল?” রাজি হতেই আমাকে বলল, “দাঁড়াও, তোমার জন্য গাড়ি ঠিক করে দিই। আমার রাস্তা তো উল্টা দিকে।” তারপর দেখি একটা সিএনজি অটোরিকশা থামল, সে রাজি হলো না। একটা রিকশা পেলাম। সায়মাকে আর দেখা গেল না। তখনো মনে হলো না, আমার সঙ্গে তার এত দূর এসে চলে যাওয়ার অর্থ কী; আর বুঝতে পারছিলাম না, আমি কি রিকশায় বসে, না হাঁটছি? পশ্চিমের দিগন্তরেখার ওপর সূর্য ক্রমে লাল হচ্ছে। রাস্তা নির্জন। সূর্য ডুবলে চিড়িয়াখানা বন্ধ হয়ে যায় আর সেখানে কাউন্টারের পাশে রাকা অপেক্ষা করছে; এই টেনশন নিয়ে দ্রুত হাঁটছি, নাকি রিকশার গতি বেড়েছে? নির্ভুল বৃত্তের লাল সূর্যসমেত দিগন্তরেখা ঈষৎ ওপরে উঠছে, তারপর নামছে। আবার উঠছে। চরাচর নির্জন। আর দেখতে পাচ্ছি, একটা ফ্রেমের মধ্যে নীলাভ অন্ধকার পটভূমিতে কয়েকটি রিকশা আসছে এবং যাচ্ছে। মনে হলো, একটা জানালা বসিয়ে দেওয়া হয়েছে আমার সামনে। কিন্তু আমি তো সাততলায় থাকি। চলন্ত রিকশা নিয়ে জানালা কীভাবে এত ওপরে আসে? উত্তরের আগে ঘুম ভেঙে যায়।’

লিফটে ঢুকে রাকা ভাবে, তপন কেবল স্মৃতিতে বসবাস করে না; স্বপ্নেও থাকে। কেউ কেউ হয়তো এমন, কিন্তু তার মধ্যে ডকুমেন্টেশনের একটা প্র্যাকটিসও আছে। এটা কি অসুস্থতা? বাসায় ঢুকে সে নিজের রুমে গিয়ে ব্যাগটা মেঝেয় ফেলে বিছানায় উপুড় হয়ে পড়ে এবং নিজেও স্মৃতির ভেতর চলে যায়। তপন বলেছিল, ‘তোমাকে ভালোবাসি, কিন্তু আর সবার মতো নয়। দ্যাখো, কত শিশু মরে যাচ্ছে, সামান্য হামের টিকা না পেয়ে। যেদিন তারা এইভাবে মরবে না, সেদিন আমরা সংসার শুরু করব...।’

ইয়ানির ‘ওয়ান ম্যানস ড্রিম’ ভেসে আসছে। করুণ, মায়াজাগানো। কিন্তু এত অনিশ্চিত, সিদ্ধান্তে আসা যায় না। কে শোনে এই সব? আচ্ছা, রাকা কি কাঁদছিল? বাইরে তো বৃষ্টি হচ্ছিল।