বিলোল বিভঙ্গ
বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরির চেয়ে বাংলা একাডেমির লাইব্রেরিতে পড়তে বেশি ভালো লাগত জুহিতার। আমছাত্ররা সেখানে পড়ার সুযোগ পেত না। জুহিতা এমফিল শুরু করেছিল বলে তার সুপারভাইজার শিক্ষকের রেফারেন্সে সপ্তাহে দুই দিন যেতে পারত সেখানে। তা ছাড়া তার প্রাণের বন্ধু ছুটির মামা একাডেমির উপপরিচালক ছিলেন। ও পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। ছুটি চুটিয়ে প্রেম করে রেজাল্টের আগেই পালিয়ে বিয়ে করেছিল। জুহিতার তেমন প্রেমট্রেম হয়নি। প্রেমের প্রস্তাব পেয়েছিল বেশ কিছু। দু–একজনকে ভালোও লেগেছিল। নিজের ক্লাসের ছেলেদের ওর ভালো লাগত না; সব কেমন যেন ভ্যাবলাকান্ত। ফাইনাল ইয়ারের শিশির ভাইকে দারুণ লাগত। ও একদিন একটা নোট দেখানোর নাম করে শিশির ভাইয়ের সঙ্গে লাইব্রেরির পেছনের বারান্দায় একটু ঘনিষ্ঠ হয়ে বসতে গিয়েছিল। পাশে বসতেই শিশির আকাশের দিকে তাকিয়ে জীবনানন্দ আওড়ায়:
‘চোখে তার যেন শত শতাব্দীর নীল অন্ধকার
স্তন তার করুণ শঙ্খের মতো—দুধে আর্দ্র
কবেকার শঙ্খিনীমালার’
জুহিতা আঁচল টেনে নিয়ে একটু সংকোচে দূরে বসে। ওর কুচযুগ লক্ষ করে রোজই দু–একটা করে কমেন্ট আসে পেছন থেকে। ছুটি বলে, ‘তোর নাম জুহিতা না হয়ে দুহিতা হওয়া উচিত ছিল।’
‘কেন?’
‘তোর যা বক্ষসম্পদ! হি হি!’
‘দুহিতা মানে জানিস, গাধী?’
‘মানেটানে জানিনে, জানিনে, জানিনে; শুধু তোমারে জানি হে সুন্দরী।’
শিশিরের হাতে নোট ধরিয়ে দিয়ে জুহিতা একটু ভালো লাগায়, একটু শরমে, একটু বিরক্তিতে উঠে দাঁড়িয়েছিল। বলেছিল, ‘টিউটোরিয়ালে জমা দেব। তার আগে যদি একটু দেখে দিতেন।’
‘গৌরাঙ্গ স্যার একদিন আমাদের ক্লাসে তোমার লেখার প্রশংসা করছিলেন। তুমি তো ভালো ছাত্রী। তোমার নোটে কাটাকুটি? রক্ষে করো। বসো একটু,’ বলে শিশির জুহিতার বুক আড়চোখে দেখে নিল।
জুহিতা নোট ব্যাগে ঢুকিয়ে ‘ক্লাস আছে’ বলে কেটে পড়েছিল।
ছুটি একদিন ছুটতে ছুটতে এসে বলল, ‘শিশিরকে নিয়ে কবিতা-টবিতা লেখা ছেড়ে দে। আজ আমি আর গাবলু সোহরাওয়ার্দীতে একটা ঝুপড়ি গাছ খুঁজছিলাম চুমো খাব বলে। ওমা, দেখি তোর পেয়ারের শিশির সুবর্ণার কোল আলো করে সেখানে শুয়ে আছে।’
তারপর ছুটি বিয়ে করল। জুহিতা এমফিলের সুযোগ পেয়ে লেখাপড়া, লাইব্রেরি আর গাদা গাদা বইয়ে ডুব দিল। একদিন ছুটির মামা লাইব্রেরিতে ঢুকে জুহিতার পাশে চেয়ার টেনে বসল। কুশলাদি বিনিময় হলো। কী কী বই খোলা আছে, সেগুলো দেখল। জুহিতা উষ্ণ নিশ্বাসের স্পর্শ পেল। বাংলাদেশের প্রথম সারির কবি তার পাশে। ও আড়ষ্ট, আমোদিত। একটা অদ্ভুত বিবাহিত ঘ্রাণ। ছুটি বলত, ‘দেখবি, বিবাহিত আর অবিবাহিতদের ঘ্রাণ আলাদা।’ ওর ক্লাসের ছেলেদের এমন গন্ধ ছিল না। জুহিতা যে আশঙ্কা করেছিল তা-ই হলো। কবির চোখ তার বুকের ওপর দিয়ে শম্বুকগতিতে হেঁটে গেল।
ছুটি একদিন ছুটতে ছুটতে এসে বলল, ‘শিশিরকে নিয়ে কবিতা-টবিতা লেখা ছেড়ে দে। আজ আমি আর গাবলু সোহরাওয়ার্দীতে একটা ঝুপড়ি গাছ খুঁজছিলাম চুমো খাব বলে। ওমা, দেখি তোর পেয়ারের শিশির সুবর্ণার কোল আলো করে সেখানে শুয়ে আছে।’
‘তুমি জানতে না ছুটির ব্যাপারটা? ও এ রকম ডেসপারেট সিদ্ধান্ত নিয়ে পালিয়ে গেল। কত ভালো বিয়ে ঠিক করেছিলাম আমরা। তোমারও সে রকম কিছু আছে নাকি, হ্যাঁ?’
‘আমিও তো জানতাম না ও পালিয়ে যাবে। না, না আমার ওসবের সময় নেই।’
‘বাহ! বিয়ে করবে না?’
‘কেন করব না?’
যদিও ছুটির মামা ফিসফিস করে কথা বলছিল, লাইব্রেরিতে সেটাই দস্তুর, কিন্তু লাইব্রেরির গেটে বসা দারোয়ান আর পড়তে আসা আরও দু–চারজন বেশ কৌতূহলী চোখে বারবার তাকাচ্ছিল। লাইব্রেরির উপপরিচালক সমকালীন খ্যাতি অর্জনকারী কবি সুকোমল হাসান সেটা খানিক বুঝতে পেরে উঠতে উঠতে একটু উচ্চকণ্ঠে বললেন, ‘ছুটির খবর পেলে দিয়ো। মধুসূদনের ওপর লেখা বইটি দোতলায় পাবে।’ বলা বাহুল্য, উনি দোতলায় বসেন। জুহিতাও যে একধরনের গর্ব বোধ করেনি, তা নয়। কিন্তু কবিটবিতে ওর ভরসা নেই। যতই ছুটির মামা হোক, নিজের মামা তো নয়। দরজার বাইরে গিয়ে একবার ফিরে তাকালেন জুহিতার দিকে। জুহিতা আঁচল টেনে নিল। কবি তার চোখ জুহিতার মুখ থেকে কোথায় নামিয়েছিল, সেটা জুহিতার না বোঝার কিছু নেই।
বাড়ি থেকে সম্বন্ধ করে এক প্রকৌশলীর সঙ্গে জুহিতার বিয়ে হয়ে গেল। শর্ত, জুহিতার উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে কোনো ওজর-আপত্তি থাকবে না। কোত্থেকে যেন ছুটির চিঠি এল। ‘অভিনন্দন, হে দুহিতা! বাড়িতে সসম্মান ফিরিয়ে এনেছে আমার হুলো বেড়াল পিতা। গাবলুকেও মেনে নিয়েছে। তুই যেন কোন কবির একটা বাণী দিতিস! আমিও হুলোকে লিখে দিয়েছিলাম, হয় ভালোবাসো, নয় ধ্বংস হয়ে যাব। ব্যস, কেল্লা ফতে। গাবলু ভালো একটা চাকরি পেয়েছে। তোর সঙ্গে কবে দেখা হবে? অনেক কথা শুনব। তোর ইঞ্জানোয়ার কেমন রে?’
ছুটির উল্টাপাল্টা কথাবার্তা জুহিতা খুব উপভোগ করে। এত ভালো বন্ধু ওর আর কেউ নেই। জুহিতা স্বস্তি পেল।
ছুটির সঙ্গে দেখা হলো জুহিতার বেশ পরে। ওর বেবি শাওয়ারে। নাদুসনুদুস ছুটি এগিয়ে এসে জুহিতাকে জড়িয়ে ধরে কিন্তু উদ্যত উদরের কারণে বুকে বুক লাগাতে পারে না। ছুটি মশকরা শুরু করে ওর বুকের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞাসা করে, ‘কী রে, তোর বৎস কই? কেমন উপভোগ করে?’
তত দিনে জুহিতা বুঝে নিয়েছে, তার বর কেবল নিরেটই নয়, অর্থলিপ্সু, অরোমান্টিক, অকাব্যিক, বৈষয়িক। কোনো দিন তার সুডৌল অঙ্গের প্রশংসা দূরে থাক, একটু সাজগোজ করলেও বলেনি, বাহ্! বেশ দেখাচ্ছে তো তোমাকে! উল্টো যেদিন ওর বর ওর উচ্চতর ডিগ্রির ব্যাপারে অনাগ্রহ দেখিয়েছে, সেদিন থেকে জুহিতা সম্পর্ক না রাখার ব্যাপারে দ্রুত যৌক্তিকতা খুঁজে পেয়েছে।
জুহিতা মৃদু হাসে, কিচ্ছু বলে না। ছুটির অনাগত সন্তানের জন্য আনা উপহার টেবিলে রাখতে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে একজনের সঙ্গে ধাক্কা লাগে, যার সারা চোখে প্রশংসার অতিবৃষ্টি। কবি সুকোমল হাসান। ছুটির মামা। সাদা জুলফি, চুলে সাদার আধিক্য। মারাত্মক হ্যান্ডসাম দেখাচ্ছিল। এমন লোকের বউ চলে যায় কেন, সেটা জুহিতার মাথায় আসে না। হতে পারে, বউটা ওর বরের মতো অকাব্যিক। ওরা সবাই এক টেবিলে বসে খাওয়াদাওয়া করল। ছুটির মামা এমন ভাব করে খেয়ে উঠে গেল যেন জুহিতাকে চেনেই না।
বাড়ি থেকে সম্বন্ধ করে এক প্রকৌশলীর সঙ্গে জুহিতার বিয়ে হয়ে গেল। শর্ত, জুহিতার উচ্চশিক্ষার ব্যাপারে কোনো ওজর-আপত্তি থাকবে না। কোত্থেকে যেন ছুটির চিঠি এল। ‘অভিনন্দন, হে দুহিতা! বাড়িতে সসম্মান ফিরিয়ে এনেছে আমার হুলো বেড়াল পিতা। গাবলুকেও মেনে নিয়েছে। তুই যেন কোন কবির একটা বাণী দিতিস!
‘সে সপ্তাহের শুক্রবারের সাময়িকীতে কবি সুকোমল হাসানের কবিতা—
তুমি এক রত্নখচিত দ্বীপ
ঠাকুমার ঝুলির সেই পাতালপুরী
তোমার শরীরে নাচে কোহিনূর মণি
এখানে-ওখানে জঘনে জঙ্ঘায়
কৃষ্ণ–কুরচি ফোটে যে উপত্যকায়
তার তল দিয়ে বয়ে চলে ধলেশ্বরী
জবার মতন সে ফুল কপালে না ছুঁয়ে
অকাট পুরোহিত ফুঁ দিয়ে নিভিয়ে দেয়
তপ্ত স্বাহা।’
জুহিতা একাডেমিতে বিকেলে পড়তে গেলে লাইব্রেরির দারোয়ান সাময়িকীটি জুহিতার হাতে দিয়ে বলে, ‘কবি স্যারে কয়ে গেছে আপনারে দিতে। অনেক দিন বাদে আইলেন, আপা। বিয়ার মিষ্টি খাওয়াইবেন না?’
‘কে বলল, আমার বিয়ে হয়েছে?’
‘ও দ্যাকলেই বুজা যায়।’
জুহিতা ব্যাগ খুলে খুচরো কিছু টাকা বের করে দেয় দারোয়ানের হাতে। বিয়ে না হাতি হয়েছে ওর। চেয়ার–টেবিলে ধুলার আস্তরণ। পুরোনো কাগজ বের করে জোরে জোরে শব্দ তুলে ধুলা ঝাড়ে, যেন ওর নিজের ভেতর জমে ওঠা ধুলা ঝাড়ছে। সাময়িকীর পাতা মেলে ধরে না সামনে। ও সেদিন সকালেই পড়ে ফেলেছে কবিতাটা। এক শ বার। বুকের মধ্যে ভাঁজ করা রুমাল খুলতে থাকে আর আওড়ায়:
‘যে তার রুমাল নাড়ে, পরানের গহিন ভিতর’।
পাঁচ-ছ মাস ধরে কবির প্রেমে হাবুডুবু খেতে থাকে জুহিতা। নামীদামি পত্রিকাগুলোয় মাসে দু–তিনটে করে কবিতা বেরোয় কবি সুকোমল হাসানের। জুহিতা তার সব কটির মধ্যেই নিজেকে খুঁজে পায়।
‘হাত ছেড়ে দাও বিম্বাধরা,
তোমার কম্পমান মসৃণ উপত্যকায় পা পিছলে যাক, থেঁতলে যাক।’
এ জুহিতা ছাড়া আর কে হতে পারে?
এমফিলের খসড়া অভিসন্দর্ভ জমা দিয়ে ছুটির সঙ্গে দেখা করতে যায় জুহিতা। আর কাউকে কিছু না বলুক, ছুটির মতামত ওর চাই।
‘কিন্তু জুহি, তুই কি মামাকে বিয়ে করার কথা ভাবছিস?’
ছুটি ওকে সাধারণত ‘জুহি’ ডাকে না। কেবল রেগে গেলে ডাকে।
‘না, এ রকম কোনো কথা তার সঙ্গে আমার হয়নি। কিন্তু এরপর আর কী হতে পারে?’
‘দুটো বাচ্চা নিয়ে মামি চলে গেছে, তুই জানিস?’
‘সব জানি। আমাকে সবই বলেছে।’
‘মামির চলে যাবার কারণ মামির বোন, সেটাও জানিস?’
‘বোগাস! বড় কবিদের নিয়ে অনেক গসিপ হয়।’
জুহিতা ছুটিকে এত অসন্তুষ্ট আগে কখনো দেখেনি। বিদায় নেবার আগে ও কেবল বলল,
‘তুই যখন গাবলুর সঙ্গে পালিয়ে গেলি, আমি তোকে সাহায্য করিনি? তুই চাস না, আমি তোর মামি হই?’
‘আমি আমার বন্ধুকে হারাতে চাই না,’ ছুটির সাফ জবাব।
জুহিতা অনুভব করে, তার প্রতিটি অঙ্গে সুকোমলের পদধ্বনি। সে যখন উন্মুক্ত নিজেকে আয়নায় দেখে, তখন আলাদা আলাদা অঙ্গের জন্য সুকোমলের অঙ্গগত কাব্যাংশ বিছিয়ে দেয়। প্রতিটি কবিতার লাইন জুহিতার প্রতিটি অঙ্গে তা–তা–থই–থই নাচে। সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কদিন একা থাকার প্রস্তুতি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যায়। সুকোমলকে বলে যায়, ‘ভ্রুপল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে চন্দনের বনে’।
জুহিতা অনুভব করে, তার প্রতিটি অঙ্গে সুকোমলের পদধ্বনি। সে যখন উন্মুক্ত নিজেকে আয়নায় দেখে, তখন আলাদা আলাদা অঙ্গের জন্য সুকোমলের অঙ্গগত কাব্যাংশ বিছিয়ে দেয়। প্রতিটি কবিতার লাইন জুহিতার প্রতিটি অঙ্গে তা–তা–থই–থই নাচে। সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য কদিন একা থাকার প্রস্তুতি নিয়ে গ্রামের বাড়িতে যায়। সুকোমলকে বলে যায়, ‘ভ্রুপল্লবে ডাক দিলে দেখা হবে চন্দনের বনে’।
মফস্সলে দেরি করে আসে দৈনিক পত্রিকা। শুক্রবার খুব ভোরে উঠে পড়ে জুহিতা। রাতে ভালো ঘুমও হয়নি। হকারের পথ চেয়ে একবার ঘর, একবার বারান্দা করতে থাকে। মেয়ের অস্থিরতা দেখে মায়ের অস্থির লাগে। মেয়ে তার জীবন নিয়ে কী ভাবছে, কে জানে! এসব পণ্ডিত ছেলেমেয়েকে মায়েরা ভয় পায়, কোনো প্রথাগত প্রশ্নের এরা সহজ উত্তর দেয় না। জুহিতা পত্রিকা হাতে পেয়ে চঞ্চল হয়ে ওঠে। ঠিক। সুকোমলের কবিতা:
‘ভরা কলস, ভরা কলস, জল রেখেছ ধরে
সেই জলেতে স্নানের নিয়ম জানব
কেমন করে?
স্নান যদি হয় কোমলতম উপাধানের দেহে
জল যেন তার শিমুলতুলো তুলোরঙা স্নেহে…’
জুহিতা পুরো কবিতা বারবার পড়ে। মাথামুণ্ডু কিছু বোঝে না। তার আরও একজন প্রিয় কবি রফিক আজাদের কবিতাও এ সপ্তাহের সাময়িকীর পাতায় ছিল। এবার তার শরীরের কোন অংশকে সুকোমল বিমূর্তভাবে তুলে ধরেছে, তা না বুঝলেও ও আর দেরি করে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সে মনে মনে নিয়েই ফেলে। সাত দিন থাকার কথা থাকলেও তিন দিনের দিন রওনা দেয়। পরদিন স্নান সেরে খোঁপায় দোলনচাঁপা গুঁজে তাঁতের ডুরে শাড়ি পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে হেঁটে যেতে থাকে। জুহিতা সুকোমলের নতুন দুর্বোধ্য কবিতা বিড়বিড় করতে করতে এগোয়। নতুন শাড়িতে ওর পা বারবার আটকে যায় না দ্বিধা ঝেড়ে ফেলতে গিয়ে হোঁচট খেতে থাকে, বুঝতে পারে না। ছুটি যে ঝোপ গাছের নাম দিয়েছিল ‘লাভ ট্রি’, একটু দূরেই সেটা দেখতে পায়। ওখানে সুকোমলের সঙ্গে সে-ও ঘনিষ্ঠ হয়েছে দুবার। ওটা এই প্রায় দুপুরেও অকুপাইড। পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে থাকা কার শাড়ির পাড় সাপের মতো পেঁচিয়ে উঠে গেছে কোমর থেকে সামনে। ক্ষীণ কটি জাপটে ধরে রাখা পুরুষালি হাতের নিচে খুব সুললিত নিতম্বকে জুহিতার হঠাৎ মনে হয়, আরে, এটাকেই না বলে ভরা কলস!