বৃষ্টির রাত

অলংকরণ: মাসুক হেলালগ্রাফিকস: প্রথম আলো

জুন মাসের ২৬ তারিখ। শনিবার।

আকাশ সকাল থেকে মেঘলা। মনে হচ্ছে শহরের ওপর কেউ ভেজা, ভারী কম্বল চাপিয়ে দিয়েছে। বাতাসে গুমোট ভাব। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। আচমকা শুরু হয়েছে বৃষ্টি—আকাশভাঙা একটানা, বিরামহীন বৃষ্টি।

আমরা হাহা হিহি করছি। সবাই একসাথে কথা বলছি। কে কার কথা শুনছে বা আদৌ শুনছে কি না, বোঝা যাচ্ছে না। আমাদের ফ্যামিলি গেট-টুগেদার হচ্ছে। বিশাল কিছু নয়, হালকা ধরনের আয়োজন। এ রকম আয়োজন আমাদের ফ্যামিলিতে প্রায় প্রতিবছরই হয়। কোনো এক উপলক্ষ জুটিয়ে নিয়ে আমরা ফ্যামিলির সবাই একসাথে হয়ে যাই।

জারা এক পিস কেক এনে আমাকে দিয়েছে। বললাম, ‘কেক খেতে চাইছি না রে। ক্রিম অ্যাভয়েড করতে চাইছি।’

জারা বলল, ‘তুমি পুরোপুরি পারফেকশনিস্ট। এত মাপজোখ করে লাইফ লিড করা যায়!’

জারা আমার চাচাতো বোন। আমি হাসলাম। হেসে বললাম, ‘আমার প্রফেশন আমাকে এভাবেই শেপ-আপ করে ফেলেছে। সব সময় মানুষের জন্য মিথ্যা স্বপ্ন লিখি, এই ফোনটা কিনলেই জীবন বদলে যাবে, এই কফি খেলেই সকালটা সুন্দর হবে। এই সব মিথ্যা এত নিখুঁতভাবে বলতে হয়, যেন মানুষ সত্য বলে বিশ্বাস করে।’

জারা হাসছে। আমি এক বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কপিরাইটারের কাজ করি। আমার কাজের ধরনই এ রকম। জারা হাসতে হাসতে বলল, ‘তোমাকে দেখে মনে হয় তুমি আগে থেকেই সবকিছু প্ল্যান করে রেখেছ। কী খাবে, কী পরবে, কোথায় যাবে—সব। তুমি ঠিক বাস্তবের মানুষ নও, কোনো এক উপন্যাসের চরিত্র।’

আমিও হেসে ফেলেছি। বললাম, ‘দে, তোর এত চমৎকার কমপ্লিমেন্টের পরে কেক না খেলে অন্যায় হবে।’

সবাই হাসছে। আমার আরেক চাচাতো বোন তিতলি বলল, ‘জারা তোমাকে ডোবাল নাকি ভাসাল! জারা বলল বলেই কমপ্লিমেন্ট হিসেবে নিয়ে নিলে!’

কেকে কামড় দিয়ে হাসতে হাসতে বললাম, ‘এই কথাটাই তুই বললে আমি ইনসাল্ট হিসেবে নিতাম।’

আমার সাথে সাথে সবাই হো হো করে হেসে উঠেছে। কেবল তিতলি হাসেনি। অমনি তার গাল ফুলে গেছে। তিতলির দিকে আমার আধা খাওয়া কেক এগিয়ে দিয়ে বললাম, ‘স্যরি, মাইন্ড করিস না। এই কেকটুকু খেয়ে নে। আমার ভালোবাসা তোকে দিচ্ছি। আর কাউকে দেব না।’

তিতলি কিছু না বলে উঠে চলে গেল।

রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।

রাইসা কোনো কথা বলছে না। আমি কয়েকবার কথা শুরু করতে গিয়েও থেমে গেলাম। বৃষ্টির রাত আমাকে টেনে ডিফারেন্ট মুডে নিয়ে গেছে। ভাব উদয় হয়েছে মনে। মনে হলো, রাইসা তার মতো করে চুপচাপ আছে, থাক। এমন কিছু নীরবতা আছে, যেগুলো ভাঙতে গেলে আরও গভীর কোনো নীরবতা তৈরি হয়।

বাসায় পৌঁছানোর পর ফ্রিজ খুলে বিয়ারের ক্যান বের করলাম। রাইসা তখনো গা থেকে রেইনকোট খোলেনি। সে বারান্দার কাচের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে।

রাত সাড়ে ১১টায় আমরা বের হলাম। রাইসা আর আমি। রাইসা আমার স্ত্রী। বৃষ্টি তখন আরও বেড়েছে। গাড়িতে উঠে গাড়ি স্টার্ট দিয়েছি। রাইসা চুপ করে আছে। বেশ কিছুক্ষণ সে কোনো কথা বলেনি। গাড়ির গ্লাসে বৃষ্টির ফোঁটা এসে আছড়ে পড়ছে। ল্যাম্পপোস্টের আলো সেই পানির ওপর পড়ে ভেঙে গিয়ে গড়িয়ে পড়ছে।

বললাম, ‘রেইনকোটটা খুলে ফেলো।’

রাইসা আমার কথা শুনতে পেয়েছে কি না, বুঝতে পারলাম না। সে ঘুরল না। যেমন দাঁড়িয়ে ছিল, সে রকমই স্থির হয়ে থাকল। তাকে নিশ্চল মূর্তির মতো দেখাচ্ছে।

খানিক বাদে বলল, ‘তোমার কখনো মনে হয়েছে অভীক, আমরা একে অপরকে বুঝতে পারি কি না!’

থমকে গেলাম। রাইসার কী হয়েছে জানি না। এক ঢোঁক বিয়ার গলায় ঢেলে গিলে ফেললাম। শান্ত চোখে বললাম, ‘তুমি কী বলছ, মানে কী মিন করছ, আমি ফলো করতে পারিনি।’

রাইসা বলল, ‘মানে...আমরা একে অন্যের যতটা কাছে থাকি, ততটা কাছে কি সত্যিই পৌঁছাতে পারি?’

আমি তার এই কথার কোনো উত্তর দিতে পারলাম না। ঠিক তখনই ঘরের কোণে রাখা পুরোনো রেকর্ড প্লেয়ারটা ক্যাঁচক্যাঁচ করে উঠেছে। এটা আমার বিলাসী শখ বলা যায়। বহু পুরোনো এক গ্রামোফোন বাঁচিয়ে রেখেছি। বাসায় এসে ফ্রিজ থেকে বিয়ারের ক্যান বের করার আগে গ্রামোফোনে বব ডিলানের গাওয়া অনেক আগের একটা গানের রেকর্ড বসিয়েছিলাম। পিন আটকে ছিল। এখন সেটা চলতে শুরু করেছে। বব ডিলানের গান বাজছে রেকর্ডে, ‘লুক আউট ইয়োর উইন্ডো, অ্যান্ড আইল বি গন/ ইউ আর দ্য রিজন আই অ্যাম ট্রাভেলিন অন/ ডোন্ট থিঙ্ক টুইস, ইটস অলরাইট।’

রাইসা অবসন্ন গলায় বলল, ‘আজ ওর কথা খুব মনে পড়ছে।’

সত্যি কথা হচ্ছে চমকে উঠেছি। থেমে বললাম, ‘কার কথা?’

রাইসা এবার ঘুরে তাকিয়েছে। তার চোখে অদ্ভুত ক্লান্তি। গায়ের রেইনকোট খুলতে খুলতে বলল, ‘আরিয়ান।’

এই নাম আমার কাছে একদম অপরিচিত। আমি চুপ করে আছি। রাইসা রেইনকোট বাথরুমের হুকে ঝুলিয়ে রেখে এসেছে। ধীর পায়ে এসে শরীর ছেড়ে দিয়ে সোফায় বসল। যেন কোন অতল থেকে কথা বলছে এমন গলায় বলল, ‘আমাদের বাড়ির ওখানে এক ছেলে ছিল। খুব সাধারণ। তোমার মতো চাকরি, টাকা, লাইফস্টাইল কিছুই ছিল না তার। একটা পুরোনো গিটার ছিল। সেটাই ছিল তার পৃথিবী।’

আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’

রাইসা হাসল। শুকনো ম্লান হাসি। নিচের ঠোঁট মুখের ভেতর নিয়ে আবার আলগা করে দিয়ে বলল, ‘আমরা যখন ঢাকায় চলে আসি, তার আগের রাতেও প্রচণ্ড বৃষ্টি হয়েছিল। এমন ভয়ংকর বৃষ্টি...রাস্তায় হাঁটা যাচ্ছিল না। রিকশার চাকা পানিতে ডুবে যাচ্ছিল।’

রাইসা চুপ করে আছে। আমি উঠে গিয়ে ফ্রিজ থেকে আরেক ক্যান ঠান্ডা বিয়ার নিয়ে এলাম। হাত দিয়ে নিজের মাথার চুল নাড়িয়ে রাইসা বলল, ‘সেই রাতে আরিয়ান আমাদের বাড়ির সামনে এসেছিল। সেই ঝুম বৃষ্টির ভেতর।’

বিয়ারের ক্যান খুলে চুমুক দিয়েছি। কিছু বললাম না। রাইসা বলল, ‘আরিয়ান বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে গিয়েছিল। থিরথির করে কাঁপছিল। হাতে ছোট কাগজের খাম। জানালার নিচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পানি থেকে বাঁচিয়ে আরিয়ান সেই খাম আমাকে দিয়েছিল।’

স্থির গলায় জিজ্ঞেস করলাম, ‘খামের ভেতর কী ছিল?’

রাইসা আমার দিকে তাকাল। তাকে কেমন অদ্ভুত উদ্ভ্রান্তের মতো লাগছে। অতিপ্রাকৃত। যেন সে এখানে নেই। বাতাসে ভেসে আছে। ভেসে চলে যাবে। খাদে পড়ে যাওয়া গলায় রাইসা বলল, ‘ছোট্ট এক নুড়িপাথর!’

আমি শুনছি। আমার বিয়ারের ক্যান খালি হয়ে গেছে। ফ্রিজ খুলে আরেকটা ক্যান আনব কি না, ভাবছি। রাইসা বলল, ‘বিকেল হলেই আমাদের বাড়ির পেছনের লেকটার ধারে বসে গিটার বাজাত। কখনো কখনো জানালা দিয়ে তাকিয়ে থাকতাম। সেই ছেলের গিটার বাজানো শুনতাম। কী যেন মিস্টিরিয়াস অ্যাট্রাকশন ছিল সেই মিউজিকে।’

বিস্মিত হয়ে গেছি। আমার হাতে বিয়ারের ক্যান। চুমুক দিতে ভুলে গেছি। অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলাম। রাইসা খুব আস্তে বলল, ‘লেকের পাড় থেকে কুড়িয়ে এনেছিল। বলেছিল, তুমি চলে গেলে এটা রেখে দিয়ো। আমার দেওয়া কিছু তাহলে তোমার কাছে থাকবে।’

এতক্ষণে বৃষ্টি কমে যাওয়ার কথা। বৃষ্টির তোড় আরও বেড়েছে। মেঘভাঙা বৃষ্টি। তবু মনে হচ্ছে কোথাও কোনো আওয়াজ নেই। নিস্তব্ধ হয়ে আছে পুরো ঘর। বব ডিলানের গান শেষ হয়ে রেকর্ড আটকে আছে। রাইসা বলল, ‘আরিয়ানকে চলে যেতে বলেছিলাম।’

আবার সব চুপচাপ। রাইসা বলল, ‘বলেছিলাম এসব পাগলামি বন্ধ করতে।’

কেন জানি না, অমনি আমার বুকের খুব ভেতরে হিম ঠান্ডা অনুভব করলাম। ধীর গলায় বললাম, ‘তারপর?’

রাইসা ভেঙে পড়া ধ্বংসস্তূপের মতো শরীর সোফা থেকে টেনে তুলে জানালার পাশে গিয়ে দাঁড়াল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বাইরে উথালপাতাল বৃষ্টি। এই বৃষ্টি আজ পুরো শহর ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। বিষণ্ন গলায় রাইসা বলল, ‘তিন মাস পর আরিয়ান টাইফয়েডে মারা গেল।’

আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’

এত দিন ভেবেছিলাম, রাইসাকে আমি খুব ভালো চিনি। আমার কনফিডেন্ট প্রবল—সহজেই মানুষ চিনতে পারি। সাধারণ চেনা নয়, আড়ালে থাকা গভীরের মানুষ।

আমরা একসঙ্গে আছি। একই বিছানায় ঘুমাচ্ছি। এক টেবিলে খাচ্ছি। ছুটির দিনে একসঙ্গে থিয়েটার দেখি। কে কোন খাবার পছন্দ করি, কোন গান শুনলে রাইসার মন ভালো হয়—সব, সব জানি। তবু এই প্রথম বুঝলাম, একজন মানুষের পাশে থাকা আর একজন মানুষের ভেতরে পৌঁছানো এক ব্যাপার নয়।

রাইসার ভেতরে একদম তার নিজের এক ঘর আছে, সেই ঘরে আমি কোনো দিন ঢুকিনি। সেই ঘরে কোনো দামি আসবাব নেই। ওয়াইন, করপোরেট লাইফ কিংবা আমার ওভার কনফিডেন্ট— কিচ্ছু নেই। শুধু আছে গিটার হাতে একুশ বছরের একজন ছেলে। ঝিম রাত্তিরে আকাশ থেকে মুষলধারে নেমে আসা বৃষ্টিতে ভিজে জবজবে হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে ছোট্ট নুড়িপাথর।

নিজের দিকে তাকালাম। আমার এত দিনের নিখুঁত জীবনটা কেমন যেন হাস্যকর মনে হলো। যা কিছুকে জীবন ভেবেছি—করপোরেট চাকরি, টাকা, শহর, ফ্ল্যাট, ক্লাব, সোসাইটি, পরিচিতি—সবকিছু যেন খুব পলকা দেয়াল। হালকা ধাক্কায় ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়ে যাবে। দেয়ালের ওপাশে অন্য এক পৃথিবী। যেখানে আমার কোনো প্রবেশাধিকার নেই।

রাইসা তখনো জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টির বেগ কমে আসছে। বাতাস ছেড়েছে। শীতল বাতাস। রাইসার পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম। আলতো করে পিঠের ওপর হাত রেখেছি। কিছু বললাম না। তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টাও করিনি।

অনেকক্ষণ পর রাইসা আমার হাত ধরল। খুব নরমভাবে। তার হাত শক্ত করে ধরলাম। তবু জানি না কেন, মনে হলো আমি যেন তার হাত নয়—রাইসার বহু বছর আগের কোনো অসমাপ্ত ঘনঘোর বৃষ্টির এক রাত ধরে আছি।

কাচের ওপাশে বৃষ্টি থেমে আসছে। স্ট্রিটলাইটে দেখলাম ঢাকার রাস্তা পানিতে ভাসছে। নিয়ন আলো পানির ওপর কেঁপে যাচ্ছে। সুনসান রাত। কোথাও কেউ নেই। আবছা আলোঢাকা ঘরে স্ত্রীর হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছি তাকে চিনব বলে।

আমি চুপ করে আছি। আচমকা আমার প্রবল তৃষ্ণা পেয়েছে। ঢকঢক করে অনেকখানি বিয়ার একবারে খেয়ে ফেললাম। রাইসা বলল, ‘মাত্র একুশ বছর বয়স। একটা পুরোনো গিটার। এক ঘোর বর্ষার রাত। আর ছোট্ট নুড়িপাথর। এগুলো আমার কাছে আমার পুরো জীবনের চেয়েও অনেক বড় হয়ে গেল।’

রাতে ঘুম এল না। রাইসা ঘুমিয়ে পড়েছে। বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালাম। বৃষ্টি ছেড়ে গেছে। অদ্ভুতভাবে আমার মনে হলো, যদি আরিয়ান সত্যিই কোথাও থেকে আমাদের দেখতে পায়, তাহলে হয়তো সে প্রশান্তি নিয়ে হাসছে। সে কাউকে হারায়নি। হারিয়ে ফেলেছি আমি অথবা আমরা। ভালোবাসার সবচেয়ে সহজ ব্যাপারটাই হারিয়ে ফেলেছি—কারও কাছে পুরোপুরি পৌঁছানোর ক্ষমতা।

জানি না সেই নুড়িপাথরটা এখন কোথায়। হয়তো রাইসার কাছে আছে। না রেখে ফেলেও দিতে পারে। তবে এটাও ঠিক, কিছু জিনিস হারিয়ে গেলেও হারায় না। থেকে যায়। গন্ধ হয়ে।

গান হয়ে। বর্ষার নিকষ কালো রাত হয়ে। অথবা বৃষ্টিতে ভিজে দাঁড়িয়ে থাকা একুশ বছরের একজন ছেলের মুখ হয়ে।

ভোর হয়ে এসেছে। ঘুম আসেনি। ভোরের আলোয় জানালার কাচে নিজের মুখ দেখলাম। নিজেকে খুব অচেনা লাগছে। জীবনে প্রথমবার মনে হলো, মানুষ আদতে বলেকয়ে যতটা বাঁচে, তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু না-বলা ভালোবাসার ভেতর বেঁচে থাকে। আর কিছু মানুষ চলে যায়। তবু তাদের রেখে যাওয়া ছোট্ট এক নুড়িপাথর কখনো কখনো সারা জীবন বুকের ভেতর বৃষ্টি হয়ে থেকে যায়।