অ্যানজেলুস সিলেসিয়াস
হাইডেগার ও বোর্হেসকে প্রভাবিত করেছে যার মরমি কবিতা
তাঁর রচনাসমূহ জার্মান বারোক সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। তাঁর দ্য চেরুবিনিক ওয়ান্ডারার কাব্যটি ১ হাজার ৬৭৬টি সংক্ষিপ্ত কাব্যিক এপিগ্রামের মাধ্যমে ঈশ্বর, আত্মা ও ব্রহ্মাণ্ডের রহস্যময় প্রকৃতি সম্পর্কে গভীর দার্শনিক তত্ত্ব উপস্থাপন করে। সিলেসিয়াসের কবিতা শুধু তাঁর সমসাময়িক পাঠকদেরই নয়; বরং পরবর্তীকালের দার্শনিক, যেমন মার্টিন হাইডেগার, সাহিত্যিক—যেমন হোর্হে লুই বোর্হেসকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
• উপস্থাপন ও অনুবাদ: সৈয়দ তারিক
অ্যানজেলুস সিলেসিয়াস (১৬২৪-১৬৭৭) সতেরো শতকের জার্মানির একজন প্রভাবশালী কবি, চিকিৎসক ও মরমি ভাবুক। তাঁর রচনা ধর্মীয় দর্শন ও কাব্যিক সৌন্দর্যের এক অসাধারণ সমন্বয় প্রকাশ করে। তাঁর নাম ছিল জোহানেস শেফলার। ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষিত হওয়ার পর তিনি অ্যানজেলুস সিলেসিয়াস নাম গ্রহণ করেন। ‘অ্যানজেলুস’ শব্দের অর্থ স্বর্গীয় দূত আর ‘সিলেসিয়াস’ তাঁর জন্মভূমি সাইলেসিয়া অঞ্চলকে নির্দেশ করে।
অ্যানজেলুস সিলেসিয়াস ১৬২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ব্রেসলাউ শহরে জন্মগ্রহণ করেন (বর্তমানে পোল্যান্ডের ভ্রৎসওয়াফ)। তাঁর পিতা স্ট্যানিসলাস শেফলার ছিলেন পোলিশ বংশোদ্ভূত অভিজাত ব্যক্তি। মা মারিয়া হেনেম্যান ছিলেন এক জার্মান চিকিৎসকের কন্যা। শেফলার পরিবার খ্রিষ্টীয় লুথারান ধর্মমত অনুসরণ করত, যা সেই সময়ে সাইলেসিয়া অঞ্চলের ধর্মীয় মতবাদ ছিল।
সিলেসিয়াস প্রথমে ব্রেসলাউর এলিজাবেথ জিমনেশিয়ামে শিক্ষা লাভ করেন। সেখানে তিনি লাতিন, গ্রিক, অলংকারশাস্ত্র ও কাব্যচর্চার মতো বিষয়গুলোতে শিক্ষা পান। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাঁর একজন শিক্ষক ক্রিস্টফ কোলার নিজেও কবি ছিলেন। তিনি সিলেসিয়াসের কাব্যিক প্রতিভাকে উৎসাহিত করেন। এরপর তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞান ও দর্শন অধ্যয়নের জন্য বিভিন্ন ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন।
এই সময় তিনি জ্যাকব বোহমের মরমিবাদী রচনাবলির সঙ্গে পরিচিত হন। একই সময়ে তিনি আব্রাহাম ফন ফ্রাঙ্কেনবার্গের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যিনি জ্যাকব বোহমের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সমর্থক ছিলেন। ফ্রাঙ্কেনবার্গ সিলেসিয়াসকে মধ্যযুগীয় রহস্যবাদ, হারমেটিজম ও কাবালার মতো গুপ্তচর্চার ধারার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যা পরবর্তীকালে সিলেসিয়াসের নিজস্ব দার্শনিক বিকাশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ইতালির পাদুয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৬৪৮ সালে তিনি দর্শন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন।
জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ঈশ্বরমুখী ধ্যান, তপস্যা ও লেখালেখিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। মরমি অভিজ্ঞতা ও গভীর ধ্যানচর্চা তাঁর কাব্যভাষায় ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে।
১৬৪৯ সালে সিলেসিয়াস একজন ডিউকের রাজচিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত হন। কিন্তু লুথারীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বেড়ে ওঠা মতবিরোধের কারণে তিনি এই পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তাঁর মরমিবাদী ভাবধারা এবং লুথারীয় গোঁড়াপন্থী নীতির সঙ্গে বিরোধের কারণে ১৬৫৩ সালের ১২ জুন তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাথলিক ধর্মে দীক্ষা নেন। এই ধর্মান্তরের পরে তিনি ‘অ্যানজেলুস সিলেসিয়াস’ নাম গ্রহণ করেন।
ধর্মান্তরের পর সিলেসিয়াস ১৬৬১ সালে ফ্রান্সিসকান অর্ডারে যোগদান করেন ও পাদরি হিসেবে বৃত হন। তিনি সাইলেসিয়া অঞ্চলে ক্যাথলিক ধর্মের পুনরুজ্জীবনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। প্রটেস্টান্টবাদের বিরুদ্ধে ৫৫টিরও বেশি প্রচারমূলক রচনা প্রকাশ করেন তিনি। ১৬৭১ সালে তিনি ব্রেসলাউর জেসুইট হাউসে কর্মাবকাশে যান।
সিলেসিয়াসের সাধনা ছিল অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানের। লুথেরান থেকে ক্যাথলিক হয়ে তিনি ফ্রান্সিসকান অর্ডারে যোগ দেন এবং যাজকীয় জীবন যাপন করেন। তাঁর অনুশীলন কুয়াইটিজম (ঈশ্বরমুখী ধ্যান করা এবং নিজের ইচ্ছা থেকে দূরে থাকা) ও অ্যাপোফ্যাটিক (ঈশ্বরকে ‘না’-এর মধ্য দিয়ে অনুধাবন) পথ অনুসরণ করে। বস্তুগত চাহিদা ত্যাগ, মানবীয় ইচ্ছা অস্বীকার এবং ঈশ্বরের সঙ্গে ঐক্য লাভ হয়ে ওঠে তাঁর পথ। তিনি মিস্টিক্যাল দর্শন অনুভব করেন এবং নেতিবাচক পথ বা নেগেটিভ হয়ে অনুসরণ করেন, যেখানে ঈশ্বরকে ‘নাথিং’ হিসেবে উপলব্ধি করা হয়।
তাঁর সাধনা থার্টি ইয়ার্স ওয়ারের সংঘাতপূর্ণ পরিবেশে গড়ে ওঠে, যেখানে অ্যানাব্যাপটিস্ট, ব্রেদারেন অব দ্য ফ্রি স্পিরিট এবং বোয়েমের মতো সেক্টরিয়ান মুভমেন্ট প্রভাবশালী ছিল। পরবর্তীকালে তিনি কাউন্টার-রিফরমেশনে যোগ দেন, কিন্তু এটি তার অভ্যন্তরীণ শান্তিকে বিঘ্নিত করে। তাঁর ভাবধারা আত্মমৃত্যুর মাধ্যমে ঈশ্বরের জন্মের ধারণা প্রচার করে। এটি মনস্তাত্ত্বিক নিরাময়েরও একটি পথ।
জীবনের শেষ পর্যায়ে তিনি ফ্রান্সিসকান তৃতীয় নিয়মের অনুসারী হয়ে ঈশ্বরমুখী ধ্যান, তপস্যা ও লেখালেখিতে নিজেকে নিয়োজিত করেন। মরমি অভিজ্ঞতা ও গভীর ধ্যানচর্চা তাঁর কাব্যভাষায় ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মিলনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে। ১৬৭৭ সালের ৯ জুলাই যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তিনি প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতেন এবং তাঁর কবিতায় তা তুলে ধরেছেন। সিলেসিয়াসের লেখায় মৃত্যুর ধারণা এক নতুন রূপে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মতে, মৃত্যু হলো ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের এক উপায়।
অ্যানজেলুস সিলেসিয়াসের দার্শনিক চিন্তাধারা মধ্যযুগের মরমিবাদ, জ্যাকব বোহমের থিওসফি ও নব্য-প্লেটোবাদ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিল। তাঁর মতে, মুক্তি বাইরের বিষয় নয়, আত্মার গভীরে ঘটে। নিঃশর্ত প্রেম ও নিরাকার ধ্যানকেই তিনি সাধনপদ্ধতি হিসেবে মানেন। প্রেমই ঈশ্বরপ্রাপ্তির চাবিকাঠি।
ঈশ্বরের সঙ্গে আত্মার মিলন সিলেসিয়াসের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপাদ্য ছিল। তাঁর মতে, ঈশ্বর কোনো দূরবর্তী সত্তা নন; বরং আত্মার গভীরে উপস্থিত। তিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের আত্মা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের মধ্যস্থতা ছাড়াই ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্মতা লাভ করতে পারে। সিলেসিয়াসের মতে, প্রার্থনা কোনো রিচুয়াল বা প্রথাসর্বস্ব বিষয় নয়, প্রার্থনা হলো অন্তরের স্থির অবস্থা ও ঈশ্বরের সঙ্গে সংযোগ।
সিলেসিয়াস ঈশ্বরকে সৃষ্টিজগৎ থেকে আলাদা কোনো সত্তা মনে করতেন না। মানুষের অহম বা ইগোকে নাশ করে ঈশ্বরের ইচ্ছার কাছে নিজেকে সমর্পণ করলেই আধ্যাত্মিক মুক্তি পাওয়া যায়—এই ছিল তাঁর ভাবধারা। সুফিবাদ কিংবা ভারতীয় আধ্যাত্মিক দর্শনের সাথে তাঁর মতবাদের সাযুজ্য স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে।
জ্যাকব বোহমের রচনাসমূহ সিলেসিয়াসের ওপর প্রবল প্রভাব ফেলে। বোহমের মতো সিলেসিয়াসও ঈশ্বরকে দিব্য শূন্যতা (ডিভাইন নাথিংনেস) হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যিনি মানুষের বোধগম্যতার বাইরে থাকেন। তিনি ভালো-মন্দ, আলো-অন্ধকার, ছোট-বড় এই রকম সব দ্বৈততার ওপারে অবস্থান করেন। ঈশ্বরিক জ্ঞান যুক্তি-বুদ্ধি দিয়ে লাভ করা যায় না, পাওয়া যায় আত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে—এই ছিল তাঁর ঈশ্বর-বিষয়ক ভাবুকতা।
সিলেসিয়াসের সাহিত্যকর্মের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাঁর বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ দ্য চেরুবিনিক ওয়ান্ডারার ১৬৭৫ সালে প্রকাশিত হয়। এই কাব্যটি মূলত ছোট ছোট দ্বিপদী শ্লোক বা কাপলেটের সংগ্রহ। এগুলো গভীর দার্শনিক ও মরমি বার্তা বহন করে। এই কবিতাগুলোয় তিনি প্রেম, মৃত্যু, অমরত্ব, ঈশ্বর ও মানব অস্তিত্বের মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সিলেসিয়াসের কবিতাগুলো তাঁর সময়ের অন্যান্য কবিতার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। কারণ, এগুলোয় তিনি সরাসরি রহস্যময় ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। সিলেসিয়াসের কবিতা সংক্ষিপ্ত, প্যারাডক্সিকাল এবং মিস্টিক্যাল। তাঁর কবিতার মূল বৈশিষ্ট্য হলো তাদের গভীরতা ও সরলতা। তাঁর কবিতাগুলো আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও এর মধ্যে এক গভীর দার্শনিক অর্থ লুকানো থাকে। তাঁর কবিতার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে আছে ঈশ্বর ও মানুষের একত্ব। তিনি বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর মানুষের মধ্যে আছেন এবং মানুষ ঈশ্বরের একটি অংশ।
তাঁর কবিতায় ঈশ্বরের প্রতি গভীর প্রেম ও ভক্তির প্রকাশ দেখা যায়। তিনি প্রকৃতির মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করতেন এবং তাঁর কবিতায় তা তুলে ধরেছেন। সিলেসিয়াসের লেখায় মৃত্যুর ধারণা এক নতুন রূপে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মতে, মৃত্যু হলো ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের এক উপায়।
অ্যানজেলুস সিলেসিয়াসের ভাবনা আজও প্রাসঙ্গিক। কারণ, তিনি ধর্মীয় সীমানা অতিক্রম করে মানবাত্মার মুক্তি ও প্রেমের কথা বলেছেন। আধুনিক মিস্টিসিজম, এক্সিস্টেনশিয়ালিজম, এমনকি জেন বৌদ্ধধর্ম ও সুফি ভাবনার সঙ্গে তাঁর ভাবনার সংলাপ স্থাপন করা সম্ভব। তাঁর কবিতা খ্রিষ্টীয় ধ্যানশাস্ত্রকে এক অনন্য কাব্যময় রূপ দিয়েছে।
অ্যা ন জে লু স সি লে সি য়া সে র ক বি তা গু চ্ছ
১.
স্বর্গ তোমার নিজের মাঝেই রয়েছে,
যদি তুমি সেখানে তা খুঁজে না পাও,
তাহলে প্রবেশের আর কোনো উপায় নেই।
২.
যদি খ্রিষ্ট বেথলেহেমে হাজারবারও জন্ম নেন, কিন্তু তোমার নিজের মাঝে না নেন,
তবে তোমার সব বৃথা গেল।
৩.
একজন সন্ন্যাসী জিজ্ঞাসা করলেন:
প্রকৃতির বিস্ময়ের চেয়ে অলৌকিক কিছু কি আছে?
গুরু উত্তর দিলেন:
হ্যাঁ, প্রকৃতির বিস্ময় সম্পর্কে তোমার সচেতনতা।
৪.
সময় তোমারই সৃষ্টি;
এর ঘড়ি তোমার মাথায় টিক টিক করে।
যে মুহূর্তে তুমি ভাবনা বন্ধ করো
সময়ও সেখানেই থেমে যায়।
৫.
যদি তুমি তোমার হৃদয়ে
তাঁর জন্মের জন্য একটি গোয়ালঘর তৈরি করো, তবে ঈশ্বর আবার এই পৃথিবীতে
একটি শিশুতে পরিণত হবেন।
৬.
আপনি কী ভালো কাজ করেছেন
তা ঈশ্বর দেখেন না,
বরং কেন করেছেন তা দেখেন।
তিনি ফলের বিচার করেন না
বরং তার মূল ও শিকড় পরীক্ষা করেন।
৭.
ঈশ্বর, যাঁর ভালোবাসা ও আনন্দ
সর্বত্র বিদ্যমান,
তিনি আপনার কাছে আসতে পারেন না
যদি আপনি সেখানে না থাকেন।
৮.
আমার নিজেকে হারাতে হবে,
যদি ঈশ্বরকে পেতে চাই,
যে নিজেকে ভুলে যায়,
ঈশ্বরের রাজ্য কেবল তারই।
৯.
আমরা কথা বলতে এত ব্যস্ত থাকি,
কাজ করতে এত আগ্রহী হই যে
ভুলে যাই, আমাদের হৃদয়ে যা কিছু প্রয়োজন
তা অব্যবহৃত, অক্ষত অবস্থায় আছে।
১০.
তিন দিন:
আজ, আগামীকাল এবং গতকাল,
আমি জানি;
তবুও যদি অতীত
এখনের মধ্যে বিলীন হয়ে যায়,
এবং ভবিষ্যৎ লুকিয়ে থাকে,
তবে আমি সেই দিন
ফিরে পেতে পারি—যখন আমি,
আমার অস্তিত্বের আগে,
ঈশ্বরের নিজস্ব উপায়ে বাস করেছিলাম।
১১.
যে গোলাপটি এখানে পৃথিবীতে
এখন আমার দ্বারা উপলব্ধ হচ্ছে,
তা এভাবেই ঈশ্বরের মাঝে
অনন্তকাল ধরে ফুটেছে।
১২.
ঈশ্বর এক শূন্যতা,
অথচ তিনিই সবকিছু।
তিনি সেই সর্বোচ্চ, যাকে পাওয়া
মানুষের সাধ্যসীমার শেষ প্রান্ত।
১৩.
আমি জানি, আমাকে ছাড়া ঈশ্বর
এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না।
যদি আমি বিলীন হই,
তিনিও নিঃশেষিত হবেন।
১৪.
আত্মা সেই আলো,
যা ঈশ্বরের মাঝে ভাঙে;
যে আপন আলো বিলীন করে,
সে সত্য আলো দেখে।
১৫.
সর্বোচ্চ নীরবতা তখন,
যখন ঈশ্বর শেখান স্তব্ধতা;
তখনই তিনি এত জোরে বলেন,
হৃদয় স্পষ্ট শোনে তা।
১৬.
সময় এক ক্ষণচিত্র,
যা তুমি বুঝে ওঠার আগে,
পরিবর্তনের হাওয়ায় মিলিয়ে যায়।
১৭.
ঈশ্বর ঐক্য ভালোবাসেন,
বিভাজন ঘৃণা করেন;
তাঁর মতো হতে চাইলে
একত্বে ফিরে যাও পুনরায়।
১৮.
আমাদের আত্মার আছে দুটি চোখ:
একটি দিয়ে দেখি সমসাময়িককে,
অন্যটি দিয়ে দেখি যা কিছু
শাশ্বত ও সুন্দর।
১৯.
হৃদয়ে দৃষ্টি দাও,
দেখো কত গভীর ঈশ্বরের অবস্থান;
যত তুমি গভীরে নামো,
তত ঈশ্বর তোমায় ঘিরে থাকেন।
২০.
তুমি এক শূন্যতা,
অথচ তুমি সর্বস্বও বটে।
এই শূন্যতায় প্রবেশ করো,
সেখানেই তুমি আসল তুমি।
২১.
ঈশ্বরের কাছে যাবার সহজতম পথ হলো
ভালোবাসার উন্মুক্ত দুয়ার;
কারণ জ্ঞানের পথ
চিরন্তন যাত্রার জন্য বড় ধীর।
২২.
সময় কেবল এক স্বপ্ন,
জীবন শুধু ক্ষণিকের ছায়া।
চিরন্তনই কেবল অক্ষয়,
মৃত্যুকেও সে জয় করে।
২৩.
ঈশ্বর এক শাশ্বত ‘এখন’,
যা কখনো বদলায় না।
যে তাতে থাকে না,
সে অনন্তের স্বাদ পায় না।
২৪.
এখানেই অর্জন করতে হবে।
এখানেই কাজ সম্পন্ন হতে হবে।
নইলে এ বড় অদ্ভুত কথা হবে :
যে এখানে কোনো রাজ্য জয় করতে পারল না,
সে সেখানে রাজা হবে।
২৫.
বন্ধু, এখন যথেষ্ট হয়েছে।
যদি তুমি আরও পড়তে চাও, তবে যাও
তুমি নিজেই হয়ে ওঠো সেই লেখা
এবং নিজেই সেই অর্থ।