পঙ্খিরাজ ঘোড়ায় চেপে

আফনান আর শাফিয়ান বেডরুমের মেঝেতে বসে ছবি আঁকছিল। আব্বু-আম্মু এখন অফিসে। ফিরতে ফিরতে রাত আটটা কি নয়টা বাজতে পারে। আফনানের বয়স সাত বছর। আর শাফিয়ানের বয়স পাঁচ বছর।
হঠাৎ বাইরে ‘ধুপ’ করে একটা আওয়াজ হলো। আফনান আর শাফিয়ান ভয় পেয়ে গেল। শাফিয়ান ভয়ার্ত কণ্ঠে বলল, ‘ভাইয়া, কিসের শব্দ হলো? তুমি গিয়ে দেখে আসো না।’
‘আমি কেন যাব? তুমি ছোট না? তুমি দেখতে যাবে।’
‘না। আমি দেখব না। আম্মু...’ শাফিয়ানের চোখ দিয়ে পানি পড়তে লাগল।
আফনান বলল, ‘আচ্ছা চলো, দুজন একসঙ্গে যাই।’
আফনান একটা ব্যাট হাতে নিয়ে ভাইয়ের সঙ্গে নিচে উঠানে গেল।
উঠানের ঝোপঝাড় হঠাৎ নড়ে উঠল। শাফিয়ান আফনানের পেছনে লুকাল। দুজন পা টিপে টিপে ঝোপের কাছে গিয়ে ব্যাট দিয়ে ধাক্কা দিয়ে একটু সরাল। ও মা! এ যে একটা পঙ্খিরাজ ঘোড়া! প্রথমে তারা নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। এটা এখানে কোথা থেকে এল? যা-ই হোক, এটা যখন এসেই পড়েছে, তখন এটা নিয়ে খেলা করা যাক। আফনান-শাফিয়ান লাফ দিয়ে পঙ্খিরাজের পিঠে চড়ে বসল। সঙ্গে সঙ্গেই পঙ্খিরাজ উড়াল দিল ডানা ঝাপটে। উড়তে উড়তে মেঘের মাঝে হারিয়ে গেল।
আফনান আর শাফিয়ান চোখ মেলে দেখল একটা অজানা জায়গা। আকাশে অনেক পঙ্ক্ষিরাজ উড়ছে। তবে এ জায়গায় মানুষ আছে। কিন্তু এরাও অদ্ভুত। এদেরও ডানা আছে। এদের কেউ কেউ আকাশে উড়ছে। কেউবা পায়ে হেঁটে পথ চলছে। হঠাৎ সেখানকারই একটা অচেনা মেয়ে তাদের সামনে উপস্থিত হলো। বলল, ‘শুভ বিকেল বাচ্চারা।’ আফনান-শাফিয়ান চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে রইল। মেয়েটি বলল, ‘না না। ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আসলে আমি এলাকার সব বাচ্চার জন্য কেক বানিয়েছিলাম। সব বাচ্চা আমার বাসায় এসেছে। তোমরাও এসো।’
কোনো উপায় না দেখে দুই ভাই মেয়েটার পিছে পিছে যেতে শুরু করল। মেয়েটা কথা বলছে, ‘আমার নাম পোর্শিয়া। তোমাদের নাম?’
আফনান আর শাফিয়ান হুট করে বলে উঠল, ‘আমরা এখানকার স্কুলে পড়ি না। বাংলাদেশের স্কুলে পড়ি।’
পোর্শিয়া অবাক হয়ে বলল, ‘তোমরা কি পৃথিবীর মানুষ?’
অন্য কেউ দেখার আগেই পোর্শিয়া আফনান আর শাফিয়ানের হাত ধরে টেনে নিজের ঘরে নিয়ে গেল। চাপা স্বরে বলল, ‘আমাদের রাজ্যে পৃথিবীর মানুষ নিষিদ্ধ। কেউ দেখলে যে কী হতো!’ পোর্শিয়া দুই ভাইকে কাগজের ডানা বানিয়ে দিল। যেন একবার দেখলে লোকে তাদের এ রাজ্যের মানুষ মনে করে। দুই ভাই পেট ভরে কেক খেয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে ফুটবল খেলতে গেল। খেলার সময় আফনান হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতেই তার নকল ডানাটা খুলে গেল। ব্যস, আফনান-শাফিয়ান ধরা পড়ে গেল। সৈন্যরা তাদের ধরে নিয়ে গেল রাজার কাছে। সেনাপতি বলল, ‘জাহাঁপনা, এই দুই শিশু পৃথিবী থেকে এখানে এসেছে। এখন তাদের কী শাস্তি দেব, তা আপনি নির্ধারণ করুন।’
রাজা বললেন, ‘যা খুশি তা-ই করো। আমি এখন খুব ব্যস্ত। গোলকধাঁধায় পড়ে আছি।’
সেনাপতি বলল, ‘বন্দী করো এদের।’
সৈন্যরা যখন তাদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে, তখন আফনান উঁকি মেরে দেখল রাজা কী করছেন। দেখল, রাজা খুব সহজ একটা পাজল মেলানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু কিছুতেই পারছেন না। আফনান বলে উঠল, ‘আরে, আমিই তো পারি এটা।’
আফনান পাজলটা মিলিয়ে দিল। রাজা তো মহাখুশি। তিনি আফনানের বুদ্ধির খুব প্রশংসা করলেন এবং দুই ভাইকে অনেক উপহার দিলেন।
এর পরের কাহিনি খুবই সংক্ষিপ্ত। আফনান আর শাফিয়ান নিজের বাসায় ফিরে এল পঙ্খিরাজের পিঠে চড়ে। আর কেউ কখনো জানতে পারল না তাদের পঙ্খিরাজের রাজ্যে বেড়ানোর কাহিনি।
নবম শ্রেণি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মিরপুর, ঢাকা