লেনিনের নাম কেন দার্শনিকের তালিকায় নেই

লেনিন কেন দার্শনিকদের তালিকায় অনুপস্থিত, যদিও দর্শনচর্চা ও রাষ্ট্রচিন্তায় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য? ব্যক্তিগত শোক, বিপ্লবী অভিজ্ঞতা ও তাত্ত্বিক লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠা লেনিনের বুদ্ধিবৃত্তিক যাত্রা—এ লেখায় উঠে এসেছে মানবিক ও বিশ্লেষণী ভাষায়।

গ্রাফিকস: প্রথম আলো

ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ। লেনিন হচ্ছে ছদ্মনাম। কিন্তু এ নামেই পরিচিত বিশ্বজুড়ে। একজন মার্ক্সবাদী রুশ বিপ্লবী ও কমিউনিস্ট রাজনীতিবিদ। লেনিন অক্টোবর বিপ্লবের বলশেভিকদের প্রধান নেতা ছিলেন।

কার্ল মার্ক্স ‘ফয়েরবাখ বিষয়ে থিসিস’-এ বলেছিলেন, ‘দার্শনিকেরা এযাবৎ পৃথিবীকে কেবল বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, কথা হলো তাকে পরিবর্তন করা।’ লেনিনের নেতৃত্বে রাশিয়ায় বলশেভিক বিপ্লব দেখিয়েছিল দুনিয়াকে বদলানো যায়।

লেনিন, ১৯১৮
ছবি: সংগৃহীত

মাত্র সতেরো বছর বয়সে তিনি দেখেন, বড় ভাই আলেক্সান্ডারের ফাঁসি কার্যকর হতে। কারণ, আলেক্সান্ডার ছিলেন ‘নারোদনায় ভোলিয়ার’ নামে এক বিপ্লবী সংগঠনের সদস্য। যাঁরা ছিলেন জার শাসনের বিরোধী। জারের গুপ্তচর বিভাগের সদস্যরা আলেক্সান্ডারকে গ্রেপ্তারের পর তার ফাঁসি হলো। এ সময়ে লেনিন প্রথম সিদ্ধান্ত নেন, তাঁর ভাইকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে হলে বিদ্যমান নিপীড়ক সমাজব্যবস্থাকেই পরিবর্তন করতে হবে। ব্যক্তি বিচার বা প্রতিশোধ নয়, সমাজব্যবস্থা যে ‘ক্ষমতাবান’ তৈরি করে, এটাও বুঝলেন এবং সেটা ভেঙে দেওয়ার জন্যই তিনি বিপ্লবী আন্দোলনে যুক্ত হন। মাত্র সতেরো বছর বয়সেই তিনি বুঝলেন, যেকোনো মানুষ ব্যক্তিসত্তার চেয়ে বেশি সামাজিক-রাজনৈতিক সত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। স্টেট আইডলজিক্যাল এপারেটস আজকাল ব্যবহৃত হয়। লেনিন সেটা অনেক আগেই তাঁর মতো বুঝেছিলেন এবং বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নে এক নতুন ব্যবস্থার জন্ম দিয়েছিলেন। লেনিন এখানেই অনন্য। এসব কথা সবাই জানেন।

কিন্তু এ লেখার বিষয় অন্যত্র। লেনিন দার্শনিক ছিলেন নাকি হতে চাননি নাকি হতে দেওয়া হয়নি? এ বিষয়ে খুব কম, বলা ভালো প্রশ্নই তোলা হয়নি।

রাষ্ট্রচিন্তা, সংস্কৃতি চিন্তাবিষয়ক যে জরুরি ডিসকোর্স দিয়েছেন, দর্শনের ত্রুটিসমূহ নিয়ে বলেছেন, বই লিখেছেন, এরপরও কেন লেনিন ‘দার্শনিক’ হিসেবে পাঠ্যতালিকায় স্থান পেলেন না; একাডেমিক্যালি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, কান্ট, হেগেলের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠলেন না একজন ‘দার্শনিক’ হিসেবে?

দেখা যায়, লেনিন এই বিপ্লব সাধন করার জন্য রাষ্ট্রচিন্তা, সংস্কৃতি চিন্তাবিষয়ক যে জরুরি ডিসকোর্স দিয়েছেন, দর্শনের ত্রুটিসমূহ নিয়ে বলেছেন, বই লিখেছেন, এরপরও কেন তিনি ‘দার্শনিক’ হিসেবে পাঠ্যতালিকায় স্থান পেলেন না; একাডেমিক্যালি সক্রেটিস, প্লেটো, অ্যারিস্টটল, কান্ট, হিউম, হবস, স্পিনোজা, হেগেলের সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠলেন না একজন ‘দার্শনিক’ হিসেবে—এ প্রশ্ন থেকেই যায়। খুব সরলভাবে এর উত্তর দেওয়া যায়, তিনি সাম্রাজ্যবাদের ঘোর বিরোধী ছিলেন। বিপ্লব করেছেন। সে জন্য।

ভ্লাদিমির ইলিচ উলিয়ানভ লেনিন (১৮৭০—১৯২৪)
ছবি: সংগৃহীত

কিন্তু এ কথার পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, কার্ল মার্ক্স তো ম্রিয়মাণ হলেও রয়েছেন দার্শনিকদের তালিকায়। পরে রয়েছেন আন্তেনিও গ্রামসি, ফানো, আলথুসার। তাহলে? আরও মজার ব্যাপার, কার্ল মার্ক্স ছিলেন লেনিনের আত্মা। মার্ক্স যদি হেগেলের দর্শনচিন্তার ক্রিটিক করে নতুন চিন্তার জন্ম দিতে পারেন, তবে লেনিন তো একজন বাস্তবায়নকারীও। গ্রামসির মতে, ‘জনবুদ্ধিজীবী’। গ্রামসি, আলথুসার, ফানো হালে স্লাভায় জিজেকও লেনিন নিয়ে অনেক কথা বলেছেন তাঁদের লেখায়, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে। গ্রামসি তাঁর ‘সিলেকশনস ফ্রম কালচারাল রাইটিংস’ বইয়ের এক জায়গায় বলেছেন, রাষ্ট্রযন্ত্র কোন প্রক্রিয়ায় বল প্রয়োগ করে টিকে থাকে এবং শাসক শ্রেণির স্বার্থ রক্ষা করে, এটা লেনিন ভালো জানতেন ও এ বিষয়ে লিখেছেনও। লেনিনের রাষ্ট্রচিন্তা পুঁজিবাদী রাষ্ট্রের ফ্যাসিস্ট রূপ বুঝতে সাহায্য করে। রাষ্ট্রের ফ্যাসিস্ট শক্তি কীভাবে জনগণকে ম্যানুপুলেটেড করার জন্য ম্যানুফ্যাকচারিং ইস্যু তৈরি করে—এসব লেনিন ভালো ব্যাখ্যা করেছেন। গ্রামসি বলেন, শুধু বল প্রয়োগ নয়, শাসকশ্রেণি সাংস্কৃতিক ও মতাদর্শিক আধিপত্য বজায় রাখার মধ্য দিয়েও টিকে থাকে। ব্যবস্থার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করে।

এই যে ব্যবস্থার পক্ষে সম্মতি উৎপাদন করা, এটা এখনো দেশে দেশে শাসকগোষ্ঠী করে চলেছে। মনে পড়ছে, ‘দ্য অর্ডার অব থিংস’ বইয়ের কথা। যেখানে তিনি লেনিনের প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে লিখেছেন, ‘ক্ষমতা শুধু রাষ্ট্রে কেন্দ্রীভূত নয়, সমাজের পরতে পরতে মিশে থাকে। আধুনিক রাষ্ট্র শুধু বলপ্রয়োগের মাধ্যমে শাসন করে না, তা মানুষের জীবন ও কর্তাসত্তার মনোজগৎ গঠনেরও নিয়ন্ত্রণ নেয়। ফুকো এর নাম দিয়েছেন বায়োপলিটিকস। এই বায়োপলিটিকস লেনিন বুঝেছিলেন।

লেনিনের ‘ফিলোসফিক্যাল নোটবুকস’ বইটি দর্শনচর্চার ক্ষেত্রে জীবন্ত দলিল। আরেকটি বই, ‘মেটিরিয়েলিজম অ্যান্ড ইমপিরিও ক্রিটিজম: ক্রিটিক্যাল কমেন্টস অন আ রিয়েকশনারি ফিলোসফি’-তে লেনিন লিখেছেন, একই বিষয়ের ওপর বিভিন্ন ‘ন্যারেটিভ’ উপস্থাপন করে কর্তৃত্ববাদী শ্রেণির বুদ্ধিজীবীরা। যেমন এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘ইতিহাস’ও তৈরি করে শাসকেরা নিজেদের মতো। এরপর ইতিহাসের পক্ষে জনমত গঠন করে অপরাপরের ওপর চাপিয়ে দেয়। এই মতাদর্শিক জনমত তৈরিতে কাজ করে বিজ্ঞাপনী সংস্থার মতো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শাসকগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানসমূহ। এগুলো ছদ্মাবরণে থাকে, যাতে জনগণ বুঝতে না পারে যে তারা কাজ করছে শাসকশক্তির পক্ষেই।

লেনিন রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরিচালনায় সর্বাধিনায়ক ছিলেন বলে তাঁর ‘দার্শনিক’ পরিচিতি একটু বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে? নাকি রুশ দার্শনিক এভজেনি ব্রোনিস্লাভোভিচ পাশুকানিস ও তাঁর অনুসারীরা লেনিনকে কোণঠাসা করে রাখতে চেয়েছিলেন দার্শনিক হিসেবে?

দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের একটা বই আছে, ‘দার্শনিক লেনিন’। এ বইয়ে দেবীপ্রসাদ দার্শনিক জে ডি বার্নালের একটি উক্তির উল্লেখ করেছেন, ‘লেনিন যদি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম না–ও হতেন, তাহলেও নিছক অর্থনীতি ও দর্শনের ক্ষেত্রে তাঁর বুদ্ধিবিদ্যার অবশ্যই স্বীকৃতি হতো।’

তাহলে কি লেনিন রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন ও সোভিয়েত ইউনিয়ন পরিচালনায় সর্বাধিনায়ক ছিলেন বলে তাঁর ‘দার্শনিক’ পরিচিতি একটু বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে? নাকি রুশ দার্শনিক এভজেনি ব্রোনিস্লাভোভিচ পাশুকানিস ও তাঁর অনুসারীরা লেনিনকে কোণঠাসা করে রাখতে চেয়েছিলেন দার্শনিক হিসেবে?

এভজেনি ব্রোনিস্লাভোভিচ পাশুকানিসের একটা বই আছে। একসময় বাংলা অনুবাদ পাওয়া যেত। করেছিলেন রেবতী বর্মণ। সেই বইটির নাম ‘রেভোল্যুশন অব ল’। এখানে বলা প্রয়োজন, স্ট্যালিনের আমলে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তো, এই বইয়ে দৃষ্টবাদ (পজিটিভিজম) প্রবণতা এবং এই প্রবণতার বশবর্তী হয়ে রাশিয়ার সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনে যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেগুলোর ভিত্তিতে মত দেন যে বস্তুনিষ্ঠ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গির সব দাবি সত্ত্বেও সবাই যে পথে এগোচ্ছিলেন, তা বার্কলে ও প্লেটোর ভাববাদে প্রত্যাবর্তনের পথ ছাড়া আর কিছু না। এবং তিনি সর্বহারা তত্ত্বকেও খারিজ করেছিলেন। সে কারণে লেনিনের ‘নতুন কোনো দর্শনচিন্তা’ নেই বলে প্রোপাগান্ডা আজও দুনিয়াজুড়ে চালাচ্ছে একটি গোষ্ঠী এবং এরা যে সাম্রাজ্যবাদেরই এজেন্ট, সেটি প্রমাণিত।

কিন্তু আমরা জানি যে লেনিনের তাঁর শিক্ষক প্লেখানভকে অনুসরণ করে জ্ঞানতাত্ত্বিকভাবে দার্শনিক বস্তুবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। লেনিন ব্যাখ্যা করার আগে বাস্তব জগৎ সম্পর্কে মানুষের বস্তুনিষ্ঠ জ্ঞান ছিল সংবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে, কিন্তু লেনিন বারবার জ্ঞানকে সমাজ ও শ্রেণির ক্ষমতা দিয়ে বুঝতে চেয়েছেন। লেনিন সময় ও স্থানের পাশাপাশি কার্যকারণকে ‘বস্তুনিষ্ঠভাবে বর্তমান’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। মানুষের মনে একটি পরম সত্য প্রতিফলিত হয়। অবশ্যই মন কেবল মাঝেমধ্যে এবং আনুমানিকভাবে পরম সত্যকে প্রতিফলিত করতে পারে। কেবল এভাবেই লেনিন মানুষের জ্ঞানকে তুলনামূলকভাবে স্বীকার করবেন।

অবশ্য একটা সময় দার্শনিক আলোচনায় লেনিন খুব দ্রুতই প্লেখানভের থেকে নিজেকে আলাদা করে তুলেছিলেন। আদর্শবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সমালোচনাগুলো এই দৃঢ় বিশ্বাস দ্বারা উদ্দীপিত হয়েছিল যে ‘আদর্শবাদ’ একটি ভুল তত্ত্বের পরিবর্তে প্রতিক্রিয়াশীল। আদর্শবাদ মানুষকে বিভ্রান্ত করারও হাতিয়ার, সেটাও লেনিন বুঝেছিলেন।

লেনিন, ১৯২৪
ছবি: সংগৃহীত

লেনিন প্রথমে মার্ক্সবাদের আধিভৌতিক প্রভাবকে স্বাভাবিকভাবেই গ্রহণ করেছিলেন। বিপ্লবী নেতা হিসেবে তাঁর কাছে ‘দর্শন’ অপ্রয়োজনীয় ছিল না, থাকার কথাও নয়। সাইবেরিয়ায় নির্বাসনের সময় লেনিন দর্শন, সর্বোপরি আঠারো শতকের ফরাসি বস্তুবাদ এবং জার্মান আদর্শবাদের ধ্রুপদি বিষয়গুলো অধ্যয়ন করেছিলেন এবং ১৯০৫ সালের পরেই দার্শনিক সমস্যাগুলোর প্রতি উদ্বেগ তাঁর কাছে একটি প্রকৃত রাজনৈতিক কর্তব্য হিসেবে উপস্থিত হয়েছিল। তিনি মূলত বামপন্থীদের মধ্যে আদর্শবাদী প্রবণতাগুলোকে ধ্বংস করার কথা বলেছিলেন।

এবার লেনিন নিজেকে কী ভাবতেন, সে সম্পর্কে একটু বলা যাক, বিশেষ করে ‘দার্শনিক’ প্রশ্নে। পানাগিওটিস সোটিরিস নামের এক লেনিন বিশেষজ্ঞ ‘কমিউনিস’ নামের একটি বিখ্যাত ওয়েবসাইটে গত বছর (২৮ জানুয়ারি, ২০২৫) ‘লেনিন, ফিলোসফি অ্যান্ড পলিটিকস’ শীর্ষক প্রবন্ধে জানাচ্ছেন, লেনিন দার্শনিক হওয়ার লক্ষ্য রাখেননি। তিনি দর্শনে ভারাক্রান্ত হতে চাননি। একটি নতুন সমাজব্যবস্থার জন্য বারবার জ্ঞানের সমালোচনা করেছেন। বুদ্ধিবৃত্তির একটি নতুন রূপ সম্পর্কে, সামাজিক উৎপাদন এবং পুনরুৎপাদন থেকে শুরু করে পরস্পরবিরোধী এবং বৈপরীত্যমূলক গতিশীলতার মধ্য দিয়ে যেকোনো প্রক্রিয়ার জটিল, অসম এবং পরস্পরবিরোধী চরিত্রের মধ্য দিয়ে চিন্তা করার একটি নতুন উপায় খুঁজে গিয়েছেন।

লেনিন নিছক দর্শন এবং যাঁরা কেবলই দর্শনচর্চায় নিবেদিত দার্শনিক, তাঁদের খুব একটা পছন্দ করতেন না। কারণ তাঁর মতে, ‘একাডেমিক দার্শনিক অবস্থানে’র গুরুত্ব তাঁর কাছে নেই। ফলে দর্শন বিষয়ে প্রচুর লিখলেও তিনি মনে করতেন, নয়া রাজনীতির জন্য বস্তুবাদী অবস্থান একটি প্রয়োজনীয় দার্শনিক মিত্র। এর বেশি কিছুই নয়।

তাই দস্তয়ভস্কির একটি চরিত্র যখন বলে, ‘আমি মেজর হয়েছি, কারণ ঈশ্বর আছে বলেই’ তখন লেনিন সেই চরিত্রের সেই সংলাপের ক্রিটিক করতে গিয়ে বলেন, ‘আমি রাজনীতি ও দর্শনের কোনো চার্চ গড়তে চাই না, কারণ আমি ধর্মযাজক হতে চাই না, আমি সাধারণ মানুষের মধ্যেই মিশে থাকতে চাই।’