চৈত্র মাসকে যে যা-ই বলুক, এটি সন্দেহাতীতভাবে এক রোমান্টিক মাস। না হলে কি কবিরা চৈত্র মাসের কোনো মায়াবী পরিবেশে নারীর চোখের গভীরতায় আত্মহারা হন! কবিগুরু বলেছিলেন, ‘প্রহর শেষের আলোয় রাঙা সেদিন চৈত্রমাস/ তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ’—তার কী ব্যাখ্যা? হ্যাঁ, চৈত্র মাসে নানা সর্বনাশ আছে বটে, কিন্তু এই পঙ্ক্তিতে ভাস্বর হয়েছে ভালোবাসার মানুষটির চোখে হারিয়ে যাওয়ার তীব্র আনন্দ ও প্রেমের অনিবার্য যন্ত্রণা।
ফাল্গুনের ফুরফুরে বাতাসকে সঙ্গী করেই চৈত্র মাস নিজের মতো করে সাজে। এই বাতাসে নাগরের মন করে উচাটন। তবে চৈত্রের সাজন-মাঞ্জন শহরের পাষাণঘেরা জীবনে টের পাওয়া যায় কি যায় না। এখানে সবুজ কোথায়, কোথায় খাল-নালা, অবারিত প্রান্তরে বায়ুঘূর্ণির প্রহেলিকা, কিংবা অবশিষ্ট টিন-চালার ঘর? অবিস্মৃতির বায়োস্কোপে ছবিগুলো এখনো জ্বলজ্বল করে। কোথায় উড়ে যায় বৃক্ষপত্র, পাখির পালক, কার্পাস তুলো কিংবা বুড়ির সুতো—শহরের উদ্যানগুলোতে যদিও ঝরাপাতার স্তূপ চোখে পড়ে, এসব মাড়িয়ে কোনো একটি বেঞ্চে বসে নীরবে আত্মপ্রসাদ লাভ করি, আহা যেন ইউরোপে আছি! কিন্তু গ্রামের চিত্র অন্য রকম। উঠানভর্তি এসব ঝরাপাতা ব্যবহৃত হয় জ্বালানি হিসেবে। পাশাপাশি থাকে গোবরের ঘুঁটে ও গাছের ডালপালা।
পুরো চৈত্র মাসেই গ্রামে কাঁথা মুড়ি দিতে হয় কোনো কোনো বছর। শীতের সবজি শিমের গাছগুলো ধীরে শুকাতে থাকে, গোড়া হয়ে যায় মোটাসোটা। টিনের চালে শুয়ে থাকা গাছ থেকে মই বেয়ে উঠে গৃহস্থ পোক্ত শিম উত্তোলন করেন। এই বিচি ব্যবহৃত হয় নানা ব্যঞ্জনের তরিতরকারিতে—শুঁটকিতে, বাচা মাছে, কিংবা শিং মাছের আলু-টমেটোর সালুনে। গৃহিণীরা একটা দারুণ কাজ করেন, অন্যদের দৃশ্য ও গন্ধমাতাল করেন। তাঁরা বরই শুকাতে দেন টিনের চালে। পাশ দিয়ে গেলেই এ বরই থেকে অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া যায়। তখন তো গন্ধেরই ছড়াছড়ি। আমাদের গ্রামগুলোতে রবিশস্য উত্তোলন অনেক প্রলম্বিত হয়, চৈত্র পর্যন্ত ঠেকে গিয়ে। গম, শর্ষে, ধনে, পেঁয়াজ, রসুন, ডাল ইত্যাদি ফসলের উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণ চলত পুরো ফাল্গুন-চৈত্রব্যাপী। কোনো বাড়িতে প্রবেশ করলেই পাওয়া যায় শর্ষে ও বরজের (ধনে) সুবাস। শর্ষে তো অর্ধরাতব্যাপী চালুনিতে চালা হয়, এমনকি বাঁশের বাঁটযুক্ত মাছ ধরার ত্রিকোণাকৃতির ছোট্ট ছিদ্রের জালেও এগুলোর প্রক্রিয়াকরণ চলে। তখন শর্ষের ঝাঁজালো গন্ধে দস্তুরমতো মাতাল হতে হয়।
শহরের উদ্যানগুলোতে যদিও ঝরাপাতার স্তূপ চোখে পড়ে, এসব মাড়িয়ে কোনো একটি বেঞ্চে বসে নীরবে আত্মপ্রসাদ লাভ করি, আহা যেন ইউরোপে আছি! কিন্তু গ্রামের চিত্র অন্য রকম। উঠানভর্তি এসব ঝরাপাতা ব্যবহৃত হয় জ্বালানি হিসেবে। পাশাপাশি থাকে গোবরের ঘুঁটে ও গাছের ডালপালা।
ডাল-কলাইয়ের কথা বললে শুধুই স্মৃতিকাতর হই। বাংলাদেশের হাওরাঞ্চলগুলোতে বোরোর দাপটে রবিশস্যের অনেকগুলোই পটল তুলেছে। এখন আর প্রত্যুষে মসুরের গাছে রুপালি শিশিরবিন্দুর হাতছানি নেই। অঞ্চলবিশেষে নতুন নতুন ডালের চাষ হতে দেখি। ক বছর আগে ভোলায় দেখেছিলাম প্লেন ডালের ব্যাপক প্রচলন। ১৯৭০ সালে নাকি এগুলো প্লেন থেকে ফেলা হয়েছিল, তাই প্রজাতিটি এই নাম ধারণ করে আছে। তবে হাওরাঞ্চলে ভুট্টার চাষ এখন অপ্রতিরোধ্য। সময়ের প্রয়োজনে প্রকৃতিতে এ পরিবর্তনগুলো স্থান করে নেয়। আমাদের স্মৃতিতে আছে চৈত্রে উঠানভরা মুগ-মাষ-মসুরের স্তূপ। একপশলা বৃষ্টির ঝাপটায় উঠানে পড়েছে বড় বড় ফোঁটার দাগ। মাটি নিমেষেই এসব শুষে নেয়, তবে ফোঁটার দাগগুলো থেকে যায় কিছুক্ষণ। এরই ফাঁকে ফাঁকে থাকে বাতাসের ঝাপটাজাত আম্রমুকুল। যে পাকা লাল মরিচগুলো ওঠে, সেসব শুকাতে দিলে তুলির আঁচড়ের ছোপ ছোপ রং মনে হয়। এসব কি তাহলে মোহাম্মদ কিবরিয়ার অঙ্কিত ছবি, এই ছোপে কি পড়েছে কিউবিজমের ছাপ, যখন পাশাপাশি শস্যাদির ঘনক উঠানে ছড়িয়ে থাকে?
গ্রামের মানুষগুলো সব সময়েই হয় ঊনকপালে। একটা সময় ছিল, যখন প্রতিবছরই চৈত্র মাসে চাল কিনে খেতে হতো। ১২ মাসের হিসাবের খোরাকি ব্যয় হয়ে যায় জীবনধারণের অন্যান্য প্রয়োজনে। কৃষক বাধ্য হয়েই ধানচাল বিক্রি করে কাপড়-লতা ক্রয়সহ অন্যান্য প্রয়োজন মেটায়। কিন্তু একটু বেশি করলেই চৈত্রে এসে টান পড়ে। তবে প্রাচুর্যের প্রস্তুতিটা ঠিকই ভেতরে ভেতরে চলতে থাকে। সেচযন্ত্রগুলো সারা রাত চালু থাকে। এখন আর দেশি কুণ, টিনের যন্ত্র ব্যবহৃত হয় না। রাতের মৃদু শব্দদূষণ পেরিয়ে দিনেও পানি তুলে তুলে মেশিনগুলো হাঁপাতে থাকে। তখন মানুষ মনে মনে একমাত্র বৃষ্টিই কামনা করে, আহা রহমতের পানি কখন ঝরবে? চৈত্রে আরেকটা কাজ হয়। পুকুর গভীর করতে মাটি কাটা হয় কিংবা বাড়ির ভিটায় মাটি ফেলতে পুকুর-জমি থেকেই তা সংগ্রহ করা হয়। মাটিকাটা জমিতে যদি একটু বৃষ্টির পানি জমে, তবেই কোত্থেকে যে এসে ব্যাঙগুলো ডেকে চলে ঘ্যাঁ ঘোঁ...। তখন এদের প্রজননকাল, জলকেলি–কামকেলি একসঙ্গেই চলে। বিদুষী খনা বলেছিলেন, ‘ব্যাঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র বৃষ্টি হবে জানো!’ তখনই মানুষ আশান্বিত হয়, বৃষ্টি হবে আরও আরও। একসময় এসব মাটি-কর্তিত জমিতে দেখতাম এখানে–সেখানে পিলারের মতো খাড়া আছে কিছু মাটির স্তম্ভ। এগুলো রাখা হতো কত ফুট মাটি কাটা হয়েছে, তার মাপ নিতে।
বিদুষী খনা বলেছিলেন, ‘ব্যাঙ ডাকে ঘন ঘন, শীঘ্র বৃষ্টি হবে জানো!’ তখনই মানুষ আশান্বিত হয়, বৃষ্টি হবে আরও আরও। একসময় এসব মাটি-কর্তিত জমিতে দেখতাম এখানে–সেখানে পিলারের মতো খাড়া আছে কিছু মাটির স্তম্ভ। এগুলো রাখা হতো কত ফুট মাটি কাটা হয়েছে, তার মাপ নিতে।
এ সময় হাজার পাখির কলকাকলি মুখর থাকে জনপদ, কোকিলের ডাকে বিরহকাতর হয়ে মানুষ কোকিলকে বলে ‘মরার কোকিল’, একটি পাখি ডেকে ওঠে—চইতার বউ গো! বাংলায় চৈত্রে ফোটে পলাশ, শিমুল, অশোক, মাধবী, বকুল, গাব, নাগেশ্বর, মহুয়া, মাদার, করঞ্জা, শিরীষ, আর জীবনানন্দের ‘ভাটফুল’ (ভাটফুলের রূপকে কল্পনা করে বসন্তবাউরির ডাকের মধ্যে ‘ভাটের গাছে, খইয়ের মোয়া’)। এ সময়ের পথপার্শ্বের বুনোফুল যে কত! কৃষ্ণচূড়া ফোটার প্রস্তুতিতে থাকে। গেঁয়ো বালকের জন্য এ মাসের মোক্ষম ফলটি গাব। কিন্তু তখনো পেকে ওঠেনি, এর কষ কাজে লাগে ঘুড়ির সুতা মাঞ্জা দেওয়ায়। জাম তখনো পরিপুষ্ট হয় না, তবে বহু আগে ছিল বনজাম, বেশ উপাদেয়। চৈত্রে আতাফল শহরেও দেখতে পাই। বেল-জাম্বুরা এখন সারা বছরের।
এ সময় সবজির বীজ ফুটে উদ্গমের পর সবুজ অঙ্কুর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে। কী অপরূপ, নবসৃষ্টির আদিপর্ব। ঢ্যাঁড়স, শসা, কাঁকরোল, ঝিঙা, চিচিঙ্গা, কুমড়া, করলার গাছগুলোকে দেবলোকের চারা মনে হয়। মুখে এদের ভাষা নেই, ভেতরে আছে অব্যক্ত কথা, এরা আমাদের পুষ্টি দেবে। এ সময় অবহেলায় ফুটতে থাকে শজনে ফুল, কেউ ফিরে তাকায় কি তাকায় না, তাতে কিছুই বয়ে যায় না। কোনো কোনো জমির পাটগাছ তখন বেড়ে উঠছে, পাতাগুলো ‘বিচ্ছু’ নামের শুঁয়াপোকার খাওয়ার উপযুক্ত হয়নি।
চৈত্রের শেষেই শুরু হয়ে যায় দাবদাহ। মেঘ নেই, বৃষ্টি নেই। খেতগুলো ফেটেফুটে চৌচির। বালু জমির ওপর দিয়ে বয়ে চলে বাউকুড়ানি। তিন–চার দশক আগেও দেখেছি, মানুষ বৃষ্টির জন্য মানত করে মসজিদে মসজিদে শিরনি দিত। চওড়া রাস্তার মোড়ে বড় বড় ডেকচিতে সারা দিন রান্না হতো খোদাই শিরনি। মাদারশাহ দরগাতলা দুধের সাগরে ভেসে যেত। আয়োজন চলত ইস্তিসকার নামাজেরও। গাঁয়ের ছেলেছোকরার দল চুরি করা বীজ লাউ গরুর জোয়াল দিয়ে গুঁতিয়ে ভাঙত। বালক-বালিকারা ব্যাঙের বিয়েও দিত। এই রিচুয়ালে তারা বাড়ি বাড়ি এসে বলত, ব্যাঙের বিয়ার মাগন চাই। কোনো বালিকার মাথায় কুলার ওপর একপায়ে বাঁধা ব্যাঙটি উল্টাপাল্টা লাফাত। সিঁদুরে রাঙানো ব্যাঙ। কুলাটি সাজানো ফুল–পাতা–দূর্বাসহযোগে। ওরা ‘ব্যাঙের ঝিয়ের বিয়া, আবের পাঙ্খা দিয়া, ও বেঙি মেঘ দেস্ না গিয়া’—এসব গান গেয়ে মাগন নিয়ে বিদায় হতো। ওদের নাচগানের মাগনে ছিল চাল, ডাল, আনাজ, মসলা। কারণ, এসব দিয়ে তারা বনভোজন না হোক, উঠানভোজন তো করবেই। তবে তাতে গ্রামবাসীর কেউ কেউ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলত, এবার বোধ করি বৃষ্টিটা হবেই।
বাংলায় চৈত্রে ফোটে পলাশ, শিমুল, অশোক, মাধবী, বকুল, গাব, নাগেশ্বর, মহুয়া, মাদার, করঞ্জা, শিরীষ, আর জীবনানন্দের ‘ভাটফুল’ (ভাটফুলের রূপকে কল্পনা করে বসন্তবাউরির ডাকের মধ্যে ‘ভাটের গাছে, খইয়ের মোয়া’)। এ সময়ের পথপার্শ্বের বুনোফুল যে কত!
আর একটা বুজরুকি করার ছিল চোত-বোশেখে। গ্রামে গ্রামে আসত শিলারি, যারা দাবি করত মন্ত্রবলে জমির বোরো ধান শিলার হাত থেকে বাঁচাতে সক্ষম। তারা গুহ্যসাধন জানার দাবিদার। তাদের ছিল ত্রিশূল আর রকমারি সাজপোশাক। শিলাবৃষ্টি পতনের সময় শিলারিরা ত্রিশূল হাতে জমিতে গিয়ে মন্ত্র পড়ে নর্তন–কুর্দন করত। কেউ কেউ আবেগের আতিশয্যে দিগম্বর হয়ে যেত। শিলাবৃষ্টির অতিপতনে কেউ কেউ জীবনও হারিয়েছে। বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ছিল তাদের পেশাচর্চার ক্ষেত্র। তাদের ছিল হাজার কৃত্য ও আচার-অনুষ্ঠান। বোরো ধান কর্তনের পর মৌসুম শেষে তারা চুক্তি মোতাবেক ধান কিংবা টাকা পেত। জমির ফসল নষ্ট হলে পেত না। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, ধান এমনিতেই বেঁচে গেছে। তাদের দাবি ছিল, এসবই হচ্ছে তাদের গুহ্যসাধনের ফল। বৈশাখে ধান পাকে ঠিক, কিন্তু শিলারি বা হিরালিদের কাজ শুরু হয়ে যেত চৈত্র মাস থেকেই। তাদের একটি বহুল প্রচলিত মন্ত্রের প্রারম্ভিক দুই চরণ এ রকম—‘ভুবনেশ্বর ভজহরি অংশুমান ভোন্দরি/ ত্রিকূল নশ্বরী মা কালী ভোজ মহান্দরী’। অথবা অন্যটি—‘সিদ্ধিগুরু কালিকা লক্ষ্মী চণ্ডীর বর/আমার দোহাই রক্ষা কর।’
অতীতে চৈত্র মাসে অষ্টমী তিথিতে শীতলা দেবীর পূজার নিয়ম ছিল। নিজেরাও দেখেছি চৈত্র মাসে এই পূজা এবং তদোপলক্ষে মেলার আয়োজন। লোকজনের অন্ধবিশ্বাস ছিল—শীতলা দেবী বসন্ত রোগের বাহক। তাই তাকে পূজা দাও। তবে আগে এ মাসেই বসন্ত রোগ হতো বলে বিমার থেকে পরিত্রাণ কামনায় লোকদের মধ্যে অন্ধবিশ্বাস জন্মায় এবং নানা কৃত্যানুষ্ঠানের উদ্ভব হয়। অতীতে বসন্ত রোগটি মানুষকে অন্ধ করেছে, মুখে ও সারা শরীরে রেখে গেছে তার ধকলের স্বাক্ষর। হিন্দু ভক্ত–পূজারিরা বলেন, শীতলা দেবীর হাতে তো থাকে ঝাঁটা, নিমপাতা ইত্যাদি। এসব দিয়ে তো বালা-মুসিবত ঝেঁটিয়ে দূর করারই কথা। যা-ই হোক, ১৯৯৫ সালে কার্যকর টিকা আবিষ্কারের পর থেকে গুটিবসন্ত ৯৭ শতাংশ নির্মূল হয়ে যায়। এ অঞ্চলে তখনো চোত-বোশেখের শুষ্ক মৌসুমে পিছিয়ে পড়া জনপদে অসুস্থ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের গঞ্জে বা দূরের থানা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো ভারে করে টাঙিয়ে, একটি ঝাঁপিতে বসিয়ে দুই মাথায় দুজনের কাঁধে করে।
নানা আয়োজন, উৎসব, কৃত্য, আচার-অনুষ্ঠান অতিক্রম করে আসে চৈত্রসংক্রান্তি। পুরোনো বছরের জরাজীর্ণতাকে বিদায় জানিয়ে নয়া বর্ষবরণের প্রস্তুতি হিসেবে ছিল এই প্রাচীন উৎসব। এদিনের মূল কৃত্য চড়কপূজা ও গাজন, মূল উৎসব মেলা ও হালখাতা। অসাম্প্রদায়িক এ উৎসবে ছিল সংযাত্রা, লাঠিখেলা ও লোকসংগীত, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস। কোনো অজগাঁও এখন এসবে তেমন একটা আলোড়িত হয় না, তবে মনের আলোড়ন কমবেশি সবাই নিভৃতে টের পায়, যা হারিয়ে যায় তার সবই যে ভালো, তা না হলেও পুরোনো দিনের জন্য আকুতি কিংবা অতীতের স্মৃতিকথাগুলো যে পড়ন্তবেলায় মানুষকে আচ্ছন্ন করে রাখে, সেটাকে তো মন্দ বলার উপায় নেই।