ভাষার রাজনীতি, রাজনীতির ভাষা

অলংকরণ: আনিসুজ্জামান সোহেল

তথ্যের পাশাপাশি ভাষাও চিন্তা ও বিচারধারার কাঠামো নির্ধারণ করে আসছে। প্লেটো মনে করতেন, শব্দের ব্যবহার যথাযথ না হলে রাজনীতি ও ন্যায়বিচার বিকৃত হয়। অ্যারিস্টটল দেখাতে চেয়েছেন, ভাষার মাধ্যমে আমরা যুক্তির কাঠামো নির্মাণ করি; অস্পষ্ট বা বানোয়াট ভাষা মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছে দিতে পারে। প্লেটো ও অ্যারিস্টটল দুজনই বলার চেষ্টা করেছেন, ভাষার ব্যবহার কেবল দর্শনের তাত্ত্বিক সমস্যা নয়, এটি বাস্তব রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলে, যেখানে শব্দের আড়ালে শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ গড়ে ওঠে।

মাঠের পাশাপাশি রাজনীতি এখন জন্ম নিচ্ছে শব্দের মধ্যে, কখনো বাক্যের আড়ালে, কখনো রং মেশানো শিরোনামে। বাংলাদেশের রাজনীতি প্রতিদিনই নতুন শব্দের জন্ম দিচ্ছে। বহুল আলোচিত সাম্প্রতিক একটি বিষয় নির্বাচন। নির্বাচনকে ঘিরে যে শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত হলাম, তার আড়ালেই তৈরি হয়েছে এক ভয়াবহ রাজনীতি।

কিছু উদাহরণ দেওয়া যাক। যেমন ইলেকশন ম্যানুফেকচারিং (ভোটার স্থানান্তর বা সাজানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা), ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ, রিটার্নিং অফিসারদের নিয়ন্ত্রণ), উৎসবমুখর পরিবেশ (নিয়ন্ত্রিত ভোট), অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন (সাজানো প্রতিদ্বন্দ্বিতা), আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক (চরম অবনতি), গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা (ক্ষমতার ধারাবাহিকতা), নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে (প্রশ্ন নিষিদ্ধ)। এ ধরনের বিমূর্ত শব্দ কেবল তাৎক্ষণিক বিপদ তৈরি করে না, ভবিষ্যতের জন্যও আতঙ্কের জন্ম দেয়। এগুলো ধীরে ধীরে দৈনন্দিন অভিধানে ঢুকে যায় এবং আমাদের চিন্তাভাবনা ও বিচারধারাকে সীমিত করে।

জর্জ ওরওয়েল ১৯৪৬ সালে ‘পলিটিকস অ্যান্ড দ্য ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ’ প্রবন্ধে দেখান, রাজনৈতিক ভাষা কীভাবে সত্যকে বিকৃত এবং মানুষের বিচারধারাকে ক্ষীণ করে। তিনি কিছু শব্দ ও বাক্যবন্ধকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করেন। যেমন ইকনমিক্যাল উইথ দ্য ট্রুথ, কনস্ট্রাকটিভ, ফেনোমেনন, এলিমিনেট, মিলিটেট এগেইনস্ট, এক্সপিডিয়েন্ট, ফ্যাসিলিটেট, ভার্চ্যুয়ালি, আইরনিক্যালি, নট হোলি আনজাস্টিফায়েড।

ওরওয়েলের মতে, এ ধরনের ভাষা মিথ্যাকে গ্রহণযোগ্য এবং অন্যায়কে যুক্তিসংগত করে তোলে। প্রতিকার হিসেবে তিনি পরামর্শ দেন অর্থহীন শব্দ বাদ দেওয়া, জটিল বাক্য সরল করা এবং অপ্রয়োজনীয় বিশেষণ ও ক্লিশে কমানো।

রাজনীতির মতো আমলাতন্ত্রের ভাষাও বিমূর্ত ও নিষ্ক্রিয়। ক্রিয়া হয়, কিন্তু কেউ দায়ী থাকে না। যেমন ‘বিষয়টি বিবেচনাধীন’, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে’, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে’। কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? যেন কেউ নন। বাস্তব ক্ষতি বা মৃত্যু নিছকই ‘প্রক্রিয়ার অংশ’।

রাজনীতির মতো আমলাতন্ত্রের ভাষাও বিমূর্ত ও নিষ্ক্রিয়। ক্রিয়া হয়, কিন্তু কেউ দায়ী থাকে না। যেমন ‘বিষয়টি বিবেচনাধীন’, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে’, ‘প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে’। কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে? যেন কেউ নন। বাস্তব ক্ষতি বা মৃত্যু নিছকই ‘প্রক্রিয়ার অংশ’। নাগরিক এ ভাষা পড়ে মনে করেন, সব ঠিক আছে; অথচ বাস্তবতা এর বিপরীত। আমলাতন্ত্রের এসব ভাষা রাষ্ট্রকে একচ্ছত্রভাবে ক্ষমতায়িত করে, নিজের দায় এড়িয়ে চলে এবং নাগরিককে আত্মসন্দেহবাতিক বানায়। কথার পেছনে নিহিত অস্পষ্টতা মানুষকে প্রশ্ন করতে দেয় না। মানুষকে বিশ্বাস করায়, ভাষাই বাস্তব।

ফ্রান্‌ৎস কাফকার লেখাতেই ধরা পড়ে, আমলাতন্ত্র প্রথমে মানুষের ওপর আঘাত করে না, আঘাত আসে ভাষার মাধ্যমে। দ্য ট্রায়াল বা দ্য ক্যাসল-এ বারবার দেখা যায়, ‘জানানো হলো’, ‘বলা হয়েছিল’, ‘প্রক্রিয়াটি চলছে’, কিন্তু কে জানাল, কে বলল, কে চালাচ্ছে—তার কোনো নাম নেই। এই ভাষা বাস্তবকে স্পষ্ট করে না, বরং প্রশ্নাতীত করে তোলে। কাফকার আমলাতন্ত্রে ভাষাই প্রথম কারাগার।

প্রশাসনের কিছু শব্দেরও উল্লেখ করা যায়। যেমন ক্রসফায়ার/বন্দুকযুদ্ধ (বিচারবহির্ভূত হত্যা), অভিযান পরিচালনা (ধরপাকড়/ভয় সৃষ্টি), পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে (বলপ্রয়োগ), জিজ্ঞাসাবাদ (টর্চার), হেফাজতে মৃত্যু (রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে মৃত্যু), নিখোঁজ বা আইনানুগ ব্যবস্থা (আপাতত গ্রেপ্তার দেখানো), উসকানিদাতা (বিরোধী দল), শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা (প্রতিবাদ করেছে)। এসবের ব্যবহার শুধু প্রশাসনকে নয়, প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্কও দুর্বল করে। এর পরিণাম হলো জনগণের মধ্যে নীরবতা ও প্যানঅপটিকন মনোভাব (স্থায়ী নজরদারি ও আত্মনিয়ন্ত্রণ অনুভূতি), যা অধিকাংশ সময়ই কর্তৃত্ববাদী শাসকের বিদায়ের পূর্বসংকেত।

অভিধানের এই ‘কালো অংশ’ মিডিয়াও বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয়, আইনসম্মত বা ন্যায্য বলে প্রতিষ্ঠা করে। ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি’, ‘সংঘর্ষে নিহত’, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত’, ‘বিতর্কিত মন্তব্য’ শব্দগুচ্ছ এতটাই ‘স্বাভাবিক’ বলে মেনে নেওয়া হয়েছে যে প্রশ্ন তুললে মানুষকে অস্বাভাবিক মনে করা হয়। যদি কোনো সংবাদমাধ্যমকে প্রশ্ন করা হয়, ‘বিতর্কিত মন্তব্য’ বলতে কী বোঝানো হচ্ছে? তাদের উত্তর হয়, ‘আমাদের কাজ প্রচলিত ভাষা তুলে ধরা।’ সংবাদপত্র নিজেকে ভাষার নৈতিক দায় থেকে অব্যাহতি দেয়।

নোয়াম চমস্কি দেখান, মিডিয়া কেবল তথ্য পরিবেশন করে না, এটি শক্তিশালী রাষ্ট্রীয় ও বাণিজ্যিক কাঠামোর স্বার্থে ধারণাকে নিজস্ব নিয়মে তৈরি ও রূপায়ণ করে। উদাহরণত ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি’ বা ‘সংঘর্ষে নিহত’-এর মতো শব্দগুচ্ছ মানুষকে প্রাসঙ্গিক কারণ অনুসন্ধান থেকে সরিয়ে নেয় এবং স্বাভাবিক বাস্তবতার একটি ভ্রান্ত ধারণা তৈরি করে। যেমন ওরওয়েল বলেছেন, রাজনৈতিক ভাষা এমন এক কৌশল, যার মাধ্যমে ‘লাইস সাউন্ড ট্রুথফুল অ্যান্ড মার্ডার রেসপেক্টেবল’। মিথ্যা সত্যের রূপ পায়, আর খুন মর্যাদাসম্পন্ন বলে প্রতিষ্ঠিত হয়। চমস্কিও দেখান, মিডিয়ার ফিল্টার মানুষের বিচারধারাকে সীমিত করে এবং স্বয়ংক্রিয় সম্মতি তৈরি করে।

ফ্রান্‌ৎস কাফকার লেখাতেই ধরা পড়ে, আমলাতন্ত্র প্রথমে মানুষের ওপর আঘাত করে না, আঘাত আসে ভাষার মাধ্যমে। দ্য ট্রায়াল বা দ্য ক্যাসল-এ বারবার দেখা যায়, ‘জানানো হলো’, ‘বলা হয়েছিল’, ‘প্রক্রিয়াটি চলছে’, কিন্তু কে জানাল, কে বলল, কে চালাচ্ছে—তার কোনো নাম নেই।

মার্ক্স ও এঙ্গেলস দ্য জার্মান আইডিওলজিতে দেখিয়েছেন, ভাষা নিরপেক্ষ নয়; এটি সামাজিক শ্রেণির শক্তিকে রক্ষা করে। শাসকগোষ্ঠী ভাষার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের আধিপত্য স্বাভাবিক করে তোলে, ভাষার অবমূল্যায়ন জনগণের চিন্তা ও জাতীয় চেতনাকে সীমিত করে। রাজনৈতিক ভাষার অস্পষ্টতা তাই কেবল তথ্যের নয়, শক্তির কাঠামোরই প্রতিফলন।

বাংলাদেশে ভাষার রাজনীতি ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। ভাষা আন্দোলন বা মুক্তিযুদ্ধ—সবখানেই আছে শব্দের লড়াই।

আমলাতন্ত্র ও পুলিশি ভাষা, রাজনৈতিক ও নির্বাচনী ভাষা—সবই ঐতিহাসিক উত্তরাধিকারকে প্রভাবিত করেছে। কবিতা, স্লোগান, ব্যঙ্গ—সব সময় ভাষার রাজনীতিকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ করেছে। নাগরিকেরাও শিখেছে ভাষা ‘চুপচাপ’ নয়। এটি সংঘর্ষের জায়গা, যেখানে প্রতিটি শব্দ গণতন্ত্র, ন্যায় ও মানবিকতার জন্য লড়াই করে।

এ বাস্তবতায় প্রশ্ন একটাই, ভাষা কি কেবলই ক্ষমতার যন্ত্র হয়ে থাকবে, নাকি প্রতিরোধের হাতিয়ারও হয়ে উঠতে পারে? ইতিহাস বলে, ভাষা কখনো একমুখী ছিল না। যে শব্দ দিয়ে শাসন চলে, সেই শব্দ দিয়ে শাসনের মুখোশও খুলে ফেলা যায়। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সচেতন পাঠক, সতর্ক লেখক ও দায়িত্ববান মিডিয়া।

কে প্রশ্ন করছে, আর কে প্রশ্ন করতে পারছে না—ক্ষমতার এই বিন্যাস দিয়েই আসলে নির্ধারিত হয় ভাষার রাজনীতি। ‘সংঘর্ষে নিহত’ বাক্যে নাগরিক যখন থেমে যায়, তখন রাষ্ট্র জিতে যায়। কিন্তু যখন সে প্রশ্ন তোলে, কার সঙ্গে সংঘর্ষ? কেন সংঘর্ষ? কার দায়? ঠিক তখনই ভাষা তার নিরীহ অবয়বের বদলে রাজনীতিতে পরিণত হয়। ভাষা তখন আর বাস্তবতাকে ঢেকে রাখে না, বরং উন্মোচন করে।

সংবাদপত্রের দায় এখানেই বিশেষ। কারণ, সংবাদপত্র কেবল তথ্য দেয় না, এটি ভাষার নৈতিক অনুশীলন। সাহিত্যের মতো সংবাদপত্রের কাজ শব্দকে ধারালো করা, যাতে ‘হেফাজতে মৃত্যু’ বলতে কোনোভাবেই কাউকে নির্দোষ না বোঝায়, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতি’ বলতে প্রকৃত কারণকে যাতে না ঢেকে ফেলা হয়। সাহিত্য বা সংবাদপত্র যদি ভাষাকে প্রশ্ন করতে না শেখে, তবে সে নিজেও ক্ষমতার নীরব সহযোগীতে পরিণত হয়।

ওরওয়েল আমাদের শিখিয়েছেন, অস্পষ্ট ভাষা অসৎ রাজনীতির আশ্রয়স্থল। চমস্কি দেখিয়েছেন, এই অস্পষ্টতাই আধুনিক গণতন্ত্রে কর্তৃত্ববাদী শাসনের সম্মতি উৎপাদনের কারখানা। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই দুই বোধ একত্রে আমাদের সামনে একটি কঠিন সত্য হাজির করে: ভাষা যত বেশি ‘নিরপেক্ষ’ ও ‘ভদ্র’ হয়ে ওঠে, ক্ষমতা তত কম দৃশ্যমান হয়।

এ বাস্তবতায় প্রশ্ন একটাই, ভাষা কি কেবলই ক্ষমতার যন্ত্র হয়ে থাকবে, নাকি প্রতিরোধের হাতিয়ারও হয়ে উঠতে পারে? ইতিহাস বলে, ভাষা কখনো একমুখী ছিল না। যে শব্দ দিয়ে শাসন চলে, সেই শব্দ দিয়ে শাসনের মুখোশও খুলে ফেলা যায়। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন সচেতন পাঠক, সতর্ক লেখক ও দায়িত্ববান মিডিয়া।

ভাষার এই ক্ষমতাগত রূপ সাহিত্যেও নতুন নয়। বরং সাহিত্যই প্রথম দেখিয়েছে, যখন রাষ্ট্র কথা বলে, তখন শব্দ আর নিরীহ থাকে না। ফ্রান্‌ৎস কাফকার দ্য ট্রায়াল-এ কোনো অভিযোগ স্পষ্ট নয়, অথচ শাস্তি অনিবার্য।

আলবেয়ার কাম্যুর প্লেগ-এ প্রশাসনিক ভাষা সব সময় সংযত, পরিমিত, যৌক্তিক। মহামারিকে বলা হয় ‘পরিস্থিতি’, মৃত্যুকে ‘সংখ্যা’। এই ভাষা আবেগকে মুছে দিয়ে নৈতিক দায়িত্বকেও অস্পষ্ট করে তোলে।

আর্থার মিলারের দ্য ক্রুসিবল-এ বিচারব্যবস্থার ভাষা ধর্মীয় ও প্রশাসনিক শব্দে মোড়ানো। ‘প্রমাণ পাওয়া গেছে’ বা ‘সাক্ষ্য গ্রহণযোগ্য’—এই ভাষা ন্যায়বিচারের বদলে পূর্বনির্ধারিত দোষকে বৈধতা দেয়।

জর্জ ওরওয়েলের ১৯৮৪-তে রাষ্ট্র ভাষাকে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে নিউজপিকের মাধ্যমে। সেখানে শব্দ কমানো মানেই চিন্তা ছাঁটাই করা। ‘স্বাধীনতা’ শব্দটি যখন অভিধান থেকে মুছে যায়, তখন স্বাধীনতার ধারণাটিও বিলুপ্ত হয়। ওরওয়েল যে বিপদের কথা প্রবন্ধে বলেছিলেন, উপন্যাসে সেটাকেই তিনি নিছক রূপক নয়, বরং রাজনৈতিক ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে হাজির করেন।

বাংলা সাহিত্যও এই ভাষাগত সহিংসতাকে নীরবে লক্ষ করেছে। জীবনানন্দ দাশের কবিতায় যে গভীর নীরবতা, তা কেবল প্রকৃতির নয়, একধরনের ভীষণ অস্তিত্বগত নিঃশব্দতা, যেখানে মানুষ কথা বলতে ভুলে যাচ্ছে। আবার মহাশ্বেতা দেবীর গল্পে রাষ্ট্রীয় ভাষা প্রায়ই ‘উন্নয়ন’, ‘শান্তি’, ‘পুনর্বাসন’-এর মুখোশ পরে আসে, কিন্তু তার নিচে থাকে উচ্ছেদ, মৃত্যু আর বঞ্চনার বাস্তবতা। সাহিত্যে ভাষা শুধু বর্ণনার মাধ্যম নয়, সংঘর্ষেরও ক্ষেত্র।

এ কারণে সাহিত্যকে রাজনীতির বাইরে রাখা যায় না। কারণ, সাহিত্যই দেখায়, ভাষা যখন অস্পষ্ট হয়ে পড়ে, সহিংসতা তখন আরও নিখুঁত হয়। আর ভাষা যখন স্পষ্ট হয়, ক্ষমতা তখন অস্বস্তিতে পড়ে যায়।

ভাষা কখনো নির্দোষ থাকে না। যে শব্দ উচ্চারিত হয়, তা সঙ্গে সঙ্গে কারও না কারও পক্ষে দাঁড়ায়। নীরবতা নিরাপত্তা নয়, ভদ্র শব্দ সত্যের নিশ্চয়তা দেয় না। লেখকের কাজ কেবল বলা নয়, বেছে বলা—কোথায় থামবে, কোথায় স্পষ্ট হবে, আর কোথায় অস্বস্তিকর সত্য রেখে দেওয়া হবে। রাজনীতি, সংবাদপত্র ও সাহিত্যকেই এ দায়িত্ব নিতে হয়। নইলে কেউ টিকে থাকতে পারে না।