বিনয়ের ঈশ্বরীগণ

২০০৬ সালে বিনয় মজুমদারের মৃত্যুর পর তার দীর্ঘদিনের বন্ধু বেলাল চৌধুরী প্রথম আলোর শুক্রবারের সাময়িকীতে এ নিবন্ধটি লিখেন। তখনো প্রথম আলোর অনলাইন কার্যক্রম শুরু হয়নি, তাই এতদিন লেখাটি শুধু ছাপা কাগজের পাতাজুড়ে ছিল। আজ বিনয় মজুমদারের জন্মদিনে লেখাটি অন্য আলোর অনলাইন পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো।

বিনয় মজুমদারের (জন্ম : ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪- মৃত্যু : ১১ ডিসেম্বর, ২০০৬)প্রতিকৃতি অবলম্বনে প্রথম আলো গ্রাফিকস

বিংশ শতাব্দীর ষাটের দশক। কলকাতার সাহিত্যজগৎ বেশ রমরমা। ‘ছোটগল্প’ নামে একটা কাগজে লেখার সূত্র ধরে একঝাঁক নতুন গল্পকারের আবির্ভাব। এদের মধ্যে দেবেশ রায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, রতন ভট্টাচার্য, সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়, শংকর চট্টোপাধ্যায়, শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, কবিশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সৈয়দ মুস্তাফা সিরাজ প্রমুখ। সেই ছোটগল্পের কাগজটিও আজ আর নেই। সেদিনের সেই প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখকদের মধ্যে কেউ আজ খ্যাতির শিখরে, কেউ এখনো লিখে চলেছেন। কেউবা ইহলীলা সাঙ্গ করে চিরবিদায় নিয়ে নিয়েছেন। কেউবা আর লিখছেনই না। প্রত্যেক দেশের সাহিত্যে এ রকমই হয়।

এখানে যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে তখন দুনিয়া তোলপাড় করা দুই আমেরিকান শীর্ষ কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ আর পিটার অরলোভস্কি ভারত ছেড়ে চলে গেছেন। ১৯৬৪ সালে নামগোত্রহীন এক যুবকের রঙ্গমঞ্চে প্রবেশ। যাকে বলা হচ্ছিল জোব চার্নকের পর এ রকমটি আর দেখা যায়নি। চালচুলোহীন শুধু কলেজ স্ট্রিট কফি হাউসকে কেন্দ্র করে হেলাফেলায় দীর্ঘ এক যুগের ওপর কাটিয়ে এসেছে। অ্যালেন গিন্সবার্গদের প্রায় পিছু পিছুই মার্কিন বৃত্তি নিয়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তখন আমেরিকাগামী। এর মধ্যে শক্তি চট্টোপাধ্যায় মূলত কবিতা লেখার লোক হলেও একটি আঞ্চলিক ভাষায় কুয়োতলা নামে একটি অসাধারণ উপন্যাস লিখে দারুণ হইচই ফেলে দিয়ে নিরুপদ্রব নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করছেন। লিখতে শুরু করেছেন কবিতা। কবিতার মধ্যে আবার লিরিকের প্রাধান্যই বেশি। ঠিক এ সময় পাশাপাশি আর একটি নতুন নাম শোনা যেতে লাগল। কবির নাম বিনয় মজুমদার। শেকড়-সূত্রে বাংলাদেশের ফরিদপুরের ছেলে। যদিও জন্ম সেকালের সুদূর বর্মা মুলুকের এক গ্রামে। পিতার কর্মস্থলে। সেই ১৯৫৮-তে বেরিয়েছে জীবনানন্দ দাশকে আত্মসাৎ করা নক্ষত্রের আলোয় নামের কাব্যগ্রন্থটি। এরপরই কবিদের চিরকালীন বন্ধু দেবকুমার বসুর প্রকাশনা সংস্থা বিশ্বজ্ঞান থেকে বেরোয় সেই রহস্যময় সাংকেতিক কাব্যগ্রন্থ ‘ফিরে এসো চাকা’। কিন্তু এর আগে বিনয় এক রুশ ভদ্রমহিলার কাছে রুশ ভাষা শিখে বেশ কটি চিরায়ত রুশ গ্রন্থের অনুবাদ বের করে বেশ নাম কুড়োন। এই সময় প্রবলভাবে শক্তিমান কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বললেন, ‘বিনয় আমার বন্ধু। সহপাঠী এবং জাত-কবি। ও আমাদের সমসাময়িক হলেও কৃত্তিবাস-এর সঙ্গে সেই অর্থে জড়িত ছিল না। যদিও বিনয়ের কবিতা আমি কৃত্তিবাস-এ নিয়ে গেছি, সুনীলের হাতে দিয়েছি, বেশ কয়েকবার ছাপাও হয়েছে। ওর প্রথম বই ‘নক্ষত্রের আলোয়’ জীবনানন্দের অনুসরণে মুখর, কিন্তু তার পর থেকেই ও জীবনানন্দের অনুসরণে যতি টানে। নিজস্ব ভঙ্গিতে গায়ত্রীর প্রতি কবিতাগুচ্ছ উত্সারিত হয়। সেসব খুব মারাত্মক কবিতা। বিনয় মঞ্চের ওপর ঠিকমতো কেন উঠে দাঁড়াল না, তা আমি বুঝতে পারি না, কিন্তু মনে হয়, ও যে ধরনের কবিতায় বিশ্বাসী, তা মঞ্চে পাঠের উপযোগী নয়, একা একা পড়ার ব্যাপার। আমাদের সময়ে প্রকৃত অলৌকিক কবিতা কী, তা বিনয় লিখে দেখিয়েছে। আমার সঙ্গে দীর্ঘকাল কোনো যোগাযোগ নেই। ওর কবিতাও সাম্প্রতিককালে নজরে আসেনি। কিন্তু পঞ্চাশের দশকে ওর একটি বিশেষ স্থান আছে এবং থাকবে।’

এ ছাড়া বিনয়ের কবিতার আলোচনার সূত্র ধরে শক্তি চট্টোপাধ্যায়ই প্রথম বিনয়ের কাব্যপ্রতিভার প্রতি যথোচিত অঙ্গুলিনির্দেশ করেন। এবং তার পর থেকেই বিনয়ের কবিতা নিয়ে, বিনয়কে নিয়ে অনেক কল্পকথার জন্ম নিতে থাকে। আসলে বিনয় নিজের জীবনটাকেই কবিতার মধ্যে মিশিয়ে দিয়েছে। বিনয় তার দিনলিপিতে লিখেছে, বারবার লিখেছে, ‘বেঁচে থাকা জিনিসটা খুব ভালো’। তাঁর ডায়েরি বা দিনলিপি আর কবিতা একই—বলেছেন কৃত্তিবাসের সম্পাদক কবি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়।

অসুখী বাল্যকাল একজন যুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তির মেধাকেও যে কতটা অযৌক্তিক করে তোলে এমনকি ক্রমশ তাঁর মানসিক ভারসাম্য বিপন্ন ও পর্যুদস্ত করে, বিনয় তার প্রমাণ। বিনয় মজুমদারের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল—না, কফি হাউসে নয়, আমাদের দেবুদা মানে দেবকুমার বসুর প্রকাশনী সংস্থা বিশ্বজ্ঞান আর যখন-খুশি-বেরুনো নাটক-সম্পর্কিত পত্রিকা দর্শক অফিসে। এর পরে অবধারিতভাবেই কফি হাউসে। কারণ, কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে গেলে সব নদী নয় সব পথ কফি হাউসে গিয়েই মেলে। বিনয়দাকে প্রথম পরিচয়ে আমার মোটেই অস্বাভাবিক মনে হয়নি। শুধু মাঝেমধ্যে দেখা যেত হঠাৎ কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে টেবিলে তাল ঠুকতে ঠুকতে আনমনে গাইছেন ‘অগ্নিবীণা বাজাও তুমি...’। তার পরেই কিছুক্ষণ অন্য জগতে। এভাবে দিনের পর দিন একই টেবিলে বসার সুবাদে যতটুকু আলাপ-পরিচয় হয়, তার চেয়ে কিছুটা বেশিই হয়ে গিয়েছিল। কথাবার্তা হতো। তবে বিক্ষিপ্ত। কোনো কোনো দিন দেখা যেত, হয়তো প্রথম ট্রেন ধরেই ঠাকুরনগর থেকে বিনয় এসে টেবিলজুড়ে বসে আছে। ওকে দেখলে সে টেবিলে কোনো অর্বাচীন ছাড়া বসবার সাহস হবে কার। আর আমি আগে এসে বসে থাকলে তো কথাই নেই, বিনয়দা সরাসরি এসে তার হাতের ঢাউস ব্যাগটা একপাশে রেখে বসে পড়লেই হলো। মেজাজ–মর্জি অনুকূল থাকলে এসব সময় অনেক অন্তরঙ্গ কথাবার্তাও হতো। আবার কোনো কোনো দিন উগ্রচণ্ডী ধারণ করলে অন্যের জন্য প্রমাদ গুনতে হলেও আমার সঙ্গে হৃদ্য আলাপে কোনো বিঘ্ন ঘটত না।

তখন আমি আমার ভাসমান জীবনে থাকতুম শিয়ালদার কাছাকাছি বৈঠকখানা রোডে। কারমাইকেল হোস্টেলের পাশে। একদিন শহরব্যাপী কী একটা বড় ধরনের গোলমাল হয়ে যাওয়াতে বিনয়দা আমার সঙ্গেই বিনা দ্বিধায় রাতের আশ্রয়টুকু শেয়ার করলেন। স্বাভাবিকভাবেই মেঝের ওপর ফরাস পেতে রাত কাটালেন বিনা উপদ্রবে। একসময় বিনয়দা সম্পর্কে ‘কলকাতা স্টেটসম্যান’ পত্রিকায় ক্যালকাটা নোটবুকে বিনয়ের প্রশস্তি করে একটা লেখা বেরুল। পরে জানা গিয়েছিল, লেখাটি লিখেছিলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। যাঁর অনেক পরিচয়ের মধ্যে বুদ্ধদেব বসুর বড় জামাতা, স্টেটসম্যানেই কাজ করেন। নিজেও কবিতা লেখেন। কবিদের ওপর অসাধারণ সব মননশীল ও সুখপাঠ্য প্রবন্ধ লেখেন। চলাফেরায় সাহেবি কেতা। দু-একবার দূর থেকে দেখেছি। ওই লেখালেখির পর থেকে বিনয়ের আশ্রয়দাতা হলেন জ্যোতির্ময় দত্ত। জ্যোতির্ময়রা তখন থাকেন এক বিরাট পরিবার নিয়ে বন্ডেল রোডে। সে বাড়িরই একটা ঘরে জায়গা হলো বিনয়ের। তখন পর্যন্ত আমি এসবের কিছুই জানতুম না। বুদ্ধদেব বসুর কন্যা মীনাক্ষী দত্ত তখন রীতিমতো কিংবদন্তির নায়িকা। একদিন বিনয়দা আমাকে আড়ালে ডেকে নিয়ে বললেন, জ্যোতির্ময় বাবুকে চেনো তো, তিনি আমার একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে তাঁদের বাড়িতে নেমন্তন্ন করতে চান। আমি তোমার কথাই ভেবেছি। আমাকে একটু দোনোমনা করতে দেখে বললেন, আরে ভয়ের কিছু নেই। জ্যোতির্ময় বাবু মীনাক্ষী দেবী এরা খুবই ভালো মানুষ। তুমি আর কিছু না ভেবে, এই ঠিকানা দিচ্ছি, কাল সকালে চলে এসো। আমি অপেক্ষায় থাকব।

পরদিন সকালে গুটি গুটি পায়ে গিয়ে ঠিকানামতো কড়া নাড়লুম। একটা লোক বেরিয়ে এসে বলল, ওই যে ছোট্ট দোতলা ঘরটা দেখছেন, ওটাতেই বিনয়বাবু থাকেন। হেলাফেলায় কথা কটি বলে লোকটি তার কাজে চলে গেল। লোকটির বলা এবং চলার ভঙ্গিতে একটা তাচ্ছিল্যের ভাব দেখে একবার ভাবলুম, যা হবার হয়েছে, এবার মানে মানে কেটে পড়ি। হঠাৎ দেখি দোতলার একটি ঘর থেকে সহাস্যে উত্ফুল্ল মুখে বেরিয়ে আসছেন বিনয়দা। বললেন, আরে এসো এসো বেলাল, তুমি এসেছ দেখে কত যে খুশি হয়েছি। বিনয়দার গা–ভর্তি তুলো। বোঝা গেল, বালিশটা ফেঁসে গিয়ে সব তুলো বেরিয়ে তার শরীরে লেপ্টে রয়েছে। যাহোক, সে অবস্থাতেই আমাকে প্রায় টেনেহিঁচড়ে বড় বাড়ির নিচের তলায় একটি ঘরে নিয়ে গিয়ে একজন সুবেশী হাস্যোজ্জ্বল তরুণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বললেন, এই আমার বন্ধু বেলাল, যার কথা আগেই আপনাকে বলেছিলাম। ভদ্রলোক, মানে জ্যোতির্ময় দত্ত দেখলুম বিনয়ের অবতার। আরে কী সৌভাগ্য, আসুন আসুন, ভেতরে আসুন। বাড়িটা আপনারই ভাববেন, এখানে সংকোচের কোনো বালাই নেই। এই যে কী একটা নাম বললেন, এখানে একজন মান্য অতিথি এসেছেন। তাঁকে একটু সমাদর করুন। খাবারটাবার কিছু দিন।

পাশেই একটি সুদর্শনা রাতশাড়িতে ঘুমচোখে কাকে যেন খুঁজছিলেন। মেয়েটি বিন্দুমাত্র ভ্রুক্ষেপ করল না আমাদের দিকে। আমার দৃষ্টি কিন্তু তখনো সেই কিশোরীতে নিবদ্ধ।

এরপর প্রথম দেখা সেই মুশকো লোকটা একটা জামবাটিতে করে কয়েক কোষ কাঁঠাল আর মুড়ি এনে হেলাফেলায় আমাদের দিল। বিনয়দা দেখলাম গোগ্রাসে সেই কাঁঠালসহযোগে মুড়ি খেতে শুরু করে দিয়েছেন। আমি কিন্তু কাঁঠাল খাই না। আসলে কাঁঠালের গন্ধটাই কেন জানি না আমার সহ্য হয় না। আমি খেলাম কি খেলাম না, সে আর দেখছে কে। ঘরভর্তি লোকজন। চা খাচ্ছে, গল্পগুজব করছে। আমি সহজেই টের পেয়ে গেলাম গৃহকর্তা যতই খাতির করুন না কেন, এ বাড়িতে বিনয়ের অবস্থানটা কোথায়। ইশারাই কাফি। পরে যখন জ্যোতিদা, দিদি, তিতির ও গোগোর সঙ্গে সম্পর্কটা বেশ গাঢ় হয়ে উঠল, তখন ওদের সুখ-দুঃখের সঙ্গে আমিও খানিকটা জড়িয়ে পড়লাম।

জ্যোতিদার উত্সাহ এক এক সময় এক এক দিকে ছোটে। বিনয়কে নিয়ে তাদের পরিবার তটস্থ হয়ে আছে। বিনয় তখন কবিতায় ঈশ্বরীর খোঁজে ব্যাপৃত। এখানে মীনাক্ষী দত্তের ‘দীর্ঘদিন বিনয়ের সঙ্গে’ লেখাটি থেকে একটি স্তবক তুলে দিলেই পাঠক বুঝতে পারবেন বিনয়ের প্রকৃত মানসিক অবস্থাটা—

‘বিনয় মাঝে মাঝেই কোনো না কোনো মেয়েকে ওর “ঈশ্বরী” বানিয়ে নিতো। অমিতা চক্রবর্তী, ফুল্লরা গঙ্গোপাধ্যায়, গায়ত্রী চক্রবর্তী এ রকম অনেক। এদের কাউকেই ও চিনতো না। মানুষ যেমন মূর্তি গড়ে পুজো করে, সেই মূর্তিকে কাপড় গয়না পরায়, দাঁত মাজায়, স্নান করায়, নাম দেয় এও তেমনি। রবীন্দ্রনাথের জীবনদেবতা পুরুষ, বিনয়ের নারী ঈশ্বরী। বিশেষ কোনো রমণীর সঙ্গে এর সম্পর্ক খোঁজা হাস্যকর। তখন একটা গল্প চালু ছিল যে গায়ত্রীর ভক্তরা বেকার ল্যাবরেটরির পেছনে নিয়ে গিয়ে বিনয়কে মেরেছিল। মাথায় এমন মেরেছিল যে তারপর থেকেই ওর মাথার গোলমাল। এটা ভুল, কারণ গায়ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, গায়ত্রী বিনয়কে চিনত না। একবার বোধ হয় দেখেছিল—এ ছাড়া ওর বিষয়ে গায়ত্রী আর বিশেষ কিছু জানে না। বিনয় একটা চটি বই বার করেছিল নীল তুলোট কাগজের মলাট দিয়ে, আমাদের বাড়িতে থাকার সময়। তার কপিরাইট আমাকে দিয়েছিল। মাত্রই কয়েক কপি বাঁধাই হয়ে এসেছিল বাড়িতে বোধ হয়। কয়েক দিন পরেই দেখলাম ওই অমূল্য পুস্তকখানির সর্বস্বত্ব আর আমার নেই। তবে ওই সময় ওর কবিতার খাতাগুলি আমাকে দিয়েছিল। আমার জাগতিক জিনিসের প্রতি অমনোযোগ সত্ত্বেও তার দু-একটি এখনো আমার কাছে রয়ে গেছে। সিল্ক বা তসর দিয়ে তৈরি ব্লাউজ সহজে ফেঁসে যায়। সেই ব্লাউজ দিয়ে বিনয় বেশ কায়দা করে খাতা বাঁধিয়েছিল। বিনয়ের যে দুটি খাতা আমার কাছে এখনো আছে, তা আবার ব্লাউজের টুকরো দিয়েই বাঁধানো।’

আসলে এই ঈশ্বরীর তালিকায় স্বয়ং মীনাক্ষী দত্তও ছিলেন। তা না হলে কেউ সযত্নে ব্লাউজের কাপড় দিয়ে খাতা বাঁধাই করে? আসলে নারীসংক্রান্ত একধরনের মনোবিকারের কারণেই বিনয় মাঝে মাঝে বলত, আগামী এক শ বছরের মধ্যে পৃথিবী মনুষ্যবিহীন হয়ে যাবে। সমস্ত প্রকৃতিসদন বন্ধ হয়ে যাবে। বিনয়ই করে দেবে। মনস্তাত্ত্বিক হতে হয় না বিনয়ের এসব বিকৃতি বোঝার জন্য। বিনয়ের স্বহস্তেই লেখা রয়েছে, ‘পৃথিবীর প্রত্যেকটি মানবীকে চিরতরে সম্পূর্ণ বন্ধ্যা করে দিয়েছি।’—ঈশ্বরী ও ঈশ্বর। ১৬/১১/১৯৬৫।

বিনয় সম্পর্কে যা জানি, তার সিকিভাগও লেখা গেল না তাড়াহুড়োর কারণে। পরে নাহয় আর একবার দেখা যাবে।