বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিপ্লবের মাঝেই যখন বৈষম্য

প্রতিপক্ষরা ‘মোল্লাতন্ত্র’ গালি দিলেও ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ভালো দিক—নিয়মিত নির্বাচন হয় এখানে, মুসলমানপ্রধান অনেক দেশে যা অধরা। তবে নির্বাচনকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের উপায়ও হাতে রেখেছেন ‘বিপ্লব’-এর অভিভাবকেরা। সেই হাতিয়ারের কোপ পড়েছে এবার আহমাদিনেজাদের মতো সুপরিচিত কয়েকজনের ওপর। যদিও তাঁরা সবাই ইরান বিপ্লবেরই সন্তান। এর গুণমুগ্ধও বটে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কারা প্রার্থী হতে পারবেন, সে বিষয়ে ১২ সদস্যের ‘গার্ডিয়ান কাউন্সিল’ই শেষ সিদ্ধান্ত দেয় ইরানে। ২৬ মে সেই সিদ্ধান্ত পাওয়া গেল। প্রায় ৬০০ আগ্রহীর মধ্যে থেকে অভিভাবক পরিষদ শেষমেশ ৭ জনকে চূড়ান্ত লড়াইয়ে নামতে দিয়েছে। প্রচার শেষে তাঁদের একজনকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি ৫০ ভাগের বেশি ভোট পেতে হবে।

আগের মতোই প্রতিযোগিতার জন্য অনুমতি পাওয়াদের তালিকায় নারী নেই। অন্তত ৪০ জন নারী প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। সংবিধানের ১১৫ ধারা অনুযায়ী প্রার্থী হিসেবে নেই সুন্নি কেউই। এখানকার বিপ্লবের প্রাথমিক রাজনৈতিক বলি নারী ও সুন্নিরা, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট পদের ক্ষেত্রে। সুন্নিদের মন্ত্রী হিসেবেও পাওয়া যায় না। এমনকি রাষ্ট্রদূত পদেও বিরল। ইসলামের নামে যে ‘বিপ্লব’, সেখানে এ রকম রাজনৈতিক বঞ্চনার যৌক্তিকতা বোঝা মুশকিল।

সংস্কারবাদীদের দুঃসময়

প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হতে আবেদনের সুযোগ ছিল ১১ মে থেকে। তাতে চারজন সবার নজর কেড়েছিলেন—এব্রাহিম রায়সি, আহমাদিনেজাদ, এসহাক জাহাঙ্গিরি এবং আলী লারিজানি। চূড়ান্ত তালিকায় শেষের তিনজনই বাদ পড়েছেন।

অতীতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সচরাচর একাধিক রক্ষণশীল প্রার্থীর সঙ্গে তুলনামূলকভাবে একজন উদারপন্থীকে লড়তে দেওয়া হতো। এর মাধ্যমে দেশের ‘অভিভাবকেরা’ সব রাজনৈতিক ধারাকে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে রাখতে চাইতেন। এটা ভোটকেন্দ্রে বেশি মানুষকে টেনে আনার কৌশলও বটে। এবার ব্যতিক্রম ঘটেছে মোটা দাগে। অভিভাবক পরিষদ কোনো ‘ঝুঁকি’ নিতে চায়নি। নিজেদের পছন্দের জনের পথ মসৃণ করতে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বিতারও সুযোগ রাখা হয়নি। ফলে লড়াই অনেকাংশে রক্ষণশীলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। ফারসিতে যাঁদের বলা হয় মোহাফেজকরণ। তাঁদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন আহমাদিনেজাদ। তিনি রাহবার আলী খামেনি ও অভিভাবক পরিষদের অপছন্দের তালিকা থেকে নাম খারিজ করাতে পারেননি। বাদ পড়েছেন মধ্যপন্থী লারিজানি এবং সংস্কারপন্থী এসহাক জাহাঙ্গিরিও।

ইরানে রক্ষণশীলেরা নিজেদের বলেন ‘প্রিন্সিপালিস্ট’। রাষ্ট্রীয় এস্টাবলিশমেন্টের প্রধান পছন্দ প্রিন্সিপালিস্ট এব্রাহিম রায়সি। তিনি বিচার বিভাগের প্রধান। রায়সিকে জিতিয়ে আনতে শাসকগোষ্ঠী অন্য সব পছন্দ বাদ দিয়েছে। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ এসহাক জাহাঙ্গিরি ইসফাহানের মেয়র ছিলেন একদা। বর্তমান প্রেসিডেন্টের কাছের লোক হিসেবে জানেন সবাই তাঁকে। কিন্তু সমর্থক ভিত্তি বেশি নয়। তারপরও দাঁড়ানোর সুযোগ পাননি। নির্বাচনে কার্যত এবার সংস্কারবাদী শক্ত কোনো প্রার্থীই থাকছে না। এত প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন অবস্থা দেখে রায়সিও বিব্রত বলে জানা গেছে।

পারলেন না আহমাদিনেজাদ

প্রেসিডেন্ট হতে চাওয়াদের মধ্যে সাধারণের বেশি পছন্দের ছিলেন আহমাদিনেজাদ। আগেও দুবার প্রেসিডেন্ট হন তিনি। রক্ষণশীলদের সমর্থন নিয়েই ২০০৫ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট হন। রাষ্ট্রপতি হিসেবে শুরু থেকে তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিত্বের দ্বন্দ্ব ছিল খামেনির। নির্বাহী সিদ্ধান্তে আহমাদিনেজাদ অনেক বেশি স্বাধীনচেতা ছিলেন। প্রশাসনিক অনেক সিদ্ধান্তে প্রায়ই তাঁর সঙ্গে সর্বোচ্চ নেতার ভিন্ন অবস্থান প্রকাশ হয়ে পড়ত। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও আহমাদিনেজাদ দাঁড়াতে চেয়েছিলেন এবং খামেনি নানাভাবে সে ইচ্ছায় বাদ সাধেন। আহমাদিনেজাদ সম্পর্কে খামেনির মন্তব্য ছিল, ‘সে বিভেদ বাড়ায়’। খামেনির ক্ষোভ বোঝা যায় এ থেকেও যে কেবল আহমাদিনেজাদই নন, তাঁর ঘনিষ্ঠ হামিদ বাঘাইয়ের প্রার্থিতাও নাকচ করা হয় ২০১৭ সালে। আলী খামেনির জন্য অসুবিধার দিক হলো আহমাদিনেজাদকে পাশ্চাত্যপন্থী বলে তকমা দেওয়া যাচ্ছে না এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁর দুর্নীতিবিরোধী শক্ত ভাবমূর্তি দাঁড়িয়ে গেছে। কিন্তু তারপরও আহমাদিনেজাদকে থামতে হলো। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের হয়তো এখানেই ইতি। বিপ্লবের সর্বসাম্প্রতিক এক প্রকাশ্য বলি বলা যায় তাঁকে! তাঁকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবেও চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে এখন। অথচ আহমাদিনেজাদ এই ‘বিপ্লব’ রক্ষায় বহুভাবেই নিবেদিত ছিলেন। তিনি এই রাজনৈতিক কাঠামোরই সন্তান। তাঁর আদর্শ এই কাঠামোর সুবিধাভোগীদের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কিন্তু তাঁর জনপ্রিয়তা কাঠামোর মুরব্বিদের জন্য মৃদু হুমকি। তিনি কাঠামোকে কতিপয়ের হাত থেকে উদ্ধার করতে চান। এটা অবাধ্যতা। এটা একই সঙ্গে ইরানের সমাজে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত ‘মাহদিবাদ’-এর প্রতীকী এক স্ববিরোধিতাও বটে। যেখানে বেলায়েত-ই-ফকিহরা নিজেদের আল-মাহদির ইচ্ছার প্রতীক মনে করছে কিন্তু গ্রাম-শহরের মানুষ ন্যায়বিচারের প্রতীক হিসেবে খুঁজছে বাস্তবের কোনো মাহদিকে।

ভোটে আস্থা হারাচ্ছেন তরুণেরা

আহমাদিনেজাদ মাঠে না থাকায় এবং শক্ত কোনো সংস্কারবাদীও না থাকায় এব্রাহিম রায়সি প্রায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এক নির্বাচনে জিততে পারেন এবার। ভোটের সর্বশেষ এই চেহারা শাসকগোষ্ঠীর জন্য স্বস্তিদায়ক। তবে দীর্ঘ মেয়াদে অন্য দুর্ভাবনার কারণ ঘটেছে তাতে। জরিপ দেখাচ্ছে, ভোটের প্রতি ইরানি তরুণ-তরুণীরা ক্রমে আগ্রহ হারাচ্ছেন। অথচ বিপ্লব-উত্তর প্রথম গণভোটে ৯৮ ভাগ ভোট পড়েছিল। এবার ভোট দেওয়ার হার ৫০ ভাগের নিচেও নেমে যেতে পারে। তরুণেরা এখন মনে করছেন, ভোট আর মৌলিক কোনো পরিবর্তন আনতে অক্ষম। পরিবর্তনবাদী কারও ভোটযুদ্ধে ঢোকার পথই বন্ধ। এ রকম উপলব্ধি সমাজের সঙ্গে শাসকদের দূরত্ব বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। এবার কোভিড-১৯ এবং অর্থনৈতিক সংকটও কম ভোটার উপস্থিতির বড় কারণ হতে পারে। আহমাদিনেজাদের মনোনয়ন অনুমোদন না হওয়াও ভোটকে কিছুটা আকর্ষণহীন করেছে। প্রেসিডেন্ট রুহানি ইতিমধ্যে নির্বাচনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এই চেহারা বদলাতে অভিভাবক পরিষদের কাজে হস্তক্ষেপের জন্য আলী খামেনির কাছে আরজি করেছেন।

ব্যর্থতার ছাপ রেখে গেলেন রুহানি

প্রেসিডেন্ট রুহানিকে দেশটির একজন সংস্কারবাদী হিসেবেই বিবেচনা করা হয়। তিনি চলতি নির্বাচনের দৌড়ে থাকবেন না, সেটা আগেই ঠিক হয়ে আছে। তিনি যে কেবল প্রার্থী হচ্ছেন না তাই নয়, দেশের অর্থনীতিকে বেশ বেকায়দায়ও রেখে যাচ্ছেন। প্রতিপক্ষরা এটাকে দেখাচ্ছে সংস্কারবাদী জননীতিবিদদের অদক্ষতাজনিত ব্যর্থতা হিসেবে। বিদায়কালে রুহানির ম্লান ভাবমূর্তি এটাই জানাচ্ছে, প্রধান নির্বাহী হলেও ইরানে প্রেসিডেন্ট পদে থেকে আর্থসামাজিক সংস্কার সাধনে অবদান রাখার সুযোগ ক্ষীণ। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র মূলত রাহবার-এ মোয়াজ্জম। আলী খামেনির ওই পদে ইতিমধ্যে ৩০ বছর পেরিয়ে গেছে এবং তিনি বয়সে ৮০ পেরিয়েছেন বেশ আগে। কিন্তু ইরান মানে এখনো তিনিই। যদিও ইরান রাষ্ট্র ভোটের মাধ্যমে এটাও দেখাতে চায়, জনগণই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে!

সংস্কারবাদীরা নির্বাচন বর্জন করতে চান

জেনারেল সোলাইমানি খুনের পর ইরানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী জনমত এখন ব্যাপক। পাশাপাশি রয়েছে পাশ্চাত্যের দীর্ঘ অবরোধের কষ্ট এবং ইসরায়েলের চোরাগোপ্তা হামলা। এসবের মিলিত ফল হিসেবে দেশটির জনগণের এ মুহূর্তে চরমপন্থার দিকেই পক্ষপাত। মধ্যপন্থী এবং উদারনৈতিক রাজনীতিবিদদের প্রতি জনসমর্থন ৫-১০ বছর আগের তুলনায় অনেক কম। উপরন্তু নির্বাচনী দৌড়ে তাদের শক্তিশালী প্রার্থী নেই। দেশের রাজনীতি ও নীতিনির্ধারণী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা অভিভাবক পরিষদ ও বিশেষজ্ঞ পরিষদেও তাঁদের প্রতি সহানুভূতিশীল কেউ নেই। রহস্যময়ভাবে মারা যাওয়ার আগে সর্বশেষ সে রকম ভূমিকায় ছিলেন আকবর হাশেমি রাফসানজানি। এ অবস্থায় সংস্কারবাদী শিবির রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। নির্বাচন বর্জনের ডাক দেওয়ার কথা ভাবছে তাদের বড় অংশ।

সম্ভাব্য ফলের তাৎপর্য হবে বহুমুখী

জুনের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেরিয়ে আসবেন, সেটাই স্বাভাবিক। দেশটির ‘সর্বোচ্চ নেতা’র নির্বাচনও প্রভাবিত করবে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। পরবর্তী ‘রাহবার’ হিসেবে সম্ভাব্য ব্যক্তি হিসেবে অনুমানের তালিকায় ছিলেন মোজতবা খামেনি এবং এব্রাহিম রায়সি। ৫২ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি হলেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দ্বিতীয় পুত্র। অনেকেই বলছেন, আসন্ন নির্বাচনে আলী খামেনির পছন্দ রায়সি। রায়সি এবার জিতলে যা এখন প্রায় নিশ্চিত, তার অপর মানে দাঁড়াবে, খামেনির পক্ষেÿপুত্রকে দেশের প্রধান অভিভাবক হিসেবে তুলে ধরা সহজ হবে। যদিও ইরানে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত করার জন্য ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ বা মজলেস-এ-খবরেগান-এ-রাহবরি আছে, কিন্তু ওই পরিষদের সদস্যদের বাছাইয়েও প্রধান ভূমিকায় থাকে ১২ সদস্যের অভিভাবক পরিষদ। আবার আইনিভাবেই গত তিন যুগে অভিভাবক পরিষদের ১২ সদস্যের নিয়োগে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে শেষ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আলী খামেনিই।

অভিভাবক কাউন্সিলের ছয়জন সর্বোচ্চ নেতা সরাসরি নিয়োগ দেন। বাকি ছয়জন বিচার বিভাগ ও পার্লামেন্টের যৌথ প্রক্রিয়ায় বাছাই হয়। বিচার বিভাগের প্রধান আবার রাহবারই বাছাই করেন। এভাবে কার্যত পুরো অভিভাবক পরিষদ সর্বোচ্চ নেতার হাতেই বাছাই।

ফলে বর্তমান বিশেষজ্ঞ পরিষদ এবং অভিভাবক পরিষদের মাধ্যমে নিজের পছন্দের কাউকে নিজের পদের জন্য রেখে যাওয়া আলী খামেনির জন্য দুরূহ হবে না। নিজের পছন্দ-অপছন্দকে সিদ্ধান্ত আকারে হাজির করতে সর্বোচ্চ নেতার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে আছে শক্তিধর বিপ্লবী প্রতিরক্ষা বাহিনী, যেটি সরাসরি তাঁর সিদ্ধান্তই চলে। কর্তৃত্বের এ রকম বহুস্তরের মধ্যেও সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনির একজন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন বিপ্লবের স্থপতি রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি হাসান খোমেনিও। তবে রাজনীতিতে বিস্ময়করভাবে তাঁর পক্ষপাত সংস্কারের দিকে, যা সামরিক আমলাতন্ত্রের জন্য অস্বস্তিকর। এসব বিবেচনায় পাল্লা ভারী হচ্ছে মোজতবা খামেনিরই।

ক্ষমতা কাঠামোকে স্পষ্ট করছে নির্বাচনী ব্যবস্থা

দেশে-বিদেশে প্রধান আলোচিত রাজনৈতিক পদ হলেও ‘প্রেসিডেন্ট’ ইরানে মোটেই সর্বোচ্চ ক্ষমতার চর্চাকারী নন। যদিও এই পদের পরোক্ষ প্রভাব রাষ্ট্রের সর্বত্রই পড়ে, কিন্তু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ক্ষমতাধর অভিভাবক কাউন্সিলকে সামান্যই প্রভাবিত করবে। প্রেসিডেন্টের কাছে ওই কাউন্সিলের জবাবদিহি করতে হয় না, বরং প্রেসিডেন্টের জবাবদিহি সর্বোচ্চ নেতার কাছে।

প্রেসিডেন্ট পদের এই সীমাবদ্ধতার কারণে সংস্কারবাদী কারও পক্ষেÿজনগণের ভোটে প্রেসিডেন্ট হয়েও দেশটির নীতি-আদর্শ-সিদ্ধান্ত পরিবর্তন ঘটানো প্রায় অসম্ভব। আদর্শিক ঐক্য থাকার পরও কেবল প্রশাসনিক কিছু মতভিন্নতার কারণে এবারের নির্বাচনের শুরুতে আহমাদিনেজাদ, লারিজানি প্রমুখের করুণ পরিণতি বিপ্লব-উত্তর ইরানের ক্ষমতা কাঠামোর প্রকৃত ধরনটি খোলামেলাভাবেই প্রকাশ করছে। শাসকেরা যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন তাতে ভিন্নমত আছে কেবল সংস্কারবাদীদের নয়, খোদ রক্ষণশীল পরিসরেও। দ্বিতীয় ধারার বিরোধিতা বর্তমান নেতৃত্বের জন্য বেশি বিপজ্জনক। এবারের নির্বাচন সেই বিপদ আরও বাড়াল।

নির্বাচনের প্রভাব থাকবে আন্তর্জাতিক পরিসরে

ইরান ব্যাপক আন্তর্জাতিক গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিত থাকা এক দেশ। যদিও দেশটির সামরিক নীতিনির্ধারণে সর্বোচ্চ নেতার সিদ্ধান্তই শেষকথা, কিন্তু নির্বাহী কর্তা হিসেবে প্রেসিডেন্টও আন্তর্জাতিক আলাপ-আলোচনায় গুরুত্ব বহন করেন। নির্বাচনে কট্টরপন্থী হিসেবে পরিচিত এব্রাহিম রায়সি প্রেসিডেন্ট হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভূরাজনৈতিক সব কলকবজায় তার প্রভাব পড়বে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দর-কষাকষিতেও সেটা চাপ তৈরি করবে। বাইডেন প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে এ রকম নির্বাচন এবং নির্বাচনী ফল হবে একটা তিক্ত ধাক্কা। কিন্তু এর মধ্য দিয়ে ইরানে সর্বোচ্চ নেতা, প্রেসিডেন্ট এবং দেশটির সামরিক আমলাতন্ত্র এক কাতারে এসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরিবেশ তৈরি হবে। বিগত সরকারের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জেনারেল সোলাইমানির মতো সমরবিদদের মধ্যে নানান বিষয়ে যেসব মতদ্বৈধতা ঘটত, রায়সির বিজয়ে সেটা কমবে।


আলতাফ পারভেজ: ইতিহাস বিষয়ে গবেষক

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন