বাংলা সাহিত্যে অনন্য প্রতিভার অধিকারী মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। মধুকবি বিদেশ-বিভুঁইয়ে বসে এ নদের কথা ভেবে লিখেছিলেন, ‘সতত হে নদ, তুমি পড় মোর মনে/ ...বহু দেশ দেখিয়াছি বহু নদ দলে/ কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?’ দখল, দূষণ আর ভরাটের কারণে যশোর, সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া এ নদের অবস্থা এখন মৃতপ্রায়। এর দিকে এখন দখলদারদের লোলুপ দৃষ্টি। প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ভূমিদস্যু কপোতাক্ষ নদ দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা, মাছের ঘের, বাড়িঘর ইত্যাদি তৈরি করছে। এতে নদটি আরও দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, নদের প্রবাহের গতি মন্থর ও পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। এটি একসময় এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎস ছিল। পরিবহনে পণ্যের পাশাপাশি মানুষের যাতায়াতের জন্য ছিল লঞ্চ ও নৌযান।
স্থানীয় মানুষের নদবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড এবং অসচেতনতা মূলত নদটির ধ্বংসের দিকে অগ্রসর হওয়ার অন্যতম কারণ। যে যেভাবে পারছে নদ-তীরবর্তী জায়গা দখল করছে। নদ দখলের এই উৎসব চলতে থাকলে এই অঞ্চলের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হবে নদ-তীরবর্তী কয়েক লাখ মানুষ। নাড়ির টানে গত মাসে (মার্চ) ঢাকা থেকে যখন বাড়ি যাই, তখন নদটির দিকে তাকিয়ে (তালা ও কপিলমুনি বাজারের অংশে) দখলের মহোৎসব স্বচক্ষে অবলোকন করেছি।
এ নদ একসময় ৫০০ ফুট চওড়া ছিল। মানুষের নদবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এটি দিনে দিনে মারা যাচ্ছে। যত দূর জানা যায়, কপোতাক্ষ নদ খননের জন্য ২০১১ সালে সরকার ২৬২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়। কিন্তু একদিকে খনন অন্যদিকে নদ দখলের উৎসব চলতে পারে না। বিশাল অঞ্চলব্যাপী বিস্তৃত এ নদকে মুমূর্ষু অবস্থা থেকে বাঁচাতে না পারলে এই অঞ্চলের প্রকৃতি-পরিবেশ ও জীবিকার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে। দ্রুততার সঙ্গে নদীটির প্রায় ২৫০ কিলোমিটার খনন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ সঠিকভাবে নজরদারি করলে নদটি ফিরে পেতে পারে তার হারানো যৌবন।

সাধন সরকার

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন