বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

তালেবানের জয়ে পাকিস্তানের আরও একটি লাভ হলো, কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে আরও একটি পক্ষের শক্তি পেল। তবে পাকিস্তানের মদদ নিয়েই হোক আর না নিয়ে হোক, আফগানিস্তানভিত্তিক জিহাদিরা যদি ভারতশাসিত কাশ্মীরে ঢোকে, তাহলে তা পরমাণু শক্তিধর দুই শক্তি ভারত ও পাকিস্তানকে নিশ্চিতভাবে যুদ্ধের কিনারে নিয়ে যাবে। গত বছর দোহায় যুক্তরাষ্ট্র এবং আল-কায়েদার সমঝোতা চুক্তি হওয়ার পরপরই ভারতীয় উপমহাদেশভিত্তিক আল-কায়েদা আফগানিস্তান থেকে তাদের দৃষ্টি সরানোর ইঙ্গিত দিতে শুরু করে।

আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সেনা সরিয়ে নেওয়ার পর নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে আল-কায়েদা একটি বিবৃতি দিয়েছিল। তাতে বিশ্বের যেখানেই মুসলমানরা নির্যাতনের শিকার, সেখানেই জিহাদ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা সব মুসলমানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল। ওই বিবৃতিতে কাশ্মীরের নাম থাকলেও চেচনিয়া এবং জিনজিয়াংয়ের নাম ছিল না। এ কারণে নয়াদিল্লি মনে করে, ওই বিবৃতি পাকিস্তানের গোয়েন্দাদের জ্ঞাতসারেই তৈরি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আন্দাজ করা যায়, পাকিস্তান শুধু রাশিয়া-চীনের চক্করে পড়েছে তা নয়, ইসলামাবাদ তালেবানের ঘনিষ্ঠ সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গেও সম্পর্ক রাখছে।

আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনা এবং দেশটিকে মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারলে ইসলামাবাদ মস্কোর ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে। ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই রাশিয়া ও পাকিস্তান পারস্পরিক স্বার্থে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে।

ইসলামাবাদের জন্য আনন্দের বিষয় হলো, এই মুহূর্তে রাশিয়া ও চীন এই অঞ্চলে যে বিকল্প নিরাপত্তা দেওয়ার কথা বলছে, তাতে ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকছে। গোটা এশিয়ায় চীনের নেতৃত্বে যে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু হচ্ছে, তাতে ভূমিকা রাখার সুযোগ পাচ্ছে পাকিস্তান। আফগানিস্তান হয়ে মধ্য এশিয়ার দেশগুলো যদি পাকিস্তানের সমুদ্রবন্দরগুলোতে যেতে পারে, তাহলে মস্কো যারপরনাই খুশি হবে। মস্কো মনে করে, মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক মন্দাবস্থা এবং কর্মসংস্থানের অভাবের ওই অঞ্চলের যুবকেরা উগ্রপন্থায় সহজে জড়ায় এবং সেখান থেকে তাদের অনেকে ইরাক ও সিরিয়ায় গিয়ে সেখানকার আইএসে যোগ দিয়েছে।

আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আনা এবং দেশটিকে মধ্য এশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাবিকাঠি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারলে ইসলামাবাদ মস্কোর ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠবে। ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক যত গভীর হচ্ছে, ততই রাশিয়া ও পাকিস্তান পারস্পরিক স্বার্থে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। পাকিস্তানের দেখভালের মধ্য দিয়ে যদি আফগানিস্তানে স্থিতিশীলতা আসে, তাহলে সেটি আফগানিস্তানের খনি, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে নিয়োজিত চীনের বিনিয়োগকেও সুরক্ষিত করবে। আফগানিস্তানের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে চীন ও ইরানের মধ্যকার ২৫ বছরের সহযোগিতামূলক চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা শুরু হতে পারে। এই সব বড় পরিকল্পনার অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে পাকিস্তান।

মাথায় রাখা দরকার, আফগানিস্তানের এই উদীয়মান সরকারের ওপর পাকিস্তান একচ্ছত্র প্রাধান্য বিস্তার করতে পারবেই, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। পাকিস্তানের গোয়েন্দারা আফগান সরকারের প্রধান হিসেবে হাক্কানি নেটওয়ার্কের কাউকে বসানোর অনেক চেষ্টা করেও তা করতে পারেনি। এতে বোঝা যায়, তালেবানের ওপর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ সীমিত।

পাকিস্তান চায় না তার ভূখণ্ডে তৎপর থাকা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ও আইএস খোরাসানে আফগানিস্তানের কোনো তালেবান গিয়ে যোগ দিক। আফগান তালেবান হয়তো আইএস খোরাসানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে না, কিন্তু টিটিপির সঙ্গে তাদের সম্পর্ক থাকবেই।

নানা সময় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যাচ্ছে, টিটিপি জঙ্গিরা তালেবানের সঙ্গে এক হয়ে লড়েছে। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জাভেদ বাজওয়া বলেছেন, আফগান তালেবান আর টিটিপি আসলে একই মুদ্রার দুই পিঠ। এই দুই পিঠ এক হলেই পাকিস্তান দিশেহারা হয়ে পড়বে। পাকিস্তানে সে ধরনের আভাস এখনই দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় নেতারা সেখানে প্রকাশ্যে বলছেন, তাঁরা পাকিস্তানে আফগান কায়দার শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন।

এ কারণে আফগানিস্তানের তালেবানকে সমর্থন দেওয়া এবং সহযোগিতা করার বিষয়ে পাকিস্তান সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

দানেশ কামাত মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক বিশ্লেষক ও লেখক

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন