default-image

প্রথম আলো: দেশে গত মার্চ থেকে কোভিড-১৯ সংক্রমণের গতিপথ হঠাৎ পাল্টে গেছে। কিছুদিন আগেও সরকার থেকে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সাফল্যের কথা বলা হচ্ছিল। কিন্তু দেখা গেল, সংক্রমণ আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ের জন্য সরকারের কি কোনো রকম প্রস্তুতি ছিল না?

টিটো মিঞা: দেশে সংক্রমণ নিম্নগামী হচ্ছিল। স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতিও চলছিল। এ ক্ষেত্রে একটি যুক্তি ছিল যে আমরা টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া শুরু করেছিলাম। এটা ঠিক নয় যে কোনো প্রস্তুতি ছিল না। সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলার বিষয়টি মাথায় রেখেই কিন্তু বাকি সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। উদাহরণ হিসেবে বলতে চাই, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে অনেকগুলো আইসিইউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হওয়ার আগেই সেগুলো মেরামত করা হয়। পাশাপাশি আরও ১০টি আইসিইউ যুক্ত করা হয়।

সংক্রমণ কমে যাওয়ার পর কিছু হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবা সংকুচিত করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে শর্ত ছিল যে প্রয়োজন হলেই আবার চালু করার প্রস্তুতি থাকতে হবে। কয়েকটি হাসপাতালে করোনার চিকিৎসা পুরোপুরি চালু রাখা হয়েছিল। এসব বিবেচনায় বলা যায় প্রস্তুতি ছিল। রোগী যখনই বেড়ে গেল, সবাই মিলে যুদ্ধে নেমে গেছি। আমরা মনে হয় খুব বেশি দেরি করিনি।

বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের অর্থনীতি কাছাকাছি পর্যায়ের। যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক গবেষণাবিষয়ক সংস্থা সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চের সর্বশেষ একটি প্রতিবেদনের পূর্বাভাস হলো, ২০৩৫ সাল নাগাদ বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির ২৫টি দেশের তালিকায় যুক্ত হবে তিনটি নতুন দেশ—ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশ। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ভিয়েতনামের সাফল্য সারা বিশ্বে প্রশংসিত। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন পারল না?

টিটো মিঞা: সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোসহ প্রায় সব দেশ যখন ব্যর্থ হচ্ছিল, তখন ভিয়েতনাম শুরু থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পেরেছিল। তাদের সংক্রমণ ‘ডিটেকশন রেট’ ছিল খুব বেশি। দেশটির জনগণও সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে সহযোগিতা করেছে। নিয়মকানুন মেনে চলেছে। শুরুতে আমরা মাস্ক পরা থেকে শুরু করে সুরক্ষাবিধি মোটামুটি ভালোভাবে মেনে চলেছি। পরে ঢিলেঢালা ভাব এসেছে। ভিয়েতনাম সুরক্ষাবিধি মেনে চলেছে সারা বছর ধরে।

বাংলাদেশও কিন্তু কোভিড-১৯ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে ব্লুমবার্গের বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে আমরা ২০তম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিলাম। এমনকি ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও আমাদের অবস্থান ভালো ছিল। হঠাৎ আমাদের এই অবস্থা কেন হলো? নতুন করে সংক্রমণ যে বেড়েছে, তার একটা কারণ মানুষ মাস্ক পরা বাদ দিয়েছে। সামাজিক অনুষ্ঠান বেড়ে গিয়েছিল। কোভিড-১৯-এর নতুন কিছু ধরন এসেছে। সেটা সংক্রমণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এখন সংক্রমণের পাশাপাশি মৃত্যুও বাড়ছে। মৃত্যুর সংখ্যা কি কমানোর সুযোগ ছিল?

টিটো মিঞা: আমাদের জানামতে, বাংলাদেশে অন্যান্য দেশের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা কম। এটা আরও বেশি হতে পারত। দেশে দ্বিতীয় ঢেউয়ে ছড়িয়ে পড়া করোনার ধরনটি উচ্চ মাত্রায় সংক্রামক। কম বয়সী মানুষও অনেক বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। আমি বলব, সংক্রমণের হারের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার কম। যদিও একজনের মৃত্যুও কাম্য নয়।

মৃত্যুহার কম হওয়ার কারণ, এবার আমাদের চিকিৎসাপদ্ধতি ও হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বেড়েছে। গত বছর করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকে হাই ফ্লো অক্সিজেন অনেক ক্ষেত্রেই ছিল না। এবার প্রায় প্রতিটি হাসপাতালে তা রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও সক্ষমতা অনেক বেড়েছে। আইসিইউগুলোতে যাঁরা কাজ করছেন, গতবার তাঁদের করোনা ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা ছিল না। এবার দেখা যাচ্ছে আইসিইউতে যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁরা সহসা মৃত্যুবরণ করছেন না। আরেকটা বিষয় হলো, টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে অথবা হাসপাতালে এখন রোগীরা রক্ত পাতলা করার ওষুধ পাচ্ছেন। গতবার দেখা গেছে, রক্ত জমাট বেঁধে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এবার মৃত্যুর বড় কারণ ফুসফুস বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া।

মৃত্যু কি আরও কমানো যেত অথবা এখনো কমিয়ে আনার সুযোগ আছে বলে মনে করেন কি?

টিটো মিঞা: হ্যাঁ, মৃত্যুর সংখ্যা হয়তো আরও কমানো যেত। আমরা এবার কিছু কিছু রোগী পেয়েছি, যাঁরা বাসায় অক্সিজেন নিয়েছেন। বেশ কিছু রোগী পেয়েছি, যাঁরা হাসপাতালে আসছেন, কিন্তু দেরি করে। বাসায় অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থাপনা বিজ্ঞানসম্মতভাবে হয় না। ঘরে সিলিন্ডার দিয়ে চার থেকে পাঁচ লিটারের বেশি অক্সিজেন দেওয়া যায় না। হাসপাতালে কমপক্ষে ১৫ লিটার থেকে শুরু করে অনেক বেশি অক্সিজেন দেওয়া যায়। রোগীরা যদি সচেতন হয়ে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে আসতেন, তাহলে আশা করা যায় মৃত্যু আরেকটু কমত।

আপনি অক্সিজেনের কথা বলছিলেন। করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন দুটি পৃথক প্রকল্পের অগ্রগতির পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১০ মাস ধরে ১ হাজার ২০০টি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর পড়ে আছে। কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে পড়ে আছে ৩০০ ভেন্টিলেটর বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র। অথচ করোনার রোগীরা হাসপাতালে অক্সিজেন-সংকটের মুখে পড়ছেন। আপনার পর্যবেক্ষণ কী?

টিটো মিঞা: আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি আইসিইউর সংখ্যা বেড়েছে। অনেক জায়গায় আইসিইউ স্থাপনের কাজ চলছে। আসলে ১ শতাংশের কম রোগীর আইসিইউ লাগে। মূল চিকিৎসার জায়গা হলো হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা, অক্সিজেন। ঢাকা শহরে ও অনেক জেলায় কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা আছে। যখন সংক্রমণ নিচের দিকে, তখনো সরকার ৫০০ হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলা কিনেছে। বেসরকারি খাতেও যথেষ্ট ক্যানুলা রয়েছে। যেসব আইসিইউ পড়ে আছে, সেগুলা হয়তো স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছিল। শুধু আইসিইউর কথা বলায় মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে। মূল জায়গা হলো অক্সিজেন সরবরাহ।

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও চীনের যৌথ মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, চীনে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ শতাংশের উপসর্গ ছিল মৃদু। হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং ক্যানসারে আক্রান্তদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। বাংলাদেশেও করোনার প্রথম ঢেউয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে এমন প্রবণতা দেখা গেছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে কোনো পার্থক্য কি লক্ষ করা যাচ্ছে?

টিটো মিঞা: বাংলাদেশে গত বছর প্রবণতাটা ছিল অন্যান্য দেশের মতোই। যাঁরা জটিল রোগে আক্রান্ত ছিলেন, করোনায় তাঁদের মৃত্যুর হার বেশি ছিল। এবারও কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রোগাক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু বেশি। তবে এবার দুটি পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। একটি হলো, গতবার রোগীদের পরিস্থিতির অবনতি হতে দেখা গেছে ৮ থেকে ১২তম দিনের দিকে। এবার দেখা যাচ্ছে চার থেকে সাত দিনেই রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে। আরেকটি নতুন দিক হলো, বেশি দ্রুতগতিতে ফুসফুস আক্রান্ত হচ্ছে। বেশির ভাগের ক্ষেত্রেই এই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। এবার রক্তনালি বন্ধ হয়ে মৃত্যু হচ্ছে না বললেই চলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফুসফুস এবং সেটা দ্রুত সময়ের মধ্যে। তরুণেরা এবার বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। তাঁদের ফুসফুস খুব দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদি রোগ না থাকার পরও। হতে পারে করোনার নতুন ধরন এর জন্য দায়ী।

ঢাকা মেডিকেল এটা নিয়ে কি কোনো গবেষণা করছে?

টিটো মিঞা: আমরা কিছু তথ্য সংগ্রহ করছি। আর করোনার ধরন শনাক্তে কাজ করছে আইইডিসিআর।

করোনার চিকিৎসা প্রটোকলে এটা নিয়ে নতুন কোনো নির্দেশনা যুক্ত করা হয়েছে কি?

টিটো মিঞা: আমরা সেটা নিয়ে কাজ করছি। প্রতিনিয়তই বসছি। আমি নিজেও গাইডলাইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত। অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করা, রোগীকে দ্রুত অক্সিজেনের সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা, সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত ছাড় করে নতুন রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অক্সিজেন দেওয়া এবং চিকিৎসকদের প্রতিনিয়ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।

বিজ্ঞাপন

আপনি বলছিলেন, যাঁরা বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাঁদের অনেকে হয়তো পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন না। বাড়িতে মৃত্যু হচ্ছে। কিন্তু হাসপাতালে কি পর্যাপ্ত শয্যা আছে?

টিটো মিঞা: আমি বলব, রোগীর চাপ কয়েক দিন ধরে একটু কম। সেটা হয়তো সংক্রমণ কমেছে বলে। আমরা কিন্তু তৈরি হচ্ছি। প্রথম দিকে আমরা রোগী নিতেই পারছিলাম না। এখন সে পরিস্থিতি নেই। অনেকগুলো হাসপাতালেই শয্যা খালি আছে।

শীত বা গরমের সঙ্গে করোনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—শুরু থেকেই এটি একটি আলোচিত বিষয়। এ বিষয়ে আপনার কী মত?

টিটো মিঞা: গতবারও আমরা ভেবেছিলাম গরমের সময় সংক্রমণ হবে না। শীতকালে বেশি হবে, এমন একটা ধারণাও ছিল। কিন্তু আমাদের দেশে পুরো উল্টো ঘটনা ঘটেছে। তাপমাত্রার সঙ্গে করোনার সংক্রমণের সম্পর্ক নিয়ে কোনো বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেই।

মৃত্যু আরও কমাতে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কী করণীয়?

টিটো মিঞা: আমি দুটি দিক থেকে বলব। এক. যাঁদের দীর্ঘমেয়াদি জটিল রোগ আছে, তাঁদের সতর্ক হতে হবে। জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আক্রান্ত হওয়ার পর যাঁদের অক্সিজেন কমতে থাকে, দেরি না করে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দুই. চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। সেটার জন্য সরকার চেষ্টা করে যাচ্ছে। পাশাপাশি করোনার ধরন ও গতিবিধি সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানতে পারলে প্রতিরোধ পরিকল্পনা নেওয়া যাবে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে মহামারি চলছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় আমাদের অর্জন কী কী? আর দুর্বলতা কী?

টিটো মিঞা: কোভিড মোকাবিলায় অর্জন হলো, আমরা বরাবরই সক্ষমতার তুলনায় কাজ বেশি করি। কারণ, আবেগ কাজ করে। এবার টিম ওয়ার্ক বা দলগতভাবে কাজ হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় হয়েছে। শুধু চিকিৎসক বা নার্সরা নন, গণমাধ্যম বিশাল ভূমিকা রেখেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ভালো ভূমিকা রেখেছে। সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করেছে। সব মিলিয়ে এটা বিশাল অর্জন। আরেকটি হলো টেলিমেডিসিন। ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা কোভিডের সময় আমরা কাজে লাগাতে পেরেছি। বিপুলসংখ্যক রোগী বাসায় বসে টেলিমেডিসিন সেবা পেয়েছেন। হাসপাতালগুলোর সক্ষমতাও বেড়েছে।

দুর্বলতার জায়গা হলো, সংক্রমণ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আরও উন্নতি করতে হবে। পরীক্ষার সক্ষমতা বেড়েছে। ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যেন নিজেরা কিট তৈরি করতে পারি। জনগণকে আরও সচেতন করা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। স্থানীয় সমস্যা বোঝার জন্য গবেষণা জোরদার করতে হবে। আমরা যদি আরও তাড়াতাড়ি করোনার নতুন নতুন ধরন শনাক্ত করতে পারতাম, গবেষণা আরও বেশি হতো, তাহলে উপকার হতো।

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন