বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

হুদায়বিয়ার সন্ধির পর মক্কার ‘বনু খোজাআ’ গোত্র হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর সঙ্গে এবং ‘বনু বকর’ গোত্র কুরাইশদের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি করে। এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে পূর্বশত্রুতা ছিল। কুরাইশদের প্ররোচনায় বনু বকর গোত্রের আবাসভূমি ওয়াতিরের নিভৃত পল্লিতে রাতের অন্ধকারে অতর্কিতে হামলা করে অসহায় নারী–শিশুদের নির্বিচার হত্যা ও লুণ্ঠন করা হয়। প্রাণভয়ে কাবাঘরে আশ্রয় নেওয়া নিরীহ মানুষকেও তারা হত্যা করে। এ ঘটনার প্রতিকারের জন্য খোজাআ সম্প্রদায় মদিনার মিত্র মুসলমানদের সহযোগিতা চায়। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিকারের জন্য দূত মারফত মক্কার কুরাইশ নেতাদের জানালেন, ‘তোমরা বনি খোজাআ গোত্রকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাও, নয়তো বনু বকর গোত্রের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি বাতিল করো; না হলে হুদায়বিয়ার সন্ধির শর্ত লঙ্ঘন হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং এ চুক্তি বাতিল বলে গণ্য হবে।’ কুরাইশ নেতারা তৃতীয় পন্থাই গ্রহণ করল।

ইমান, ইসলাম ও বিশ্বমানবতার কেন্দ্রভূমি মক্কাকে পঙ্কিলতামুক্ত করার জন্য অষ্টম হিজরিতে বিশ্বনবী নীরব আয়োজন করলেন। তিনি ধ্বংস চান না, তিনি কুরাইশদের রক্ষা করতে চান। তিনি চান প্রেম ও ভালোবাসা দিয়ে জয় করতে। হজরত মুহাম্মদ (সা.) ১০ রমজান ১০ হাজার সাহাবিসহ মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা করলেন। মক্কার উপকণ্ঠে এসে ‘মাওরাউজ জাহরান’ নামের গিরি উপত্যকায় তাঁবু স্থাপন করলেন। ১৯ রমজান রাতে আবু সুফিয়ান হাকিম ইবনে নিজাম ও বুদাইলকে সঙ্গে নিয়ে অনুসন্ধানে বের হলে হজরত উমর (রা.)–এর নেতৃত্বে টহলরত ছদ্মবেশী গেরিলা সাহাবিরা তাঁদের বন্দী করেন। তাঁদের নবীজি (সা.)–এর কাছে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ২১ বছরের নিষ্ঠুরতার গুরু আবু সুফিয়ানকে রহমতের নবী (সা.) প্রেম–ভালোবাসার দীক্ষা দিলেন, পাষাণহৃদয় দয়ার সাগরে স্নাত হলো, তিনি ইমান আনলেন।

হজরত উসামা ইবনে জায়েদের সঙ্গে উটে চড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অবনত মস্তকে সবার শেষে মক্কায় প্রবেশ করলেন। হজরত মক্কাবাসীকে নিয়ে একটি সভা করলেন। সভায় ভাষণে তিনি সাম্য, মৈত্রী ও একতার কথা বললেন: হে কুরাইশরা! অতীতের সব ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে মুছে ফেলো, কৌলীন্যের গর্ব ভুলে যাও, সবাই এক হও। সব মানুষ সমান—এ কথা বিশ্বাস করো।

প্রিয় নবী (সা.) মক্কা জয়ের আগেই মক্কাবাসীর মন জয় করে বড় বিজয় অর্জন করলেন। এ সময় নবীজির চাচা হজরত আব্বাস (রা.), যিনি কৌশলগত কারণে মক্কাবাসীর কাছে তাঁর ইসলাম গ্রহণ গোপন রেখেছিলেন, তিনিও তা প্রকাশ করলেন। এই উভয় কুরাইশ নেতাকে নবীজি (সা.) শান্তির পয়গাম ঘোষণার জন্য সকালে মক্কায় পাঠালেন এবং ঘোষণা দিতে বললেন, ‘যারা কাবাঘরে আশ্রয় নেবে, তারা নিরাপদ; যারা আবু সুফিয়ানের বাড়িতে আশ্রয় নেবে বা তার নাম বলবে, তারা নিরাপদ; যারা নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করবে, তারাও নিরাপদ।’

মক্কা বিজয়ের দিন ১৯ রমজান সকালে নবীজি (সা.) সাহাবায়ে কিরামের বিভিন্ন দলকে মক্কার বিভিন্ন দিক থেকে প্রবেশের নির্দেশ দিলেন এবং কাউকে আক্রমণ না করতে নির্দেশ দিলেন। ইতিপূর্বে ‘মুতা’ অভিযানেও তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘কোনো সাধু–সন্ন্যাসীকে হত্যা করবে না, বালক–বালিকা ও শিশুদের হত্যা করবে না, নারীদের হত্যা করবে না, বৃক্ষনিধন করবে না, শস্যখেত ধ্বংস করবে না, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করবে না এবং আত্মসমর্পণকারীকে আঘাত করবে না।’

হজরত উসামা ইবনে জায়েদের সঙ্গে উটে চড়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) অবনত মস্তকে সবার শেষে মক্কায় প্রবেশ করলেন। হজরত মক্কাবাসীকে নিয়ে একটি সভা করলেন। সভায় ভাষণে তিনি সাম্য, মৈত্রী ও একতার কথা বললেন: হে কুরাইশরা! অতীতের সব ভ্রান্ত ধারণা মন থেকে মুছে ফেলো, কৌলীন্যের গর্ব ভুলে যাও, সবাই এক হও। সব মানুষ সমান—এ কথা বিশ্বাস করো।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম

[email protected]

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন