বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আমি যখন মিম্বারের প্রথম ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা পিতা–মাতাকে বার্ধক্য অবস্থায় পেয়েও তাঁদের খেদমতের মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম, আমিন! যখন দ্বিতীয় ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা রমাদান পেল কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে তাদের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি বললাম, আমিন! আমি যখন মিম্বারের তৃতীয় ধাপে পা রাখি, তখন তিনি বললেন, “আল্লাহ তাআলা বলেছেন, যারা আপনার পবিত্র নাম মোবারক শুনল কিন্তু দরুদ শরিফ পাঠ করল না, তারা ধ্বংস হোক।” তখন আমি সম্মতি জানিয়ে বললাম, আমিন (মুসলিম শরিফ)।’

মাহে রমজানের ফজিলত–সংক্রান্ত তিনটি হাদিসে এর সুফল প্রাপ্তির জন্য ‘ইমান’ এবং ‘ইহতিসাব’ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ইমান (পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস) ও ইহতিসাবের (আত্মজিজ্ঞাসা) সঙ্গে রমজান মাসে রোজা রাখবে, তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ ‘যে ব্যক্তি ইমান (পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস) ও ইহতিসাবের (আত্মপর্যালোচনা বা আত্মসমালোচনা) সঙ্গে রমাদান মাসে রাত জাগবে (তারাবিহ পড়বে, ইবাদত করবে), তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।’ ‘যে ব্যক্তি ইমান (পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস) ও ইহতিসাবের সঙ্গে কদরের রাত জেগে ইবাদত করবে; তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বুখারি, হাদিস: ৩৭, ৩৬ ও ৩৪)।’

তাকওয়ার নিমিত্তে রমজান। তাকওয়ার মূল কথা হলো নিয়ন্ত্রিত সুশৃঙ্খল জীবন। আমাদের দেখা দরকার আমরা রমজানের লক্ষ্য কতটুকু অর্জন করতে পারছি। আমাদের সিয়াম সাধনা কতখানি সার্থক হয়েছে। রমজানে আমরা রোজা পালন করলাম, তারাবিহ সালাত আদায় করলাম, কোরআন তিলাওয়াত ও অধ্যয়ন করলাম; এখন দেখার বিষয় হলো কোরআনের নির্দেশ আমার ব্যক্তিজীবন, পরিবার ও সমাজে বাস্তবায়ন করছি কি না। সত্যতা, পবিত্রতা ও প্রেম কতটুকু অর্জন করেছি।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার হিসাব নেওয়ার আগে নিজের হিসাব নিজে করে রাখো (বুখারি ও মুসলিম)।’ আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মানুষের হিসাব নিকটে এসে গেছে, তবু তারা উদাসীনতায় মুখ ফিরিয়ে আছে (সুরা-২১ আম্বিয়া, আয়াত: ১)।’ কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা বলবেন, ‘তোমার হিসাব কিতাব পাঠ করো, আজ তোমার হিসাবের জন্য তুমি নিজেই যথেষ্ট (সুরা-১৭ বনি ইসরাইল, আয়াত: ১৪)।’

অনেকেই রমজানে রোজা রাখেন, তারাবিহ পড়েন, ঈদের চাঁদ উঠলেই মনে করেন ইবাদতের সমাপ্তি ঘটেছে, ছুটি হয়েছে। এ ছুটির অলীক আনন্দে অনেকের সেদিনের মাগরিবের ফরজ নামাজও ছুটে যায়। ২৭ দিন অতি যত্নে খতম তারাবিহ পড়ে ২৮তম দিনে তারাবিহর নামাজকেই ছুটি দিয়ে দেন কেউ কেউ। কারও কারও এশার নামাজও তরক হয়ে যায়। এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের রাতে ইবাদতে মশগুল না হয়ে অন্যায় রকম আনন্দ–ফুর্তি করা রমজানে তার ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। যার রমজানের ইবাদত সফল হবে, কবুল হবে; তিনি রমজানের শেষে ফরজ তরক করা, সুন্নত বর্জন করা ও গর্হিত অন্যায় গুনাহের কাজে লিপ্ত হওয়া থেকে অবশ্যই বিরত থাকবেন।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী

যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম [email protected]

মতামত থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন