বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোগাড়ে জাতিসংঘকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এই সহযোগিতা চাবিকাঠি হতে পারে। মৌলিক সেবা, যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো খাতে এ সহযোগিতা ব্যয় করতে হবে। কখনো যদি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কমে যায়, তখন জাতিসংঘ যেন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা একটা জরুরি ট্রাস্ট তহবিল গঠন করতে পারে।

এসব কাজ করতে হলে আরও বেশি অবকাঠামো, জনবল ও সম্পদ দরকার হবে। ১৭ সেপ্টেম্বর নিরাপত্তা পরিষদ আফগানিস্তানে জাতিসংঘ সহযোগিতা কার্যক্রম আরও ছয় মাসের জন্য বাড়িয়েছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে আফগানিস্তানে জাতিসংঘের ভূমিকা কমপক্ষে পাঁচটি ক্ষেত্রে বাড়াতে হবে।

প্রথমত, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ‘আফগান নেতৃত্বাধীন, আফগানদের দিয়ে পরিচালিত জাতীয় পুনরেকত্রীকরণ’–এর যে আহ্বান জানিয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে বিবদমান গোষ্ঠীগুলোকে ভালো একটা জায়গা করে দিতে পারে। নিরপেক্ষ ও অভিজ্ঞ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সেখানে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও বড় পরিসরে সরকার গঠনে প্রচেষ্টা চালাতে পারে। সরকার এবং সরকারের বাইরে বিভিন্ন শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী সংস্থার সঙ্গে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। ২০০১-২০০৫ পর্যন্ত বন চুক্তির আলোকে আফগানিস্তানে সরকার গঠন করা হয়েছিল। সেই সরকারের কাঠামো জাতিসংঘকে এ ধরনের ভূমিকা পালনে সহায়তা করতে পারে। আফগানিস্তান ও আঞ্চলিক অন্যান্য বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের ব্যক্তিগত দূত জেন আরনল্ট জাতিসংঘের প্রখ্যাত মধ্যস্থতাকারী লাখদার ব্রাহিমির সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করছেন। লাখদার ব্রাহিমি বন চুক্তি বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

দ্বিতীয়ত, মানবিক সংকট নিরসনের কেন্দ্রীয় সংস্থা হিসেবে জাতিসংঘ তালেবান, বিশ্বপর্যায়ের নেতা, আঞ্চলিক শক্তি ও দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। আফগানিস্তানে সাম্প্রতিক কালে যত যুদ্ধ হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, মৌলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রশ্ন জড়িত ছিল। সেখানে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রতিবেশী দেশ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সহযোগিতা ছাড়া সেটা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

তৃতীয়ত, আফগানিস্তান বিষয়ে জাতিসংঘ অনুসমর্থন ঘোষণা করেছে। সংকটপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যুগুলোতে নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মিত তদারকি এবং কী হচ্ছে না হচ্ছে, সে সম্পর্কে জানানোর বিধান থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং আফগানিস্তানের জন্য সহযোগিতা পাওয়ার জন্য তালেবানকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দেওয়া রাজনৈতিক ও মানবাধিকার শর্তগুলো অবশ্যই মেনে চলতে হবে। আফগানিস্তানে একটা অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রতিনিধিত্বশীল সরকার গঠনের শর্ত এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ফিরে আসা ঠেকানো এবং নাগরিকদের রক্ষা করার শর্তও সেখানে যুক্ত করতে হবে।

চতুর্থত, চিকিৎসা, ত্রাণ, খাদ্যসহায়তা এবং অন্য দানগুলো সমন্বয় করতে জাতিসংঘ সহযোগিতা করতে পারে। আফগানিস্তানে জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি ডেবোরাহ লায়ন্স আগস্ট মাসে নিরাপত্তা পরিষদে দেওয়া বিবৃতিতে জানান, ১ কোটি ৮৫ লাখ আফগানের জন্য মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। এ সংখ্যা আফগানিস্তানের জনসংখ্যার অর্ধেকটা। খরা এবং কোভিড-১৯ মহামারি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করেছে। এ উদ্বেগজনক ঘটনায় সাড়া দিয়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জেনেভায় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক ডেকেছিল জাতিসংঘ। আফগানিস্তানের মানবিক সংকট নিরসনে ওই বৈঠক থেকে ১২০ কোটি ডলার সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

পরিশেষে, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোগাড়ে জাতিসংঘকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে এই সহযোগিতা চাবিকাঠি হতে পারে। মৌলিক সেবা, যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো খাতে এ সহযোগিতা ব্যয় করতে হবে। কখনো যদি দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা কমে যায়, তখন জাতিসংঘ যেন প্রধান তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হিসেবে কাজ করতে পারে। তারা একটা জরুরি ট্রাস্ট তহবিল গঠন করতে পারে।

বন চুক্তিতে জাতিসংঘ প্রতিনিধি হিসেবে নেতৃত্ব দেওয়ার ঘটনা স্মরণ করে ব্রাহিমি মন্তব্য করেছেন, ‘২০০২ ও ২০০৩ সালে তালেবানের সঙ্গে আলাপ না করা আমার সবচেয়ে বড় ভুল ছিল। যারাই আগ্রহী, তাদের সঙ্গেই আলাপ চালিয়ে যাওয়া উচিত।’ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একই ভুল আবার করা উচিত নয়। এমনকি তালেবানও জানে, আগের আমলের শাসনের চেয়ে এখনকার আফগানিস্তানের পার্থক্য অনেক বেশি।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

রিচার্ড পনজিও স্টিমসন সেন্টারের পরিচালক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন