বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় বিষয়টি হলো দেশটিতে দারিদ্র্যের মাত্রা হু হু করে বাড়ছে। শিগগিরই দেশটির মোট জনসংখ্যার বেশির ভাগই দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে। এ রকমের একটি পরিস্থিতি নিয়ে কারও রাজনীতি করা ঠিক হবে না। তালেবান এখন আফগানিস্তানে শাসন করছে—তাতে কিছু যায় আসে না। তালেবান সরকারের স্বীকৃতি আছে কি নেই সেটিও এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বড় বিষয় হওয়া উচিত হবে না।

মনে রাখা দরকার, রাজনীতি অপেক্ষা করতে পারে। কিন্তু অর্থনৈতিক পতন সাধারণ আফগানদের অপূরণীয় ক্ষতি করবে। মানবিক বিপর্যয় যদি আফগানিস্তানকে বড় আকারের প্রাণহানির দিকে নিয়ে যায়, তাহলে এ পরিস্থিতিকে অবহেলা করার জন্য বিশ্ব নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবে না। আমি মনে করি, তিন অংশীজনকে এ বিষয়ে সরাসরি দায় নিতে হবে। প্রথম এবং সর্বাগ্রে এর দায় তালেবান শাসকদের নিতে হবে। সবার প্রত্যাশা রয়েছে, তালেবান সরকার তার দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলোকে সম্মান করবে এবং সে অনুযায়ী বাস্তব পদক্ষেপ নিয়ে তারা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে, নারীদের সম্মান করার মতো মানবাধিকার নিশ্চিত করবে এবং আফগান মাটি কোনো সন্ত্রাসীকে ব্যবহার করতে দেবে না।

দেরিতে হলেও সৌদিরা কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তান কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে ওআইসি বৈঠকের আয়োজন করেছে। সেখানে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে ওআইসি আফগানিস্তানের মানবিক সংকট মোকাবিলায় যোগ দেবে। ওআইসি যদি মানবিক ত্রাণ অর্থায়নের জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে তাহলে ভালো হয়।

তালেবান সরকার আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে এবং আপসহীন পন্থা অবলম্বন করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা আছে। তালেবান সরকার যদি আন্তর্জাতিক প্রত্যাশা পূরণে অগ্রগতি লাভ করে, তাহলে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক রূপ নিয়ে আসতে পারে। এর পরের অংশীজন হলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়—জাতিসংঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো জাতিসংঘের সংস্থাগুলো আফগানিস্তানজুড়ে সক্রিয় থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে এবং কী উদ্যোগ নেবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনমূলক পদক্ষেপকে সে দেশের ঘরোয়া রাজনীতি বাধাগ্রস্ত করছে বলে মনে হচ্ছে।

সুতরাং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানকে স্থিতিশীল করার জন্য যথাযথ ভূমিকা পালন করবে—এ প্রত্যাশা কাজ করছে। বিশেষ করে বন্ধ থাকা আফগান তহবিল চালু করার উপায় খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র আন্তরিক ভূমিকা রাখবে—এমনটাই সবাই প্রত্যাশা করে।

তৃতীয় অংশীজন হলো মুসলিম উম্মাহ। এ পরিস্থিতিতে তারা কী করছে, সেটি এক বড় প্রশ্ন। দেরিতে হলেও সৌদিরা কিছুটা উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তান কয়েক দিন আগে ইসলামাবাদে ওআইসি বৈঠকের আয়োজন করেছে। সেখানে পাকিস্তান আশা প্রকাশ করেছে ওআইসি আফগানিস্তানের মানবিক সংকট মোকাবিলায় যোগ দেবে। ওআইসি যদি মানবিক ত্রাণ অর্থায়নের জন্য একটি ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে তাহলে ভালো হয়। আফগানদের সরাসরি সহায়তা দিতে মুসলিম বিশ্বের দাতব্য ও জনহিতকর সংস্থাগুলোও সমন্বিত পদক্ষেপ নিলে পরিস্থিতি মোকাবিলা সহজ হবে।

এটা আনন্দের যে পাকিস্তান মুসলিম বিশ্বকে একত্র করার এ সময়োপযোগী উদ্যোগ নিয়েছে। পাকিস্তান সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা আফগান সরকারের পক্ষে কথা বলছে না। আফগান নাগরিকদের জন্য সমর্থন আদায় করাই ওআইসি সম্মেলনের আয়োজক পাকিস্তানের একমাত্র উদ্দেশ্য। এটি একটি মহৎ উদ্দেশ্য। মুসলিম বিশ্ব আর্থিক ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে কতটা উদার তার আসল পরীক্ষা এখন তাদের সামনে। এ পরীক্ষায় তাদের পাস করতেই হবে।

ডন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

  • ইজাজ আহমেদ চৌধুরী পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন