বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশ্ব মুসলিমের দুটি ঈদের একটি ঈদুল ফিতর। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন: ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দের মুহূর্ত রয়েছে। একটি হলো যখন সে ইফতার করে; দ্বিতীয়টি হবে যখন সে তার মাবুদ আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।’ (বুখারি)। রোজাদার প্রতিদিন ইফতার করে; আবার পরের দিন রোজা রাখে। এটি হলো ছোট ইফতার; কারণ এটির পর আবারও রোজা আসে।

ইফতার বা ফিতর হলো রোজা পূর্ণ করার পর আহার গ্রহণ করা; পূর্ণ রমজান মাস রোজা পালন শেষে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন সকালে যখন রোজাদার মিষ্টিমুখ করে তখন সে এক বছরের জন্য প্রকৃত অর্থে ইফতার করে বা সিয়াম সাধনা সম্পূর্ণ করে প্রথম সকালের আহার গ্রহণ করে। তাই এটি এক বছরের জন্য বড় ইফতার। সুতরাং ঈদুল ফিতর রোজাদার মুমিন মুসলমানের জন্য পরম আনন্দের দিন।

রমজানের ঈদে সকলকে শামিল করার জন্য ইসলামে সদকাতুল ফিতরের বিধান দেওয়া হয়েছে। তাই আপনার গরিব আত্মীয়স্বজন, পাড়াপ্রতিবেশী, সহকর্মী, অধস্তন কর্মচারী ও অধীনস্থ ব্যক্তি যেন তার পরিবার নিয়ে ঈদ উদ্যাপন করতে পারে সে জন্য ঈদের আগে-পরে দান-খয়রাত ও ফিতরা জাকাত বেশি বেশি প্রদান করুন। বিশেষত পিতা-মাতার জন্য ব্যয় করুন, পিতা-মাতা না থাকলে তাঁদের উদ্দেশে দান করুন। আপনার ঈদ আনন্দ হবে জীবনব্যাপী। ইহকালে এবং পরকালে।

রমজানের ঈদের প্রস্তুতি হলো পূর্বেই শারীরিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অর্জন করা; হাত পায়ের নখ কাটা, ক্ষৌরকর্ম করা। ঈদের রাতে ঘুমানোর পূর্বে চোখে সুরমা ব্যবহার করা। ঈদের দিন খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠা। ফজরের নামাজ পুরুষদের জন্য মসজিদে জামাতে আদায় করা এবং নারীদের নিজ গৃহে নিভৃতে আউয়াল ওয়াক্তে পড়া। ভোরে মিসওয়াক করা ও গোসল করা। সকাল বেলায় মিষ্টান্ন আহার করা। সাধ্যমতো ও সামর্থ্য অনুযায়ী সুন্দর এবং উত্তম ইসলামি সুন্নতী পোশাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন জামা-কাপড় পরিধান করা। টুপি ও পাগড়ি পরিধান করা। আঁতর বা সুগন্ধী ব্যবহার করা। সদকাতুল ফিতর আদায় করা (পূর্বে আদায় করলেও হবে)। পুরুষেরা ও ছেলেরা ঈদের মাঠে যাওয়া ও ঈদের জামাতে শামিল হওয়া এবং খুতবা শোনা। সম্ভব হলে ঈদগাহে এক পথে যাওয়া ও অন্য পথে ফিরে আসা। ঈদের মাঠে যাওয়া আসার পথে আস্তে আস্তে তকবির (‘আল্লাহু আকবার’ অর্থাৎ ‘আল্লাহ মহান’ বা ‘আল্লাহ সবচেয়ে বড়’) বলতে থাকা। সম্ভব হলে ঈদগাহে বা খোলা মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা। সুযোগ থাকলে স্থানীয় কবর ও আত্মীয়স্বজনদের কবর জিয়ারত করা। আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া, দেখা সাক্ষাৎ করা ও খোঁজ খবর নেওয়া এবং একে অন্যকে আদর আপ্যায়ন করা ইত্যাদি। আত্মীয়-স্বজন, আপনজন ও প্রিয়জন যারা দূরে অবস্থান করছেন ফোনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের খোঁজ খবর নেওয়া ও শুভেচ্ছা বিনিময় করা।

ইসলাম প্রকৃতির অনুকূল ও কল্যাণের ধর্ম। ইসলাম জ্ঞান ও বিবেকের ধর্ম। ইমান ও ইসলাম হলো সুরক্ষা, শান্তি ও নিরাপত্তার নাম। ইসলামি শরিয়তের উদ্দেশ্য হলো: জীবনের সুরক্ষা, সম্পদের সুরক্ষা, জ্ঞানের সুরক্ষা, প্রজন্ম পবিত্রতা সুরক্ষা ও ধর্ম-কর্ম সুরক্ষা। সুতরাং ঈদের আনন্দে বিভোর হয়ে এমন কোনো কাজ করা যাবে না যা নিজের বা অন্যের জীবনের ঝুঁকি তৈরি করে। ঈদের যাতায়াতে নিরাপত্তা ও সুরক্ষার প্রতি যত্নবান হোন।

আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘তোমরা নিজেরা নিজেদের ধ্বংসের মধ্যে ফেলে দিও না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৯৫)। সাধ্য ও সামর্থ্যের অতীত কোনো দায়িত্ব কর্তব্য নেই। ‘আল্লাহ কাউকে তার সামর্থ্যের চেয়ে বেশি দায়িত্ব দেন না।’ (সুরা-২ বাকারা, আয়াত: ২৮৬)।

সাধারণত দেখা সাক্ষাৎ হলে সালাম বিনিময়ের পর মুসাফাহা করা সুন্নত এবং দীর্ঘ সময় পর ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে মুআনাকা বা কোলাকুলি করাও সুন্নত। কোলাকুলিকে শুধু ঈদের দিনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা সুন্নতের পরিপন্থী। মুসাফাহা বা করমর্দনে এবং মুআনাকা তথা গলাগলি বা কোলাকুলিতে কেউ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে তা এড়িয়ে যেতে হবে। সুন্নত মুস্তাহাব ও নফলের জন্য কাউকে বিব্রত করা বা অসন্তুষ্ট করা যাবে না। এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি কাম্য নয়।

মুফতি মাওলানা শাঈখ মুহাম্মাদ উছমান গনী
যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ জাতীয় ইমাম সমিতি; সহকারী অধ্যাপক, আহ্ছানিয়া ইনস্টিটিউট অব সুফিজম
[email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন