বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এখনে সবার প্রশ্ন হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি কী? এর সঙ্গে পর্যটনের সম্পর্ক কী? পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব কি না? এ ক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তুতি কী?

গত দুই দশকে আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক আলোচনায় দরিদ্রবান্ধব প্রবৃদ্ধির পরিবর্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারণাটি বেশি উচ্চারিত হচ্ছে। কারণ, এটি ছাড়া কোনো দেশই তাৎপর্য আয় প্রবৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাস করতে সক্ষম হয়নি। বৈষম্য দূর করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হলো অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির মূল কথা। বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত এসডিজি-এর ১০ নম্বর লক্ষ্যে বলা হয়েছে, কোনো দেশের প্রবৃদ্ধি তখনই ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই’ হবে, যখন সে দেশের নিচের ৪০ শতাংশের আয় প্রবৃদ্ধির হার ওপরের ১০ শতাংশের চেয়ে বেশি হবে। অর্থাৎ শুধু দারিদ্র্য নিরসন হলে হবে না, প্রবৃদ্ধিকে হতে হবে বৈষম্য নিরসক।

এখন ধারণা নেওয়া যাক পর্যটনের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্পর্ক কী, তা নিয়ে? পর্যটন হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল এবং শ্রমঘন একটি শিল্প, যার প্রকৃত প্রবৃদ্ধি আগামী ১০ বছরে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ অব্যাহত থাকবে মর্মে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে। একজন পর্যটক ১০ জনের কর্মসংস্থান করতে পারে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এর অবদান বিশ্ব জিডিপির ১১ শতাংশ, বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের ৯ শতাংশ, বৈশ্বিক রপ্তানির ১২ শতাংশ এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগের ১১ শতাংশ। ৮ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে পর্যটনে। ২০১৯ সালে ৩৩ কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে পর্যটন খাত। অন্য কোনো শিল্প নেই, যা অর্থনীতিতে একইভাবে টেকসই ও বৈচিত্র্যপূর্ণ গুণক প্রভাব ফেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সমাজের সব শ্রেণির জন্য কর্মসংস্থান ও সুযোগ সৃষ্টি করে, পর্যটন অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে সাহায্য করে।

হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, ট্যুর অপারেটর, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস ও ট্রান্সপোর্টে সরাসরি চাকরি ছাড়াও পর্যটন–সংশ্লিষ্ট সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাপনায় এবং পশ্চাৎপদ ও ফরোয়ার্ড পর্যটনসেবায় বিস্তৃত পরিসরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে। পরিবহন, নির্মাণ, প্রকৌশল, উৎপাদন, কৃষি, খাদ্য টেলিকম, তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবাসহ অন্য কিছু খাত আছে, যা পর্যটকদের নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণে সুযোগ সৃষ্টি করে। তাই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিতে পর্যটন ভূমিকা রাখতে পারে।
পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব কি না? সে বিষয়ে আলোচনায় আসা যাক। নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য, বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শন, ধর্মীয় সম্প্রীতি, দৃষ্টিনন্দন জীবনাচার বাংলাদেশকে গড়ে তুলেছে একটি বহুমাত্রিক আকর্ষণ সমৃদ্ধ পর্যটন গন্তব্যে। তাই এখানে যুগে যুগে ভিড় জমিয়েছে দেশি–বিদেশি ভ্রমণপিপাসু পর্যটক।

২০১৭ সালের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে জিডিপিতে পর্যটন খাতের অবদান ৪ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং ২০২৮ সালে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০১৯ সালে অভ্যন্তরীণ পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ কোটি, যা বর্তমানে ২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। এখানে ৪০ লাখ পর্যটনকর্মী জীবন–জীবিকা নির্বাহ করে পর্যটনের ওপর। পর্যটনের অপার সম্ভাবনা কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে বহুগুণ বেশি। পর্যটনের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব, যা নিম্নের বর্ণনায় স্পষ্ট হয়ে যাবে:

১. গ্রামীণ ও অনগ্রসর এলাকার জনগোষ্ঠীর জীবনমান এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে গ্রামীণ পর্যটন। বাংলাদেশে রয়েছে ৮৭ হাজার ১৮২টি গ্রাম। পর্যটন সম্পদশালী গ্রামগুলোয় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে এর উন্নয়ন, পর্যটন সুবিধাদি বৃদ্ধি ও প্রমোশনের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব।

২. হাওর বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যভিত্তিক অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া—এ সাত জেলার ৪২৩টি হাওর নিয়ে বিশাল অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। হাওরভিত্তিক পর্যটন বিকশিত হলে বর্ষায় অলস বসে থাকা ভাটি অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

৩. বাংলাদেশের পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় গন্তব্য পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান নিয়ে গঠিত। পার্বত্য চট্টগ্রামে পর্যটনের মূল উপকরণ হলো পাহাড়েঘেরা সবুজ প্রকৃতি, নদী, ঝরনা, পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠী, তাদের জীবনধারা। ইকো ট্যুরিজম, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম, নেচার ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, কমিউনিটি বেজ ট্যুরিজম, ওয়াইল্ড লাইফ ট্যুরিজম, হোম স্টেসহ নানা পর্যটন কর্মকাণ্ড, পর্যটন পণ্য এবং নতুন নতুন পর্যটন–আকর্ষণীয় স্থান চিহ্নিতকরণ, উন্নয়ন ও প্রমোশনের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে দেশি–বিদেশি পর্যটকের প্রবাহ বৃদ্ধি করা যায়।

৪. নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরপুর বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চল। এখানকার চা–বাগান, জাফলং, লালাখাল, বিছনাকান্দি, পাংথুমাই ঝরনা, রাতারগুল, হাকালুকি ও কানাইঘাটের লোভাছড়ার সৌন্দর্য হাজার হাজার ভ্রমণ পিপাসুকে আকৃষ্ট করে। ফলে, এখানকার স্থানীয় জনগোষ্ঠী জীবন–জীবিকার নতুন খাত হিসেবে পর্যটনকে বেঁচে নিয়েছে।

৫. মাইস পর্যটনের মাধ্যমেও হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে। মাইস–সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের মতে, মাইস পর্যটনের সঙ্গে প্রায় এক হাজার বেসরকারি ফার্ম প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। প্রায় তিন লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে এখানে।

৬. পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ বিনোদন পার্ক। বিনোদন পার্ক অ্যাসোসিয়েশনের (বাপা) দাবি, সারা বাংলাদেশে তিন শতাধিক ছোট–বড় বিনোদন পার্ক, থিম পার্ক, ইকোপার্ক রয়েছে। এখানে প্রতিবছর ভিজিটরের সংখ্যা প্রায় ছয় কোটি। শুধু বাপার আওতাধীন ১০০টি বিনোদন পার্কে দুই লক্ষাধিক কর্মী কাজ করছে। বর্তমানে এখানে ১২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। দিন দিন এর পরিধি বৃদ্ধি পাচ্ছে। অদূর ভবিষ্যতে এসব বিনোদন পার্ক ডিজনিল্যান্ডের আদলে রূপান্তরিত হয়ে লাখ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

৭. বাংলাদেশে সংরক্ষিত ৫২১টি প্রত্নতত্ত্ব স্থাপনায় প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটকের আগমন ঘটে। এসব আকর্ষণীয় স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে সরকারি-বেসরকারি পর্যটনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান এবং ক্ষুদ্র–মাঝারি ব্যবসায়ী ও স্থানীয় লাখ লাখ জনগোষ্ঠীর জীবন–জীবিকা।

৮. বাংলাদেশে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা ১ হাজার ৭০০টির অধিক পর্যটন–আকর্ষণীয় স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা আবাসন, পরিবহন, খাবার, বিনোদন, পর্যটন কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য উপখাতের সাপ্লাই চেইনে সেবা–সংশ্লিষ্ট লাখ লাখ কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশি ও বিদেশি পর্যটকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার এসব স্থানে স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে।

৯. বছরে অতিরিক্ত দুই বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করতে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে তিনটি পর্যটন পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। পার্ক তিনটি হলো নাফ ট্যুরিজম পার্ক, সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক এবং সোনাদিয়া ইকো-ট্যুরিজম পার্ক। এ ট্যুরিজম পার্কগুলো স্থাপনের ফলে আগামী আট বছরের মধ্যে দুই লাখ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে।

১০. সুন্দরবন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বনভূমি, যা পর্যটকদের বিনোদনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে গড়ে উঠেছে। পরিকল্পিত পর্যটনসেবার মাধ্যমে এখানে আরও বেশি পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। এতে আরও বেশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আমাদের প্রস্তুতি কী

১. বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ইতিমধ্যে পর্যটনের উপখাত চিহ্নিত করেছে। পর্যটনশিল্পের অভিভাবক হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড পর্যটনসংশ্লিষ্ট অংশীজন ও উপকারভোগী, যেমন: ট্যুর অপারেটর, ট্যুর গাইড, ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল, রিসোর্ট, পর্যটনে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উদ্যোক্তা, অ্যামিউজমেন্ট পার্ক, স্পা, সেলুন, পারলার, ফুড সাপ্লাই চেইন, কমিশন এজেন্ট, সাংস্কৃতিক কর্মী ও শিল্পী, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট ফার্ম, পর্যটনবিষয়ক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পর্যটন এলাকায় বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যটনের উন্নয়ন, বিকাশ ও প্রমোশন করে যাচ্ছে।

২. ২০৪০ সাল নাগাদ পাঁচ লাখ আবাসনসুবিধার সুযোগ তৈরি, ১০ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক আগমন এবং ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ট্যুরিজম বোর্ড একটি পর্যটন মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে।

৩. কোভিড-১৯–এর প্রভাবে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, সংকট উত্তরণের উপায় এবং ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক পর্যটন বাজারে সুবিধা অর্জনের জন্য বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড এই শিল্পের বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের আলোকে একটি ট্যুরিজম রিকভারি প্ল্যান প্রস্তুত করেছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ২০২১-৩০ সাল মেয়াদি আরও একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে।

৪. কোভিড-১৯–এর ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং রিকভারি প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য ২৭টি গাইডলাইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। যেখানে রয়েছে, অ্যাগ্রো ট্যুরিজম, রুরাল ট্যুরিজম, কালচারাল ট্যুরিজম, কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম, রিভার ট্যুরিজম, হাওর ট্যুরিজম, হালাল ও রিলিজিয়াস ট্যুরিজম, ব্লু ইকোনমি ট্যুরিজম, দেশি-বিদেশি ট্যুরিজম ফেয়ার, বিচ কার্নিভ্যাল, বঙ্গবন্ধু ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ডের মতো নানা বিষয়।

৫. পর্যটন সাবসেক্টরগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে পুনরায় চালু করার জন্য একটি স্টান্ডার্ড অপারেশনাল প্রসিডিউর (এসওপি) প্রস্তুত ও বিতরণ করে হয়েছে।

৬. করোনাকালের বিরূপ প্রভাবের কারণে বিপন্ন পর্যটনকর্মীদের উজ্জীবিত করার জন্য অনলাইনে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও জনসচেতনতা কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। কোভিড-১৯ চলাকালে দেশের ৫০টি জেলা ও ৪৫টি উপজেলায় পর্যটন সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হয়েছে। এ সময় ঢাকা, সিলেট ও পটুয়াখালীর ৩৮০ জন ট্যুর অপারেটর ও ট্যুর গাইডকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

৭. সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন শিল্পের জন্য এক হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে।

৮. ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি সেক্টরে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামীণ পর্যটন উন্নয়নের জন্য ইতিমধ্যে ২০০টি পরিবারকে কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। জাতিসংঘের অন্যতম সংস্থা ইউএন ভলান্টিয়ারের সহায়তায় বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় ইতিমধ্যে ৬০০ জন ভলান্টিয়ার তৈরি করা হয়েছে।

এভাবেই আগামী দিনগুলোয় পর্যটনের উন্নয়ন ও বিকাশের মাধ্যমে কোভিড-১৯–এর ক্ষয়ক্ষতি থেকে উত্তরণের পাশাপাশি নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে এবং এই সুযোগগুলোয় ব্যাপক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে সমাজের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারলে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি ও দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব হবে। সেই বিবেচনায় এবারের পর্যটন দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় সময়োপযোগী হয়েছে।

মোহাম্মাদ সাইফুল হাসান উপসচিব, উপপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা), বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড।

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন