কৈশোরের জয়গান

>

গত ২৯ জুলাই প্রথম আলোর আয়োজনে ও জাতিসংঘ িশশু তহবিলের (ইউনিসেফ) সহযোগিতায় ‘কৈশোরের জয়গান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো।

আলোচনা

আব্দুল কাইয়ুম

কৈশোর অপার সম্ভাবনার বয়স। ব্যক্তিত্ব গঠনের উপযুক্ত সময়। এ জন্য কিশোর–কিশোরীদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়া উচিত। তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের পথ প্রসারিত করা প্রয়োজন।

দৈনন্দিন জীবনে কিশোরেরা যেসব বাধার সম্মুখীন হয়, তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কিশোরদের কেন্দ্র করে আজকের গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। এখন এ সম্পর্কে আলোচনা করবেন আবুল হোসেন।

আবুল হোসেন
বয়সের মানদণ্ডে কিশোরদের নিয়ে কিছু বিতর্ক রয়েছে। নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশিত ২০১১ সালের শিশুনীতি অনুযায়ী ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের কিশোর হিসেবে ধরা হয়। তবে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ১০–১৯ বছর বয়সীদের কিশোর হিসেবে বিবেচনা করছে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কিশোর। সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য কিশোরদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা জরুরি।

শহর ও গ্রামে সুযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্য রাখা যাবে না। কিশোরদের কথা শুনতে হবে এবং তাদের আশা–আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বুঝতে হবে। কর্মসূচি গ্রহণের আগে কিশোরদের সম্পর্কে যথাযথ তথ্য থাকতে হবে। সামাজিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়ার সঙ্গে কিশোরদের সম্পৃক্ত করা উচিত।

সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার হচ্ছে। এটি বন্ধ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। শিশুরা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করুক, এটা কখনো কাম্য নয়। কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার ফলে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।

শিশু–কিশোরদের নিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় থাকা প্রয়োজন। সুষ্ঠু পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজন সঠিক তথ্য। তথ্য ছাড়া পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।

সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমকে এগিয়ে আসতে হবে। বিভিন্ন নাটক সিনেমায় সমাজের ইতিবাচক দিকগুলো তুলে ধরে কিশোরদের সঠিক পথে পরিচালনা করার পথ সুগম করা সম্ভব।

হৃদিতা হোসেন
কিশোরী হিসেবে প্রতিনিয়ত আমাকে শারীরিক ও মানসিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। এ বয়সে গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক পরিবর্তন হচ্ছে এবং ধারাবাহিকভাবে চলছে। গ্রামীণ জীবনে কিশোরীদের শারীরিক পরিবর্তন সম্পর্কে জ্ঞানের স্বচ্ছতা নেই। এ সম্পর্কে জানতে পারছে কেবল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে। পূর্বপ্রস্তুতি না থাকায় তারা বিভিন্ন সমস্যায় পড়ছে।

অনেকে হয়রানির শিকার হচ্ছে। কিন্তু এটি সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। এ জন্য অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে মেয়েদের সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

অনেক শিশু-কিশোরী রয়েছে, যারা মনে করে তাদের বিষয়ে কল্যাণকর-অকল্যাণকর সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে পরিবার। গ্রামীণ কিশোরীরা অভিভাবকের সিদ্ধান্তকে অন্ধভাবে কল্যাণকর মনে করছে। তারা স্বাধীনভাবে মতামত দিতে পারছে না। অল্প বয়সে বিয়ে যেকোনো মেয়ের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন কিশোরী বা কিশোরকে পরিবার ও সমাজের কাছ থেকে প্রতিনিয়ত দুটি কথা শুনতে হয়। এক, তুমি অনেক বড় হয়েছ। দুই, তুমি এখনো অনেক ছোট। এ বিপরীত অর্থবোধক দুটি বাক্য কিশোর-কিশোরীদের দ্বিধায় ফেলে দেয় এবং মানসিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে।

মোহাম্মদ হাসান
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিশোর–কিশোরীদের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটে। এ সম্পর্কে তারা নিজেরাই অসচেতন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনার সুযোগ নেই।

অনেকে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার আগেই সংসারজীবনে প্রবেশ করে। কিশোর বয়সে ঝরে পড়ছে অনেক মেধাবী। ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করতে গেলেও সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সচেতন ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা উচিত।

সামাজিক পরিবর্তনে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য। গণমাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা ও উদ্দীপনামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করা উচিত।

দীপ্তি সিকদার
যৌন হয়রানি আমাদের সমাজে লেগে রয়েছে। নারীরা প্রতিদিন নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। হাইকোর্ট থেকে একটি রায় প্রদান করা হয়েছে। কিন্তু সে রায়কে কার্যকর করা হয়নি।

২০০২ সাল থেকে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়ন নিরসনের জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রাপ্ত সুপারিশগুলো নীতিনির্ধারক ও অন্যান্য ব্যক্তির মধ্যে প্রদান করা হয়।

যৌন নিপীড়ন বন্ধের জন্য দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে সমস্যা সমাধানের পথ সুগম হবে। সাধারণ মানুষ স্পষ্ট দিকনির্দেশনা পাবে। বর্তমানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে যৌন নিপীড়কদের দুই মাস বা তিন মাস জেল প্রদান করা হচ্ছে।

জেল থেকে বের হয়ে তারা আবার মেয়েদের হয়রানি করছে। এ জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনার জন্য উপজেলা পর্যায়ে একজন কাউন্সিলর নিয়োগ দেওয়া উচিত। যেন কিশোর–কিশোরীরা একক কিংবা যৌথভাবে তাদের সমস্যা সম্পর্কে পরামর্শ গ্রহণ করতে পারে।

কিশোরদের মতপ্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে। পরিবারে অভিভাবক, স্কুলে শিক্ষকমণ্ডলী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মসূচি সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বিষয়ে একটি যথাযথ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও সরকারি সহায়তায় তা বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়া উচিত।

সিরাজুল হোসেন
গোটা বিশ্বে কিশোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। একটি বৈশ্বিক সমস্যাকে সাধারণভাবে সমাধান করা সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশের উচিত হবে এসব কর্মসূচিকে অনুসরণ করা।

কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক উন্নতির জন্য বিশেষজ্ঞদের অভাব রয়েছে। এটি পূরণে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। বিশ্বে মানসিক সমস্যাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে এ রকম কোনো উদ্যোগ নেই। গতানুগতিক ধারায় মানসিক সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করা হয়।

আমরা যান্ত্রিক সভ্যতায় পদার্পণ করছি। যান্ত্রিক সভ্যতা ও প্রান্তিক মানুষ একসঙ্গে চলতে পারে না। প্রান্তিক মানুষকে যান্ত্রিক সভ্যতার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে অথবা আগের সমাজব্যবস্থায় ফিরে যেতে হবে।

গ্রাম্য মানুষেরা মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বসবাস করত। বর্তমানে সেটি আর নেই। আমরা দ্রুত যান্ত্রিক সভ্যতার সুফলগুলো ভোগ করতে চেয়েছি। কিন্তু প্রান্তিক মানুষগুলোকে নিয়ে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করিনি। সমস্যা এখানেই।

কিশোরেরা বিভিন্ন মানসিক সংকটের মধ্য দিয়ে বড় হয়। নিজেদের পরিবর্তনগুলোকে পরিবেশের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে পারে না। এ জন্য পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্মৃতি আক্তার
কিশোরী বয়সে পরিবার ও সমাজ থেকে বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ধর্মীয় ও সামাজিক কুসংস্কার দিয়ে মেয়েদের সামাজিক জীবন নির্ধারণ করার চেষ্টা করা হয়। এটি সমাজের সার্বিক উন্নয়নে চরমভাবে বাধাগ্রস্ত করছে।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিভাবকদের ধারণা, কেবল ছেলেরা সংসারের হাল ধরতে পারবে। কিন্তু পড়াশোনার মাধ্যমে সমাজের প্রতিটি কর্মস্থলে মেয়েরা নিজেদের যোগ্য বলে প্রমাণ করেছে। মেয়েদের ছোট করে দেখা উচিত নয়।

পরিবার থেকে কিশোরী বয়সে আমাকে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। আমি আপত্তি করলেও পরিবার সেটা মানতে চায়নি। পরবর্তীকালে কিশোর কর্মীদের সাহায্যে অল্প বয়সে বিয়ের কুফল সম্পর্কে পরিবারকে সচেতন করি। শেষ পর্যন্ত বিয়ে বাতিল করা হয়।

বিয়ের বয়স নিয়ে গ্রামীণ মেয়েরা সচেতন নয়। তারা মনে করছে, পরিবারের মানুষজন যা করছে, তা তার ভালোর জন্য করছে।

মো. আরিফুল ইসলাম
সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে গণসচেতনতা সৃষ্টি করা উচিত। তাহলে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।

ছেলেরা ক্রীড়া ও অন্যান্য সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। মেয়েরাও এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু মেয়েদের জন্য আরও সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।

গ্রামীণ পরিবেশে মেয়েরা এখনো পরাধীন জীবন যাপন করে। সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে রয়েছে বৈষম্য। এগুলো সম্পর্কে সতর্কতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। সতর্কতা সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করতে পারে।

গণমাধ্যমে এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। গণমাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো বিষয় কিশোর–কিশোরীদের প্রভাবিত করে এবং সুস্থ মানসিক পরিবর্তনে সহায়তা করে।

অনেকে ছোটদের সঙ্গে কথা বলতে চায় না। আবার ছোটরা বড়দের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায় না। এটি শিশু–কিশোরদের মানসিক বিকাশে বাধা। শিশু–কিশোরদের চাওয়া–পাওয়াগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

নেহা কপিল
শিশুদের মানসিক বিকাশে পরিবার ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিশোরদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কিশোর ক্লাবগুলোতে কর্মসূচি বাড়াতে হবে। বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।

বাংলাদেশসহ গোটা দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক কর্মকাণ্ডে কিশোরদের সম্পৃক্ততা নেই বললেই চলে। পরিবার থেকেই তাদের জীবনের লক্ষ্য তৈরি করে দেওয়া হয়। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো পরিবারের সদস্যরাই গ্রহণ করে। এটা ঠিক নয়।

পরিবারের সমর্থন ও সহযোগিতা ছাড়া কিশোরদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠা সম্ভব নয়। কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় পরিবার, সমাজ ও ভিন্ন কোনো উৎস থেকে বাধা আসছে কি না, সেটা সুষ্ঠুভাবে তত্ত্বাবধান করা উচিত।

কেবল পরিবারের সহযোগিতা যথেষ্ট নয়। গোটা সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় গুরু, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সামাজিক প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় করা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর্মী, আঞ্চলিক প্রশাসন, আইন প্রণয়নকারী সংস্থার উচিত কিশোরদের প্রতি সাধারণ মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সহায়তা করা।

এসব বিষয়ে সরকারি তত্ত্বাবধান থাকা প্রয়োজন। কিশোরদের মেধাবিকাশে পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে যথাযথ তত্ত্বাবধান থাকা জরুরি।

মাহমুদ হোসেন
বয়সের মানদণ্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর বেশির ভাগই কিশোর। এখান থেকে তারা তথ্য গ্রহণ করছে। জাতীয় জীবনে সঠিকভাবে চলতে গেলে তথ্যের বিকল্প নেই। ইন্টারনেটের ইতিবাচক দিকগুলোর সঙ্গে নেতিবাচক দিকও রয়েছে। নেতিবাচক দিকগুলো পরিহার করতে হবে।

কিশোরেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে বিভিন্ন বিষয় শিখতে পারছে। গোটা পৃথিবীকে ঘরে বসে জানার সুযোগ করে দিয়েছে ইন্টারনেট।

উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গেলে ইন্টারনেটের কোনো বিকল্প নেই। তবে এখানে কিছু সমস্যা রয়েছে।

সাইবার ওয়ার্ল্ডে ভুল তথ্য দিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্নোগ্রাফি ও নিষিদ্ধ ওয়েবসাইটগুলোতে সহজে প্রবেশ করা যাচ্ছে। এটি বন্ধ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ইন্টারনেটের ইতিবাচক বা নেতিবাচক ব্যবহার ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। এ জন্য সঠিক দিকনির্দেশনার প্রয়োজন।

ইউনিসেফের সঙ্গে যৌথভাবে ইতিমধ্যে আমাদের কাজ শুরু হয়েছে। শিশুরা কীভাবে ইন্টারনেট ব্যবহার করবে, তার ওপর ভিত্তি করে প্রায় ৪ লাখ শিশু ও ৫০ হাজার অভিভাবককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

শিশু-কিশোরেরা ইন্টারনেটের কোন সাইটগুলো ব্যবহার করছে, সেগুলো তত্ত্বাবধান করা উচিত।

আয়েশা বানু
আমাদের কৈশোরে যে সমস্যাগুলো ছিল, বর্তমান কিশোর-কিশোরীদের বেলায় তা ভিন্ন রূপ ধারণ করেছে। এ জন্য সমস্যাগুলো গতানুগতিক ধারায় সমাধান করতে গেলে ভুল হতে পারে।

বাল্যবিবাহ বন্ধ করা জরুরি। ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, ৫২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হচ্ছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। দেশের কিছু ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ উন্নয়ন হলেও বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এ জন্য আইনের স্পষ্টতা থাকা দরকার।

পাঠ্যপুস্তকে শারীরবৃত্তীয় বিষয়গুলোকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে; সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। নারীজীবন, শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন এবং তার আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। উপযুক্ত নীতি প্রণয়ন করতে হবে। ইতিমধ্যে কয়েকটি কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে। আরও ব্যাপক ও প্রসারিত কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।

নারী, শিশু ও কিশোর—একটি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব নয়। এ জন্য আলাদা দুটি মন্ত্রণালয় হওয়া উচিত।

কুলসুম আক্তার
গ্রাম–শহর সব ক্ষেত্রে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি রয়েছে। কিন্তু শহরের বস্তি এলাকায় এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।

কড়াইল বস্তিতে কিছুদিন আগে মেয়েদের বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করা হতো। এ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আমরা ব্র্যাক কিশোরী ক্লাব প্রতিষ্ঠা করি। সপ্তাহে দুই দিন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ ও অন্যান্য সামাজিক অনাচার সম্পর্কে সদস্যদের সচেতন করা হয়।

কিশোরী ক্লাবের সাহায্যে আমরা অনেকগুলো বাল্যবিবাহের আয়োজন ভেঙে দিয়েছি। বাল্যবিবাহ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। ছেলেরা আগের মতো উত্ত্যক্ত করে না। তারা আমাদের বন্ধুর মতো সহযোগিতা করে।

 কেউ কোনো রকম খারাপ আচরণ করলে তারা এগিয়ে আসে। মাসিকের সময় কিশোরীরা ভয়ে থাকত। কিশোরী ক্লাবে কর্মশালার মাধ্যমে এ ধরনের ভয় দূর করা সম্ভব হয়েছে।

শীপা হাফিজা
শিক্ষাক্ষেত্রে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের উপস্থিতি ছেলেদের চেয়েও বেশি। তবে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ২০১৭ সালে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক শিশু ধর্ষণসহ অন্যান্য নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

যৌনতা ও জৈবিক অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা প্রদান করতে হবে। যেসব অঞ্চলে জৈবিক অধিকার সম্পর্কে আলোচনার সুযোগ কম, সেখানে শিশু-কিশোরেরা ঝুঁকিপূর্ণ জীবন যাপন করছে। নেতিবাচক ঘটনার জন্ম হচ্ছে।

নির্যাতনের শিকার হচ্ছে কিন্তু সঠিক বিচার পাচ্ছে না। এটি কৈশোরের জয়গানকে বাধাগ্রস্ত করে। আইসিটি অ্যাক্ট, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট (প্রক্রিয়াধীন), পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন রয়েছে। কিন্তু নারী ও শিশু সম্পর্কে আলাদা কোনো আইন নেই।

অভিভাবকদের সচেতনতা সৃষ্টির দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করে কাজ করতে হবে। শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও সামাজিক জীবন সম্পর্কে বাস্তবসম্মত শিক্ষা প্রদান করতে হবে, যেন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা বিবেক দ্বারা তাড়িত হয়।

অর্পিতা দাস
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ১৫ বছর ধরে মানবাধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছে। নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে নারী ও শিশুদের নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সহিংসতা প্রতিরোধের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জের একটি মেয়ে পরিবারকে না জানিয়ে তার বন্ধুর সঙ্গে পালিয়ে যায়। কারণ হিসেবে মেয়েটি তার প্রতি পরিবারের সদস্যদের উদাসীনতাকে দায়ী করে। কুষ্টিয়ায় একটি মেয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকের মাধ্যমে হয়রানির শিকার হয়েছে। কিন্তু লোকলজ্জা, পড়াশোনা বন্ধ ও বিয়ে হয়ে যাওয়ার ভয়ে বিষয়টি সম্পর্কে পরিবারকে অবগত করেনি। এ জন্য অভিভাবকদের বন্ধুর ভূমিকা পালন করা উচিত। অন্যথায় নেতিবাচক কিছু ঘটে যেতে পারে।

কিশোরদের সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতে হবে। তাদের অবসরকালীন কর্মকাণ্ডের সঠিক তত্ত্বাবধান করা উচিত। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন গত কয়েক বছরে প্রায় ৩০ হাজার বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

শিশুসুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িত ৭৫ শতাংশ শিশুকে উদ্ধার করে শিক্ষাজীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বাল্যবিবাহ বন্ধের জন্য আইনি প্রক্রিয়ায় সংশোধন আনা এবং নতুন আইন প্রণয়নের জন্য সুপারিশ জানানো হয়েছে।

সীমা সেনগুপ্তা
কৈশোর একটি দ্বিধাদ্বন্দ্বের বয়স। এ বয়সে কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তথ্যপ্রযুক্তির এ যুগে প্রতি মুহূর্তে পৃথিবী পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবর্তিত পৃথিবীর সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য কিশোর-কিশোরীদের তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

কিশোর-কিশোরীদের জন্য ইউনিসেফের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে তারা নিজেরাও প্রতিনিধিত্ব করছে। ইউনিসেফ বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে সুবিধাবঞ্চিত কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একত্র হয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিসেফ কিশোর-কিশোরীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি, ‘সেকেন্ড-চান্স এডুকেশন’ কার্যক্রম, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোয় ‘ঋতুকালীন পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম’ পরিচালনা করছে, যা কিশোরীদের বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়া রোধে এবং বাল্যবিবাহ কমিয়ে আনতে সাহায্য করছে।

বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও নিরাপত্তার অভাবে বিশ্বের অনেক মেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝরে পড়ছে। কারণগুলো খুঁজে বের করে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি মেয়েদের তথ্য গ্রহণ ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণেরও সুযোগ করে দিতে হবে। এবং যেকোনো ধরনের হয়রানি ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে হবে।

বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক উন্নতি করেছে। তবে এখনো কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। বাল্যবিবাহের ফলে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ে। মা ও শিশুর স্বাস্থ্য রক্ষায় এবং মেয়েশিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে বাল্যবিবাহ নিরোধ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

ইন্টারনেট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার থেকে নিজেকে বিরত রাখা কোনো সমাধান নয়। বরং নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির ভালো দিকগুলো কিশোর–কিশোরীদের গ্রহণ করতে হবে।

এ বি এম রুহুল আজাদ
কৈশোর ও যৌবনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মতে ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের যুবা হিসেবে ধরা হয়। যুবাদের কর্মমুখী প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

ক্রীড়াঙ্গনের বড় প্রতিষ্ঠান হলো বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি)। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অাওতায় ৪৯টি ক্রীড়া ফেডারেশন ও সংস্থা রয়েছে। এদের মাধ্যমে সারা দেশের কিশোর–কিশোরীরা খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। ক্রীড়া পরিদপ্তরের আওতায় জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তারাও কিশোর–কিশোরীদের খেলাধুলার সঙ্গে যুক্ত করতে ভূমিকা রাখে। এখানে চতুর্থ থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রদের ভর্তি নেওয়া হয়। অর্থাৎ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে কিশোর ও যুবকদের সম্পৃক্ত করছে।

তবে সরকারের একার পক্ষে বিপুলসংখ্যক যুবকের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়। এ জন্য পারিবারিক সহযোগিতা, সচেতন মানুষের সুপরামর্শ ও উন্নয়ন–সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মসূচির সমন্বয় ঘটাতে হবে।

সমাজের প্রতিষ্ঠিত মূল্যবোধকে অবজ্ঞা করে পাশ্চাত্য সংস্কৃতি গ্রহণ করলে সমস্যার সৃষ্টি হবে।

জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে সম্ভাবনাময়, প্রতিশ্রুতিশীল, উৎপাদনক্ষম ও কর্মক্ষম মানুষ হচ্ছে কিশোর ও যুব সম্প্রদায়। তাদের জনশক্তিতে রূপান্তর করা যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।

স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী, কিশোর–কিশোরীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও ঋণ প্রদানের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যুব মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল সার্ভিস কার্যক্রমের মাধ্যমে যুবকদের তিন মাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে তাদের দুই বছরের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়। প্রশিক্ষণে নৈতিকতা ও মূল্যবোধ, বাল্যবিবাহ রোধ এবং সামাজিক কুসংস্কার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

আব্দুল কাইয়ুম

একটি আদর্শ ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পেতে হলে কিশোরদের প্রতি যত্নবান হতে হবে। আলোচনায় বেশ কিছু পরামর্শ ও সুপারিশ এসেছে। এগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন। আলোচনায় অংশগ্রহণের জন্য প্রথম আলোর পক্ষ থেকে সবাইকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ।

যাঁরা অংশ নিলেন

এ বি এম রুহুল আজাদ: অতিরিক্ত সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়

আবুল হোসেন: প্রকল্প পরিচালক, নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রকল্প, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়

মাহমুদ হোসেন: চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার, গ্রামীণফোন লিমিটেড

সীমা সেনগুপ্তা: ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ, জাতিসংঘ িশশু তহিবল (ইউনিসেফ)

শীপা হাফিজা: নির্বাহী পরিচালক, আইন ও সালিশ কেন্দ্র

আয়েশা বানু: অধ্যাপক, উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

অর্পিতা দাস: সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন

নেহা কপিল: চিফ, কমিউনিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট, সি৪ডি সেকশন, জাতিসংঘ িশশু তহবিল (ইউনিসেফ)

দীপ্তি সিকদার: সিনিয়র আইনজীবী, লিগ্যাল এইড, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

সিরাজুল হোসেন: প্রধান নির্বাহী, ডিনেট

হৃদিতা হোসেন: সদস্য, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন

স্মৃতি আক্তার: সদস্য, ব্র্যাক িকশোরী ক্লাব

মো. আরিফুল ইসলাম: সদস্য, স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন, সাভার উপজেলা

কুলসুম আক্তার: সদস্য, ব্র্যাক িকশোরী ক্লাব

মোহাম্মদ হাসান: সদস্য, ব্র্যাক িকশোর–কিশোরী ক্লাব

সঞ্চালক

আব্দুল কাইয়ুম: সহযোগী সম্পাদক, প্রথম আলো

আলোচনায় সুপারিশ

  • স্নেহ–ভালোবাসা ও সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে কিশোর–কিশোরীদের মানসিক বিকাশের পথ সুগম করতে হবে
  • কিশোর–কিশোরীদের িচন্তাভাবনা ও আশা–আকাঙ্ক্ষাগুলোকে প্রাধান্য দিতে হবে
  • নিরাপত্তাসহ শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি
  • বাল্যবিবাহ বন্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে
  • ক্রীড়াসহ অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রে কিশোর–কিশোরীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে
  • যুবাদের সংগঠিত ও স্বাধীন মতপ্রকাশের সুযোগ প্রদান করা দরকার
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরদের কর্মকাণ্ড তত্ত্বাবধান করা উচিত
  • সমাজে আরও বেশি কিশোর–কিশোরী ক্লাব প্রয়েজান