বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিকেএসপি কোনো বিশেষায়িত ক্রিকেট স্কুল নয়। ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, শুটিং, আর্চারি, জুডো, উশু, তায়কোয়ান্দো, অ্যাথলেটিকস, বাস্কেটবল, সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং, টেনিস, ভলিবল, কারাতে, টেবিল টেনিস, গলফ, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, ভারোত্তলন, হ্যান্ডবল ও স্কোয়াশ—এই ২৩টি বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে এখানে। সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তির সুযোগ রয়েছে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি, শুটিং, আর্চারি, জুডো, উশু, তায়কোয়ান্দো ও অ্যাথলেটিকসে। চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয় সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, বক্সিং ও টেনিসে। বাস্কেটবল বিভাগে শুধু অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে ভর্তি করানো হয়। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মূল ক্রীড়াশিক্ষার বাইরে এখানে স্নাতক পর্যায়ে এক্সারসাইজ ফিজিওলজি, স্পোর্টস সাইকোলজি, স্পোর্টস বায়োমেকানিকস ও সায়েন্স অব স্পোর্টস ট্রেনিং বিষয়গুলোতে ডিপ্লোমাও দেওয়া হয়।

প্রাথমিক বাছাই, সাত দিনের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প, ব্যবহারিক পরীক্ষা; সব শেষে বাংলা, ইংরেজি ও গণিতে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী বাছাই করা হয়। মানবণ্টনে শতকরা হিসাবে ৭০ ভাগ শারীরিক যোগ্যতা ও ক্রীড়ানৈপুণ্য, ১০ ভাগ ক্রীড়াবিজ্ঞান-সংক্রান্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা আর বাকি ২০ ভাগ লিখিত পরীক্ষা থাকে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অত্যন্ত সীমিত আসনের অবকাঠামো নিয়ে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের জন্য এমন বিদ্যালয় মাত্র একটিই।

বিকেএসপির বয়স তিন দশক পেরিয়েছে, কিন্তু সেভাবে সাফল্য খুব গৌরবময়, তা বলা যাবে না। শুটার আসিফ, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের মতো মেধাবী কিছু খেলোয়াড় উঠে এসেছেন; কিছু প্রাপ্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, তিন দশকে জনসংখ্যা সাড়ে ৭ থেকে ১৮ কোটি হয়েছে, কিন্তু বিকেএসপির অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা কি আনুপাতিক হারে বেড়েছে? অবকাঠামো কি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে?

১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমলে ক্রীড়া প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টস (বিআইএস) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্পোর্টসকে বাংলাদেশ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা বিকেএসপি’ নামে পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর জন্য আমেরিকার কাছে আর্থিক ও কারিগরি সাহায্য চেয়েছিলেন। নির্মাণকাজ শেষে এরশাদ সরকারের আমলে সাভারের জিরানিতে ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরু করে বিকেএসপি।

বিকেএসপির বয়স তিন দশক পেরিয়েছে, কিন্তু সেভাবে সাফল্য খুব গৌরবময়, তা বলা যাবে না। শুটার আসিফ, ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম ও সাকিব আল হাসানের মতো মেধাবী কিছু খেলোয়াড় উঠে এসেছেন; কিছু প্রাপ্তি নিশ্চয়ই রয়েছে। মূল প্রশ্ন হচ্ছে, তিন দশকে জনসংখ্যা সাড়ে ৭ থেকে ১৮ কোটি হয়েছে, কিন্তু বিকেএসপির অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা কি আনুপাতিক হারে বেড়েছে? অবকাঠামো কি বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়েছে?

চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও দিনাজপুরে অত্যন্ত সীমিত সুবিধার আঞ্চলিক কেন্দ্র রয়েছে বিকেএসপির, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া স্কুল নেই সাভারের বাইরে। এসব কেন্দ্রে ‘সহজ’ প্রবেশাধিকার নিয়ে অভিযোগও রয়েছে। কক্সবাজারের রামু, রাজশাহী ও ময়মনসিংহে আরও তিনটি কেন্দ্র সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছে বহুদিন। বিষয়টি হচ্ছে, বিকেএসপি বা সমমানের ক্রীড়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র ৬৪টি জেলা শহর পর্যায় তো দূরের কথা, সব কটি বিভাগেও পৌঁছাতে পারেনি; যেখানে প্রতিটি বিভাগে ন্যূনতম কোটি মানুষ রয়েছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরের জেলাগুলোতে ২০ থেকে ৫০ লাখ মানুষের আবাস ও নিবাস। এতগুলো মানুষের জন্য সার্বিক ক্রীড়াশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ-সুবিধা অন্তত ৫৫টি জেলায় একেবারেই অনুপস্থিত।

অলিম্পিক গেমসে ৩৩ ধরনের খেলা রয়েছে। আনুমানিক ২৩টি খেলার প্রশিক্ষণের সুযোগ বিকেএসপিতে আছে। কিন্তু নিশ্চিত বলতে পারি, বিকেএসপির সমুদয় বিনিয়োগের প্রধানতম কেন্দ্র হয়ে গেছে শুধু একটি খেলা-ক্রিকেট। ফলে অপরাপর খেলার তুলনায় একজন ক্রিকেটারের পেছনে জাতীয় বিনিয়োগ বৈষম্যপূর্ণ। এভাবে একটিমাত্র খেলায় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের মডেলকে প্রশ্ন করার সময় হয়েছে। অর্থাৎ আমাদের ক্রীড়ার অন্তর্ভুক্তিমূলক জায়গাটি প্রশ্নযুক্ত। সব খেলার সব সুবিধাকে একটি খেলায় যেভাবে কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে, এর সামগ্রিক ফলাফলটা আসলে কি আসছে?
খেলাধুলায় প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে আমরা যে ক্রিকেটকে এত সুবিধা দিচ্ছি, তাতে ক্রীড়াজগতে দুর্নীতির বিস্তারও কিন্তু হচ্ছে। ক্রিকেট অতিমূল্যায়িত বলে লোকে এর পেছনের ব্যয়কে প্রশ্ন করে না। আর অন্য খেলায় কার্যত কোনো মনোযোগ না থাকায় তাদের বরাদ্দের একটা বড় অংশ খোয়া যায়।

default-image

করোনাকালে স্টেডিয়াম ও প্রশিক্ষণের সুবিধাগুলোর পরিচর্যা একেবারেই হয়নি, ফলে সেগুলো একেবারেই নষ্ট হয়ে পড়েছে। এমন লজ্জা কোথায় রাখি? নাজমুল হাসান বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর মতো নাকি কেউ নেই! ৯০০ কোটি টাকা তহবিলে আছে, কিন্তু থাকার কথা কত ছিল? প্রশ্নটা তো কেউ করেননি! আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, ক্রিকেটের নামে বেশুমার অর্থ অপচয়, ভ্রমণবিলাস—এগুলোর জবাবদিহি কি আছে? অন্যদিকে ফুটবলে কারও নজর নেই, এই ফাঁকে এক দশকে কাজী সালাউদ্দিন বাফুফেকে অকেজো ও দুর্নীতির একটি কেন্দ্র বানিয়েছে, যেখানে লিগগুলোও ঠিকমতো ও ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় না। ‘বিদেশে’ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন জামাল ভূঁইয়াকে এনে ফুটবলে একটি প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। শুধু ক্রিকেট ও ফুটবলের ব্যবস্থাপনার দিকে তাকালে দেখি, এখানে আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া ব্যবস্থাপনা নেই; বরং আছে জবাবদিহিহীন ব্যবস্থাপক তৈরির একটা ব্যবস্থা।

ক্রিকেট বোর্ডের নিজস্ব আয় আছে অঢেল, কিন্তু তার খরচের মডেল প্রশ্নযুক্ত। ক্রিকেট বোর্ড নিজের টাকায় নতুন মাঠ/স্টেডিয়াম বানায় না। বরং সর্বসাধারণের সব খেলার জন্য তৈরি করা মাঠ/স্টেডিয়ামকে ক্রিকেট স্টেডিয়াম বানিয়ে অন্য খেলার বিকাশ বন্ধ করে দেয়। এতে ক্রিকেটেরও লাভ হচ্ছে না। কারণ, ক্রিকেট বোর্ড জেলা ও উপজেলার মাঠ ও স্টেডিয়ামের দখল একবার নিয়ে গেলে সেখানে সাধারণের খেলার সুযোগ থাকে না; বরং মাঠগুলোকে টুর্নামেন্টের জন্য পরিচর্যার কথা বলে প্রবেশাধিকার বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেশের স্কুলগুলোতে আগে মাঠ রাখার চল ছিল, এখন সেটাও উঠে গেছে।

নাজমুল হাসান বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে সভাপতি পদে দাঁড়ানোর মতো নাকি কেউ নেই! ৯০০ কোটি টাকা তহবিলে আছে, কিন্তু থাকার কথা কত ছিল? প্রশ্নটা তো কেউ করেননি! আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য, ক্রিকেটের নামে বেশুমার অর্থ অপচয়, ভ্রমণবিলাস—এগুলোর জবাবদিহি কি আছে? অন্যদিকে ফুটবলে কারও নজর নেই, এই ফাঁকে এক দশকে কাজী সালাউদ্দিন বাফুফেকে অকেজো ও দুর্নীতির একটি কেন্দ্র বানিয়েছে, যেখানে লিগগুলোও ঠিকমতো ও ঠিক সময়ে অনুষ্ঠিত হয় না।

আমাদের ক্রীড়াজগতে রাজনৈতিক হীনম্মন্যতা চর্চা যেন সব লাজলজ্জাকে ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি আমলে তৈরি হওয়া বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম আন্তর্জাতিক মানের একটি ভেন্যু। রাজনীতির কারণে মাঠটি এখন পরিত্যক্ত। এভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ের জন্য কাউকে দায়ী হতে হচ্ছে না। ফতুল্লায় স্টেডিয়াম করার নামে যা হয়েছে, তা লুটপাট ছাড়া আর কিছুই নয়। স্টেডিয়ামটি দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতা ও বন্যায় পড়ে থেকে একেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। যা ঠিক করতে বহু কোটি টাকা লাগবে।

মিরপুরের উন্নত নিষ্কাশনব্যবস্থা আওয়ামী লীগ সরকারের করা নয়; বরং পূর্ববর্তী বিএনপি সরকারের করা। সিলেটে সবুজ পাহাড়, টিলা আর নয়নাভিরাম চা-বাগানের মনোরম পরিবেশ বেষ্টিত স্থানে মানসম্পন্ন একটি স্টেডিয়াম আওয়ামী লীগ তৈরি করেছে, কিন্তু সেখানে এখন খেলা হচ্ছে না। এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, নতুন স্টেডিয়াম নির্মাণে অ্যাথলেটিকস প্রাধান্য পাচ্ছে না, পাচ্ছে শুধু ক্রিকেট। অপরাপর খেলায় মনোযোগ না থাকায় ক্লাবগুলোর বৈধ আয় নেই, আয়ের উৎস হয়েছে জুয়া, হাউজি ও ক্যাসিনো।

খেলার জগতে তিন ধরনের ব্যবস্থাপনার কথা বিশেষ আলোচিত হয়। এক, অবকাঠামোগত সুবিধা। যেমন মাঠ, স্টেডিয়াম, ইনডোর সুবিধা, যন্ত্রপাতি, সফটওয়্যার, ট্রেনিং মডিউল কিংবা জিম ব্যবস্থাপনা। দুই, লিগ ও ইভেন্ট ব্যবস্থাপনা। তিন, মনস্তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ, রেপুটেশন বা খ্যাতি ব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশে ক্রীড়া বর্ষ কখন শুরু হবে, লিগের কোন ম্যাচ কোথায় কখন হবে, অনিশ্চয়তা থাকলে বিকল্প মাঠ ও লোকবল কী করে আসবে—এসব কেউ আগে থেকে জানেন না। বরং নেতা বিদেশে থাকলে উদ্বোধনটাই পিছিয়ে যায়। অর্থাৎ ক্রীড়া বর্ষ এখানে সংস্কৃতিতে পরিণত হয়নি। কর্তার খেয়ালখুশিমতো এখানে ইভেন্ট ও প্রথম বিভাগ লিগ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয়, তৃতীয় কিংবা স্কুল লিগের কোনো হদিস থাকে না। ঘরোয়া লিগ যেন জুয়া আর পাতানো খেলার আসরমাত্র।

অবসর গ্রহণের আগেই পেশাদার ক্রিকেটারদের সংসদীয় রাজনীতিতে এনে ক্রীড়াজগতে ভুল ও ভয়ংকর একটি বার্তা তৈরি করে রেখেছে আওয়ামী লীগ। এটা স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা সমস্যা এবং কাজের সময় বণ্টনে সমস্যা তৈরি করেছে। অথচ সাংসদ পদ কোনো সান্ধ্যকালীন চাকরি নয় যে দিনে খেলে যে কেউ রাতে রাজনীতি করবেন। এর ফলে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। দু-চারটি ম্যাচে ‘সাময়িক’ সফল যে কারও কর্তৃত্বপরায়ণ রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুসম্পর্ক তৈরি করে, দল গঠনে নতুনের আগমনকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন কেউ কয়েক ম্যাচ ভালো করেই ঘনবসতিপূর্ণ মানুষের দেশে দ্রুত খ্যাতি পেয়ে যায়। ভবিষ্যৎ রাজনীতি বা ব্যবসায়িক ক্যারিয়ার গড়ার যেকোনো সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা আসলে ড্রেসিংরুমের পরিবেশ, প্রশিক্ষণের পরিবেশকে স্বাস্থ্যকর রাখতে পারছে না। আমরা তরুণ খেলোয়াড়কে দেখেছি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাঁড়ানো খেলোয়াড়ের জন্য ভোট ও দোয়া চাইতে। রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গড়াই যদি অনুপ্রেরণা হয়, তাহলে নতুনদের পারফরম্যান্স করার দরকার কি?

একটা সরকারের উন্নয়নের দাবি সত্য কি মিথ্যা, তা ওই দেশের মানুষের ক্যালরি গ্রহণ, দারিদ্র্য, গণপরিবহনের মান, স্বাস্থ্যব্যবস্থার মান, উচ্চশিক্ষার মান, পুষ্টি, বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণিব্যাপ্তি, ন্যূনতম মজুরি, বেকারত্ব, ক্ষুধা সূচক, মানব উন্নয়ন সূচক, গণতন্ত্র—এগুলো দিয়ে যাচাই-বাছাই করা যায়। এগুলো বাস্তব পরিসংখ্যানের বিষয়। তবে একটি অধরা বিষয়ের কথা বলি। সেটা হচ্ছে, অ্যাথলেটিকস বা অলিম্পিকে ওই দেশের অবস্থান। অ্যাথলেটিকস বা অলিম্পিকে বাংলাদেশের কোনো সাফল্য নেই। ক্রীড়াসাফল্য দিয়ে বাংলাদেশের ‘জীবনমান’ কিংবা ‘মাথাপিছু আয়’-এর উন্নয়নকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ তৈরি হয়নি। বাস্তবতা হচ্ছে, বাংলাদেশের ক্রীড়া অবকাঠামো অন্তর্ভুক্তিমূলক নয়। এখানে সবার প্রবেশাধিকার নেই, লাখ কোটি জনতার জন্য কোনো ক্রীড়া-সুবিধা আদৌ নেই। সাধারণের জন্য, শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলার সুযোগ একেবারেই না থাকাটা বৈষম্যপূর্ণ এবং সমন্বয়হীন অস্বাস্থ্যকর উন্নয়নের একটি সুস্পষ্ট নির্দেশক। একদিকে পরিকল্পিত ক্রীড়া অবকাঠামোর তৃণমূল অনুপস্থিতি সমাজে মাদক ও অপরাধের বিস্তারে সহায়তা করছে। জাতীয়তাবাদী খেলা-বাণিজ্যের ঢেউয়ে ক্রিকেটের বাইরের অপরাপর খেলাগুলোও যে শিশু-কিশোরের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র হতে পারে, এ বোধ পুরোপুরিই উঠে গেছে। অন্যদিকে বাজে ব্যবস্থাপনার অধীন ক্রিকেটও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারছে না।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির ৫০ বছর’ গ্রন্থের রচয়িতা। faiz. [email protected] com

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন