বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ব্যবহারকারীর কাছে জিজ্ঞাসা করার বিষয়টা এ ক্ষেত্রে বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। অ্যাপলের দৃষ্টান্ত দেওয়া যাক। অ্যাপলের অ্যাপে একটা প্রাইভেসি সেটিংস যুক্ত করা হয়, যাতে সেটা নিজে গ্রাহকের তথ্য অনুসরণ করতে না পারে। এতে মাত্র ২৫ শতাংশ ব্যবহারকারী নিজে নিজে অ্যাপটিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু অ্যাপল কোম্পানি যখন গ্রাহকের তথ্য অনুসরণ করা শুরু করল, তখন ৮৪ শতাংশ ব্যবহারকারীর কাছে সেটা পৌঁছায়। গত এপ্রিল মাসে অ্যাপল তাদের আইফোন আইওএস (অপারেটিং সিস্টেম) চালুর সময় যে নতুন নিয়ম চালু করে, সেটা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ফার্ম ফেসবুকের ব্যবসার জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়েছে। ফেসবুকের ব্যবসা মডেল হলো, ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ ও সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিজ্ঞাপন বিক্রি। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, অ্যাপল ব্যবসানীতিতে বদল আনার পর ২০২১ সালের শেষ অর্ধে ফেসবুক, স্ন্যাপ, টুইটার ও ইউটিউবের ব্যবসায় ১০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। শতাংশের হিসাবে এটা ১২ শতাংশ। সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে পৌঁছাতে যাঁরা অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন, তাঁদের মধ্যে এটি আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

অ্যাপলের এই দৃষ্টান্ত থেকে বোঝা যাচ্ছে, সিএসি তথ্য নিয়ন্ত্রণের যে খসড়া করেছে, সেটা চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য নিঃসন্দেহে অশুভ সংকেত। অ্যাপলের নতুন নিয়মে তৃতীয় পক্ষ তথ্য ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হয়। চীনের ক্ষেত্রে কোনো অ্যাপ কারও তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবহার করতে চাইলে ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে। চীনের প্রস্তাবিত আইনে ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারের এই আইন ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা (জিডিপিআর) আইনের থেকেও কঠোর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই আইনটি সাম্প্রতিক কালে সবচেয়ে কঠোর ব্যক্তিগত সুরক্ষা আইন।

প্রস্তাবিত আইন চালু না করতে চীনের অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এর মধ্যে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার করছে। সরকার কর্ণপাত না করলে তারা সম্ভবত আইনটি পাশ কাটাতে তাদের ফিচারে বদল আনবে, যদিও এতে অনেক সময় লেগে যাবে এবং গুরুতর ঝুঁকিও তৈরি হবে।

প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর জন্য সিএসির খুব বেশি মাথাব্যথা থাকার কথা নয়। কিন্তু এই আইনের মাধ্যমে তারা কোন লক্ষ্য পূরণ করতে চায়? এর উত্তর জানতে চীনের আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থার উদ্দেশ্য, সেটার কাঠামো ও সংস্কৃতির দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। সিএসির অতীত আচরণের দিকটাও দেখতে হবে। চীন সরকার যেসব বিভাগের মাধ্যমে নজরদারি চালায়, সেগুলোর মধ্যে সিএসি অন্যতম। বিভাগটি কেন্দ্রীয় সাইবার স্পেসবিষয়ক কমিশনের অধীন। কমিশনটির সভাপতি প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিজে। প্রাথমিক অবস্থায় সিএসি সাইবার নিরাপত্তা এবং ইন্টারনেট আধেয়গুলো দেখভাল করত। ২০১৩ সাল থেকে সংস্থাটির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সব কটি সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এখন সিএসির আওতাধীন।

নতুন সাইবার আইন নিঃসন্দেহে বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চীন সরকারের যে প্রচেষ্টা, সেটা আরও পাকাপোক্ত হবে। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে লাগাম টেনে ধরার উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে সিএসির।

ইংরেজি থেকে অনূদিত, স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট

অ্যাঞ্জেলা হুয়ে ঝাং অধ্যাপক, সেন্টার ফর চায়নিজ ল, ইউনিভার্সিটি অব হংকং

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন