বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর চীনকে ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজে নিবৃত্ত থাকার কথা বলেছে। তারা ফিলিপাইনকে মার্কিন সেনা পাঠানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। কিন্তু তাদের যে কূটনৈতিক দড়িবাজি, তাতে একটা অনিশ্চয়তার জন্ম হয়েছে। বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ‘আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র ফিলিপাইনের সঙ্গে আছে। দক্ষিণ চীন সাগরে ফিলিপাইনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন জাহাজে সশস্ত্র হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ফিলিপাইনের সঙ্গে করা যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার রক্ষা করবে।’

এ রকম গর্জন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মমাফিক একটা ব্যাপার, এতে শেষ পর্যন্ত ততটা বর্ষণ না হওয়ারই কথা। বিবৃতিতে ‘সশস্ত্র হামলা’, ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন জাহাজ’ এবং ‘যৌথ প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার’—এ তিন বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে। এটা নিশ্চিত যে যুক্তরাষ্ট্র চীনের কোস্টগার্ডের জলকামান হামলাকে ‘ফিলিপাইনের রাষ্ট্রমালিকানাধীন জাহাজে সশস্ত্র হামলা’ হিসেবে বিবেচনা করছে না। অন্যথায় তারা এমডিটির ৪ নম্বর ধারা প্রয়োগ করত। যুক্তরাষ্ট্র জলকামানকে আগ্নেয়াস্ত্র হিসেবে বিবেচনা করেনি। চীনের জলকামান হামলায় ফিলিপাইনের কেউ আহত হয়নি, শুধু জাহাজের রসদ নষ্ট হয়েছে। আবার যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত বেসামরিক জাহাজকে ফিলিপাইন সরকারের জাহাজ বলে বিবেচনা করেনি।

যেসব বিশেষজ্ঞ বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, সে জন্য ওকালতি করছেন, তাঁরা কি একটা মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেবেন, আমেরিকানদের রক্ত ও সম্পদ কেন ফিলিপাইনের প্রবালপ্রাচীর ও পাথর রক্ষায় বিনষ্ট হবে? ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার পর এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তে জনসাধারণের সম্মতি আদায় করা কঠিন। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে জনগণই শেষ বিচারক।

এ ক্ষেত্রে ফিলিপাইন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও ধোঁয়াশাপূর্ণ। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হারমাজিনিস ইসপেরোন বলেছেন, চীনের কোস্টগার্ডের দুটি জাহাজ ফিলিপাইনের দুটি রসদবাহী জাহাজ আটকে দেয়, তৃতীয় জাহাজ থেকে জলকামান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু ফিলিপাইনের একজন সামরিক কর্মকর্তা বলেছেন, চীনের দুটি জাহাজ হামলা চালায়, তৃতীয়টি পাহারায় ছিল।

সবচেয়ে অদ্ভুত বিষয় হচ্ছে ফিলিপাইনের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্ব এ ঘটনায় নীরব রয়েছে। ফলে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা নিয়ে ধন্দ কাটছে না। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় সময়ক্ষেপণ করছে এবং ভেতরে-ভেতরে চিন্তা করছে তাদের হাতে কী কী বিকল্প আছে। আগামী বছর ফিলিপাইনের নির্বাচনে আরও বেশি মার্কিনঘেঁষা ও চীনবিরোধী কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা আছে। সেই প্রেসিডেন্ট চীনের সঙ্গে ফিলিপাইনকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলতে পারেন। সে ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কী করবে। তবে এ ধরনের সামরিক সংঘাত খুব তাড়াতাড়ি ঘটবে বলে মনে হয় না।

এমডিটির ৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, ‘যেকোনো এক পক্ষের ওপর যদি হামলা হয়, তাহলে দুই পক্ষই তাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পদক্ষেপ নেবে। যেকোনো পক্ষের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র খুব দ্রুত পদক্ষেপ নেবে।’ এটা স্পষ্ট যে দ্বিতীয় থমাস শোলেতে চীনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সমুদ্র আইনবিষয়ক জাতিসংঘ কনভেনশনের লঙ্ঘন। ভাটি অঞ্চলে নিজেদের সার্বভৌমত্ব দাবি করার কোনো এখতিয়ার চীনের নেই। আইনগতভাবে ফিলিপাইনই সেটার দাবিদার।

যেসব বিশেষজ্ঞ বিরোধপূর্ণ দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র যাতে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, সে জন্য ওকালতি করছেন, তাঁরা কি একটা মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেবেন, আমেরিকানদের রক্ত ও সম্পদ কেন ফিলিপাইনের প্রবালপ্রাচীর ও পাথর রক্ষায় বিনষ্ট হবে? ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার পর এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তে জনসাধারণের সম্মতি আদায় করা কঠিন। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে জনগণই শেষ বিচারক।

কোনো ধরনের ধন্দ না রেখে ম্যানিলা সরকারকে এখন সুস্পষ্ট করে বলে দেওয়া উচিত চীনের সঙ্গে তারা যদি কোনো সশস্ত্র সংঘাতে জড়ায়, সেটা তাদের নিজস্ব বিষয়। অনিশ্চয়তা ভুল-বোঝাবুঝির ঝুঁকি তৈরি করে। নিজেদের মিত্রকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই চীনকে নিরস্ত্র করার কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হবে। কূটনৈতিক ‘ঘোড়ার’ আগে ‘সামরিক’ গাড়ি জুড়ে দেওয়ার ভাবনা কাজের কিছু নয়।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ

মার্ক ভ্যালেন্সিয়া আন্তর্জাতিক সমুদ্রনীতি বিশ্লেষক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন