বিজ্ঞাপন

করোনাভাইরাসের কারণে আগের যেকোনো বছরের তুলনায় ডাকযোগে ব্যালট পাঠানোর—যাকে যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাবসেন্টি ব্যালট বলা হয়—অনুরোধ এই বছর নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ভোটাররা কোনো কোনো রাজ্যে কারণ দেখিয়ে এবং অধিকাংশ রাজ্যে কারণ না দেখিয়েও ডাকযোগে ব্যালট চাইতে পারেন। ৩ নভেম্বরের আগে সশরীর উপস্থিত হয়ে বা ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা সব রাজ্যেই আছে। এ বছর ১০টি রাজ্যে প্রধানত ডাকযোগেই ভোট গ্রহণ হবে, এর মধ্যে পাঁচটিতে আগেই এ ব্যবস্থা ছিল।

‘হকফিশ’ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন রকমের মডেলিং করে দেখিয়েছে যে ৩ নভেম্বর যদি ডাকযোগে পাওয়া ভোটের মাত্র ১৫ শতাংশ গণনা শেষ করা হয়, তবে তাতে ট্রাম্পকে বিজয়ী বলেই দেখা যাবে। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ‘লাল রঙের কুহেলিকা’। কেননা ডাকযোগে ভোটের ৭৫ শতাংশ গণনা শেষ হলে তাতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের ব্যাপকভাবে বিজয়ী হওয়ার কথা

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে, এমন সব ব্যাটলগ্রাউন্ড রাজ্যের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকেরাই ডাকযোগে ব্যালটের অনুরোধ বেশি করেছেন। নর্থ ক্যারোলাইনা ও পেনসিলভানিয়ায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে এ অনুপাত ৩:১। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের চেয়ে সাত লাখ বেশি ডেমোক্র্যাট এ ধরনের ব্যালট চেয়েছেন। ওহাইও, নিউ হ্যাম্পশায়ার ও আইওয়াতেও একই অবস্থা। ডেমোক্র্যাটদের এ ধরনের ব্যালটের অনুরোধ ভোট দেওয়ার ব্যাপারে তাঁদের তুলনামূলকভাবে বেশি উৎসাহের ইঙ্গিত দেয়।

ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী প্রচারে যাঁরা জড়িত এবং যাঁরা দলের কৌশলবিদ, তাঁদের মধ্যে এ কারণে আশাবাদ তৈরি হচ্ছে যে ২০১৬ সালে যাঁরা ভোট দেননি, তাঁরাও এ ধরনের অনুরোধ করছেন। টার্গেট স্মার্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সূত্র উদ্ধৃত করে পলিটিকো জানাচ্ছে যে কেবল পেনসিলভানিয়াতেই প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থক, যাঁরা ২০১৬ সালে ভোট দেননি, তাঁরা এ ধরনের ব্যালট চেয়েছেন। উইসকনসিনে ২০১৬ সালে ভোট দেননি, এমন ভোটারদের চাওয়া ব্যালটের হিসাবে দেখা যাচ্ছে তাতে রিপাবলিকানদের চেয়ে ডেমোক্র্যাটের সংখ্যা ১০ হাজার বেশি। রিপাবলিকানদের মধ্যে এ নিয়ে খানিকটা দুশ্চিন্তার ইঙ্গিত থাকলেও তাঁরা মনে করেন যে নির্বাচনের দিন তাঁদের ভোটাররা উপস্থিত হবেন এবং ২০১৬ সালের মতো তাঁরা আবার চমক দেখাবেন।

বিশ্লেষকেরা এসব ভোটের গণনা নিয়ে জটিলতা এবং ফল ঘোষণায় দেরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন। ডাকযোগে দেওয়া এসব ভোটের সত্যতা যাচাই করার পরই কেবল সেগুলো খোলা হয় এবং গণনা করা হয়। ১৩টি রাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এ যাচাইয়ের কাজ নির্বাচনের দিনের আগে করার কোনো বিধান নেই। ১১টিতে নির্বাচনের দিন এবং তিনটিতে ভোট গ্রহণের সময় শেষ হওয়ার পরে তা যাচাই করার কাজ শুরু করা হয়। ৩৫টি রাজ্যে এ যাচাইয়ের কাজ শুরু হয় নির্বাচনের আগে; এর মধ্যে ১২টি রাজ্যে ব্যালট ফেরত পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যাচাই করা যায়। তবে কোথাও তা আগে গণনা করা যায় না। এ বছর যাচাই–বাছাইয়ের ব্যবস্থায় অনেক রাজ্যে আইন পরিবর্তন করা হলেও এ সংখ্যা এত বেশি হবে যে তা নির্বাচনের দিন গণনা করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।

অনেকে আশঙ্কা করছেন যে যাঁরা সশরীর ভোট দেবেন, তাঁদের মধ্যে রিপাবলিকান সমর্থক বেশি থাকায় প্রাথমিক ফল রিপাবলিকানদের জন্য অনুকূল দেখাবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং রিপাবলিকানরা এ ধরনের অসম্পূর্ণ ফল তাঁদের পক্ষে ব্যবহার করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারেন, এমন আশঙ্কাও করা হচ্ছে। তা ছাড়া দেশের ছোট রাজ্যগুলোর যেখানে ভোটার কম, সেখানে রিপবালিকানরা ভালো ফল করে এবং সেগুলোর ফল আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হয়। অতীতে তাতে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু এবার ডাকযোগে ভোটের সংখ্যা বেশি হওয়া, নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্য এবং তাঁর সমর্থকদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার পরও আবার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার পরামর্শ অনেককেই এসব বিষয়ে ভাবিয়ে তুলেছে।

‘হকফিশ’ নামের একটি সংগঠন বিভিন্ন রকমের মডেলিং করে দেখিয়েছে যে ৩ নভেম্বর যদি ডাকযোগে পাওয়া ভোটের মাত্র ১৫ শতাংশ গণনা শেষ করা হয়, তবে তাতে ট্রাম্পকে বিজয়ী বলেই দেখা যাবে। তাঁরা এর নাম দিয়েছেন ‘লাল রঙের কুহেলিকা’। কেননা ডাকযোগে ভোটের ৭৫ শতাংশ গণনা শেষ হলে তাতে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী জো বাইডেনের ব্যাপকভাবে বিজয়ী হওয়ার কথা। এ জন্য চার দিন পর্যন্ত লাগতে পারে। লাল রঙের কুহেলিকার এ আশঙ্কা শেষ পর্যন্ত বাস্তব রূপ নেয় কি না, তা বোঝা যাবে ৩ নভেম্বর।


আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন