বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাধারণ নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকছে—এর চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা থেকে যে প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে, সেটি হলো সহিংস চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদীদের দমনে সরকার আদৌ কি সংকল্পবদ্ধ। প্রকৃতপক্ষে একটা নিষিদ্ধ সংগঠনের অবৈধ দাবি মেনে নিয়ে সরকার খুব লজ্জাজনকভাবে সহিংসতার কাছে পরাজয় বরণ করে নিল।

টিএলপিকে নিষিদ্ধ করার সময় পাকিস্তান সরকার যে বিবৃতি দিয়েছিল, সেটা কি তারা আরেকবার চোখ বুলিয়ে দেখবে? কেন্দ্রীয় সরকার সে সময় বলেছিল, ‘তেহরিক-ই-লাব্বিক পাকিস্তান যে সন্ত্রাসবাদে যুক্ত আছে, তার অনেক যুক্তিসংগত প্রমাণ আছে। তারা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্ন করছে।’ মজার বিষয় হচ্ছে, সেই একই কর্তৃপক্ষ এখন রাজধানী দখল করে নেওয়ার হুমকির মুখে তাদের নির্দোষ ঘোষণা করছে।

পাঞ্জাব পুলিশ যে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে সরকারের এই নতি স্বীকারের ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তা মোটেই বিস্ময়ের নয়। সহিংস ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রক্ত দিতে হয়েছে। তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট। টিএলপির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ‘পুলিশকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিল’ বলে পাঞ্জাব পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন।

পাঞ্জাব পুলিশ যে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে সরকারের এই নতি স্বীকারের ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে তা মোটেই বিস্ময়ের নয়। সহিংস ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে রক্ত দিতে হয়েছে। তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার জন্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত যথেষ্ট। টিএলপির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ‘পুলিশকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দিল’ বলে পাঞ্জাব পুলিশের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘সরকারকে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নয় টিএলপির পক্ষে অবস্থান নিক।’

পাকিস্তান বিভিন্ন দেশের সঙ্গে অতীতে অনেক আত্মসমর্পণমূলক চুক্তি করেছে। এগুলোর মধ্যে ২০২০ সালের নভেম্বর মাসে আফগানিস্তান ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিটি ছিল সবচেয়ে লজ্জাজনক। ওই চুক্তির বলে এখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাকিস্তানকে নিন্দা জানাবে। ধর্মীয় চরমপন্থা মোকাবিলার বিবেচনায় টিএলপির কাছে এই আত্মসমর্পণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করেছে। চরমপন্থী গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার এই নীতি ইমরান খানের ‘ইসলামফোবিয়া’ প্রচারণাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ বছরের শুরুতে সশস্ত্র এই গোষ্ঠী পাকিস্তান থেকে ফরাসি দূতাবাস প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে রাস্তায় তাণ্ডব চালিয়েছিল। এর ফলে তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। সে সময়ে সরকার সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধ আইনে টিএলপির অনেক নেতা-কর্মীকে আটক করেছিল। কিন্তু এখন আবার চাপের মুখে পুরোনো সিদ্ধান্ত থেকে সরে এল। এ থেকে টিএলপির অবস্থান নিয়ে জনমনে ভয়ংকর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হলো। পাঁচ বছর ধরে চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে নতজানু নীতিতে চলেছে পাকিস্তান। তার ধারাবাহিকতাতেই বর্তমান ঘটনা ঘটেছে। সরকারের এই নীতির ফলে ধর্মান্ধ রাজনৈতিক গোষ্ঠী পাকিস্তানের সামাজিক বিন্যাসকে পাল্টে দেওয়ার ভীতি হিসেবে হাজির হলো।

ইমরান খান সরকারের যে ডানপন্থী নীতি, সেটাও সমানভাবে ধর্মান্ধতাকে উসকে দিচ্ছে। রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহারের ক্ষেত্রে টিএলপির চরমপন্থা এবং পিটিআই সরকারের নীতির মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য। এটা গভীর উদ্বেগের বিষয়। শুধু টিএলপির কাছে আত্মসমর্পণ নয়, ইমরান সরকার এখন বেআইনি সশস্ত্র গোষ্ঠী তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সঙ্গে শান্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হাজার হাজার পাকিস্তানিকে হত্যার জন্য দায়ী। সরকার এমন এক সময়ে টিটিপির সঙ্গে সন্ধির প্রস্তাব দিয়েছে, যখন তারা আদিবাসী-অধ্যুষিত এলাকায় সন্ত্রাসী হামলা বাড়িয়ে চলেছে। এসব হামলায় গত পাঁচ মাসে অসংখ্য পাকিস্তানি সেনার মৃত্যু হয়েছে। ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে তুষ্ট করার পাকিস্তান সরকারের এই নীতি দেশে সন্ত্রাসবাদ বৃদ্ধির হুমকি তৈরি করেছে। সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর কাছে এই আত্মসমর্পণ পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে আরও গুরুতর সংকট তৈরি করতে যাচ্ছে।

দ্য ডন থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ।

জাহিদ হোসেন নো উইন ওয়্যার—দ্য প্যারাডক্স অব ইউএস-পাকিস্তান রিলেশনস ইন আফগানিস্তান’স শ্যাডো বইয়ের লেখক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন