বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত ২০ মাসে ভারত-চীনের মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। দুই দেশের সেনা কমান্ডার থেকে শুরু করে মন্ত্রীপর্যায়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। শীর্ষ দুই নেতা অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেছেন। কিন্তু কোনো সমাধান বেরিয়ে আসেনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের মধ্যে প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৮ সালের এপ্রিল মাসে। ডোকলাম মালভূমিতে যে ৭৩ দিনের সামরিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল, তার আট মাসের কম সময়ের মধ্যে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দ্বিতীয় অনানুষ্ঠানিক বৈঠকটি হয়েছিল ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে। এর দুই মাস আগে ভারত জম্মু ও কাশ্মীরের মানচিত্র বদল করেছিল। চীন শুধু এ ঘটনার নিন্দা জানায়নি, সেটাকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও নিয়ে গিয়েছিল।

এখন ভারত ও চীন পশ্চিম হিমালয়ের উঁচু ও শীতল অঞ্চলে টেকসই ও ভারী স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধে রত। রাশিয়া এখন প্রতিবেশী ইউক্রেনের সঙ্গে সংকটে জড়িয়ে পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে তাই প্রশ্ন চলে আসে, পুতিন কীভাবে মোদি ও সি চিন পিংকে একত্রে বসাতে পারবেন?

প্রথমত, ইউক্রেন ইস্যুতে পুতিন ক্রমাগত কানাগলিতে ঢুকে পড়েছেন। গ্রুপ-৭ ও ন্যাটোর সাম্প্রতিক সম্মেলনে পুতিনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এই বলে যে যদি সোভিয়েত ঘরানার সম্প্রসারণবাদ কিংবা কর্তৃত্ববাদ প্রতিবেশীর ওপর চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করে, তার পরিণতি ভালো হবে না।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া অধিভুক্ত করা থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা-নিজের শক্তিমত্তার ওপর আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে পুতিনকে। ইউক্রেন সীমন্তে সৈন্য সমাবেশ বাড়িয়ে তিনি পশ্চিমা বিশ্ব ও বাকিদের প্রতি চালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এর প্রতিক্রিয়ায় পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তাঁকে হতে হয়েছে। সে জন্য চীন ও ভারতকে তিনি তাঁর বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে পেতে চাইছেন।

পুতিন ভারত ও চীনকে কাছাকাছি আনার জন্য বাজি ধরছেন। এটা বোঝা কারও জন্য খুব কঠিন নয় যে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য চীন ও ভারতের বন্ধুত্ব কতটা প্রয়োজন। দুই দেশই রাশিয়ার নিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রধান ক্রেতা। তারা এখন রাশিয়ার জ্বালানি খাত এবং আরও কিছু বহুপক্ষীয় গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধান বিনিয়োগকারী।

দ্বিতীয়ত, পুতিন ভারত ও চীনকে কাছাকাছি আনার জন্য বাজি ধরছেন। এটা বোঝা কারও জন্য খুব কঠিন নয় যে রাশিয়ার আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধরে রাখার জন্য চীন ও ভারতের বন্ধুত্ব কতটা প্রয়োজন। দুই দেশই রাশিয়ার নিরাপত্তা সরঞ্জামের প্রধান ক্রেতা। তারা এখন রাশিয়ার জ্বালানি খাত এবং আরও কিছু বহুপক্ষীয় গবেষণা ও উন্নয়ন প্রকল্পে প্রধান বিনিয়োগকারী।

সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের পর রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্রিমাকভ প্রথম রাশিয়া-চীন-ভারত ত্রিপক্ষীয় কৌশলগত রূপরেখার প্রস্তাব করেন। তাঁর আশা ছিল তিন দেশের মধ্যে একটা টেকসই জোট হবে। কিন্তু আরআইসি গতি পায়নি। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রায় সময়ই দেশগুলো আরআইসির মূল উদ্দেশ্য ও কৌশলের বিপরীত অবস্থান নিয়েছে।

সর্বশেষ পুতিনের দুশ্চিন্তার বড় কারণ হচ্ছে ভারত-চীন সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে থাকলে রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়তে পারে ভারত। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ২০ বিলিয়ন ডলারের নিরাপত্তাসামগ্রী কেনার চুক্তি করেছে ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য এখন রাশিয়ার চেয়ে ১২ গুণ বেশি। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এতটাই আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছে যে তারা ভারতকে সতর্ক করে দিয়েছে এই বলে যে যদি তারা রাশিয়া থেকে নিরাপত্তাসামগ্রী কেনে, তবে নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হবে। স্পষ্টত, রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার (কেজিবি) যে সহজাত প্রবৃত্তি, তাতে খুব বেশি দিন কোনো বিষয়ে উপেক্ষা করে থাকা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সম্ভবত, ২০২২ সালে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে মোদি, সি ও পুতিনের মধ্যকার বৈঠক।

এশিয়া টাইমস থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ

শরণ সিং নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন