বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মহামারি, স্বাস্থ্য ব্যয়বিষয়ক নতুন দারিদ্র্য, জলবায়ুঝুঁকি এবং অপরাপর প্রভাবে ক্ষুধার্ত ও দরিদ্র বৃদ্ধির একটা বৈশ্বিক ঘটনা, বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। মৌলিক প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কেন দেশের ক্ষুধার্ত ও দারিদ্র্য বৃদ্ধিকে অস্বীকার করতে চাইছে? কোভিড মহামারির পরে ক্ষুধার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ণয়ে সরকার কেন বিশদ আকারে খানা জরিপ করছে না? পুরোনো দারিদ্র্যের ভিত্তি সংখ্যাকে ফ্যাক্টর দিয়ে গুণ করে তো নতুন দারিদ্র্যের সংখ্যা বের করা যাবে না! কেননা একটা মহামারির প্রভাবে স্বাস্থ্য ব্যয়ে বিপর্যস্ত হয়ে, লকডাউনে পড়ে, কর্ম হারিয়ে পুরোনো দারিদ্র্যের ভিত্তি সংখ্যাটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের সূচকে (এমপিআই) জুন ২০২১ প্রতিবেদন অনুসারে, বাংলাদেশের ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের শিকার, বহুমাত্রিক দারিদ্র্যের মোট সংখ্যা ৬ কোটি ৫১ লাখে। বেসরকারি সংস্থার জরিপে নতুন তৈরি হওয়া দরিদ্রের সংখ্যাকে ন্যূনতম দেড় কোটি থেকে সোয়া দুই কোটি বলা হয়েছে। অথচ সরকার বলেছে সে এনজিওর দারিদ্র্য তথ্য গ্রহণ করবে না—নিজেও দৈনিক ১৮০০ ক্যালরির কম খাদ্য গ্রহণকারী সংখ্যা নির্ণয়ের জন্য উচ্চমান জরিপ করছে না। এত বিশাল ও বিবর্ধিত দারিদ্র্য ভিত্তি নিয়ে বাংলাদেশ এত নির্ভার থাকার বিলাসিতা কীভাবে দেখায়?

বেকারত্ব পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি পদের জন্য লাখ লাখ যুবকের সমাবেশ ঘটেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে প্রান্তিক নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস চলছে। তিক্ত সত্য হচ্ছে, সরকার চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি উৎপাদন মৌসুমেও চালের দাম প্রত্যাশিত হারে কমেনি। বাজারে মোটা চালের কেজি ৪৬-৪৮ টাকা হলে ক্ষুধার হাহাকার কীভাবে থামবে? প্রান্তিক ও দরিদ্র জনতার প্রকৃত আয় কমেছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপ।

বেকারত্ব পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি ফায়ার সার্ভিসের কয়েকটি পদের জন্য লাখ লাখ যুবকের সমাবেশ ঘটেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে প্রান্তিক নিম্ন ও মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস চলছে। তিক্ত সত্য হচ্ছে, সরকার চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে, এমনকি উৎপাদন মৌসুমেও চালের দাম প্রত্যাশিত হারে কমেনি। বাজারে মোটা চালের কেজি ৪৬-৪৮ টাকা হলে ক্ষুধার হাহাকার কীভাবে থামবে? প্রান্তিক ও দরিদ্র জনতার প্রকৃত আয় কমেছে। মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে উঠেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির চাপ। পত্রিকার শিরোনামে বলা হয়েছে, দিশেহারা ক্রেতা, এখন সংসার চালানোই দায়। খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির হার অসহনীয়। মূল্যস্ফীতি পরিমাপের সেকেলে পদ্ধতিটি ভয়াবহ ত্রুটিপূর্ণ, সরকারের উপস্থাপিত মূল্যস্ফীতির সংখ্যাও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ডাহা মিথ্যা। এমতাবস্থায় প্রকৃত কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের বিপরীতে আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের প্রকৃত সংখ্যার বিপরীতে কর্ম তৈরি এবং ভাতা প্রদান, সেই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির প্রকৃত হিসেবের সঙ্গে সমন্বয় করে মজুরি ও আমদানি শুল্ক ব্যবস্থাপনা জরুরি।

বাংলাদেশের মাথাপিছু ক্যালরি গ্রহণ
বিশ্ব খাদ্য সংস্থার সহায়তায় বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘নগর আর্থসামাজিক অবস্থা জরিপ-২০১৯’-এর ফলাফলে নগর দারিদ্র্য ও নগরে ক্ষুধার হাহাকারের এক অভাবিত চিত্র উঠে এসেছে। দেশের মহানগরগুলোতে ৮ দশমিক ২২ শতাংশ পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যকে খাবার না থাকায় ক্ষুধার্ত অবস্থাতেই রাত কাটাতে হয়েছে (করোনাকালের আগেই)।

রাজধানী ঢাকায় ক্ষুধার্ত থেকে রাতজাগা মানুষের সংখ্যা গড়ে ৯ শতাংশের বেশি (৯ দশমিক ২৩ শতাংশ)। সাড়ে ১১ শতাংশ পরিবারে কোনো খাবারই ছিল না। প্রায় ৩ শতাংশ পরিবারের সদস্যদের দিনরাতের কোনো সময়ই কোনো খাবার জোটেনি বলে জরিপে উঠে এসেছে। এ জরিপের তথ্য বিবিএসের সবশেষ গৃহস্থালি আয় ও ব্যয় সমীক্ষার (এইচআইইএস-২০১৬) সঙ্গে সংগতিপূর্ণ। করোনার পর মহানগরগুলোতে ক্ষুধার হাহাকার আরও তীব্র হয়েছে। টিসিবির লাইনের দৈর্ঘ্য, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, সাম্প্রতিক সময়ে অভাব ও ক্ষুধার তাড়নায় আত্মহত্যার চিত্রগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং নীরব অভাবের তীব্র হাহাকার মাত্র।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) এবং বাংলাদেশ সরকার ‘খাদ্যের সহজলভ্যতা ও ক্রয়ক্ষমতার’ ওপর একটি যৌথ সমীক্ষার ফল প্রকাশ করে ২০১৯ সালে। এতে দেখা যায় বাংলাদেশে এখনো ২ কোটি ১০ লাখ মানুষ অর্থাৎ প্রতি ৮ জনের মধ্যে ১ জনের পুষ্টিকর খাবার জোগাড়ের ক্ষমতাই নেই। এখনো ৩১ শতাংশ শিশুর শারীরিক বিকাশ ঠিকমতো হচ্ছে না। অনেকে মাছ, মাংস, শাকসবজি ও ফলমূলের মতো পুষ্টিকর খাবার পয়সার অভাবে কিনতে পারছেন না। আবার অনেকে এসব খাবার কেনার ক্ষমতা আছে ঠিকই, কিন্তু তারা জানেন না কোন খাবারগুলো কী পরিমাণে খেতে হবে। মানুষ দু-তিন বেলা পেট ভরে খাচ্ছেন ঠিকই, প্রয়োজনীয় ক্যালরিও অনেকেই পূরণ করছেন। কিন্তু এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টির চাহিদা (পুষ্টির ছয়টি গ্রুপ—শর্করা, আমিষ, ভিটামিন, খনিজ, পানি ও চর্বি) পূরণ হচ্ছে না। করোনার পরে নিশ্চয়ই পুষ্টি পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়েছে।

প্রথমত, বাংলাদেশের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের ক্যালরির প্রধানতম উৎস হচ্ছে ভাত। বাণিজ্যিক মাছ চাষের প্রসারে স্বাদু পানির মাছের উৎস সংকুচিত হয়েছে। সরকার প্রশাসন ও দলীয় প্রভাবশালীদের দাপটে উন্মুক্ত জলাশয়ে ঘের হচ্ছে দেশের সর্বত্র, এতে মাছের (পড়ুন আমিষ) ফ্রি জোগান বন্ধ। ঘনবসতি পূর্ণ দেশে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যের বাইরে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি পালন, সবজি চাষ গরিবের জন্য বিলাসিতা। তাদের থাকার জায়গারই সংকট রয়েছে। অর্থাৎ ক্যালরি এবং পুষ্টির সবকিছুই ক্রয় করতে হয়। এমতাবস্থায় বেকারত্ব ও নিম্ন মজুরির দেশে পুষ্টি বিলাসিতা এবং ন্যূনতম ক্যালরি মূলত ভাতনির্ভর।

দ্বিতীয়ত, গরিব ও অভাবী মানুষ অসচেতন বলে পান-বিড়ি-সিগারেটে অর্থ খরচ করলেও ন্যূনতম পুষ্টির পেছনে খরচ করে না, এটা কিছু ক্ষেত্রে সত্য। স্কুলশিক্ষার ব্যবস্থা ও বয়স্ক শিক্ষার মাধ্যমে মৌলিক সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেই। এমনকি বাংলাদেশের শিক্ষক ও চিকিৎসকদেরও বিশেষ খাদ্যের বিপরীতে ক্যালরি ও পুষ্টি গুণাগুণ বিষয়ে যথাযথ ধারণা তৈরি হয়নি, প্রচার তো দূরের কথা। এটা যতটা না শিক্ষায় অনগ্রসর মানুষের দোষ, তার চেয়েও বেশি সরকারে।

তৃতীয়ত, তথ্য সঠিকতার সমস্যা। বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৭তম বৃহত্তম অর্থনীতি, ক্রয়ক্ষমতা সমতার হিসেবে ৩১তম। কিন্তু এফএওর দৈনিক মাথাপিছু খাদ্য গ্রহণের হিসাবে বিশ্বের ১৭৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৪তম। ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১১৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৬ নম্বরে। বাংলাদেশের সরকারি তথ্যের সঠিকটা প্রশ্নযুক্ত এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকের সঙ্গে পরস্পরবিরোধী। ‘খানা-আয়-জরিপ

এটা ঠিক যে বাংলাদেশের নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ ভাত বেশি খায়, কেননা তাদের অন্য খাবারের জোগান নেই। ভাতই প্রধান ক্যালরি উৎস। ধান চাষে ব্যাপক বদ্ধ পানির প্রয়োজন বলে অধিক চালের ভবিষ্যৎ সরবরাহ অর্থাৎ ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। ২০৫০ সালে ধান চাষের জন্য এত পানি কোথা থেকে আসবে? এই নিয়ে জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপ দরকার।

এইচআইইএস-২০১৬’ পাওয়া একটি উদ্বেগজনক তথ্য ছিল, প্রকৃত আয় কমার সঙ্গে সঙ্গে গড়ে জনপ্রতি ক্যালরি গ্রহণের হার ২০১০ সালের ২ হাজার ৩১৮ কিলোক্যালরি থেকে ৫ শতাংশ কমে ২০১৬ সালে ২ হাজার ২১০ কিলোক্যালরিতে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ ছয় বছর টানা উচ্চ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও দেখা যাচ্ছে মানুষ প্রায় ১০৮ কেসিএল কম ক্যালরি গ্রহণ করেছে, এটা উন্নয়ন ডেটার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমতাবস্থায় কৃষিমন্ত্রীর ‘দিনে মাথাপিছু ৪০০ গ্রাম চাল’ খাবারের তথ্য নির্বিবাদে মেনে নেওয়া অসম্ভব। করোনার পর খানা, আয়, দারিদ্র্য ও ক্যালরি গ্রহণের সঠিক তথ্যচিত্র পেতে (সরকার বেসরকারি সমীক্ষা অস্বীকার করে বসেছে) নতুন একটি নিখুঁত খানা-আয়-জরিপ অর্থাৎ এইচআইইএস সমীক্ষা বাধ্যতামূলক। এটি না হলে সরকারের দারিদ্র্য বিমোচনসহ বহু পরিকল্পনা ভুল প্রমাণিত হবে এবং ক্ষুধার হাহাকার আরও বাড়বে।

বাংলাদেশের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার ঝুঁকি
এটা ঠিক যে বাংলাদেশের নিম্নমধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক মানুষ ভাত বেশি খায়, কেননা তাদের অন্য খাবারের জোগান নেই। ভাতই প্রধান ক্যালরি উৎস। ধান চাষে ব্যাপক বদ্ধ পানির প্রয়োজন বলে অধিক চালের ভবিষ্যৎ সরবরাহ অর্থাৎ ভবিষ্যৎ খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ। ২০৫০ সালে ধান চাষের জন্য এত পানি কোথা থেকে আসবে? এই নিয়ে জরুরি বুদ্ধিবৃত্তিক সংলাপ দরকার। এখানে প্রথমেই আসবে গঙ্গা-যমুনা-ব্রহ্মপুত্র-তিস্তার মতো আন্তর্জাতিক নদ-নদীতে শুষ্ক মৌসুমে ভারতের একচেটিয়া পানি বন্ধের বিষয়। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতার কালেও সরকার বিষয়টি সুরাহা করতে পারছে না কেন? এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূগর্ভস্থ পানির অতিব্যবহারের বিষয়টি, যা খাদ্যনিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি করছে। ধীরে ধীরে গেট খুলে উজানের পানি ড্রেন-আউটের বিপরীতে বর্ষায় ফারাক্কা ও গজলডোবা বাঁধের সবগুলো গেট একসঙ্গে খুলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান ও ফসল নষ্টের বিষয়টিও আসবে। অভিন্ন নদীতে সর্বভারতীয় দূষণ প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয় আসবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি, ভারতের পানি প্রত্যাহারের ফলে স্বাদু পানি অঞ্চলে লবণ পানির আগ্রাসন, ঘূর্ণিঝড়ের জলোচ্ছ্বাসজনিত লবণপানির জলাবদ্ধতা, শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও সারফেইস পানির হাহাকারের ওপর দাঁড়িয়ে আজ থেকে ৩০-৪০-৫০ বছর পর এত বিপুল পরিমাণ ধান উৎপাদনের পানি আসবে কোথা থেকে? এ প্রশ্নের উত্তর এখনই খুঁজতে হবে। এটা সুস্পষ্ট যে আমাদের নতুন পানি ব্যবস্থাপনা ও ব্যবহার নীতিমালা দরকার। বাংলাদেশ ডেলটা প্ল্যান সেটা করতে পারছে কি না, গভীরভাবে খতিয়ে দেখতে হবে। পাশাপাশি চালের বিপরীতে গমের মতো পানি সাশ্রয়ী ফসল অর্থাৎ বিকল্প ক্যালরি উৎসের মহাপরিকল্পনাও দরকার। সভা-সমিতিতে চটকদার কথা বলে এসব অর্জিত হবে না।

লজ্জার বিষয় এই যে বাজার চাহিদা এবং রপ্তানির সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ, সেচ ও সারের নিশ্চয়তার প্রাথমিক কাজটাও করতে আমরা ব্যর্থ। অথচ বীজনিরাপত্তা, ফসলের উৎপাদন মূল্যের বিপরীতে বাজারমূল্য কম হলে লোকসানের বিপরীতে ভর্তুকি দেওয়া, অতিমাত্রায় কীটনাশক ব্যবহারের চাকচিক্যময় আগ্রাসন রোধ, জৈব সারের সুলভতা নিশ্চিতকরণ, জিএমও জাতের ফলন বিনা নিরীক্ষায় অথবা স্বল্প মেয়াদি নিরীক্ষায় অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং দেশি প্রজাতির সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ বাকি আছে।

দরকার কৃষিজমি সংরক্ষণের জন্য টেকসই ভূমি ব্যবহার নীতিমালা, ইটের ভাটায় উপরিভাগের মাটি ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের কঠোর উদ্যোগ, রাসায়নিক ও প্লাস্টিক দূষণ রোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারের অন্তর্দৃষ্টি। জবাবদিহিহীন সরকার ও প্রশাসনে খাদ্য ও কৃষিনিরাপত্তার এসব ঝুঁকি বোঝার মতো পর্যাপ্ত মেধাবী আছে কি না, তা নিয়ে আমাদের বিস্তর সন্দেহ রয়েছে। আমাদের টেকসই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দরকার।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক। ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লব ও বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ অর্থনীতির ৫০ বছর’ গ্রন্থের রচয়িতা। [email protected]

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন