বিজ্ঞাপন

কানলাইয়ানি কারখানার কাজ হারানো শ্রমিক মা-তিন বলেছেন, ‘এখানকার বেশির ভাগ কারখানাই শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি দেয় না। কিন্তু আমরা যদি এ মজুরিতে কাজ করতে রাজি না হই, তাহলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।’

মা-তিনের মতো হাজার হাজার শ্রমিক একেবারে নামমাত্র মজুরিতে কাজ করছেন। এ তথ্য বিশ্ববিখ্যাত ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলো ভালো করেই জানে। কিন্তু নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করার জন্য তারা তাদের পোশাক তৈরি করে দেওয়া কারখানাগুলো সব শর্ত পূরণ করছে কি না, তা নিয়ে মাথা ঘামায় না। যখন কোনো কারখানায় শ্রমিক নির্যাতন হচ্ছে বা নিম্নতম মজুরি দেওয়া হচ্ছে না বলে খবর বের হয়, তখন এসব বিদেশি ব্র্যান্ডের কোম্পানিগুলো তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে। এটি তারা করে থাকে শুধু দায় এড়ানোর জন্য।

মা-তিন বলেছেন, ‘আমরা কোনো রকমের ভবিষ্যতের আশা ছাড়াই দিনের পর দিন খেটে খেটে বেঁচে থাকি। আমাদের যদি রোগশোক হয়, তাহলে ডাক্তার যে দেখাব সে সামর্থ্যও আমাদের থাকে না।’

কানলাইয়ানি কারখানার যে ২৬ জন শ্রমিক ক্ষতিপূরণের মামলা করেছিলেন, তাঁদের কোনো কারখানা আর চাকরি দেয়নি। প্রতিটি কারখানায় তাঁদের নাম–পরিচয় পাঠিয়ে বলে দেওয়া হয়েছে, তাঁরা ঝামেলা পাকাবে। তাঁদের অধিকার নিয়ে যে শ্রমিক ইউনিয়ন কথা বলবে, সে পথও মালিকশ্রেণি বন্ধ করে রেখেছে।

থাইল্যান্ডের এই শ্রমিক নির্যাতনের সংস্কৃতি অনেক পুরোনো। বলা যায় এ অবস্থা কয়েক দশক ধরে জিইয়ে রাখা হয়েছে। আর এসবের পেছনে যারা কলকাঠি নেড়ে থাকে তারা আর কেউ নয়, তারা হলো বিশ্বখ্যাত পোশাক কারখানাগুলো, মুনাফাই যাদের কাছে শেষ কথা। শুধু থাইল্যান্ডে নয়, বিশ্বের যত জায়গায়, বিশেষ করে এশিয়ার যত জায়গায় পোশাক তৈরির কারখানা রয়েছে, তার সবখানে পোশাকশ্রমিকেরা বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। শ্রমিক শোষণ অবসানে এ বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর যেখানে অগ্রণী ভূমিকা রাখার কথা ছিল, সেখানে তাদেরই মুনাফাসর্বস্ব নীতি শ্রমিক শোষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

আল–জাজিরা থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত

ইলানা উইন্টারস্টেইন: আন্তর্জাতিক শ্রমিক অধিকারকর্মী

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন