বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রত্যাশিতভাবে ইঙ্গিতপূর্ণ উপায়ে প্রতিবেদনে বারবার ‘উহানের একটি পরীক্ষাগার’ ও ‘উহান ইনস্টিটিউট অব ভাইরোলজি’—এ-জাতীয় শব্দ উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে অপবাদ দেওয়া হয়েছে ‘বেইজিং বৈশ্বিক তদন্তে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে, তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশকে দোষারোপ করছে’। ‘তদন্ত কোন দিকে ধাবিত করতে পারে, সে ব্যাপারে চীনের অনিশ্চয়তা’-কে সেখানে মিথ্যাভাবে অভিযুক্ত করেছে। এ ছাড়া ‘এ বিষয়কে ইস্যু করে চীনের ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগে’ প্রকাশ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে উসকানি দিচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে যথেচ্ছভাবে দাবি করা হয়েছে, ‘এই বৈশ্বিক মহামারির উৎস-সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চীনেই রয়েছে।’ একই দিনে হোয়াইট হাউসের জারি করা এক বিবৃতিতে চীনকে অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে হয়েছে, চীন আন্তর্জাতিক তদন্ত আটকে রাখার চেষ্টা করেছে এবং স্বচ্ছতার বিষয়টিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। এটি ‘সমমনা অংশীদারদের’ ‘গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের ওপর চাপ প্রয়োগে’ আহ্বান জানিয়েছে। তবে মানুষ ভুলে যাবে না, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার কুখ্যাত ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে। তারা মার্কিন রাজনীতিবিদদের পূর্বনির্ধারিত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত লক্ষ্যকে সফল করার জন্য ‘প্রমাণ’ সংগ্রহ করতে, এমনকি প্রয়োজনে প্রমাণ আবিষ্কারেও দক্ষ।

চীনকে অপবাদ দিয়ে মার্কিন সরকার নিজের দোষত্রুটি মুছে ফেলতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম রিকম্বিনেন্ট ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং এ বিষয়ে অশেষ দক্ষতা অর্জন করে।

দীর্ঘদিন আগে সারা বিশ্ব পম্পেওকে গর্ব করে বলতে দেখেছে, ‘আমি সিআইএর পরিচালক ছিলাম, আমরা মিথ্যা বলেছি, আমরা প্রতারণা করেছি, আমরা চুরি করেছি। আমাদের সম্পূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্স ছিল। এটি আপনাকে আমেরিকার এক্সপেরিমেন্টের মহিমা মনে করিয়ে দেয়।’ পম্পেও যা বলেছেন, তা-ই তিনি বুঝিয়েছেন। ১৯৬৪ সালে মার্কিন গোয়েন্দা সম্প্রদায় একটি ত্রুটিপূর্ণ ও ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, যাতে বলা হয়েছিল, উত্তর ভিয়েতনামের টর্পেডো নৌকা মার্কিন সপ্তম নৌবহরে হামলা করেছে, যার ফলাফল গালফ অব টংকিন রেজল্যুশনের দিকে ধাবিত করেছে এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততাকে তীব্রতর করেছে।

২০০৩ সালে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী কলিন পাওয়েল ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র তথা ডব্লিউএমডির প্রমাণস্বরূপ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ওয়াশিং পাউডারের বোতল নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ইরাক আক্রমণ করা হয় এবং বলা বাহুল্য, সেই ডব্লিউএমডি কখনো পাওয়া যায়নি। এখন যখন যুক্তরাষ্ট্র নিজ দেশে বৈশ্বিক মহামারি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ‘শক্তিশালী অবস্থান’ হারাচ্ছে, তখন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে চীনের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি আশ্চর্যজনক কিছু নয়। গোয়েন্দা সংস্থার ওপর নির্ভর করা যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালিত এ ‘তদন্ত’র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কাচের মতোই পরিষ্কার।

চীনকে অপবাদ দিয়ে মার্কিন সরকার নিজের দোষত্রুটি মুছে ফেলতে পারবে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই প্রথম রিকম্বিনেন্ট ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু করে এবং এ বিষয়ে অশেষ দক্ষতা অর্জন করে। এটি স্পষ্টভাবে নথিভুক্ত আছে, নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএনসি) স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক রালফ বারিক ১৯৯০ সালে রিকম্বিনেন্ট করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু করেছিলেন। তিনি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইতালীয় সংবাদমাধ্যম প্রেজাদিরেত্তাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘কোনো চিহ্ন না রেখেই একটি ভাইরাস তৈরি করা সম্ভব।’

এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বায়োল্যাব সুরক্ষা রেকর্ড সারা বিশ্বে সবচেয়ে খারাপ, যা তাদের করোনাভাইরাস রিকম্বাইনিংয়ে উচ্চ সক্ষমতার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত ইউএনসি জেনেটিকভাবে তৈরি অর্গানিজমের সঙ্গে সম্পৃক্ত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের (এনআইএইচ) ২৮টি ল্যাব দুর্ঘটনা রিপোর্ট করেছে। এর মধ্যে ছয়টি ঘটনার মধ্যে সার্স, মার্সসহ করোনাভাইরাস জড়িত ছিল, যার মধ্যে বেশ কয়েকটির জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছিল। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় আটজনের মতো গবেষক সংক্রমিত হতে পারেন।
কোভিড-১৯–এর প্রাদুর্ভাবের আগে ২০১৯ সালের শেষে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) ফোর্ট ডেট্রিকে অবস্থিত ইউএস আর্মি মেডিকেল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব ইনফেকশাস ডিজিজেসে (ইউএসএএমআরআইআইডি) তদন্ত পরিচালনা করে, যেখানে সুরক্ষাসংক্রান্ত গুরুতর ঘটনার লঙ্ঘন সম্পর্কে জানা যায় এবং যার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএসএএমআরআইআইডি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে এর নিকটবর্তী এলাকাগুলোয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে শ্বাসযন্ত্রের রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে।

এটা সত্যিই এক ভীতিকর ‘কাকতালীয়’ ঘটনা যে করোনাভাইরাস–সংক্রান্ত গবেষণালব্ধ তথ্য ও মোডিফিকেশন কৌশল ব্যবহারে অধ্যাপক বারিকের ইউএসএএমআরআইআইডি ও ফোর্ট ডেট্রিকে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড রিসার্চ ফ্যাসিলিটির অংশীদারি রয়েছে। আসলে ফোর্ট ডেট্রিক বায়োল্যাব ও করোনাভাইরাসের মধ্যে সংযোগ সন্দেহের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের সময় বারবার সংশোধনের মাধ্যমে তারিখ এগোনো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মার্কিন সরকার এ প্রশ্নগুলো এড়িয়ে গেছে এবং এ ব্যাপারে তেমন কিছু বলছে না।

ফোর্ট ডেট্রিক বেস ও অধ্যাপক বারিক উভয়েরই করোনাভাইরাস গবেষণার পাশাপাশি দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মার্কিন সরকারের কেউ যদি ল্যাব লিক হাইপোথিসিসের ওপর জোর দিয়ে থাকেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ফোর্ট ডেট্রিককে আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া। একইভাবে ডব্লিউএইচও সেক্রেটারিয়েটের কেউ যদি ল্যাব লিক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করে, তাহলে ফোর্ট ডেট্রিকে তদন্ত করাও ডব্লিউএইচওর দায়িত্ব। দুঃখজনকভাবে আমরা এখনো এ ব্যাপারে তাদের কোনো পরিকল্পনার কথা শুনিনি।

গত ২৪ আগস্ট জেনেভা ও সুইজারল্যান্ডের অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার জাতিসংঘ কার্যালয়ের চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি, অ্যাম্বাসেডর চেন শু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুসের কাছে চিঠি লেখেন এবং ‘ডাউটফুল পয়েন্টস অ্যাবাউট ফোর্ট ডেট্রিক (ইউএসএএমআরআইআইডি)’ ও ‘করোনাভাইরাস রিসার্চ কন্ডাক্টেড বাই ড. রালফ বারিক’স টিম অ্যাট ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা’ শিরোনামের দুটি নন-পেপার জমা দেন। এর সঙ্গে তিনি ফোর্ট ডেট্রিক বেসে তদন্তের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখের বেশি চীনা নেটিজেনের স্বাক্ষরিত একটি খোলা চিঠি জমা দেন।

এ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ডব্লিউএইচও হেলথ ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালক ড. মাইকেল রায়ান বলেন, সার্স-কোভ-২–এর উৎস–সম্পর্কিত সব হাইপোথিসিস এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, ল্যাব লিক তত্ত্বের বিষয়ে বেইজিংয়ের বিরোধী অবস্থান রয়েছে, তাই ফোর্ট ডেট্রিকে তদন্তের জন্য তাদের আহ্বানের বিষয়টি ‘স্ববিরোধী’।

বৈশ্বিক উৎস গবেষণার বিষয়ে চীনের অবস্থান দৃঢ় ও সুস্পষ্ট। ভাইরাসের উৎস খোঁজা একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। চীন সব সময় বৈজ্ঞানিক উৎস গবেষণায় সমর্থন ও অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে

এ ব্যাপারে মাইকেল রায়ানের কাছে আমার ব্যাখ্যা হলো, বৈজ্ঞানিকভাবে ভাইরাসের উৎস শনাক্তকরণের বিষয়ে আমাদের আমেরিকার ব্যতিক্রমবাদের জন্য কোনো স্থান রাখা উচিত নয়। ফোর্ট ডেট্রিক ও ইউএনসিতে তদন্তের আহ্বান জানিয়ে চীন বিশ্ববাসীকে যুক্তিসহ যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাব লিক তত্ত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা দেখাতে চায়। আমরা আশা করছি, এর মাধ্যমে বৈশ্বিক উৎস গবেষণাকে মার্কিন রাজনীতি দ্বারা সৃষ্ট ব্যাঘাত থেকে মুক্ত করা যাবে এবং এর সঙ্গে উৎস গবেষণার জন্য আরও বিজ্ঞানভিত্তিক ক্ষেত্র তৈরি করা যাবে।

প্রকৃতপক্ষে, বৈশ্বিক উৎস গবেষণার বিষয়ে চীনের অবস্থান দৃঢ় ও সুস্পষ্ট। ভাইরাসের উৎস খোঁজা একটি বৈজ্ঞানিক বিষয়। চীন সব সময় বৈজ্ঞানিক উৎস গবেষণায় সমর্থন ও অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখবে। ডব্লিউআইভি থেকে করোনাভাইরাস ছড়ানো একটি অসম্ভব বিষয়; বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-চীন যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বিষয়টি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে। যাঁরা জোর দিয়ে বলেন, ল্যাব লিকের আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, তাঁদের উচিত ফোর্ট ডেট্রিক ও ইউএনসিকে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের নীতিতে তদন্ত করা। তাঁরা যদি ল্যাব লিক তত্ত্বের ওপর জোর দিতে চান, তাহলে তাঁদের উচিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞদের ফোর্ট ডেট্রিক ও ইউএনসিতে তদন্ত শুরু করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো।

বিজ্ঞান–সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিতে মার্কিন সরকারের এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দ্য ল্যানসেট ও সেল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-চীন যৌথ প্রতিবেদনের সিদ্ধান্তের সমর্থনে বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন বিজ্ঞানীর সহলেখক হিসেবে যৌথভাবে লেখা নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। সেখানে তাঁরা উৎস শনাক্তকরণ গবেষণার সময় রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনা এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ‘বৈশ্বিক মহামারির উৎসবিষয়ক আলোচনাটিকে রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আমরা অনুধাবন করেছি, যেসব প্রমাণ পাওয়া গেছে, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার এটাই উপযুক্ত সময়। ভবিষ্যতে মহামারি যাতে না দেখা দেয়, সে জন্য মানবদেহে ভাইরাসের অনুপ্রবেশ রুখতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কিন্তু ভুল দিকে মনোনিবেশ করলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।’

বুদ্ধিসম্পন্ন যুক্তিবাদী যেকোনো মানুষ এ মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করবেন। তবে মার্কিন প্রতিবেদনটি শতভাগ অকেজো নয়। এটি আমাদের ‘রাজনৈতিক ভাইরাস’–এর সুস্পষ্ট উপস্থিতি সম্পর্কে জানান দেয়, যে ব্যাপারে আমাদের সত্যিই সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। একবার এই ‘রাজনৈতিক ভাইরাস’ দ্বারা সংক্রমিত হলে সারা বিশ্ব অবিশ্বাস ও বিভাজনের শিকার হবে। এর ফলে বৈশ্বিক মহামারি মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার গতি কমে যাবে এবং সবার জন্য টিকা নিশ্চিতের মতো বিষয়ে যে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, সে ব্যাপারে গুরুত্ব কমে আসবে। স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল রাষ্ট্রগুলোকে এ জন্য দুর্ভোগ পোহাতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কোনো রাষ্ট্র নতুন ভাইরাস চিহ্নিত করলে, তাকে এভাবে সমস্যা সৃষ্টিকারী হিসেবে বাজেভাবে দোষারোপ করা হলে পরবর্তী সময়ে মারাত্মক রোগজীবাণুর সন্ধান পেলে কোনো দেশ কি আর বিশ্বকে সতর্ক করার মতো সাহস করবে?

ভাইরাস মিউটেশনের ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারির নতুন ঢেউ বহু দেশে ছড়িয়ে পড়েছে বলে বিশ্ব বর্তমানে একটি সংকটপূর্ণ সময় পার করছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এখন রাজনৈতিক কৌশলের জন্য উৎস শনাক্তকরণের বিষয়টি ব্যবহার বন্ধের সময় এসেছে। চীন, আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বকে এখন সংকীর্ণ রাজনীতির বাইরে এসে বৃহত্তর কল্যাণের দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। টিকা উৎপাদন ত্বরান্বিত করতে, টিকার ন্যায়সংগত বণ্টন নিশ্চিত করতে, অর্থনীতি পুনরায় সচল করতে, বৈশ্বিক মহামারিকে পরাজিত করতে এবং আমাদের স্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি পুনরুদ্ধার করতে চীন ও বাংলাদেশের জনগণকে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

লি জিমিং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত

কলাম থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন